খুঁজুন
, ,

‘সমাবর্তী-শিক্ষার্থী তারুণ্যকে বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখার তাগিদ’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 14 May, 2025, 8:46 pm
‘সমাবর্তী-শিক্ষার্থী তারুণ্যকে বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখার তাগিদ’

সমাবর্তী-শিক্ষার্থী তারুণ্যকে বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখার তাগিদ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, স্বপ্ন না দেখে গর্তের মধ্যে ঢুকে থাকলে, যা আছে তা-ই মেনে নিলে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

বুধবার (১৪ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

শিক্ষা-গবেষণায় নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখার তাগিদ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যে ধরনের বিশ্ব গড়তে চাই, সেই বিশ্ব গড়ার ক্ষমতা আমাদের আছে, সকল মানুষেরই আছে। কিন্তু আমরা গৎবাঁধা পথে চলে যাই বলে নতুন পৃথিবীর কথা চিন্তা করি না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেন সবসময় এটা স্মরণ রেখেই তার পাঠদান কর্মসূচি, তার গবেষণা শিক্ষক ও ছাত্রদের জন্য চালু রাখে যে আমরা শুধু খণ্ডিত বিষয়ের গবেষণা করার জন্য নিয়োজিত নই। আমরা প্রত্যেকটি বিষয়ের পেছনে একটিই উদ্দেশ্য, সমস্ত বিশ্বকে আমাদের মনের মতো করে সাজানোর জন্য, মনের মতো করে বানানোর জন্য। আমাদের যদি সেই লক্ষ্য না থাকে, তাহলে গন্তব্যহীন গবেষণা, গন্তব্যহীন শিক্ষায় পরিণত হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ পৃথিবীর ভবিষ্যত আমাদের প্রত্যেকের হাতে। আমরা যেভাবে বিশ্বকে গড়তে চাই সেভাবেই বিশ্ব গড়তে পারি। আমি যেভাবে বলেছি সেভাবে গড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমি আমার কথাটা বলে যাচ্ছি। অন্যরা তাদেরটা বলবে। কিন্তু নিজের মনের একটা স্বপ্ন থাকতে হবে এটাই আমার আবেদন। আমি কী ধরনের বিশ্ব চাই, কী ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চাই, কী ধরনের সমাজ চাই, কী ধরনের দেশ চাই- সবকিছু নিয়ে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে একটা স্বপ্ন থাকতে হবে। কিন্তু স্বপ্ন না দেখে গর্তের মধ্যে ঢুকে গেলাম, যা আছে মেনে নিলাম, তাহলে কিছুই পালটাবে না, কিছুই পরিবর্তন হবে না।’

দুটি নোবেল পুরস্কার পাবার জন্য চবি গর্ববোধ করতে পারে উল্লেখ করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষক ড. ইউনূস বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যখন নিজের পরিচয় দেয়, হয়তো নোবেলের জন্য গৌরববোধ করে। কিন্তু চবির গৌরববোধ করার কারণ দুইটা আছে। পুরো কর্মসূচি, যার জন্য নোবেল পুরস্কার, এর গোড়াপত্তন হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। একটি তো আমি ব্যক্তিগতভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছি। তারপর যে গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টি হল, এই ব্যাংকের গোড়াতেও চবি। গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে এটা পরিষ্কার লেখা আছে যে, এটা কোথা থেকে আসল? ব্যাংকের জন্ম হয়েছে চবিতে অর্থনীতি বিভাগে, এটা স্পষ্ট উল্লেখ আছে। এই ব্যাংকও নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। কাজেই দুটি নোবেল পুরস্কারের বিষয় চবি তার ছাত্রছাত্রীদের এর ইতিহাস জানাতে পারে। তাহলে ছাত্রছাত্রীরা ঠিক করবে যে তারা কী ধরনের ভবিষ্যত গড়তে চায়।’

চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ নিজের ভেতরে পরিবর্তন এনে দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘৭৪ সালে বিরাট দুর্ভিক্ষ হল। সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। মনের মধ্যে বহু জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হল। মনে মনে ভাবলাম, সারা বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ ঠেকানোর ক্ষমতা আমার নাই, আমি চেষ্টা করতে পারি, এই বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র অংশের, কয়েকটি পরিবারের যদি দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে পারি, তাহলে সেটা আমার জন্য তৃপ্তির বিষয় হবে যে আমি একটা কিছু করেছি। সে কারণে নজর পড়ল পাশের গ্রাম জোবরার ওপর। কী করবে জোবরাতে, সারাদেশে হাহাকার। জোবরাতে কেউ তখনও মারা যায়নি, কিন্তু অবস্থা কাহিল। মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগল, এই চবি আর জোবরা গ্রামের মাঝামাঝি বিশাল জমি পড়ে আছে, এখানে তো অনেক ফসল হওয়ার কথা, তাতে তো তাদের সারাবছরের খাবার সংস্থান হওয়ার কথা। জিজ্ঞেস করলাম, বলে- ‘এখানে ফসল হয় না।’ কেন হয় না- বলে ‘বৃষ্টি না হলে তো ফসল হবে না।’ আমি তখন রাউজানের উদাহরণ দিলাম, রাউজানে তখন সবেমাত্র ইরিধানের চাষ শুরু হয়েছে। বলে- ‘আমরা তো জানি না এগুলো।

