খুঁজুন
, ,

যমুনা রেল সেতু প্রকল্প

পিডি মাসউদুরের নোটে তিন হাজার কোটি টাকা ‘হরিলুট’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 22 December, 2025, 9:07 am
পিডি মাসউদুরের নোটে তিন হাজার কোটি টাকা ‘হরিলুট’

বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্প যমুনা রেলসেতু নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের অডিট শাখা, বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফ্যাপাড) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক প্রতিবেদন এবং নথিতে প্রকল্পের ব্যয় ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব ব্যয়ের বড় অংশেই প্রকল্প পরিচালক ও রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রকৌশলীদের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রকল্প পরিচালকের ‘ম্যাজিক নোটে’ উচ্চ দর নির্ধারণ এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের নানা অভিযোগ এখন খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

রেলওয়ের অডিট শাখা-২, বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফ্যাপাড) ও দুদকের একাধিক প্রতিবেদন ও নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে যমুনা নদীর ওপর পৃথক ডাবল লাইনের একটি রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৮ মার্চ নতুন সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানান অনিয়ম পর্যালোচনা করে শুধু অডিট আপত্তিতেই কমপক্ষে ৩ হাজার কোটির বেশি ব্যয় এখন প্রশ্নের মুখে। এই ব্যয়ের বড় অংশই প্রকল্প পরিচালক ও তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের অনুমোদিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

ফ্যাপাডের ২০২০-২১ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, মাত্র এক অর্থবছরেই বিভিন্ন খাতে প্রায় ৭০৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় অডিট আপত্তির মুখে পড়েছে। আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিটেইল মেজারমেন্ট শিট, ড্রয়িং ও বিওকিউ ছাড়াই ১২৭ কোটি টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যথাযথ সহায়ক ভাউচার ছাড়াই সিডি-ভ্যাট পরিশোধের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি টাকার বেশি। কাজে ব্যবহার না হওয়া স্টিল পাইপ শিট পাইলের বিপরীতে শুল্ক-ভ্যাট দিতে গিয়ে আরও সাড়ে ৫ কোটির বেশি সরকারি অর্থ আটকে গেছে প্রশ্নবিদ্ধ লেনদেনের কারণে। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারের ওপর ‘ডিলে ড্যামেজ’ আরোপ না করায় সম্ভাব্য ক্ষতির অঙ্ক ধরা হয়েছে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। আলাদা একটি আপত্তিতে সিডি-ভ্যাটের নামে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের পরিমাণ দেখানো হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা এবং ঠিকাদারের বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর না কেটে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অঙ্ক এসেছে প্রায় ১৭ কোটি টাকার মতো।

অডিট প্রতিবেদনে শুধু দেশি মুদ্রা নয়, জাপানি মুদ্রা ইয়েনেও বিপুল পরিমাণ লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মোবিলাইজেশন ও ডিমোবিলাইজেশন খাতে ইয়েন ৪ হাজার ১৫২ কোটি টাকার বেশি অঙ্ককে ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফ্যাপাড। সংস্থাটির মতে, প্রকল্পে সরকারি বিধি ও চুক্তির শর্ত প্রতিপালনে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। পরবর্তী বছরগুলোতে অনিয়মের এই মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বিশেষ ফিন্যান্সিয়াল ইন্সপেকশন (এসএফআই) প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদেশি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে চুক্তিতে নির্ধারিত দেশ থেকে মালপত্র না এনেই ৪০৫ কোটি টাকা অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাস্টমস হাউসের পরিবর্তে অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে সিডি-ভ্যাট আদায়ের নামে আরও ৪৩০ কোটি টাকার পেমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে দর নির্ধারণ ও চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও। অডিট প্রতিবেদনের এক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্যাকেজে অস্বাভাবিক উচ্চ দর ধরে কাজ দেওয়ার ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। সাইট সুবিধা ও ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণে সরকারি সিডিউলের তুলনায় অতিরিক্ত ১১৩ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি হারে মূল্য সমন্বয়ের কারণে আরও ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কর-ভ্যাট-সংক্রান্ত আপত্তিগুলোর মধ্যে আছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিল থেকে আয়কর কম কাটা, যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি। ঠিকাদারের রিটেনশন বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর না কেটে আরও প্রায় ৩৪ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারানো এবং অফিস ভাড়া ও কনজ্যুমেবল খরচের আড়ালে ‘রিইমবার্সেবল বিল’ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটির অর্থ যথাযথ প্রমাণপত্র ছাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। আবার মাটি পুনর্ব্যবহার না করে ফেলে দেওয়ার মতো দেখানো ছোট ছোট অনিয়মেও কয়েক কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব তুলে ধরেছে অডিট বিভাগ।

অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরের ৭০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার গ্র্যান্ড টোটাল ছাড়াও পরের দুই-তিন অর্থবছরের বিশেষ অডিট ও এসএফআই আপত্তিতে আরও অন্তত ২ হাজার ৪০০ কোটির বেশি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে অনিয়ম, সন্দেহজনক লেনদেন ও সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৩ হাজার কোটির ওপর দাঁড়ায়; ইয়েনে হিসাব করা অঙ্কগুলো টাকায় রূপান্তর করলে প্রকৃত অঙ্ক আরও বড় হবে।

এই বিপুল অঙ্কের অনিয়মের পেছনে প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে অডিট নথিতে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রকল্পের ডব্লিউডি-১ ও ডব্লিউডি-২-সহ বড় বড় প্যাকেজের ফাইলগুলোতে মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দর প্রস্তাব করেছেন, কোথাও কাজের পরিমাপ নতুন করে যাচাই করার সুপারিশ দিয়েছেন, কোথাও কিছু কাজ গুছিয়ে নিলে ব্যয় কমানো সম্ভব—এমন মতামত লিখেছেন। কিন্তু একই ফাইলের এক পাশে আল ফাত্তাহর হাতে লেখা নোটে বারবার দেখা যায় ভিন্ন সুর। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত কাজ শেষ করা জরুরি; প্রস্তাবিত দর গ্রহণযোগ্য’—অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ের আপত্তি সত্ত্বেও উচ্চ দর বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। অন্য এক ফাইলে তার মন্তব্য, ‘দর কমালে কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে, অতএব বিদ্যমান রেটেই চুক্তি করা যেতে পারে।’ এ ছাড়া আরেক জায়গায় ‘ঠিকাদারকে বারবার দর কমাতে বললে প্রজেক্টের অগ্রগতি ব্যাহত হবে’—এ যুক্তি দেখিয়ে তুলনামূলক বেশি দরে কাজ অনুমোদনের নির্দেশ দিয়েছেন।

অডিট নথিতে উল্লেখ আছে, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ শুধু একটি-দুটি ফাইলে নয়, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের যৌথ কনসোর্টিয়ামের হাতে থাকা ডব্লিউডি-১, ডব্লিউডি-২ ও অন্য কয়েকটি বড় প্যাকেজের নথিতেই প্রায় নিয়মিত। অডিটরদের মন্তব্য—মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের আপত্তি উপেক্ষা করেই প্রকল্প পরিচালক নির্দিষ্ট কনসোর্টিয়ামকে সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিছু আপত্তিতে সরাসরি বলা হয়েছে, নন-রেসপনসিভ বিডারকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘আঁতাতের সম্ভাবনা’ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দুদকের অনুসন্ধানেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। গত ৪ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, যমুনা রেল সেতু প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের শত শত কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের মূল ও সংশোধিত ডিপিপি, সব ধাপের দরপত্র নথি, ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তিপত্র, প্যাকেজভিত্তিক অনুমোদিত মূল্য তালিকা, বিল পরিশোধের ভাউচার, কাজের পরিমাপের খাতা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন এবং প্রকল্প অগ্রগতি-সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণীসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করেছে দুদক। সেই চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বৈদেশিক সহায়তায় বাস্তবায়িত এ ধরনের বড় প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে উন্নয়ন সহযোগী জাইকার সঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক তদন্ত চলমান রয়েছে। এটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনকে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে এসএমএসের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। পরে প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে রেল ভবনে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পিএস জানান, স্যার বাইরে আছেন, অপেক্ষা করেন। পরে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তার দেখা মেলেনি।

