খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে দুই ‘সন্ত্রাসী’ গ্রুপের গোলাগুলি, দুজন খুন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 30 March, 2025, 9:43 am
চট্টগ্রামে দুই ‘সন্ত্রাসী’ গ্রুপের গোলাগুলি, দুজন খুন

অবৈধ বালুর মহালকে কেন্দ্র করে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুটি ‘সন্ত্রাসী’ গ্রুপ। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একপক্ষের চারজন। এদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা সড়কের চন্দনপুরায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন—আবদুল্লাহ্ এবং মানিক। গুলিবিদ্ধ একজনের নাম রবিন অন্যজনের নাম জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,শনিবার মধ্যরাত থেকেই কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকায় বালু মহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছিলো সন্ত্রাসীদের দুটি গ্রুপ। এর মধ্যে চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার বাবলার নেতৃত্বে একটি প্রাইভেটকারে ছিলেন নিহত মানিক, আবদুল্লাহ, ইমন এবং রবিনসহ ৬ জন।

আরেকটি গ্রুপে খোরশেদ হাসানের নেতৃত্বে ছিলেন হাসান, রায়হানসহ আরও কয়েকজন। তাদের কাছে ছিল ভারী অস্ত্রশস্ত্র। মূলত রাউজান-রাঙ্গুনিয়া কেন্দ্রীক ‘ডন’ হিসেবেই পরিচিত তারা।

গোলাগুলির ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি কয়েকজন বন্ধুসহ চন্দনপুরা মোড়ে চা পান করছিলাম। হঠাৎ করে দেখি একটি বাইকে তিনজন প্রাইভেটকারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছে। তার অদূরেই দাঁড়ানো ছিল একটি পুলিশের টহল গাড়ি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরসাইকেল আরোহীরা চলে যায়। আমরাও আকস্মিকতায় আরেকটি কুলিং কর্নারে আশ্রয় নিই। এরপর সেখানে দুজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। প্রাইভেটকারের চালকের আসনে রক্ত ছড়ানো ছিল।’

জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত দুজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের পায়ের রানে এবং অপরজন হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে দুজনেই শঙ্কামুক্ত আছেন।

এ বিষয়ে জানতে বাকলিয়া ও চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নগর পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

তবে নগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বালুর মহালকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী সারোয়ার বাবলার সাথে সন্ত্রাসী খোরশেদ, রায়হান এবং হাসানের গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছিল। আজ (শনিবার) বাবলা গ্রুপ ৬ জন নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে ছিল। চার-পাঁচটি মোটরসাইকেল নিয়ে খোরশেদ গ্রুপ তাদের রাজাখালী ব্রিজ থেকে ধাওয়া করে। তাদের মধ্যে পারস্পরিক গোলাগুলি হয়েছে। তাদের কাছে ভারী অস্ত্র ছিল।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘একপর্যায়ে চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশের টহল গাড়ি দেখে সারোয়ার গ্রুপের একজন সাহায্য চাইতে যায়। এর মধ্যে মোটরসাইকেলে এসে অন্য গ্রুপ প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং গুলিবিদ্ধ হন আরও দুজন। ইমন নামে একজন পুলিশ হেফাজতে আছে। সারোয়ার বাবলা পলাতক।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, খোরশেদ গ্রুপ রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার দিকে মুভ করেছে। আমরা চট্টগ্রামের সকল স্থানে চেকপোস্ট বসানোর নির্দেশ দিয়েছি। বিশেষ করে হাটহাজারী এবং রাউজান রাঙ্গুনিয়া লাইনে। তাদেরকে আটক বা অস্ত্র উদ্ধার করা এখনো সম্ভব হয়নি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি জড়িতদের গ্রেপ্তারে।’

কে এই সারোয়ার হোসেন বাবলা

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর এইট মার্ডার মামলার আসামি আসামি ‘শিবিরক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী খানের একসময়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ সারোয়ার হোসেন বাবলা। তিনি নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খোন্দকার পাড়ার কালা মুন্সির বাড়ির আব্দুল কাদেরের ছেলে।

চার বছর জেল খেটে পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে পালিয়ে থাকা ‘বড়ভাই’ সাজ্জাদের দেখভালে ছিলেন দুবছর।

২০২০-এ দেশে ফিরেই গ্রেপ্তার হন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। পরে বের হয়ে চার বছর পালিয়ে ফের গ্রেপ্তার হন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, নগরের ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামি থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবগুলোতে জামিনে রয়েছেন তিনি।

সবশেষ গত বছরের ২৭ জুলাই সারোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছিল চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আবারও জড়িয়ে পড়েন পুরোনো অপকর্মে।

Feb2
Feb2

সাতকানিয়ার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন ডা. রানা চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 2:17 pm
সাতকানিয়ার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন ডা. রানা চৌধুরী

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চিকিৎসক ডা. রানা চৌধুরী। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।

১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ডা. রানা চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), নারী ও শিশু অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় ডা. রানা চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা আশা প্রকাশ করেন, তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।

চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নিশ্চিতে ১০ দিনের সময় দিলেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 September, 2026, 8:37 pm
চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নিশ্চিতে ১০ দিনের সময় দিলেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই সময়ের মধ্যে রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান পরিচ্ছন্ন রাখা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন এবং খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে হবে। সময়সীমা শেষে ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে চারটি দল প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবে।

