খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলে-ফলে টইটুম্বুর রাউজানের প্রবাসী রানার ছাদ বাগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
ফুলে-ফলে টইটুম্বুর রাউজানের প্রবাসী রানার ছাদ বাগান

Raozan-Pic-3.10

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাটের পিচঢালা সড়কপথ হয়ে হাজী মীর হোসেন সওদাগর বাড়ির সংযোগ সড়ক।

নিভৃত এই পল্লীর সরু রাস্তা দিয়ে হেঁটে কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজসমৃদ্ধ একটি নতুন দ্বি-তলবিশিষ্ট দালান। প্রধান ফটক অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করতেই আপনার মনে প্রশান্তি এনে দেবে দৃষ্টিনন্দন বাড়িটির আঙিনার চারপাশের শাকসজ্বির সবুজ দৃশ্য। শুধু সব্জির ফলন নয়, এই বাড়িটিই যেন একফালি সবুজের সমারোহে বেষ্টিত।

ভবনটির চারপাশের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে লাগানো হয়েছে নানান জাতের ফলদ বৃক্ষ। পড়ন্ত বিকেলে বাড়িটির আশপাশ দিয়ে হেঁটে গেলে কানে ভেসে আসে পাখির কিচির-মিচির শব্দ। বাগানের গাছ আর ফলের সাথেই যেন পাখ-পাখালির গভীর মিতালি জড়িয়ে আছে। গ্রামের নিভৃত এক পল্লীতে স্বপ্নের এই ছাদবাগানটি গড়ে তোলেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী যুবক সরোয়ার রানা।

ছাদ বাগানটি যার হাত ধরেই গড়ে উঠা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী যুবক সরোয়ার রানা ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আঙিনার চারপাশটা দেখলেন ঠিক আছে, চমক আরো বাকী আছে, উপরে উঠলেই বুঝতে পারবেন এদেশে ছাদ কৃষির ছোঁয়া নগর থেকে গ্রামে বিস্তৃত হয়েছে কতখানি!

দ্বিতল ভবনের সিঁড়ি অতিক্রম করে ছাদে উঠতেই সত্যিই অবাক হতেই হলো। তিনহাজার বর্গফুটের এই বাড়িটার বিশাল ছাদজুড়ে টবে লাগানো শতাধিক ফলদ ও ঔষধী বৃক্ষ। স্ট্রবেরি চারায় থোকা থোকা স্ট্রবেরি ঝুলছে, বড় ড্রামে লাগানো আনারস চারায় সরু পাতাগুলি বিকশিত করে দিনদিন বড় হচ্ছে আনারসটি, টবে লাগানো পেস্তাবাদাম গাছে হলদে বর্ণের ফুলে মিষ্টি একটা হাসি যেন ছড়িয়ে আছে বাড়িটির ছাদজুড়ে। এ যেন বৃক্ষমেলার আদলে গড়ো উঠা এক নির্মল পরিবেশ।

উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের হাজী মীর হোসেন সওদাগর বাড়ির হাজী জামাল উদ্দিনের নতুন বাড়ি এটি। এখনো বাড়ির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এই বাড়ির কর্তা থাকেন শহরে। পরিবারে এক ভাই-তিনবোনের মধ্যে মধ্যে একমাত্র ভাই সরোয়ার রানার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গ্রামের নিভৃত পল্লীর মাঝে দ্বিতল ভবনের বিশাল ছাদজুড়ে গড়ে উঠেছে এই দৃষ্টি নন্দন ছাদবাগান।

ছাদবাগানটির স্বপ্নদ্রষ্টা যুবক সরোয়ার রানা আলাপকালে ২৪ ঘন্টা ডট নিউজের প্রতিনিধিকে বলেন, ২০০৪ সাল থেকে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী। তবে নিজের ব্যাবসার সুবাদে প্রবাস-আর দেশে আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকেন।

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি তার নিবিড় একটা টান। তখনকার সময়ে বিটিভিতে প্রচারিত শাইখ সিরাজের উপস্থাপনা ও পরিকল্পনায় কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিন কৃষি-দিবানিশি, পরবর্তীতে চ্যানেল আই’র পর্দায় হৃদয়ে মাঠি ও মানুষ দেখে ছাদ কৃষির প্রতি তাকে এক অদম্য নেশা পেয়ে বসে। পরবর্তীতে সেই চিন্তা মাথায় সর্বক্ষণ ঘুরপাক খেতো।

