খুঁজুন
শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলে-ফলে টইটুম্বুর রাউজানের প্রবাসী রানার ছাদ বাগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
ফুলে-ফলে টইটুম্বুর রাউজানের প্রবাসী রানার ছাদ বাগান

Raozan-Pic-3.10

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাটের পিচঢালা সড়কপথ হয়ে হাজী মীর হোসেন সওদাগর বাড়ির সংযোগ সড়ক।

নিভৃত এই পল্লীর সরু রাস্তা দিয়ে হেঁটে কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজসমৃদ্ধ একটি নতুন দ্বি-তলবিশিষ্ট দালান। প্রধান ফটক অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করতেই আপনার মনে প্রশান্তি এনে দেবে দৃষ্টিনন্দন বাড়িটির আঙিনার চারপাশের শাকসজ্বির সবুজ দৃশ্য। শুধু সব্জির ফলন নয়, এই বাড়িটিই যেন একফালি সবুজের সমারোহে বেষ্টিত।

ভবনটির চারপাশের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে লাগানো হয়েছে নানান জাতের ফলদ বৃক্ষ। পড়ন্ত বিকেলে বাড়িটির আশপাশ দিয়ে হেঁটে গেলে কানে ভেসে আসে পাখির কিচির-মিচির শব্দ। বাগানের গাছ আর ফলের সাথেই যেন পাখ-পাখালির গভীর মিতালি জড়িয়ে আছে। গ্রামের নিভৃত এক পল্লীতে স্বপ্নের এই ছাদবাগানটি গড়ে তোলেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী যুবক সরোয়ার রানা।

ছাদ বাগানটি যার হাত ধরেই গড়ে উঠা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী যুবক সরোয়ার রানা ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আঙিনার চারপাশটা দেখলেন ঠিক আছে, চমক আরো বাকী আছে, উপরে উঠলেই বুঝতে পারবেন এদেশে ছাদ কৃষির ছোঁয়া নগর থেকে গ্রামে বিস্তৃত হয়েছে কতখানি!

দ্বিতল ভবনের সিঁড়ি অতিক্রম করে ছাদে উঠতেই সত্যিই অবাক হতেই হলো। তিনহাজার বর্গফুটের এই বাড়িটার বিশাল ছাদজুড়ে টবে লাগানো শতাধিক ফলদ ও ঔষধী বৃক্ষ। স্ট্রবেরি চারায় থোকা থোকা স্ট্রবেরি ঝুলছে, বড় ড্রামে লাগানো আনারস চারায় সরু পাতাগুলি বিকশিত করে দিনদিন বড় হচ্ছে আনারসটি, টবে লাগানো পেস্তাবাদাম গাছে হলদে বর্ণের ফুলে মিষ্টি একটা হাসি যেন ছড়িয়ে আছে বাড়িটির ছাদজুড়ে। এ যেন বৃক্ষমেলার আদলে গড়ো উঠা এক নির্মল পরিবেশ।

উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের হাজী মীর হোসেন সওদাগর বাড়ির হাজী জামাল উদ্দিনের নতুন বাড়ি এটি। এখনো বাড়ির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এই বাড়ির কর্তা থাকেন শহরে। পরিবারে এক ভাই-তিনবোনের মধ্যে মধ্যে একমাত্র ভাই সরোয়ার রানার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গ্রামের নিভৃত পল্লীর মাঝে দ্বিতল ভবনের বিশাল ছাদজুড়ে গড়ে উঠেছে এই দৃষ্টি নন্দন ছাদবাগান।

ছাদবাগানটির স্বপ্নদ্রষ্টা যুবক সরোয়ার রানা আলাপকালে ২৪ ঘন্টা ডট নিউজের প্রতিনিধিকে বলেন, ২০০৪ সাল থেকে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী। তবে নিজের ব্যাবসার সুবাদে প্রবাস-আর দেশে আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকেন।

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি তার নিবিড় একটা টান। তখনকার সময়ে বিটিভিতে প্রচারিত শাইখ সিরাজের উপস্থাপনা ও পরিকল্পনায় কৃষি বিষয়ক ম্যাগাজিন কৃষি-দিবানিশি, পরবর্তীতে চ্যানেল আই’র পর্দায় হৃদয়ে মাঠি ও মানুষ দেখে ছাদ কৃষির প্রতি তাকে এক অদম্য নেশা পেয়ে বসে। পরবর্তীতে সেই চিন্তা মাথায় সর্বক্ষণ ঘুরপাক খেতো।