‘বিশ্ববিদ্যালয়কে জিজ্ঞেস করলাম। বিশ্ববিদ্যালয় যদি জ্ঞানের ভাণ্ডার হয়, এই জ্ঞান পাশের গ্রামে উপচে পড়ে না কেন, তারা জানে না কেন? কেউ কোনো সদুত্তর দিল না বা দেওয়ার চেষ্টাও করলো না। তখন আমি চেষ্টা করলাম এদের চাষের দিকে আগ্রহী করা যায় কিনা, তখন বলে যে- পানি তো নেই, রাউজানে পানি আছে, এখানে তো পানি নেই। ডিপটিউবওয়েল তখন সবে এসেছে দেশে, ওদের ডিপ টিউবওয়েল আছে, আমাদের নেই। বহু চেষ্টা তদবির করে একটা ডিপ টিউবওয়েল বসালাম। কী হবে- এখানে শীতকালে চাষ হবে, অবিশ্বাস্য একটা কাণ্ড, শীতকালে চাষ হয়, এটা মানুষের ধারণার মধ্যেও নাই। তাদের ধারণা ছিল, শীতকালে যদি চাষের বিষয় থাকতো, তাহলে আল্লাহ শীতকালে বৃষ্টি দিতেন। যেহেতু আল্লাহ শীতকালে বৃষ্টি দেন নাই, তাহলে শীতকালে ফসল চাষের বিষয় নেই, আপনি জোর করে আল্লাহর হুকুম উলটে দিয়েন না।’

ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির আগে তেভাগা খামার তৈরির ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি বলতে থাকলাম, ডিপটিউবওয়েলের ব্যবস্থাও করা হল। ফসলও হল। পরের বছর ছড়া থেকে পানি নিয়ে চাষ করবে বলল। ছড়ায় বাঁধ দেওয়া হল। বাঁধে যে পানি আসল, সেটা ডিপটিউবওয়েল থেকে অনেক বেশি পানি। নতুন একটা শিক্ষা হল। বুঝলাম, ইচ্ছা না থাকলে, গরজ না থাকলে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও অভাব থেকে যায়। পানি আছে, জমি আছে, চাষ করা যায়, কিন্তু কেউ করেনি কোনোদিন, আমরা কেন করব? একটা শিক্ষা লাভ হল। এর ফলে জন্মলাভ করল তেভাগা খামার, সেটা দিয়ে যাত্রা শুরু। তেভাগা খামারে চাষ করতে গিয়ে আবার সমস্যা হলো। ইরি ধান চাষ করতে গেলে লাইন ধরে রোপা লাগাতে হয়, এমনিতে তো ধান ছিটিয়ে দিলে ফসল হয়ে যায়। কিন্তু ইরিতে কষ্ট করতে হয়। তো, আমি বললাম খাবেন যখন কষ্ট তো করতে হবে। বলে- ‘না, বেশি কষ্ট।’ তখন আমি ছাত্রদের সঙ্গে বসলাম। তারা দলে দলে মাঠে নামল, লাইন ধরে ইরি ধানের রোপা লাগাল। পরে অন্যান্য গ্রামেও নজর পড়ল।

‘আমি এসেছিলাম এখানে শিক্ষক হিসেবে, কিন্তু ক্রমে যত দিন গেল, দেখলাম আমি ছাত্র হয়ে গেছি। তখন আমি ক্রমাগত শিখছি। ক্রমে ক্রমে জোবরার মহিলারা আমার শিক্ষক হয়ে গেল। তাদের কাছ থেকে অনেককিছু শিখলাম। আমার ছাত্রছাত্রীরা অনেকে আমার সঙ্গে ছিল। অবাক হয়ে গেলাম, যা ক্লাসরুমে পড়াই তার সঙ্গে কিছুই মিল নাই।’