২০১৬ সালে এসে তিনি তার স্বপ্নপূরণে কাজ শুরু করেন। নিজের নির্মিত নতুন ভবনের ছাদকেই বেছে নেন ছাদকৃষির জন্য। প্রথমেই ছাদ কৃষি সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা না থাকায় বেশী দামে চারাগাছ কিনে তা অল্পদিনেই পরিচর্যার অভাবে চারা গাছগুলো নষ্ট হয়ে যেতো। কিন্তু ধীরে ধীনে ইন্টারনেটে সময় দিয়ে ছাদ কৃষি সম্পর্কে ধারণা নেন তিনি। এরপর শুরু হয় নব উদ্যোমে পথচলা।

তিনি আরো বলেন, ছাদ বাগান গড়ে তোলার জন্য তিনি দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন জাতের চারাগাছ সংগ্রহ করে সেগুলো নিজের ছাদবাগানে লাগিয়েছেন। ঢাকা জাতীয় বৃক্ষমেলা থেকে শুরু করে পার্বত্য এলাকার চন্দ্রঘোনার রাইখালি, টাঙ্গাইল, হাটহাজারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তিনি চারাগাছ কিনে এনে তা নিজের বাগানে লাগিয়েছেন।

বর্তমানে এই ছাদ বাগানের জন্য তিনি পাঁচ লক্ষ টাকার অধিক ব্যয় করেছেন। চট্টগ্রাম বাগান পরিবারসহ বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক অনলাইন থেকে পরামর্শ নিয়ে বাগানের পরিচর্যা করেন। বর্তমানে বড়, ছোট এবং মাঝারি সাইজের ড্রাম,টবে লাগানো শতাধিক জাতের চারাগাছ ফুলে-ফলে টইটুম্বুর তার বাগানে।

সরোয়ার রানা আরো বলেন, ছাদবাগানের ফুল আর ফলকে ঘিরে পাখির আনাগোনা বেড়েছে বাড়ির আশপাশে। ছাদবাগানে দাঁড়িয়ে পাখির কিচির-মিচির ডাক শুনে মনটা ভরে যায়। সরোয়ার রানার ছাদ বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনও ছুটে আসেন। তারা এই ছাদ বাগান দেখে নিজেরাই উৎসাহিত হয়ে তার কাছে ছাদবাগান সৃজন করার বিষয়ে পরামর্শ নেন। এখন তার দেখাদেখি এলাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকার অনেকেই বাসা-বাড়ির ছাদে বাগান গড়ে তোলেছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার সাধ্যমতো সবাইকে ছাদ বাগানের বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি যাতে করে ছাদ বাগানে সবাই এগিয়ে আসে।

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে সারোয়ার রানা নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ছাদবাগান

সরোয়ার রানার গড়ে তোলা ছাদ বাগান ঘুরে দেখা গেছে, তার বাগানে ফলদ গাছের মধ্যে পেঁপে, স্ট্রবেরি, পেয়ারা, আঙ্গুর পেয়ারা, ভেরিকেটেড পেয়ারা, চায়না পেয়ারা, বারি-২, বারি-৩ পেয়ারা, পলি, মাধবী ও থাই পেয়ারা, আপেল কুল, নারিকেল, ডালিম, পাকিস্তানি কমলা, বেরিকেটেড কমলা,কেকোগাছ, মিষ্টি করমচা, দেশী করমচা, মিষ্টি তেঁতুল,সপেদা, আঁশফল, থাই সরিপা, আলু বুকরা, পেঁপে, থাই জামরুল,কলাগাছ, দেশী জামরুল, গোলাফজাম, থাই জাম্বুরা, জাম, বারমাসি আমড়া, কাঁটাল, আনারস, মিষ্টি কামরাঙ্গা, বারমাসি কামরাঙ্গা, জবটিকা, বারমাসি লেবু, কাগুজে লেবু, ফ্যাশন ফ্রুট, লটকন, থাই কালো জাম, দেশী জাম, আমলকি, মিষ্টি জলপাই, ইকো, মোছাম্বি, বিভিন্ন জাতের আম গাছের মধ্যে ডগমাই, এলপেনসো, ব্রুনাইকিং, হারিভাঙ্গা, সুবর্ণরেখা, বারমাসি, আম্রপালি।

ফুলের মধ্যে বকুল, শেফালি, চম্পা, হাসনাহেনা, গোলাফ, নয়নতারা, গন্ধরাজ, কামিনী, পাতাবাহার, ক্রিসমাস ট্রিসহ আরো বেশ কিছু জাতের ফুলের চারা রয়েছে।

