খুঁজুন
, ,

কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবেছে ঝুলন্ত সেতু, বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 30 August, 2026, 8:46 am
কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবেছে ঝুলন্ত সেতু, বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে রাঙামাটি শহরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের সিংহভাগ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটিতে পর্যটক প্রবেশ ও চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

‎অন্যদিকে হ্রদের পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বাঘাইছড়ির পাশাপাশি রাঙামাটি সদরসহ জেলার আরও কয়েকটি উপজেলার নিচু এলাকায়ও পানি বাড়ছে। এতে কোথাও কোথাও রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎বাঘাইছড়ি পৌরসভার বটতলী, এফ ব্লক, পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকেছে। কয়েকটি সড়ক ও বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। কিছু পরিবার স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলেও জানা গেছে।

‎বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবার স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

‎এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছায় উজান ও ভাটি এলাকার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এর আগে শনিবার দুপুর ২টায় হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) রেকর্ড করা হয়। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

‎কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই জলকপাটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো বা পরিবর্তন করা হতে পারে।

‎বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।

‎এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটি শহরের ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের বেশির ভাগ অংশ পানিতে ডুবে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেতুটিতে প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

‎রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। হ্রদের পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

‎কাপ্তাই হ্রদের পানি আরও বাড়লে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

Feb2
Feb2

পর্যটকদের নির্মল আনন্দ দিতে সাজবে পতেঙ্গা সৈকত: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 29 August, 2026, 7:46 pm
পর্যটকদের নির্মল আনন্দ দিতে সাজবে পতেঙ্গা সৈকত: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে আধুনিক ডাস্টবিন ও ওয়াশ ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হবে সৈকত এলাকা। খাবারের মান, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট দোকানকে নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকা দোকানের সংখ্যাও কমানো হবে।

আজ শনিবার পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

কর্মসূচির শুরুতে সৈকত এলাকায় একটি র‍্যালি বের করা হয়। পরে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও নাগরিকেরা ঝাড়ু হাতে সৈকতের ওয়াকওয়ে ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লিন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় নাগরিকেরা।

অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক সৈকতের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখেন। দোকানগুলোর বর্জ্য কোথায় ফেলা হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চান তিনি। প্রতিটি দোকানের বর্জ্য নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলার পাশাপাশি পর্যটকেরা যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলেন, সে বিষয়ে তাঁদের সচেতন করতে দোকানমালিকদের নির্দেশ দেন।

পরে সাংবাদিকদের জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে সৈকতের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা যায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পতেঙ্গা সৈকতকে আধুনিক ও মনোরমভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা হবে। আধুনিক ডাস্টবিন ও প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হবে। আমরা এর একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই।’

পর্যটকদের নির্মল আনন্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পতেঙ্গা সৈকতকে বিশ্বের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, পুলিশ ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সৈকতের দোকানমালিকদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দোকানমালিকদেরও নিতে হবে। বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারলেই দোকানগুলো ব্যবসা চালাতে পারবে। যেসব দোকান নিয়ম মানবে না, তাদের নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৈকতে প্রয়োজনের তুলনায় দোকানের সংখ্যা বেশি বলেও মন্তব্য করেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এত বেশি দোকানের প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। যারা নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে পারবে, তাদের দোকান থাকবে। যারা পারবে না, তাদের নোটিশ দেওয়া হবে।’

হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিক সমিতির সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। নির্ধারিত মান অনুযায়ী খাবার পরিবেশন ও স্যানিটেশনব্যবস্থা বজায় রাখা না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেন তিনি।

পতেঙ্গা সৈকতের নিরাপত্তা বাড়াতে আনসার সদস্য নিয়োগ করা হবে। প্রয়োজনে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তবে নিরাপত্তাকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে অনেক পর্যটক সাগরে নেমে পড়েন উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের উদ্দেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা এখানে আসুন, আনন্দ করুন এবং নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করুন। কিন্তু আপনার জীবন আপনার কাছেই সবচেয়ে মূল্যবান। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা মেনে চলুন।’

সৈকতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকবে। কোনো অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

শুধু সরকারি কোনো একটি সংস্থার পক্ষে সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। উন্নত দেশের নাগরিকেরা সৈকতকে নিজেদের সম্পদ মনে করে এর পরিবেশ রক্ষা করেন। এখানেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিকদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি শুধু আমার বা আপনার দায়িত্ব নয়। সবাই দায়িত্ব পালন করলে সৈকতের পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব। আমরা কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করতে চাই।’

‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার লক্ষ্যে গত ২৫ জুলাই জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। এর আওতায় সরকারি দপ্তরের ছাদ ও প্রাঙ্গণ পরিষ্কারের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুকুর এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার রোধ এবং পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। কর্মসূচিটি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সব নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অবৈধ অস্ত্রের খোঁজ দিলে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 29 August, 2026, 3:45 pm
অবৈধ অস্ত্রের খোঁজ দিলে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার

লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।

আজ শনিবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

‘লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এরই মধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে’, জানান মন্ত্রী।

অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যাদি দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য সরকার পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানিয়েছেন, যারা ভারী অস্ত্র (হেভি ওয়েপনস) উদ্ধারের জন্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, তাদেরকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে। পিস্তল, রিভলবার বা শটগান জাতীয় অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

‘সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে খবর দিয়ে যারা সহায়তা করবেন, তাদেরকেও ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে’, যোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তথ্য প্রদানকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে এরই মধ্যে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে’, লাইসেন্স বাতিল হওয়া অস্ত্রের বিষয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সময়সীমার মধ্যে কর্মকর্তাদের কাজ করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছিলেন, কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন।

আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 29 August, 2026, 3:20 pm
আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব

সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।

‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব’, ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্যে দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন’, শহীদদের আত্মার প্রতি প্রার্থনা করেন তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করেছেন সরকার প্রধান।