খুঁজুন
বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমুনা রেল সেতু প্রকল্প

পিডি মাসউদুরের নোটে তিন হাজার কোটি টাকা ‘হরিলুট’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
পিডি মাসউদুরের নোটে তিন হাজার কোটি টাকা ‘হরিলুট’

বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্প যমুনা রেলসেতু নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের অডিট শাখা, বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফ্যাপাড) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক প্রতিবেদন এবং নথিতে প্রকল্পের ব্যয় ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব ব্যয়ের বড় অংশেই প্রকল্প পরিচালক ও রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রকৌশলীদের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রকল্প পরিচালকের ‘ম্যাজিক নোটে’ উচ্চ দর নির্ধারণ এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের নানা অভিযোগ এখন খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

রেলওয়ের অডিট শাখা-২, বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফ্যাপাড) ও দুদকের একাধিক প্রতিবেদন ও নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে যমুনা নদীর ওপর পৃথক ডাবল লাইনের একটি রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৮ মার্চ নতুন সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানান অনিয়ম পর্যালোচনা করে শুধু অডিট আপত্তিতেই কমপক্ষে ৩ হাজার কোটির বেশি ব্যয় এখন প্রশ্নের মুখে। এই ব্যয়ের বড় অংশই প্রকল্প পরিচালক ও তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের অনুমোদিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

ফ্যাপাডের ২০২০-২১ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, মাত্র এক অর্থবছরেই বিভিন্ন খাতে প্রায় ৭০৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় অডিট আপত্তির মুখে পড়েছে। আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিটেইল মেজারমেন্ট শিট, ড্রয়িং ও বিওকিউ ছাড়াই ১২৭ কোটি টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যথাযথ সহায়ক ভাউচার ছাড়াই সিডি-ভ্যাট পরিশোধের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি টাকার বেশি। কাজে ব্যবহার না হওয়া স্টিল পাইপ শিট পাইলের বিপরীতে শুল্ক-ভ্যাট দিতে গিয়ে আরও সাড়ে ৫ কোটির বেশি সরকারি অর্থ আটকে গেছে প্রশ্নবিদ্ধ লেনদেনের কারণে। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারের ওপর ‘ডিলে ড্যামেজ’ আরোপ না করায় সম্ভাব্য ক্ষতির অঙ্ক ধরা হয়েছে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। আলাদা একটি আপত্তিতে সিডি-ভ্যাটের নামে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের পরিমাণ দেখানো হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা এবং ঠিকাদারের বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর না কেটে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অঙ্ক এসেছে প্রায় ১৭ কোটি টাকার মতো।

অডিট প্রতিবেদনে শুধু দেশি মুদ্রা নয়, জাপানি মুদ্রা ইয়েনেও বিপুল পরিমাণ লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মোবিলাইজেশন ও ডিমোবিলাইজেশন খাতে ইয়েন ৪ হাজার ১৫২ কোটি টাকার বেশি অঙ্ককে ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফ্যাপাড। সংস্থাটির মতে, প্রকল্পে সরকারি বিধি ও চুক্তির শর্ত প্রতিপালনে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। পরবর্তী বছরগুলোতে অনিয়মের এই মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বিশেষ ফিন্যান্সিয়াল ইন্সপেকশন (এসএফআই) প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদেশি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে চুক্তিতে নির্ধারিত দেশ থেকে মালপত্র না এনেই ৪০৫ কোটি টাকা অনিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাস্টমস হাউসের পরিবর্তে অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে সিডি-ভ্যাট আদায়ের নামে আরও ৪৩০ কোটি টাকার পেমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে দর নির্ধারণ ও চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও। অডিট প্রতিবেদনের এক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্যাকেজে অস্বাভাবিক উচ্চ দর ধরে কাজ দেওয়ার ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। সাইট সুবিধা ও ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণে সরকারি সিডিউলের তুলনায় অতিরিক্ত ১১৩ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি হারে মূল্য সমন্বয়ের কারণে আরও ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কর-ভ্যাট-সংক্রান্ত আপত্তিগুলোর মধ্যে আছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিল থেকে আয়কর কম কাটা, যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি। ঠিকাদারের রিটেনশন বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর না কেটে আরও প্রায় ৩৪ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারানো এবং অফিস ভাড়া ও কনজ্যুমেবল খরচের আড়ালে ‘রিইমবার্সেবল বিল’ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটির অর্থ যথাযথ প্রমাণপত্র ছাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। আবার মাটি পুনর্ব্যবহার না করে ফেলে দেওয়ার মতো দেখানো ছোট ছোট অনিয়মেও কয়েক কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব তুলে ধরেছে অডিট বিভাগ।

অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরের ৭০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার গ্র্যান্ড টোটাল ছাড়াও পরের দুই-তিন অর্থবছরের বিশেষ অডিট ও এসএফআই আপত্তিতে আরও অন্তত ২ হাজার ৪০০ কোটির বেশি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে অনিয়ম, সন্দেহজনক লেনদেন ও সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৩ হাজার কোটির ওপর দাঁড়ায়; ইয়েনে হিসাব করা অঙ্কগুলো টাকায় রূপান্তর করলে প্রকৃত অঙ্ক আরও বড় হবে।

এই বিপুল অঙ্কের অনিয়মের পেছনে প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে অডিট নথিতে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রকল্পের ডব্লিউডি-১ ও ডব্লিউডি-২-সহ বড় বড় প্যাকেজের ফাইলগুলোতে মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দর প্রস্তাব করেছেন, কোথাও কাজের পরিমাপ নতুন করে যাচাই করার সুপারিশ দিয়েছেন, কোথাও কিছু কাজ গুছিয়ে নিলে ব্যয় কমানো সম্ভব—এমন মতামত লিখেছেন। কিন্তু একই ফাইলের এক পাশে আল ফাত্তাহর হাতে লেখা নোটে বারবার দেখা যায় ভিন্ন সুর। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত কাজ শেষ করা জরুরি; প্রস্তাবিত দর গ্রহণযোগ্য’—অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ের আপত্তি সত্ত্বেও উচ্চ দর বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। অন্য এক ফাইলে তার মন্তব্য, ‘দর কমালে কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে, অতএব বিদ্যমান রেটেই চুক্তি করা যেতে পারে।’ এ ছাড়া আরেক জায়গায় ‘ঠিকাদারকে বারবার দর কমাতে বললে প্রজেক্টের অগ্রগতি ব্যাহত হবে’—এ যুক্তি দেখিয়ে তুলনামূলক বেশি দরে কাজ অনুমোদনের নির্দেশ দিয়েছেন।

অডিট নথিতে উল্লেখ আছে, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ শুধু একটি-দুটি ফাইলে নয়, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের যৌথ কনসোর্টিয়ামের হাতে থাকা ডব্লিউডি-১, ডব্লিউডি-২ ও অন্য কয়েকটি বড় প্যাকেজের নথিতেই প্রায় নিয়মিত। অডিটরদের মন্তব্য—মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের আপত্তি উপেক্ষা করেই প্রকল্প পরিচালক নির্দিষ্ট কনসোর্টিয়ামকে সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিছু আপত্তিতে সরাসরি বলা হয়েছে, নন-রেসপনসিভ বিডারকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘আঁতাতের সম্ভাবনা’ উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দুদকের অনুসন্ধানেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। গত ৪ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, যমুনা রেল সেতু প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের শত শত কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের মূল ও সংশোধিত ডিপিপি, সব ধাপের দরপত্র নথি, ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তিপত্র, প্যাকেজভিত্তিক অনুমোদিত মূল্য তালিকা, বিল পরিশোধের ভাউচার, কাজের পরিমাপের খাতা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন এবং প্রকল্প অগ্রগতি-সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণীসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করেছে দুদক। সেই চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বৈদেশিক সহায়তায় বাস্তবায়িত এ ধরনের বড় প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে উন্নয়ন সহযোগী জাইকার সঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক তদন্ত চলমান রয়েছে। এটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনকে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে এসএমএসের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। পরে প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে রেল ভবনে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পিএস জানান, স্যার বাইরে আছেন, অপেক্ষা করেন। পরে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তার দেখা মেলেনি।

