খুঁজুন
, ,

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 9 June, 2026, 7:53 pm
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেসব কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিনের সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কোন কর্মকর্তার কারণে এই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, তাকে চিহ্নিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় তিনি সব ধরনের প্রকল্পের খরচ কমানোর এবং রেট সিডিউল একীভূত করার নির্দেশ দেন। এলজিইডি ও পিডাব্লিউডিসহ বিভিন্ন বিভাগের রেট সিডিউল আলাদা হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বিভাগের রেট সিডিউল একই কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে।

উন্নয়নের নামে গাছ কাটার বিষয়েও নিজের দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একনেক সভায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত, কিন্তু এখন ঢাকা-বগুড়া সড়কেও তেমন গাছ নেই। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি সব এলাকাকে শহর বানানোর পক্ষে নন, বরং গ্রামীণ পরিবেশ বজায় রাখাই তার পছন্দ। সড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিনা কারণে গাছ কেটে ফেলা মানুষ হিসেবে তাকে ব্যথিত করে।

এদিনের সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়), সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ এবং আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফট সংযোজন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ, ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়), মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট, দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পটির জট অবশেষে খুলতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত চার দিনের চীন সফরের আগেই এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ এবং ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’ করার প্রতিশ্রুতিরই অংশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনা ঋণ এবং বাকি অংশ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। চীনের ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) জিটুজি ভিত্তিতে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় সেতুসহ সংযোগ সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস পাইপলাইন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ স্টেশন, ২০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরকারের অনীহা, ডিপিপি অনুমোদন ও অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই প্রক্রিয়া গতি পায় এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে আসে। এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বছরভিত্তিক ব্যয়ের খাতও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নিজস্ব তহবিল ও ঋণের অর্থ খরচ করা হবে।

Feb2
Feb2

১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 9:06 pm
১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক জেলায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের প্রথম দিনেই ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে শনিবার (২৫ জুলাই) জেলাজুড়ে একযোগে চালানো এ অভিযানে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণের মধ্য দিয়ে বড় পরিসরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে জেলার সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসিক এলাকা, উপজেলা পর্যায়ের ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা জোরপূর্বক এটি করাতে চাই না। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।’

৩,২২৫ ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিযানের আওতায়

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় রয়েছে ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি সরকারি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২৫টি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব ভবন ও বিদ্যালয়ের ছাদ, আঙিনা এবং আশপাশের জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রথম দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

অভিযানটি শুধু উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো কার্যক্রম চলবে মাসব্যাপী। প্রতি শনিবার কোথা থেকে কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হলো, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবন ও এলাকার পরিচ্ছন্নতার আগের ও পরের ছবিও সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কী পরিমাণ ময়লা অপসারণ ও সংগ্রহ করা হলো, তার প্রতিবেদন নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবনের আগের চিত্র কী ছিল এবং পরিচ্ছন্নতার পর কী পরিবর্তন হলো, সেই ছবিগুলোও আমরা সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শোভাযাত্রায় মেয়র, বিভাগীয় কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

দিনের কর্মসূচির শুরুতে সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেটি কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।

পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘সুস্থ জাতি গড়তে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ’

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু ময়লা-আবর্জনা অপসারণ নয়। একটি সুস্থ জাতি ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার স্থায়ী অভ্যাস তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন প্রয়োজন। আর পরিবেশ যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, সেখানে সুস্থ চিন্তা, সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন—কোনোটিই সম্ভব নয়।’

আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ বাংলাদেশ ও একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছি।’

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে নয়, মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত করেই পরিচ্ছন্নতাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করতে চান তাঁরা।

বিশ্বায়নের যুগে একটি দেশের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। আমরা বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে চাই। বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের একটি দৃঢ় অবস্থান, একটি সুস্থ পরিবেশ এবং একটি সুন্দর সমাজের চিত্র তুলে ধরার জন্য আমরা কাজ করছি।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দিনের ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাসজুড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি শনিবার অপসারণ করা বর্জ্যের পরিমাণ এবং পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের ছবি সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।

চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 8:26 pm
চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকার ১৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকায় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ হতদরিদ্র ১৫০০ শতাধিক পরিবারের হাতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এসব খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বিতরণকৃত খাদ্য তালিকার মধ্যে চাল, ডাল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনা খাবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই দল মত নির্বিশেষে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মেয়র বলেন, জনগণের কল্যাণই আমাদের অঙ্গীকার। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ইখতিয়ার হোসেন ইফতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনজুর আলম তালুকদার, জেলা বিএনপি নেতা আবদুল মাবুদ মাহাবু, সৌদি আরব বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাঈন উদ্দিন মাঈনু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহিদ খান, বাহাউদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল করিম, পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অলি হোসেন মুন্সি, জহিরুল আলম শহিদ, মোরশেদুল আলম, পৌরসভা বিএনপির সদস্য হাবিব রহমান, আবু ছালেহ, সাইফুল, মোহাম্মদ শওকত, উপজেলা বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, মাহাবুল করিম সোহেল, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মজিদ, আবু বক্কর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন, মো. আসাদ, জিল্লুর রহমান খোকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোনায়েম খান, পলিটেকনিক ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইন্জিনিয়ার আবুল কালাম, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. সেলিম, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদল নেতা সেলিম আলদীন, পৌরসভা শ্রমিকদলের সভাপতি হাজী মো. আবু সিদ্দিক, মো, ফারুক মিয়া, আবদুর রহমান, পৌরসভা যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান, আকবর, সিরাজুল ইসলাম, আবদুল আজিজ, মো. মানিক, রাজিব উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার উদ্দিন, আবু তৈয়ব রিপন, এবিএম রহিম, আবদুল আজিজ, বিএনপি নেতা সায়েম সেলিম, হামিদ, মান্নান, জেলা ছাত্রদলের সদস্য জাভেদ চৌধুরী রহিম, এরফান চৌধুরী, ছাত্রদলনেতা অভি, আজিজ, মিসবাহ, আমিন, হেফাজ প্রমুখ।

আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 6:05 pm
আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিয়ে না দেওয়ায় কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) ও কল্পনা দাশগুপ্ত (৫৫) নামের এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের মহাজন বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তকে (৩০) আটক করে আনোয়ারা থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজ বাড়িতে বিয়ে না দেওয়ার জেরে ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তের সঙ্গে তার মা কল্পনা দাশগুপ্তের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁচি দিয়ে মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান রোমি রাজ। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচাতে বাবা স্বপন দাশগুপ্ত এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর স্বপন দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত রোমি রাজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও তাকে একাধিকবার পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় তিন-চার মাস আগে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দীন বলেন, আহত অবস্থায় স্বপন দাশগুপ্তকে আনা হয়। তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল, তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।