২০১৬ সালে এসে তিনি তার স্বপ্নপূরণে কাজ শুরু করেন। নিজের নির্মিত নতুন ভবনের ছাদকেই বেছে নেন ছাদকৃষির জন্য। প্রথমেই ছাদ কৃষি সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা না থাকায় বেশী দামে চারাগাছ কিনে তা অল্পদিনেই পরিচর্যার অভাবে চারা গাছগুলো নষ্ট হয়ে যেতো। কিন্তু ধীরে ধীনে ইন্টারনেটে সময় দিয়ে ছাদ কৃষি সম্পর্কে ধারণা নেন তিনি। এরপর শুরু হয় নব উদ্যোমে পথচলা।

তিনি আরো বলেন, ছাদ বাগান গড়ে তোলার জন্য তিনি দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন জাতের চারাগাছ সংগ্রহ করে সেগুলো নিজের ছাদবাগানে লাগিয়েছেন। ঢাকা জাতীয় বৃক্ষমেলা থেকে শুরু করে পার্বত্য এলাকার চন্দ্রঘোনার রাইখালি, টাঙ্গাইল, হাটহাজারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তিনি চারাগাছ কিনে এনে তা নিজের বাগানে লাগিয়েছেন।

বর্তমানে এই ছাদ বাগানের জন্য তিনি পাঁচ লক্ষ টাকার অধিক ব্যয় করেছেন। চট্টগ্রাম বাগান পরিবারসহ বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক অনলাইন থেকে পরামর্শ নিয়ে বাগানের পরিচর্যা করেন। বর্তমানে বড়, ছোট এবং মাঝারি সাইজের ড্রাম,টবে লাগানো শতাধিক জাতের চারাগাছ ফুলে-ফলে টইটুম্বুর তার বাগানে।

সরোয়ার রানা আরো বলেন, ছাদবাগানের ফুল আর ফলকে ঘিরে পাখির আনাগোনা বেড়েছে বাড়ির আশপাশে। ছাদবাগানে দাঁড়িয়ে পাখির কিচির-মিচির ডাক শুনে মনটা ভরে যায়। সরোয়ার রানার ছাদ বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনও ছুটে আসেন। তারা এই ছাদ বাগান দেখে নিজেরাই উৎসাহিত হয়ে তার কাছে ছাদবাগান সৃজন করার বিষয়ে পরামর্শ নেন। এখন তার দেখাদেখি এলাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকার অনেকেই বাসা-বাড়ির ছাদে বাগান গড়ে তোলেছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার সাধ্যমতো সবাইকে ছাদ বাগানের বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি যাতে করে ছাদ বাগানে সবাই এগিয়ে আসে।

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নে সারোয়ার রানা নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ছাদবাগান

সরোয়ার রানার গড়ে তোলা ছাদ বাগান ঘুরে দেখা গেছে, তার বাগানে ফলদ গাছের মধ্যে পেঁপে, স্ট্রবেরি, পেয়ারা, আঙ্গুর পেয়ারা, ভেরিকেটেড পেয়ারা, চায়না পেয়ারা, বারি-২, বারি-৩ পেয়ারা, পলি, মাধবী ও থাই পেয়ারা, আপেল কুল, নারিকেল, ডালিম, পাকিস্তানি কমলা, বেরিকেটেড কমলা,কেকোগাছ, মিষ্টি করমচা, দেশী করমচা, মিষ্টি তেঁতুল,সপেদা, আঁশফল, থাই সরিপা, আলু বুকরা, পেঁপে, থাই জামরুল,কলাগাছ, দেশী জামরুল, গোলাফজাম, থাই জাম্বুরা, জাম, বারমাসি আমড়া, কাঁটাল, আনারস, মিষ্টি কামরাঙ্গা, বারমাসি কামরাঙ্গা, জবটিকা, বারমাসি লেবু, কাগুজে লেবু, ফ্যাশন ফ্রুট, লটকন, থাই কালো জাম, দেশী জাম, আমলকি, মিষ্টি জলপাই, ইকো, মোছাম্বি, বিভিন্ন জাতের আম গাছের মধ্যে ডগমাই, এলপেনসো, ব্রুনাইকিং, হারিভাঙ্গা, সুবর্ণরেখা, বারমাসি, আম্রপালি।

