খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিএমপিতে ৭৭৪ জনের ‘সিটিজেনস্ ফোরাম’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
সিএমপিতে ৭৭৪ জনের ‘সিটিজেনস্ ফোরাম’

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে নাগরিক সমস্যা সমাধানে গত সরকারের আমলে ছিল ‘কমিউনিটি পুলিশিং’। তবে তখন এটি নানা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। সরকার পতনের পরপরই চট্টগ্রামে বিলুপ্ত করা হয় ‘কমিউনিটি পুলিশিং’-এর সকল স্তরের কমিটি। এই উদ্যোগকে ঢেলে সাজাতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এরইমধ্যে চট্টগ্রাম নগরে ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘সিটিজেনস্ ফোরাম’ নামে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা কাজ করবে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মাঝে ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, নগরের মোট ১৬ থানার প্রতিটিতেই এই কমিটি কাজ করবে। এসব কমিটির সদস্যদের সাথে সমন্বয় করতে মহানগরীর অধীনেও থাকবে একটি কমিটি। আর পুরো নগরজুড়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ও অপরাধ কমাতে এই কমিটির মোট ৭৭৪ জন সদস্য কাজ করবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নৈশটহল, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধদমনে তথ্য দেওয়া—এমন নানা কাজ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে করবেন এই সদস্যরা।

সংস্থাটির সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত ৫ আগস্টের পর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বদলে নতুন করে প্রতিটি থানায় নাগরিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ নামে আত্মপ্রকাশ করায় থানাভিত্তিক ‘নাগরিক কমিটি’র বদলে ‘সিটিজেন ফোরাম’ নামে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘সিটিজেনস্ ফোরাম’-এর কাজ কি?

জানা গেছে, মূলত ২০১৩ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) অপারেশনের অধীনে স্বল্প পরিসরে শুরু করেছিল কমিউনিটি পুলিশিং। ২০১৪ সালে একজন সহকারী মহাপরিদর্শকের (এআইজি) তত্ত্বাবধানে পাবলিক সেফটি অ্যান্ড প্রিভেনশন (পিএস অ্যান্ড সিপি) শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কমিউনিটি পুলিশিংকে ‘বিট পুলিশিং’ নাম দেওয়া হয়েছিল। আর সেই ‘কমিউনিটি পুলিশিং’ এর নতুন রুপই হচ্ছে ‘সিটিজেনস্ ফোরাম’।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজের মতে—‘কমিউনিটি পুলিশিং’ এর চেয়েও ‘সিটিজেনস্ ফোরাম’ এর কাজের ব্যপ্তি বেশি। প্রান্তিক পর্যায়ের কমিউনিটি থেকে নানা বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সেই আগাম তথ্যের ভিত্তিতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই এই ফোরামের কাজ।

নগর পুলিশের এই অভিভাবক বলেন, ‘সিটিজেনস্ ফোরাম কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আরেকটি রুপ। এর কাজের ব্যপ্তি আরেকটু বড় পরিসরে হবে। কমিউনিটি পুলিশ থেকে এর কাজ একটু বেশি হবে। কমিউনিটি থেকে নানারকম খোঁজ-খবর এবং আগাম তথ্য পাওয়া যায়। এসমস্ত ক্ষেত্রে আগাম ব্যবস্থাও নেওয়া যায়। এই যে কমিউনিটি পুলিশের নতুন করে নাম বলেছি সিটিজেনস্ ফোরাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটি থানাতেই এই ফোরামের সদস্যদের বসার এবং মিটিং করার ব্যবস্থা থাকবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে মিলেমিশে তারা এলাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি এবং চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে কি কি করা যায়—সে ব্যাপারে হেডকোয়ার্টার্সে চাহিদা জানাবে।’

সিএমপি কমিশনার জানান, সমাজের প্রান্তিক অংশ যেমন—প্রতিবন্ধী, বয়স্ক মানুষ, দুস্থ নারী, যারা গরীব মানুষ কোথাও সেবা দাবি করতে পারে না এই ফোরামের সদস্যরা তাদের কথাগুলো থানা পুলিশকে অবহিত করবেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এছাড়াও সদস্যরা যদি নিজেরা যদি নৈশটহল, ট্রাফিকিংয়ে কাজ করাসহ ভলিন্টিয়ারিং এর ব্যবস্থা করতে চান, করতে পারবেন।

নগর পুলিশের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত সমাজের সব স্তরের জণমানুষকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করবে এই ফোরাম। এরমধ্যে সর্বস্তরের মানুষ পুলিশের কাজে সহযোগিতা, অপরাধবিরোধী সচেতনতা তৈরি, বাল্যবিবাহ রোধ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, মাদকের কুফল, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধসহ সামাজিক মূল্যবোধ বাড়াতে কাজ করবেন তারা।

কারা আছেন কমিটিতে?