Feb2
Feb2

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন, চার ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 10:44 pm
রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন, চার ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও যাত্রাবাড়ীতে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরে অভিজাত পরিবহন এবং প্রায় একই সময় পল্লবীর ১১ নম্বরে শিখড় পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া রাত ৮টার দিকে বাড্ডায় আরেকটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পৃথক এই তিন ঘটনাস্থল ও এর পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর তল্লাশি ও টহল জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, দুর্বৃত্তরা মিরপুর-১ এ অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বাসের একটি সিট পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, যাত্রীবেশে বাসে উঠে ১১ নম্বরে বাসে আগুন লাগিয়ে দুর্বৃত্ত নেমে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ফায়ার সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে বিল্লাল নামে এক রিকশা চালক আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইওভার থেকে দুর্বৃত্তরা এই চারটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কন্ট্রোলরুম থেকে বেতার বার্তায় সব থানা পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে থাকতে বলা হয়েছে সব কর্মকর্তাকে। ডিএমপির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যাতে একটি ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দিতে না পারে পারে সেজন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য মাঠে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগরের সাত স্থানে অন্তত ১২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ছাড়া একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার এবং প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর পাশাপাশি ঢাকা শহরের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

ডিএমপি জানায়, নগরীর নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া ‘পিকেট ডিউটি’ জোরদার করার কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে, নগরজুড়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে টহলের পাশাপাশি হেঁটে টহলদলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে ডিবি, সিটিটিসি এবং এপিবিএন টিম মোতায়েন রাখার কথা জানায় ডিএমপি।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন বলেন, যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করবে যেভাবেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থায় মাঠে রয়েছেন।

ককটেল–বাসে আগুনের ঘটনায় ২ মামলা

গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত সাতটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুলে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটক ও চৌরাস্তা মোড়ে অন্তত চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় একজন অটোরিকশাচালক আহত হন।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় মো. রায়হান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ককটেল ছোড়ার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, কাফরুল থানার সামনে বাসে আগুনের ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, বাসে আগুন দেওয়ার নির্দেশদাতাসহ সাতজনের নামে মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণের কোনো আলামত না পাওয়ায় মামলা হয়নি। তবে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অপরদিকে মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের গুলশান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মহাখালী ফ্লাইওভারের ঢালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়াও শুক্রবার মালিবাগ, মগবাজার, বাবুবাজার ও রামপুরায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 10:29 pm
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও দু’জনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

ফাহিম আহমেদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়। আটক তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতিমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

খেলাধুলার চর্চা বাড়িয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়তে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 9:38 pm
খেলাধুলার চর্চা বাড়িয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়তে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ়, সুশৃঙ্খল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় প্রজন্ম গড়তে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। ক্রীড়া শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও প্রতিযোগিতার ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে লাখো শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এর ধারাবাহিকতায় বন্দরনগরীর স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নতুন প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার মধ্য দিয়ে সন্তানরা মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। তারা শৃঙ্খলাবোধ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বেড়ে উঠবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে।

তিনি জানান, টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি স্কুল অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাছাই শেষে ৪৮টি স্কুলের দলকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে এবং সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের উঠে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের স্কুল পর্যায়ের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে খেলতে গিয়ে একজন শিশু শেখে কীভাবে জয়কে গ্রহণ করতে হয়, পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং দলগতভাবে এগিয়ে যেতে হয়।

আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের স্কুল পর্যায়ে এত বড় পরিসরে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

ফাইনাল খেলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্কুল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী খেলাধুলা থেকে দূরে সরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার আসক্তির দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে উঠতি বয়সী অনেক তরুণ-তরুণী মাদকের মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় পড়ালেখার পাশাপাশি সন্তানদের মাঠমুখী করা অত্যন্ত জরুরি।

টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’ ঘিরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্ষুদে ফুটবলার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ক্রীড়ানুরাগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, প্রাইজমানি ও অন্যান্য পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।