খুঁজুন
বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ১০০, আহত ৪০০

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ১০০, আহত ৪০০

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও গ্রামে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এই হামলায় লেবাননে কমপক্ষে ১০০ জন নিহত ও আরও চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

সোমবার ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ১০০ জন নিহত ও আরও ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও মেডিক্যাল কর্মীরাও রয়েছেন।

এক বিবৃতিতে লেবাননের সরকারি জরুরি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নারী, শিশু, প্যারামেডিকস-সহ চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান থেকে শত শত স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিসির একজন প্রতিনিধি। লেবাননের সাথে ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনায় এখন পর্যন্ত সোমবারের হামলাই সবচেয়ে তীব্র বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী সোমবার সকালের পরপরই লেবাননের দক্ষিণে হিজবুল্লাহর ৩ শতাধিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, লেবাননে হামলা আরও তীব্র করা হচ্ছে। হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ইসরায়েলিকে উত্তরে ফেরানোর জন্য ‘‘আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত’’ এই হামলা চলবে।

গত সপ্তাহে লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যদের ব্যবহার করা হাজার হাজার পেজার ও ওয়াকি-টকিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের এই ঘটনায় লেবাননে ৪০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে; যাদের মধ্যে হিজবুল্লাহর অন্তত ১৬ সদস্য রয়েছেন। এই বিস্ফোরণের জন্য ইসরায়েলকে ব্যাপকভাবে দায়ী করছে হিজবুল্লাহ।

সশস্ত্র গোষ্ঠীটির যোগাযোগের যন্ত্রে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাঝেই সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় একাধিক শহরে একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

Feb2

সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দেহাবশেষ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে রয়েছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।

প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

সাধারণত প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র। কিন্তু চট্টগ্রামে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদের পাশাপাশি চাকরির নিয়োগপত্রও পেলেন ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীরা। অষ্টম শ্রেণির পর বিভিন্ন কারণে শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৪৬ জন তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশেষ কার্যক্রম—কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক্-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ শীর্ষক কোর্সের সমাপনী ও জব লিংকেজ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই। একজন তরুণ যখন প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তখন তার জীবন যেমন বদলায়, তেমনি বদলে যায় একটি পরিবার, একটি সমাজ।”

তিনি বলেন, সমাজের অনেক শিশু-কিশোর নানা বাস্তবতায় শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়ে। কিন্তু ঝরে পড়া মানেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তারাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট উচ্চবিদ্যালয় ও হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে চারটি ট্রেডে মোট ৭৭ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৭৩ জনই উত্তীর্ণ হন।

প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানের দিনই ৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেইলারিং ও ড্রেস মেকিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জনের সবাইকে গ্রামীণ বুটিকস ও প্রোডাকশন হাউসে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির শুরুতে তাঁদের মাসিক বেতন ৫ হাজার টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন মাস পর চাকরি স্থায়ী হলে তাঁদের বেতন হবে ১০ হাজার টাকা, পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বহাল থাকবে।

রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৭ জনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষানবিশকালীন তাঁদের মাসিক ভাতা হবে ৫ হাজার টাকা। মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯ জনকে হাটহাজারীর বিভিন্ন সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মাসিক ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন। কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রশিক্ষণ মানেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে। প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ যাতে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি তরুণ রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যাও এর চেয়ে কম। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, “সমাজে কোনো সৎ কাজ ছোট নয়। দক্ষতা, পরিশ্রম, সততা ও নৈতিকতাই একজন মানুষকে বড় করে। আজ যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তারা আর ঝরে পড়া নয়; তারা এখন দক্ষ জনশক্তি।”

চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণদের শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাঁদের ন্যায্য মূল্যায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রথম বেতনের অঙ্ক বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো দক্ষতা অর্জন। দক্ষতা বাড়লে আয়ও বাড়বে, সুযোগও বাড়বে। শেখার কোনো শেষ নেই। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধি, বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার এই উদ্যোগ ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শান্তিরক্ষীরা: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শান্তিরক্ষীরা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘শান্তিরক্ষাীদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষাই নয়, জাতিসঙ্ঘের পতাকা তলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর।’

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ওই হামলাসহ সম্প্রতি চলমান মিশনগুলোতে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৯টি মিশনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের সাহসী অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারী সদস্যদের এই সক্রিয়তা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এই গৌরবকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অফ কমান্ডের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, অতীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরণের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য বলে তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রথাগত যুদ্ধের বাইরে এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। সংবিধানে ব্যক্ত হওয়া বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহ-অবস্থানের প্রতি দেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৬ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষনেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।