পুলিশ বলছে, নগরের ১৬ থানার প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম, এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠক, সাংবাদিক এবং আইনজীবীদের নিয়ে এই ‘সিটিজেনস্ ফোরাম’ গঠন করা হয়েছে। গত সরকারের আমলের ‘কমিউনিটি পুলিশিং’-এর মতো বিতর্ক এড়াতে এবার কয়েক ধাপে ভেরিফিকেশন করে সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেটি বলছেন খোদ সিএমপি কমিশনারও।

নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক সিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব ফোরাম কিংবা কমিউনিটিতে সমাজের বিভিন্ন অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। আবার তারা যেন সমাজের স্বচ্ছ ব্যক্তি হয় সেদিকেও নজর রাখা উচিত। কিন্তু গত সরকারের আমলে বিভিন্ন চোর-বাটপার কিংবা সন্ত্রাসীকে কমিউনিটি পুলিশিং এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তাই এবার সিটিজেনস্ ফোরাম-এ যাচাই-বাছাই করে ক্লিন ইমেজের লোকদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে।’

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ‘সিটিজেনস্ ফোরাম’-এর চট্টগ্রাম মহানগরে ৮৬ সদস্য, কোতোয়ালী থানার ৪৫, সদরঘাট থানার ৫০, চকবাজার থানার ৫০, বাকলিয়া থানার ৪১, খুলশী থানার ৫৩, বায়েজিদ থানার ৫১, পাঁচলাইশ থানার ৪২, চান্দগাঁও থানার ৩৫, পাহাড়তলী থানার ৩৬, আকবরশাহ্ থানার ৪৫, হালিশহর থানার ৫৮, ডডবলমুরিং থানার ৪৯, বন্দর থানার ৩৭, ইপিজেড থানার ৩৬, পতেঙ্গা থানার ২৯ ও কর্ণফুলী থানার ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাসিব আজিজ বলেছেন, ‘এটা সিটিজেনস্ ফোরাম। নামটার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এটা কিন্তু কোনো পলিটিক্যাল অর্গানাইজেশন না, এটা অরাজনৈতিক। আমরা চেষ্টা করেছি এখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সিভিল সোসাইটি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার, ধর্মের মানুষকে একত্র করে এই কমিটি গঠন করেছি। যেন এই কমিটির মধ্যে দিয়ে জন-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটে।’

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সদর দপ্তরে ‘সিটিজেনস্ ফোরাম’-এর উদ্বোধন ঘোষণা পূর্ববর্তী দেওয়া বক্তব্যে কমিশনার হাসিব আজিজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যতটা সম্ভব একটা অরাজনৈতিক চেহারা এই কমিউনিটিতে থাকার কথা। মনে রাখবেন, এই সিটিজেনস্ কমিটি তৈরি করতে আমরা আইনগতভাবে বাধ্য না। কিন্তু আমাদের পুলিশের সদিচ্ছা থেকে এটি গঠন করেছি। অপ্রীতিকর ঘটনা হলে এই কমিটি আমি ভেঙে দিতে বাধ্য হবো। আমাদের প্রত্যেককে ধৈর্য এবং সংযম বজায় রাখতে হবে। কারো আপত্তি থাকলে তা হৈ হৈ করে বলার বিষয় নয়। এটি রাজনৈতিক পার্টি নয়।’

‘সিটিজেনস্ ফোরাম’ কতটা কার্যকর

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি—কমিউনিটি পুলিশিং এর মতো এই নতুন উদ্যোগে যেন বিতর্কিতরা ঠাঁই না পায়। তারা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় কর্মীরা অপকর্ম ‘হালাল’ করতে এসব কমিটিতে স্থান করে নেয়। আর পুলিশের সাথে সুসম্পর্ক করে প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। এসব বিষয়েও পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের সজাগ দৃষ্টি থাকতে হবে।

নগরের ইপিজেড এলাকার ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন শুভ বলেন, ‘শুধু কমিটি করলেই হবে না। আমাদের যেন এই কমিটির মাধ্যমে উপকার হয়—সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এর আগেও আমরা দেখেছি চাঁদাবাজদেরই চাঁদাবাজি নির্মুল করতে কমিটিতে রাখা হয়েছিল। এটা শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো। নতুন বাংলাদেশে নতুন পুলিশিং চাই আমরা। যেন আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।’

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘কমিশনার স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কয়েক দফা ভেরিফেকেশনের মাধ্যমে কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা স্বচ্ছ এবং ক্লিন ইমেজের। আশা করি জনগণ এবং পুলিশের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে সিটিজেনস্ ফোরাম-এর কমিটি।’

একটি জরিপের হিসেবে, আইনি সহায়তার জন্য থানায় যায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ। বাকিরা অর্থাৎ সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পুলিশের সংস্পর্শে আসেন না। আর এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পুলিশি সেবা দিতেই এই ফোরাম গঠন হয়েছে। যেকোনো দরকারে কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে পুলিশি সহায়তা পাওয়াই এই ফোরাম গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সচেতন সমাজের মতে, ভালো কাজের মাধ্যমে যদি এই উদ্যোগ সফল হয় তবে সমাজে অপরাধের প্রবণতা অনেকাংশেই কমে যাবে। সুস্থ-সুন্দর সমাজ গড়তে এই উদ্যোগের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তারা।

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’