খুঁজুন
, ,

ফুলে-ফলে টইটুম্বুর রাউজানের প্রবাসী রানার ছাদ বাগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 October, 2019, 3:34 pm
ফুলে-ফলে টইটুম্বুর রাউজানের প্রবাসী রানার ছাদ বাগান

Raozan-Pic-3.10

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাটের পিচঢালা সড়কপথ হয়ে হাজী মীর হোসেন সওদাগর বাড়ির সংযোগ সড়ক।

নিভৃত এই পল্লীর সরু রাস্তা দিয়ে হেঁটে কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজসমৃদ্ধ একটি নতুন দ্বি-তলবিশিষ্ট দালান। প্রধান ফটক অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করতেই আপনার মনে প্রশান্তি এনে দেবে দৃষ্টিনন্দন বাড়িটির আঙিনার চারপাশের শাকসজ্বির সবুজ দৃশ্য। শুধু সব্জির ফলন নয়, এই বাড়িটিই যেন একফালি সবুজের সমারোহে বেষ্টিত।

ভবনটির চারপাশের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে লাগানো হয়েছে নানান জাতের ফলদ বৃক্ষ। পড়ন্ত বিকেলে বাড়িটির আশপাশ দিয়ে হেঁটে গেলে কানে ভেসে আসে পাখির কিচির-মিচির শব্দ। বাগানের গাছ আর ফলের সাথেই যেন পাখ-পাখালির গভীর মিতালি জড়িয়ে আছে। গ্রামের নিভৃত এক পল্লীতে স্বপ্নের এই ছাদবাগানটি গড়ে তোলেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী যুবক সরোয়ার রানা।

ছাদ বাগানটি যার হাত ধরেই গড়ে উঠা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী যুবক সরোয়ার রানা ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আঙিনার চারপাশটা দেখলেন ঠিক আছে, চমক আরো বাকী আছে, উপরে উঠলেই বুঝতে পারবেন এদেশে ছাদ কৃষির ছোঁয়া নগর থেকে গ্রামে বিস্তৃত হয়েছে কতখানি!

দ্বিতল ভবনের সিঁড়ি অতিক্রম করে ছাদে উঠতেই সত্যিই অবাক হতেই হলো। তিনহাজার বর্গফুটের এই বাড়িটার বিশাল ছাদজুড়ে টবে লাগানো শতাধিক ফলদ ও ঔষধী বৃক্ষ। স্ট্রবেরি চারায় থোকা থোকা স্ট্রবেরি ঝুলছে, বড় ড্রামে লাগানো আনারস চারায় সরু পাতাগুলি বিকশিত করে দিনদিন বড় হচ্ছে আনারসটি, টবে লাগানো পেস্তাবাদাম গাছে হলদে বর্ণের ফুলে মিষ্টি একটা হাসি যেন ছড়িয়ে আছে বাড়িটির ছাদজুড়ে। এ যেন বৃক্ষমেলার আদলে গড়ো উঠা এক নির্মল পরিবেশ।

উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের হাজী মীর হোসেন সওদাগর বাড়ির হাজী জামাল উদ্দিনের নতুন বাড়ি এটি। এখনো বাড়ির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এই বাড়ির কর্তা থাকেন শহরে। পরিবারে এক ভাই-তিনবোনের মধ্যে মধ্যে একমাত্র ভাই সরোয়ার রানার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গ্রামের নিভৃত পল্লীর মাঝে দ্বিতল ভবনের বিশাল ছাদজুড়ে গড়ে উঠেছে এই দৃষ্টি নন্দন ছাদবাগান।

ছাদবাগানটির স্বপ্নদ্রষ্টা যুবক সরোয়ার রানা আলাপকালে ২৪ ঘন্টা ডট নিউজের প্রতিনিধিকে বলেন, ২০০৪ সাল থেকে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী। তবে নিজের ব্যাবসার সুবাদে প্রবাস-আর দেশে আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকেন।