সব্জির মধ্যে টমেটো, ভুট্টা, মরিচ, বেগুন, বিদেশী স্কোয়াশ, থানকুনি, রাইশাখ, বাংলা লাউ, কারিপাতা, পুদিনাপাতা, বাহারপাতা, ঔষধী গাছের মধ্যে স্বর্পগন্ধা, গাইনুরা (ডায়াবেটিকস রোগের জন্য এই গাছটি উপকারী), ক্রুসল, ক্যান্সার গাছ, বাসক, ঘৃতকুমারী, এলোবেরা, উলট কম্বল, চিরতা, তুঁত গাছসহ আরো বেশ কয়েকটি জাতের ঔষধী গাছ রয়েছে।

সরোয়ার রানা বলেন, ছাদ বাগানটি নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। এটিকে দিনদিন কিভাবে আরো বিস্তৃত করা যায় সেটি ভাবনায় আছে তার।

সম্পর্কে সরোয়ার রানা স্কুল জীবনের বন্ধু, বর্তমানে চাঁন্দপুরের হাইমচর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর ছুটিতে ছুটে এসেছেন বন্ধু সরোয়ার রানার ছাদ বাগান দেখতে।

এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে তিনিও বলেন, সত্যি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতোনা নিভৃত পল্লীতে শতাধিক জাতের বৃক্ষনিয়ে বড় ছাদ বাগান গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সরোয়ারের এই ছাদবাগান এলাকার মানুষের মাঝে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। সরোয়ার রানার দেখাদেখি এখন অনেকেই ছাদ বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

রাউজানে ছাদ বাগান সম্পর্কে জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, নোয়াপাড়া গ্রামে যুবকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছাদ বাগান গড়ে উঠেছে এটি অবশ্যই ভালো একটি উদ্যোগ। দিনদিন কৃষি জমি যেহারে হ্রাস পাচ্ছে তাতে নিজেদের বাসা-বাড়ির ছাদে সবাই যদি সাধ্যমতো ছাদ বাগান গড়ে তোলে তাহলে শাক-সব্জির চাহিদার অনেকটা যোগান সেখান থেকেই আসবে।

তিনি আরো বলেন, ছাদবাগান আসলেই কিছুটা ব্যয়বহুল হওয়ায় গ্রামের মানুষের মাঝে এখনো তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা। তবে আমরা চেষ্টা করছি, ছাদ বাগান সম্পর্কে মানুষতে উদ্বুদ্ধ করতে। এতে করে একদিকে বিষমুক্ত টাটকা সব্জির যেমন যোগান হবে তেমনি সবুজে ভরে উঠবে আমাদের চারপাশ।

Feb2

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দু’বার এই নেপালকে হারিয়েই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক করার মিশন বাংলাদেশের সামনে।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার চমৎকার বোঝাপড়ায় লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে ঢুকে শামসুন্নাহার বল ফেলেন গোলমুখে। কোনো ভুল করেননি সাগরিকা। নেপালের এক ডিফেন্ডার তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও পারেনি। বল ঠেলে দেন জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বাকি কয়েক মিনিট ওই লিড ধরে রেখে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা উঠে যায় ফাইনালে। এই নিয়ে বাংলাদেশ টানা তিনবার উঠলো সাফের ফাইনালে।

২৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তারপর সমতায় ফেরে ইনজুরি সময়ে প্রথম মিনিটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে করা গোলে স্বস্তি ফিরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েদের ডাগআউটে। ডানপ্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া অসাধারণ কর্নার কিকটি হাতে লাগিয়েছিলেন নেপালের গোলরক্ষক। তবে থামাতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাত হয়ে বল চলে যায় জালে।

দিপা শাহীর কর্নার হাতে লাগিয়েও ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি আক্তার। বল চয়ে যায় একটু ফাঁকায় দাড়ানো গিতা রানার কাছে। তিনি সুযোগ বুঝে বলটি পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যাচের প্রথম লিড নিয়েছিল নেপাল।

৩৬ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে প্রীতি রানীর নেওয়া শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে ক্রসবার হয়ে ফিরে আসলে বাংলাদেশ বেঁচে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম অর্ধ।

কোচ পিটার বাটলার ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন। সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। শেষ দিকে আনিকাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান সাগরিকা। সেই সাগরিকাই বাংলাদেশকে ভাসান ফাইনালে ওঠার আনন্দে।

নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে গত দুটি সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের লড়াইও জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকে থাকলো।

৪৭ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের ভুলে শট নিয়েছিলেন রেখা পাউদেল। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরলে আবার বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৭৮ মিনিটে বদলি সাগরিকার শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারলো নেপাল। তবে ভুটানের রেফারি ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়ের খেলা চালিয়েছেন ১৩ মিনিটের মতো।

বাংলাদেশ একাদশ

মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।