খুঁজুন
, ,

আমাদের ওপর ওই সংবিধানের দোহাই দিয়েই জুলুম করা হয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 22 March, 2026, 3:14 pm
আমাদের ওপর ওই সংবিধানের দোহাই দিয়েই জুলুম করা হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সরকারি দলের ভাই এবং বন্ধুরা সংবিধানের কথা বলছেন। দীর্ঘদিন তারাও মজলুম ছিলেন, আমরাও মজলুম ছিলাম। আমাদের ওপর তো ওই সংবিধানের দোহাই দিয়েই তো জুলুম করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তিনি তো নিজেই বলেছিলেন- জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই সংবিধান আমরা ছুড়ে ফেলে দেব। কেন বলেছিলেন? আবার অনেকে বলছেন ৭২ এর সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। আরে ৭২ এর সংবিধান তো বহু আগেই পরিবর্তন হয়ে গেছে। স্বয়ং শেখ মুজিবের হাতেই পরিবর্তন হয়েছে। ৭২ এ সংবিধানে কী বাকশাল ছিল? বাকশাল তো শেখ মুজিবুর রহমান নিজে করেছে।

রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ভয়ের সংস্কৃতি সর্বত্র যেভাবে তৈরি হয়েছিল, এটাই সমাজকে পুরোপুরি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। আমরা সামাজিক শৃঙ্খলার দিক থেকে, অর্থনৈতিক দিক থেকে, সাংস্কৃতিক দিক থেকে সকল দিক থেকে একদম তলানিতে পড়ে গিয়েছিলাম। এখান থেকে জাতি উঠে এসেছে। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ায়নি। ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, এখনো কিন্তু কালো ছায়া রয়েছে। সমাজের সর্বত্রে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা সংকীর্ণতা প্রতিহিংসা এখনো বিরাজ করছে, মাত্রা যাই হোক। মানুষ রাজনীতিবিদ শুনলে সমাজে ভিন্ন একটা শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করে দিত, এখন সে জায়গাটা রাজনীতিবিদরা নিজের কর্মকাণ্ডের কারণে হারিয়ে ফেলছে। অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, শুনলে মনে হয় যে আসমানের ফেরেশতা জমিনে নেমে এসেছি আমরা। কিন্তু বাস্তবে যখন মানুষ মিলায় তখন ওই জিনিসটা আর দেখে না। কথার সাথে কাজের মিল খুঁজে পায় না। তখন মানুষের অশ্রদ্ধা তৈরি হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যতক্ষণ পর্যন্ত কথায় কাজে মিল রেখে জাতিকে আস্থায় না আনতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বিশ্বাস করি না যে একটা ভালো জাতি গঠন হবে। এই জায়গাটা অবশ্যই তৈরি করার মৌলিক দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, গত নির্বাচনে আমরা খুব বেশি কথা বলি নাই। আমরা বলেছিলাম যে একটা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠন। আলহামদুলিল্লাহ দেশের মানুষ আমাদেরকে সম্মানিত করে আমাদের ডাকে বিপুল সাড়া দিয়েছে। নির্বাচনের রেজাল্ট যা হয়েছে তা নিয়ে কথা আছে। কিন্তু নতুন ধারার সংস্কৃতি দেশে চালু করতে চাই বলেই আমরা সাথে সাথে এই নির্বাচনকে প্রত্যাখান করিনি। আমরা বলেছি বুকে চাপ নিয়ে আমরা মেনে নিলাম। আমরা চাই ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রবর্তন।

রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আমাদের কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নাই, কিন্তু ব্যক্তি সম্পর্কে আছে। ব্যক্তি আর প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে দেখতে হবে। আমরা ওই জায়গাটায় সরকারি দলকে অনুরোধ করবো জাতিকে মুক্তি দেওয়া হোক।

সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট ৬৮ শতাংশ ভোটারের উপরেও ভোট দিয়েছেন। তার মানে তারা সংস্কার চান। আমরা আশা করছি গণতন্ত্র এবং জনগণের অভিপ্রায় অভিমত রায় এটাকে সম্মান করে সরকারি দল অবিলম্বে তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। নইলে যেভাবে বিশেষ করে তিন তিনটা নির্বাচনে নির্বাচনের প্রতি মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, এটা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে।

মতবিনিময় সভায় সিলেটের সাংবাদিকরা ছাড়াও সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 10:12 am
চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘লংমার্চ’ শুরু হয়েছে।

এর আগে আজ (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ করেন ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখী এ ‘লং মার্চ’ শুরু হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়ায়াতরে মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

এতে বক্তব্য রাখছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের বহর রওনা হয়।

লং মার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরের সরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:57 am
সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় নিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। ওকে ছেড়ে দেন। ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিকে একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা দিয়ে নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। তার সাথে সপ্তম দফা হবে, কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই। কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে। কারেন্টের ভূতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী আপনারা দোয়া করবেন। আমরা আপনাদের এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ঔষধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ। প্রতিক্রিয়া হলে আমরা বলে দিচ্ছি। আপনারা বলছেন, এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ কোনো দল, ব্যক্তিগোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে আন্দোলন চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে।

আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:12 am
আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এই লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লং মার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য আমাদের এই লং মার্চ।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই লং চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লং মার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লং মার্চ কোনো ১১ দলের লং মার্চ নয়। এই লং মার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লং মার্চ।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, এই লং মার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।’