ফুলের মধ্যে বকুল, শেফালি, চম্পা, হাসনাহেনা, গোলাফ, নয়নতারা, গন্ধরাজ, কামিনী, পাতাবাহার, ক্রিসমাস ট্রিসহ আরো বেশ কিছু জাতের ফুলের চারা রয়েছে।

সব্জির মধ্যে টমেটো, ভুট্টা, মরিচ, বেগুন, বিদেশী স্কোয়াশ, থানকুনি, রাইশাখ, বাংলা লাউ, কারিপাতা, পুদিনাপাতা, বাহারপাতা, ঔষধী গাছের মধ্যে স্বর্পগন্ধা, গাইনুরা (ডায়াবেটিকস রোগের জন্য এই গাছটি উপকারী), ক্রুসল, ক্যান্সার গাছ, বাসক, ঘৃতকুমারী, এলোবেরা, উলট কম্বল, চিরতা, তুঁত গাছসহ আরো বেশ কয়েকটি জাতের ঔষধী গাছ রয়েছে।

সরোয়ার রানা বলেন, ছাদ বাগানটি নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। এটিকে দিনদিন কিভাবে আরো বিস্তৃত করা যায় সেটি ভাবনায় আছে তার।

সম্পর্কে সরোয়ার রানা স্কুল জীবনের বন্ধু, বর্তমানে চাঁন্দপুরের হাইমচর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর ছুটিতে ছুটে এসেছেন বন্ধু সরোয়ার রানার ছাদ বাগান দেখতে।

এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে তিনিও বলেন, সত্যি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতোনা নিভৃত পল্লীতে শতাধিক জাতের বৃক্ষনিয়ে বড় ছাদ বাগান গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সরোয়ারের এই ছাদবাগান এলাকার মানুষের মাঝে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। সরোয়ার রানার দেখাদেখি এখন অনেকেই ছাদ বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

রাউজানে ছাদ বাগান সম্পর্কে জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, নোয়াপাড়া গ্রামে যুবকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছাদ বাগান গড়ে উঠেছে এটি অবশ্যই ভালো একটি উদ্যোগ। দিনদিন কৃষি জমি যেহারে হ্রাস পাচ্ছে তাতে নিজেদের বাসা-বাড়ির ছাদে সবাই যদি সাধ্যমতো ছাদ বাগান গড়ে তোলে তাহলে শাক-সব্জির চাহিদার অনেকটা যোগান সেখান থেকেই আসবে।

তিনি আরো বলেন, ছাদবাগান আসলেই কিছুটা ব্যয়বহুল হওয়ায় গ্রামের মানুষের মাঝে এখনো তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা। তবে আমরা চেষ্টা করছি, ছাদ বাগান সম্পর্কে মানুষতে উদ্বুদ্ধ করতে। এতে করে একদিকে বিষমুক্ত টাটকা সব্জির যেমন যোগান হবে তেমনি সবুজে ভরে উঠবে আমাদের চারপাশ।

Feb2

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কৃষকরা হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত।

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাত ঘটলে আবুল কালাম নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নামে এক কৃষক নিহত হন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী।

ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ নামে দুই কৃষক নিহত হন। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।

 

প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে ‘অবিস্মরণীয়’ সাফল্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে ‘অবিস্মরণীয়’ সাফল্য

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। গতকাল ১৭ এপ্রিল এই দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। সরকারের এই ৬০ দিনের পথচলাকে ‘অবিস্মরণীয় অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ৬০টি উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এসব সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।

লিখিত বক্তব্যে মাহাদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এরইমধ্যে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে একে নারীর অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি ‘আন্তর্জাতিক রোল মডেল’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষা দিতে সরকারের বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

বেকারত্ব নিরসন ও প্রশাসনের গতিশীলতা বাড়াতে সরকারি শূন্য পদ পূরণের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। মাহাদী আমিন জানান, দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ সদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ সদস্য নিহত

কর্তব্যরত অবস্থায় ‘নিজের অস্ত্রের গুলিতে’ খুলনা রেলওয়ে পুলিশের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে নগরের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (২৭)। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ বলছে, নিজের অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

মৃত্যুর বিষয়টি খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সম্রাট বিশ্বাস আজ ভোরে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।’

পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান বলেন, সম্রাট বিশ্বাস একজন ভালো ও কর্মঠ কনস্টেবল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। তবে এ বিষয়ে তিনি সহকর্মীদের কাছে কখনো কিছু জানাননি।