খুঁজুন
রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারী বিশ্বকাপের মূলপর্বে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
নারী বিশ্বকাপের মূলপর্বে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য সমীকরণ যে এত কঠিন ছিল তাদের ব্যাটিংয়ে সেভাবে তা বোঝাই যায়নি। একেবারে সাবলীল ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস কিংবা শ্যানেল হেনরি সবার ব্যাটেই ছিল আত্ববিশ্বাসের ছোঁয়া।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত হিসাবে একটু গোলমালই হয়ে গেল। সমীকরণ বলছিল, ১১তম ওভারের ৫ম বলে চার এবং ৬ষ্ঠ বলে ছক্কা হলেই কেবল বিশ্বকাপে যেত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ৫ম বলেই সরাসরি ছয় হাঁকানোর ফলে ম্যাচ জিতলেও মুহূর্তটা আর উইন্ডিজ নারীদের পক্ষে থাকেনি।

নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ চলে গেল নারী বিশ্বকাপের মূলপর্বে। এই ম্যাচের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারীদের নেট রানরেট হয়েছে ০.৬৩। আর বাংলাদেশের নেট রানরেট ০.৬৪।

থাইল্যান্ডের দেওয়া ১৬৭ রানের টার্গেট ১০ দশমিক ৫ ওভারে শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে দুর্দান্ত মারকুটে এই ব্যাটিংটাও এদিন কাজে লাগল না তাদের।

নিজেদের ম্যাচে বাংলাদেশ দিনের শুরুতে হেরে গিয়েছিল পাকিস্তানের কাছে। ৭ উইকেটে হার দেখতে হয়েছিল টাইগ্রেসদের। তারপরও আশার প্রদীপটা একেবারেই নিভে যায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারীদের হার কিংবা নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকা– এর যেকোনো একটি ঘটলেই জ্যোতির দল পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপে– এটাই ছিল সমীকরণ।

সেই সমীকরণ বাংলাদেশ নিজেদের পক্ষে দেখতে শুরু করে থাইল্যান্ডের ব্যাটার নাত্তাখাম চাংথামের কল্যাণে। তার অসাধারণ এক ফিফটিতে ভর করে উইন্ডিজ নারীদের বিপক্ষে থাইল্যান্ডের স্কোর হয় ১৬৬। নেট রানরেট এগিয়ে নিতে হলে ক্যারিবীয়দের যা পেরোতে হবে ১০.১ ওভারেই! যা ছিল বেশ কঠিন। বাংলাদেশ আশা দেখে সেখান থেকেই।

থাইল্যান্ডের ইনিংস অবশ্য শেষ হতে পারত আরও অনেক আগেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারীদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে একসময় ৮৫ রানেই ৭ উইকেট হারায় থাইল্যান্ড। চারে নামা চাংথাম একাই ছিলেন প্রাচীর হয়ে। খেলেন ৬৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

শেষদিকে থাই নারীদের আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে না পারলেও বলের পর বল খেলে গিয়েছেন চাংথাম, আর সেটাই বাংলাদেশের স্বপ্নটা উজ্জ্বল করে।

বহু জটিলতার পর জানা যায়, ১০.১ ওভারে ১৬৭ রান করতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেটা ১১ ওভার পর্যন্ত যেতে পারে, তবে স্কোর হতে হবে ১৭২। অর্থাৎ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়টা এমনভাবে তুলতে হবে যাতে ১১ ওভার শেষে স্কোর ১৭২ হয়। এটা সম্ভব ছিল এভাবে- স্কোর ১৬৬তে লেভেল হওয়ার পর জয়সূচক রানটা নিতে হবে ৬ মেরে! সেটা আর হয়নি। ১১তম ওভারের ৫ম বলে এসে স্কোর লেভেল (১৬৬) করার জন্য ক্যারিবীয়দের দরকার ছিল ৪ রান। কিন্তু তারা হাঁকায় ছক্কা! এতে জয় চলে আসে, কিন্তু ১৭২ আর করার সুযোগ থাকে না। ফলে নেট রানরেটে তারা পিছিয়েই থাকে বাংলাদেশের চেয়ে।

এর আগে ১৬৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দারুণ ব্যাটিং উপহার দেন ক্যারিবিয়ান দুই ওপেনার হেইলি ম্যাথিউস আর কিয়ানা জোসেফ। তার ছিলেন দুর্দান্ত আগ্রাসী। ১২ বলে ২৬ করে কিয়ানা থামলেও অধিনায়ক হেইলি ছুটছিলেন দুর্বার গতিতে। ৭ম ওভারের শেষ বলে থামে তার ২৮ বলে ৭০ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের স্বপ্নটাও উজ্জ্বল হয় তখন।

কিন্তু তিনে নামা শ্যানেল হাল ছাড়ার নন। ১৭ বলে ৪৮ রান করেন তিনি। উইন্ডিজ নারীদের চার-ছয়ের কাছে তখন বাংলাদেশের দর্শকরা অসহায়। প্রতিটা ডট বল যেন টাইগ্রেসদের জন্য আশীর্বাদ।

