খুঁজুন
, ,

যমুনা রেল সেতু প্রকল্প

পিডি মাসউদুরের নোটে তিন হাজার কোটি টাকা ‘হরিলুট’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 22 December, 2025, 9:07 am
পিডি মাসউদুরের নোটে তিন হাজার কোটি টাকা ‘হরিলুট’

বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্প যমুনা রেলসেতু নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের অডিট শাখা, বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফ্যাপাড) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক প্রতিবেদন এবং নথিতে প্রকল্পের ব্যয় ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব ব্যয়ের বড় অংশেই প্রকল্প পরিচালক ও রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রকৌশলীদের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রকল্প পরিচালকের ‘ম্যাজিক নোটে’ উচ্চ দর নির্ধারণ এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের নানা অভিযোগ এখন খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

রেলওয়ের অডিট শাখা-২, বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফ্যাপাড) ও দুদকের একাধিক প্রতিবেদন ও নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে যমুনা নদীর ওপর পৃথক ডাবল লাইনের একটি রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৮ মার্চ নতুন সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানান অনিয়ম পর্যালোচনা করে শুধু অডিট আপত্তিতেই কমপক্ষে ৩ হাজার কোটির বেশি ব্যয় এখন প্রশ্নের মুখে। এই ব্যয়ের বড় অংশই প্রকল্প পরিচালক ও তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের অনুমোদিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

ফ্যাপাডের ২০২০-২১ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, মাত্র এক অর্থবছরেই বিভিন্ন খাতে প্রায় ৭০৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় অডিট আপত্তির মুখে পড়েছে। আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিটেইল মেজারমেন্ট শিট, ড্রয়িং ও বিওকিউ ছাড়াই ১২৭ কোটি টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যথাযথ সহায়ক ভাউচার ছাড়াই সিডি-ভ্যাট পরিশোধের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি টাকার বেশি। কাজে ব্যবহার না হওয়া স্টিল পাইপ শিট পাইলের বিপরীতে শুল্ক-ভ্যাট দিতে গিয়ে আরও সাড়ে ৫ কোটির বেশি সরকারি অর্থ আটকে গেছে প্রশ্নবিদ্ধ লেনদেনের কারণে। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারের ওপর ‘ডিলে ড্যামেজ’ আরোপ না করায় সম্ভাব্য ক্ষতির অঙ্ক ধরা হয়েছে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। আলাদা একটি আপত্তিতে সিডি-ভ্যাটের নামে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের পরিমাণ দেখানো হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা এবং ঠিকাদারের বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর না কেটে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অঙ্ক এসেছে প্রায় ১৭ কোটি টাকার মতো।

অডিট প্রতিবেদনে শুধু দেশি মুদ্রা নয়, জাপানি মুদ্রা ইয়েনেও বিপুল পরিমাণ লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মোবিলাইজেশন ও ডিমোবিলাইজেশন খাতে ইয়েন ৪ হাজার ১৫২ কোটি টাকার বেশি অঙ্ককে ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফ্যাপাড। সংস্থাটির মতে, প্রকল্পে সরকারি বিধি ও চুক্তির শর্ত প্রতিপালনে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। পরবর্তী বছরগুলোতে অনিয়মের এই মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বিশেষ ফিন্যান্সিয়াল ইন্সপেকশন (এসএফআই) প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদেশি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে চুক্তিতে নির্ধারিত দেশ থেকে মালপত্র না এনেই ৪০৫ কোটি টাকা অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাস্টমস হাউসের পরিবর্তে অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে সিডি-ভ্যাট আদায়ের নামে আরও ৪৩০ কোটি টাকার পেমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে দর নির্ধারণ ও চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও। অডিট প্রতিবেদনের এক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্যাকেজে অস্বাভাবিক উচ্চ দর ধরে কাজ দেওয়ার ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। সাইট সুবিধা ও ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণে সরকারি সিডিউলের তুলনায় অতিরিক্ত ১১৩ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি হারে মূল্য সমন্বয়ের কারণে আরও ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কর-ভ্যাট-সংক্রান্ত আপত্তিগুলোর মধ্যে আছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিল থেকে আয়কর কম কাটা, যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি। ঠিকাদারের রিটেনশন বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর না কেটে আরও প্রায় ৩৪ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারানো এবং অফিস ভাড়া ও কনজ্যুমেবল খরচের আড়ালে ‘রিইমবার্সেবল বিল’ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটির অর্থ যথাযথ প্রমাণপত্র ছাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। আবার মাটি পুনর্ব্যবহার না করে ফেলে দেওয়ার মতো দেখানো ছোট ছোট অনিয়মেও কয়েক কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব তুলে ধরেছে অডিট বিভাগ।

অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরের ৭০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার গ্র্যান্ড টোটাল ছাড়াও পরের দুই-তিন অর্থবছরের বিশেষ অডিট ও এসএফআই আপত্তিতে আরও অন্তত ২ হাজার ৪০০ কোটির বেশি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে অনিয়ম, সন্দেহজনক লেনদেন ও সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৩ হাজার কোটির ওপর দাঁড়ায়; ইয়েনে হিসাব করা অঙ্কগুলো টাকায় রূপান্তর করলে প্রকৃত অঙ্ক আরও বড় হবে।