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি তার নিবিড় একটা টান। তখনকার সময়ে বিটিভিতে প্রচারিত শাইখ সিরাজের উপস্থাপনা ও পরিকল্পনায় কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিন কৃষি-দিবানিশি, পরবর্তীতে চ্যানেল আই’র পর্দায় হৃদয়ে মাঠি ও মানুষ দেখে ছাদ কৃষির প্রতি তাকে এক অদম্য নেশা পেয়ে বসে। পরবর্তীতে সেই চিন্তা মাথায় সর্বক্ষণ ঘুরপাক খেতো।

২০১৬ সালে এসে তিনি তার স্বপ্নপূরণে কাজ শুরু করেন। নিজের নির্মিত নতুন ভবনের ছাদকেই বেছে নেন ছাদকৃষির জন্য। প্রথমেই ছাদ কৃষি সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা না থাকায় বেশী দামে চারাগাছ কিনে তা অল্পদিনেই পরিচর্যার অভাবে চারা গাছগুলো নষ্ট হয়ে যেতো। কিন্তু ধীরে ধীনে ইন্টারনেটে সময় দিয়ে ছাদ কৃষি সম্পর্কে ধারণা নেন তিনি। এরপর শুরু হয় নব উদ্যোমে পথচলা।

তিনি আরো বলেন, ছাদ বাগান গড়ে তোলার জন্য তিনি দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন জাতের চারাগাছ সংগ্রহ করে সেগুলো নিজের ছাদবাগানে লাগিয়েছেন। ঢাকা জাতীয় বৃক্ষমেলা থেকে শুরু করে পার্বত্য এলাকার চন্দ্রঘোনার রাইখালি, টাঙ্গাইল, হাটহাজারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তিনি চারাগাছ কিনে এনে তা নিজের বাগানে লাগিয়েছেন।

বর্তমানে এই ছাদ বাগানের জন্য তিনি পাঁচ লক্ষ টাকার অধিক ব্যয় করেছেন। চট্টগ্রাম বাগান পরিবারসহ বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক অনলাইন থেকে পরামর্শ নিয়ে বাগানের পরিচর্যা করেন। বর্তমানে বড়, ছোট এবং মাঝারি সাইজের ড্রাম,টবে লাগানো শতাধিক জাতের চারাগাছ ফুলে-ফলে টইটুম্বুর তার বাগানে।

সরোয়ার রানা আরো বলেন, ছাদবাগানের ফুল আর ফলকে ঘিরে পাখির আনাগোনা বেড়েছে বাড়ির আশপাশে। ছাদবাগানে দাঁড়িয়ে পাখির কিচির-মিচির ডাক শুনে মনটা ভরে যায়। সরোয়ার রানার ছাদ বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনও ছুটে আসেন। তারা এই ছাদ বাগান দেখে নিজেরাই উৎসাহিত হয়ে তার কাছে ছাদবাগান সৃজন করার বিষয়ে পরামর্শ নেন। এখন তার দেখাদেখি এলাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকার অনেকেই বাসা-বাড়ির ছাদে বাগান গড়ে তোলেছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার সাধ্যমতো সবাইকে ছাদ বাগানের বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি যাতে করে ছাদ বাগানে সবাই এগিয়ে আসে।

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে সারোয়ার রানা নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ছাদবাগান