পরিদর্শনের ভিত্তিতে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর মান যাচাই ও গ্রেডিং করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রশাসনের উদ্দেশ্য জরিমানা করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়; বরং ঘাটতি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আজ সোমবার তিনি এসব কথা বলেন। সভায় হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, ব্যবসায়ী ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলা প্রশাসনের চলমান পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকেরা প্রতি শনিবার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা করা হলেও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাঙ্ক্ষিত মান পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই শুধু অভিযান নয়, ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চায় প্রশাসন।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার জরিমানার মাধ্যমে কোনো ব্যবসা করে না। যাঁরা অসৎ পথে ব্যবসা করেন, তাঁদের সংশোধনের পথে নিয়ে আসার জন্যই জরিমানা করা হয়।’

তিনি বলেন, প্রশাসন চায় না কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা ব্যবসা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। এ জন্য প্রয়োজনীয় ঘাটতি দূর করতে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত মান অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষের হোটেল-রেস্তোরাঁনির্ভরতা বাড়ছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাই খাবারের মানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষের মধ্যে এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে চট্টগ্রামের যেকোনো রেস্তোরাঁয় নিশ্চিন্তে খাবার খাওয়া যায়।

খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রামকে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবারের ক্ষেত্রে দেশের জন্য উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সুনাম রয়েছে। নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম নেতৃত্ব দিতে পারে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

প্রশিক্ষণের পর নারীর কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 September, 2026, 7:19 pm
প্রশিক্ষণের পর নারীর কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে: ডিসি জাহিদ

নারীদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; প্রশিক্ষণের পর অর্জিত দক্ষতা কোথায় এবং কীভাবে কাজে লাগিয়ে তাঁরা আয় করতে পারবেন, সেই পথও দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেছেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে প্রশিক্ষণ দিলে সরকারি অর্থ ও প্রশিক্ষণার্থীদের সময় ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট খাতের চাহিদা, কাজের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা থাকা প্রয়োজন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শুধু আমাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি ২০ জনকে প্রশিক্ষণ দিলাম—এই মানসিকতা যেন আমাদের না থাকে। যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, প্রশিক্ষণের পর তাঁরা কোথায় কাজ করবেন, সেই চিন্তাটাও আমাদের থাকতে হবে।”

প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও কাজের সুযোগ ভিন্ন। তাই একই ধরনের প্রশিক্ষণ সব জায়গায় কার্যকর নাও হতে পারে। কোন এলাকায় কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা যাচাই করে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাজাতে হবে।

এ ক্ষেত্রে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সহযোগী বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে একজন নারী যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ না পান এবং হতাশ হয়ে পড়েন, তাহলে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণই শেষ কথা নয়। অর্জিত দক্ষতা নিয়মিত চর্চা করতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে বাজার ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।

“মানুষের চাহিদা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আপনি যে পণ্য তৈরি করবেন, তাতে আপনার সময়, শ্রম ও বিনিয়োগ আছে। সেই পণ্যের বাজারে চাহিদা থাকতে হবে। তাই প্রতিদিন নিজের দক্ষতা কতটুকু বাড়ালেন, নতুন কী শিখলেন—সেটিও ভাবতে হবে,” বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের নিজেদের দক্ষতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের আয় শুরু করলে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত সফলতা। কিন্তু তাঁর অর্জিত দক্ষতার মাধ্যমে আশপাশের আরও কয়েকজন নারী উপকৃত হলে সেই উদ্যোগের সামাজিক সার্থকতা তৈরি হয়।

সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি যখন এই সেলাই মেশিনটি পেলেন, তখনই এই কর্মসূচি সত্যিকার অর্থে সফল হবে, যখন আপনার কাছ থেকে আরও ১০ জন মানুষ প্রশিক্ষণ নেবে এবং তাঁদেরও জীবনমানের উন্নয়ন হবে।”

পরিশ্রম ও আত্মউন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের কর্মক্ষম সময় সীমিত। তাই সুযোগ ও সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। শুধু সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগও নিতে হবে।

তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ শুধু সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের বড় শক্তি বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

নারীর দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণের সংখ্যা নয়, এর ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, “আপনি যদি ১০ জনকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দিতে পারেন, তাঁদের জীবন পরিবর্তন করতে পারেন, দেখবেন প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য মানুষ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসবে।”

তিনি প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নকারী এনজিওগুলোকে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেই চাহিদা তুলে ধরার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদেরও নিজেদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। নতুন উদ্যোগ শুরু করলে প্রশাসন, সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সমাজে মানবিকতা, মমত্ববোধ ও মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি একটি মানবিক সমাজ গড়ার দায়িত্বও সবার। পরিবার থেকেই সন্তানদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, মূল্যবোধ ও অন্যের প্রতি মমত্ববোধ শেখাতে হবে।

তিনি বলেন, “আমি একা ভালো থাকতে পারব না। আমার সামনে যখন একটি অমানবিক ঘটনা ঘটে, সেটি আমাকে এবং আমার পরিবেশকেও আঘাত করে। আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থায় বেড়ে উঠুক।”

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতার পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন সম্পর্কে নিয়মিত জানার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আজকের প্রশিক্ষণই শেষ নয়। এই দক্ষতাকে আরও প্রসারিত ও উন্নত করতে হবে। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই আপনাদের এগিয়ে যেতে হবে।”