এরপর নারীদের ঋণদানের কাহিনী তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘এরপর যে কাজ শুরু করলাম, সেটা মহিলাদের খুব পছন্দ হল। মহিলাদের হাতে ঋণ দিলাম, ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা। ৫ টাকা, ১০ টাকায় মানুষ যে এত খুশি হতে পারে জানা ছিল না, কোনোদিন ভাবিওনি। আমি যে মাগনা টাকা দিয়েছি তা না, তাদের বললাম- কাজ করে রোজগার করে টাকা ফেরত দিতে হবে। তাতেই তারা খুশি। অনেক কাহিনী শুনলাম। তাদের অনেকে তাদের নিজের নাম পর্যন্ত বলতে পারে না। আমাদের সমাজ এমন, তাদের নাম জানারও সুযোগ করে দেয় না। ছোটবেলায় অমুকের মেয়ে, বিয়ে হলে অমুকের বৌ, মা হলে অমুকের মা, সে যে কে সে নিজেও জানে না। আমরা প্রথম চেষ্টা করলাম, আমাদের ছাত্রীদের দিয়ে কোনোভাবে তার নামটা বের করার জন্য, হয়তো কোনো একসময় তার নাম একটা ছিল অথবা মনে না পড়লে একটা নতুন নাম দেওয়া যাতে করে সেটা সে লিখতে পারে। এভাবে লেখা শেখানো। এই লেখা শেখাতে গিয়ে তার জীবনের অনেক কাহিনী আসল। প্রতি কাহিনী একটার চাইতে একটা চমৎকার।’

এর থেকে আমি একটা সিদ্ধান্তে আসলাম, সভা-সমিতিতে বললাম, লেখালেখিতে বললাম- ঋণ মানুষের মানবিক অধিকার। মানুষ হাসাহাসি করল। আপনি ঋণের কথা বলেন, অধিকারের কথাও বলেন- এটা কী ধরনের কথা! অর্থনীতিতে তো অধিকারের বিষয় নেই। অনেক খটকা, তা-ও আবার মানবিক অধিকার, একটা খটকার পর আরেকটা খটকা। তারপর বললাম, আমরা দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠাবো। বলে- ‘আপনি কে জাদুঘরে পাঠাবেন।’ আমি বললাম- আমি আপনার মতোই একজন মানুষ। তখন বলল- ‘এটা আপনার কাজ না, এটা সরকারের কাজ।’ আমি বললাম- আমি আমার কাজ করি, সরকার আমাকে বাধা দিলে দেখা যাবে।

ব্যবসাকেন্দ্রিক নয়, অর্থনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য– এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে জোবরার মহিলাদের কাছ থেকে নতুন অর্থনীতি শিখলাম। জোবরা গ্রাম আমার জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দাঁড়িয়ে গেল। আজ পর্যন্ত যা করে যাচ্ছি, তা জোবরা থেকে যা শিখেছি তার বহিঃপ্রকাশ। আজ অর্থনীতি যা পড়াচ্ছি, সেটা ব্যবসার অর্থনীতি, মানুষের অর্থনীতি না। আমাদের মানুষের অর্থনীতি গড়তে হবে। আমাদের অর্থনীতি যদি শুরু করতে হয়, মানুষকে দিয়ে শুরু করতে হবে, ব্যবসাকে দিয়ে নয়। অথচ আমরা ব্যবসাকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে তুললাম, এটা আত্মঘাতী সভ্যতা, এটা টিকবে না।’

‘ওই যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি লেখাপড়া শুরু করলাম, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ই আমাকে বলল- এই বিদ্যায় পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, এর থেকে রেহাই পাবার কোনো উপায় নেই। তখন আরও বড় আকারের জিনিসের মধ্যে ঢুকলাম। বললাম আমাদের নতুন সভ্যতা গড়তে হবে। আমার সহকর্মী যারা আছেন, অর্থনীতির পাঠদান করেন, লেখালেখি করেন তারা তো আগেই আমাকে ত্যাজ্য করেছেন, তারা এটা নিয়ে কথা বললে একেবারেই শেষ করে দেবেন কথাবার্তা।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার মাথায় সেটা রয়ে গেল যে আমাদের আবার নতুন সূত্রে যাত্রা শুরু করতে হবে, যে অর্থনীতির ভিত্তি হবে মানুষ, তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কিভাবে নিজেকে আবিষ্কার করার প্রবণতা এবং যেদিকে তাকে ছুটিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে বের করে আনা। এগুলো সবকিছুর বীজ বপন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে, পাশের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে (জোবরা)। এজন্য আমি চবি ও জোবরার কাছে কৃতজ্ঞ। এটা করে যে কোনোদিন একটা নোবেল পুরস্কার পাওয়া যাবে, কখনও মনে আসেনি। তবে লোকজন বলাবলি করেছিল মাঝে মাঝে।’

সমাবর্তীদের উদ্দেশ্যে নোবেলজয়ী ইউনূস বলেন, ‘সমাবর্তন একজন মানুষের জীবনে একটি মস্তবড় ঘটনা। সনদ নেবে, ছবিটি সংরক্ষণ করবে, সেটা সবাইকে দেখায়, সেই বিশেষ দিনটি আজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টা কত তাড়াতাড়ি চলে যায়, কেটে যায় বোঝা যায় না। যখন শেষ হয়ে যায়, তখন মনে বড় কষ্ট লাগে। জীবনের একটা বড় অধ্যায় শেষ হল, নতুন অধ্যায়ের শুরু।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইয়াহ্ইয়া আখতারের সভাপতিত্বে এতে শিক্ষা উপদেষ্টা সি. আর আবরার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম ফয়েজ বক্তব্য দেন।

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।