সরোয়ার রানার গড়ে তোলা ছাদ বাগান ঘুরে দেখা গেছে, তার বাগানে ফলদ গাছের মধ্যে পেঁপে, স্ট্রবেরি, পেয়ারা, আঙ্গুর পেয়ারা, ভেরিকেটেড পেয়ারা, চায়না পেয়ারা, বারি-২, বারি-৩ পেয়ারা, পলি, মাধবী ও থাই পেয়ারা, আপেল কুল, নারিকেল, ডালিম, পাকিস্তানি কমলা, বেরিকেটেড কমলা,কেকোগাছ, মিষ্টি করমচা, দেশী করমচা, মিষ্টি তেঁতুল,সপেদা, আঁশফল, থাই সরিপা, আলু বুকরা, পেঁপে, থাই জামরুল,কলাগাছ, দেশী জামরুল, গোলাফজাম, থাই জাম্বুরা, জাম, বারমাসি আমড়া, কাঁটাল, আনারস, মিষ্টি কামরাঙ্গা, বারমাসি কামরাঙ্গা, জবটিকা, বারমাসি লেবু, কাগুজে লেবু, ফ্যাশন ফ্রুট, লটকন, থাই কালো জাম, দেশী জাম, আমলকি, মিষ্টি জলপাই, ইকো, মোছাম্বি, বিভিন্ন জাতের আম গাছের মধ্যে ডগমাই, এলপেনসো, ব্রুনাইকিং, হারিভাঙ্গা, সুবর্ণরেখা, বারমাসি, আম্রপালি।

ফুলের মধ্যে বকুল, শেফালি, চম্পা, হাসনাহেনা, গোলাফ, নয়নতারা, গন্ধরাজ, কামিনী, পাতাবাহার, ক্রিসমাস ট্রিসহ আরো বেশ কিছু জাতের ফুলের চারা রয়েছে।

সব্জির মধ্যে টমেটো, ভুট্টা, মরিচ, বেগুন, বিদেশী স্কোয়াশ, থানকুনি, রাইশাখ, বাংলা লাউ, কারিপাতা, পুদিনাপাতা, বাহারপাতা, ঔষধী গাছের মধ্যে স্বর্পগন্ধা, গাইনুরা (ডায়াবেটিকস রোগের জন্য এই গাছটি উপকারী), ক্রুসল, ক্যান্সার গাছ, বাসক, ঘৃতকুমারী, এলোবেরা, উলট কম্বল, চিরতা, তুঁত গাছসহ আরো বেশ কয়েকটি জাতের ঔষধী গাছ রয়েছে।

সরোয়ার রানা বলেন, ছাদ বাগানটি নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। এটিকে দিনদিন কিভাবে আরো বিস্তৃত করা যায় সেটি ভাবনায় আছে তার।

সম্পর্কে সরোয়ার রানা স্কুল জীবনের বন্ধু, বর্তমানে চাঁন্দপুরের হাইমচর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর ছুটিতে ছুটে এসেছেন বন্ধু সরোয়ার রানার ছাদ বাগান দেখতে।

এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে তিনিও বলেন, সত্যি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতোনা নিভৃত পল্লীতে শতাধিক জাতের বৃক্ষনিয়ে বড় ছাদ বাগান গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সরোয়ারের এই ছাদবাগান এলাকার মানুষের মাঝে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। সরোয়ার রানার দেখাদেখি এখন অনেকেই ছাদ বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

রাউজানে ছাদ বাগান সম্পর্কে জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, নোয়াপাড়া গ্রামে যুবকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছাদ বাগান গড়ে উঠেছে এটি অবশ্যই ভালো একটি উদ্যোগ। দিনদিন কৃষি জমি যেহারে হ্রাস পাচ্ছে তাতে নিজেদের বাসা-বাড়ির ছাদে সবাই যদি সাধ্যমতো ছাদ বাগান গড়ে তোলে তাহলে শাক-সব্জির চাহিদার অনেকটা যোগান সেখান থেকেই আসবে।

তিনি আরো বলেন, ছাদবাগান আসলেই কিছুটা ব্যয়বহুল হওয়ায় গ্রামের মানুষের মাঝে এখনো তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা। তবে আমরা চেষ্টা করছি, ছাদ বাগান সম্পর্কে মানুষতে উদ্বুদ্ধ করতে। এতে করে একদিকে বিষমুক্ত টাটকা সব্জির যেমন যোগান হবে তেমনি সবুজে ভরে উঠবে আমাদের চারপাশ।

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।