১০.১ ওভারে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৭। পরের বলেই বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন শ্যানেল হেনরি। আলিয়াহ অ্যালেইন এসে প্রথম বলে চার মেরে জমিয়ে দেন সমীকরণ। পরের বলে সিঙ্গেলস হয়ে স্ট্রাইকে আসেন স্টেফেন টেইলর। উইন্ডিজের রান ছিল ১৬২। এখান থেকে ১ চারে ১৬৬ এবং ১ ছক্কায় ১৭২ রান হলেই কেল্লা ফতেহ।

কিন্তু চারের উদ্দেশ্যে হাঁকানো স্টিফেন টেইলরের শটটি সরাসরি মিড অফের ওপর দিয়ে চলে যায় বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করলেও উইন্ডিজ নারীরা বিশ্বকাপটা মিস করে যায় ০.০১ রানরেটের জন্য। ১ বলের সমীকরণে বাংলাদেশের ঠাঁই হয় আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে।

Feb2

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় মঈনকে প্রধান আসামি করে মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় মঈনকে প্রধান আসামি করে মামলা

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে (মঈন) এক নম্বর আসামি করে মামলা দায়ের করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১১ এপ্রির) রাতে সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ সাবেক যুবদল নেতা মঈনকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আট জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের শেরে বাংলা নগর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আক্কাস আলী। তিনি বলেন, হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ ও আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের টিম কাজ করছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলে যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী আসামিদের চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করে। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি। পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে আসামি মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আসামি ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।

আরো উল্লেখ করা হয়, এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ করে বলে ‘কামরুলের দুই গালে জুতা মারো’ এবং ‘কামরুলের পিঠের চামড়া তুলে নেব’ মর্মে হুমকি সূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়াও তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমি শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয় : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয়, দেশের সম্পদ।

রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পেশাদারিত্বে কোনো আপস না করতে বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশ এবং দেশের জনগণের স্বাধীনতার রক্ষার যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে আশান্বিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময় এবং দৃশ্যমান প্রশাসনিক অচলাবস্থায় সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এরপর দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের সময় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দরবার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষত, গত ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্ম, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেন।

দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।

কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জীবনাবসান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের জীবনাবসান

ভারতের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। আশার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং আনন্দবাজারের তথ্য অনুসারে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন আশা ভোঁসলে। এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তারপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রোববার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা।

১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের এক মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা। তার বাবার নাম পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর। ভারতের আরেক কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার আপন বড় বোন।

দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত মঞ্চ ব্যক্তিত্ব ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিল্পী। শিশু বয়সে বাবার কাছেই প্রথম সঙ্গীতে তালিম নেন আশা মঙ্গেশকর। তারপর বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সচিব গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যান এবং বিয়ের পর ‘মঙ্গেশকর’ পদবী বাদ দিয়ে স্বামীর ‘ভোঁসলে’ পদবি গ্রহণ করেন। তবে গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার কারণে মঙ্গেশকর পরিবার তাকে ত্যাগ করে।

এই দম্পতির তিন সন্তান ছিল, তবে তবে তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সমস্যাসঙ্কুল। ১৯৬০ তালে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে গণপতি-আশা দম্পতির। তার ২০ বছর পর ১৯৮০ সালে ভারতের বিখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মণের ছেলে রাহুল দেব বর্মণ, যিনি নিজেও বলিউডের বিখ্যাত ও প্রতিষ্ঠিত সুরকার-গায়ক ছিলেন— তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আশা।

দীর্ঘ কয়েক দশকের কেরিয়ারে হিন্দি, বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কয়েক হাজার গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, গজল থেকে ক্যাবারে—প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও সমান জনপ্রিয়। সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।

বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের অকালমৃত্যু এবং তার জেরে অভব-অনটনের কারণে পরিবারের হাল ধরতে বোন লতার মতো খুব অল্প বয়সে গান গেয়ে উপার্জনের পথে নামতে হয়েছিল আশাকে। ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাজে বাল’-এ গান গেয়েছিলেন তিনি। তার পরবর্তী আট দশকে বাংলা, হিন্দি, মারাঠিসহ ২০টি ভারতীয় ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। সেসব গাণের বড় অংশই প্লেব্যাক বা সিনেমার গান।

ভারতীয় সঙ্গীতে অবদান ও কৃতিত্বের জন্য সুদীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আশা ভোঁসলে। সেসবের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন তিনি।

শনিবার আশা ভোঁসলে হাসপাতলে ভর্তি হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় মোদি বলেছিলেন, “আশা ভোসলেজি হাসপাতালে ভর্তি শুনে গভীর ভাবে চিন্তিত। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”