Feb2

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখার জেরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাতের পর বিকেল পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। পরবর্তীতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রচার করেন আল মামুন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হলে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তবে বিকেল চারটার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদে নিউমার্কেট মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কলেজের দিকে অগ্রসর হলে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেল পাঁচটার দিকেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজের সামনে এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রদলের দাবি, শিবিরের হামলায় তাদের ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ৫ থেকে ৬ জন কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাহাড়তলি ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফের অবস্থা গুরুতর এবং তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিকী রনির মোবাইল ফোনে কল করা হলে অন্য একজন রিসিভ করে বলেন, ‘কলেজে মারামারি হয়েছে। রনি ভাই আহত হয়েছেন, তাকে পাচ্ছি না।’

সংঘর্ষের বিষয়ে সিটি কলেজের একজন শিক্ষক জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও কলেজের সুনাম রক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়েছিল। দুপুরে এবং বিকেলের শিফটে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আদর্শিকভাবে দেউলিয়া ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শিক লড়াইয়ের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, দুপুর থেকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন এক পাষণ্ড স্বামী। এমন অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান নবজাতক কন্যা ও তার অসহায় মাকে দেখতে। শুধু খোঁজখবরই নয়, জেলার অভিভাবক হিসেবে নবজাতকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন তিনি।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে গর্ভবতী শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালালেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। একদিকে অসুস্থ মা, অন্যদিকে নবজাতক—দুজনেই পড়েন চরম অনিশ্চয়তায়।

এরই মধ্যে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয় এবং ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার খবর পেয়ে সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম নিজেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। আজ মঙ্গলবার নিজেই হাসপাতালে গিয়ে মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান।
এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নবজাতকের জন্য শিশু খাদ্য, পোশাক, ডায়াপার, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করছি।”

তিনি আরও বলেন,“এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেন নিজের পরিবারকে এভাবে ফেলে না যায়—এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

নবজাতকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, “তার স্বামী আগেই বলেছিল মেয়ে সন্তান হলে রাখবে না। সন্তান জন্মের পর থেকেই সে আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আমি নিজেই কষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে আমি ও আমার বাচ্চা ভালো আছি।”

তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,“ডিসি স্যার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে কী যে হতো জানি না। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন।”

শাহনাজারের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার জানান, “ডিসি স্যার ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই হাসপাতালের সবাই আরও বেশি যত্ন নিচ্ছেন। এমনকি তিনি একজন কর্মচারীকেও দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যাতে সব সময় খোঁজ রাখা হয়।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও এনআইসিইউ প্রধান ডা. মোহাম্মদ শাহীন বলেন, “প্রতিটি রোগীই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে জেলা প্রশাসক নিজে থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছেন। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ জেলা প্রশাসককে মা ও শিশুর জন্য উপহার নিয়ে আসতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ।”

হাসপাতালে উপস্থিত রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেও জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবিক সংকটে প্রশাসনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ হাজার টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানায় র‍্যাব।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানী কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় তার হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে দক্ষিণখান থেকে শরিফুল আলম করিম, বাড্ডা থেকে আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিনকে এবং আরিফুজ্জামানকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দ্বন্দ্ব থেকেই ২০ হাজার টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পক্ষে দেশে থাকা শরীফুল আলম করিমসহ অন্যরা কাজটি সম্পন্ন করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছে, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরণ দেখে মনে হয় এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল বিদেশে অবস্থান করছে। তবে তিনি এই টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি র‍্যাব।