এই বিপুল অঙ্কের অনিয়মের পেছনে প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে অডিট নথিতে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রকল্পের ডব্লিউডি-১ ও ডব্লিউডি-২-সহ বড় বড় প্যাকেজের ফাইলগুলোতে মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দর প্রস্তাব করেছেন, কোথাও কাজের পরিমাপ নতুন করে যাচাই করার সুপারিশ দিয়েছেন, কোথাও কিছু কাজ গুছিয়ে নিলে ব্যয় কমানো সম্ভব—এমন মতামত লিখেছেন। কিন্তু একই ফাইলের এক পাশে আল ফাত্তাহর হাতে লেখা নোটে বারবার দেখা যায় ভিন্ন সুর। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত কাজ শেষ করা জরুরি; প্রস্তাবিত দর গ্রহণযোগ্য’—অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ের আপত্তি সত্ত্বেও উচ্চ দর বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। অন্য এক ফাইলে তার মন্তব্য, ‘দর কমালে কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে, অতএব বিদ্যমান রেটেই চুক্তি করা যেতে পারে।’ এ ছাড়া আরেক জায়গায় ‘ঠিকাদারকে বারবার দর কমাতে বললে প্রজেক্টের অগ্রগতি ব্যাহত হবে’—এ যুক্তি দেখিয়ে তুলনামূলক বেশি দরে কাজ অনুমোদনের নির্দেশ দিয়েছেন।

অডিট নথিতে উল্লেখ আছে, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ শুধু একটি-দুটি ফাইলে নয়, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের যৌথ কনসোর্টিয়ামের হাতে থাকা ডব্লিউডি-১, ডব্লিউডি-২ ও অন্য কয়েকটি বড় প্যাকেজের নথিতেই প্রায় নিয়মিত। অডিটরদের মন্তব্য—মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের আপত্তি উপেক্ষা করেই প্রকল্প পরিচালক নির্দিষ্ট কনসোর্টিয়ামকে সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিছু আপত্তিতে সরাসরি বলা হয়েছে, নন-রেসপনসিভ বিডারকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘আঁতাতের সম্ভাবনা’ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দুদকের অনুসন্ধানেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। গত ৪ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, যমুনা রেল সেতু প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের শত শত কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের মূল ও সংশোধিত ডিপিপি, সব ধাপের দরপত্র নথি, ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তিপত্র, প্যাকেজভিত্তিক অনুমোদিত মূল্য তালিকা, বিল পরিশোধের ভাউচার, কাজের পরিমাপের খাতা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন এবং প্রকল্প অগ্রগতি-সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণীসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করেছে দুদক। সেই চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বৈদেশিক সহায়তায় বাস্তবায়িত এ ধরনের বড় প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে উন্নয়ন সহযোগী জাইকার সঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক তদন্ত চলমান রয়েছে। এটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনকে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে এসএমএসের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। পরে প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে রেল ভবনে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পিএস জানান, স্যার বাইরে আছেন, অপেক্ষা করেন। পরে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তার দেখা মেলেনি।

Feb2
Feb2

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করুন: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 10:12 pm
প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করুন: মেয়র

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর চট্টগ্রাম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল, সুশৃঙ্খল ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন। সারাদেশে একই সময়ে শুরু হতে যাওয়া এ জাতীয় আয়োজনকে ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তাই এর সফল আয়োজনের দায়িত্ব আমাদের সকলের।

বুধবার (২৯ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সামনে রেখে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন মেয়র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এতে সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং আবু সুফিয়ান বক্তব্য রাখেন। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজন সফল করতে এখন থেকেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর সড়কের যেসব স্থানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, চসিকের পক্ষ থেকে সেসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখ ও অন্যান্য স্থানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যেসব কাজ প্রয়োজন, সেগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। লালখান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুলের গাছ লাগানো ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি সড়কে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত স্টিল স্ট্রাকচার ও অন্যান্য স্থাপনা দ্রুত অপসারণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও সড়কের ওপর থাকা বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা অপসারণ না করলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে মেয়র বলেন, এটি শিশু কিশোর ও তরুণদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজন। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৭৮টি স্কুল, ২৮টি কলেজ ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদক ও অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। তাই প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করার মাধ্যমে চট্টগ্রামে ক্রীড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চসিক, সিডিএ, শিক্ষা বিভাগ, ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

অক্টোবরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের সুফী কনফারেন্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 10:09 pm
অক্টোবরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের সুফী কনফারেন্স

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম আয়োজিত  সুফী কনফারেন্স আগামী আগস্ট মাসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে, এ উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতি সভা সংগঠনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মুহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে ও সংগঠনের মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় চট্টগ্রামের একটি অভিজাত রেস্তোরায় আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দিক নির্দেশনামূলক আলোচনায় অংশগ্রহণ নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস এম বরকত আকাশ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা, হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা, যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে একটি গোলটেবিল আলোচনা ও আগামী অক্টোবরে রাজধানীতে সুফী কনফারেন্সের বিভিন্ন দিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহবান জানানো হয়।

বিমানবন্দর থেকে মোহরার মিড আইল্যান্ড সাজবে সবুজে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 9:14 pm
বিমানবন্দর থেকে মোহরার মিড আইল্যান্ড সাজবে সবুজে: মেয়র

নগরীর বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত সড়কের মিড আইল্যান্ড বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ দিয়ে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত।

বুধবার আগ্রাবাদ থেকে লালখানবাজার রোডে বৃক্ষায়নের এ কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন মেয়র। এসময় বন ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় সার্বিক সবুজায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে মেয়রকে অবহিত করেন৷

এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লক্ষ গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নগরীর মোহরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড আইল্যান্ডকে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হবে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দর রোডকে বিভিন্ন রঙ্গিন ফুল দিয়ে রাঙানো হয়েছে৷ দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। টাইগারপাস থেকে লালখানবাজারে লাগানো হছে পাতাবাহারসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন গাছ। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এইসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি নগরী। এখানে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল, উপত্যকা ও জলাশয় রয়েছে। আল্লাহ আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। কিন্তু এসব সম্পদের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল নদীতে গিয়ে জমা হয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।