চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোরা ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বড়ুয়া পাড়ায় গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও ভিকটিমের মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত খুনী রিমন এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার পুত্র। নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়ার সাথে ঋণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়া একটি চাকু নিয়ে ভিকটিমের বাড়ির পিছনের দরজার বাইরে ওৎ পেতে ছিল। এ সময় ভিকটিম এনি বড়ুয়া (৪০) ঘর থেকে বের হয়ে আসামিকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে আসামি তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে। পরে তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬) মায়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় আসামি ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত এনি বড়ুয়ার ছোট ছেলে পিয়াস বড়ুয়া (৪) গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মাসুদ আলমের সার্বিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাতদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্তকালে জানা যায়, ঘটনার পর আসামি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানা এলাকাসহ সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে গতকাল রোববার (১৪ জুন) রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়াা প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে গ্রেফতার সংক্রান্তে আজ ১৫ জুন সোমবার সকালে নগরীর ষোলশহরের ২ নম্বর গেটস্থ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকারসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। তার দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, ভিকটিমের বাড়িতে সংরক্ষিত সুজন বড়ুয়ার ঋণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে সে একটি চাকু নিয়ে বাড়ির পিছনের দরজার বাইরে ওৎ পেতে ছিল। এ সময় ভিকটিম এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হয়ে আসামিকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে আসামি তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে। পরে তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬) মায়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় আসামি ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
এসপি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির দেখানো মতে ভিকটিমের বাড়ির পিছনের খাল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারের মাধ্যমে ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহে তদন্তকারী দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
দুর্গম এলাকা, আসামির আত্মগোপনের কৌশল এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত গোপন করার চেষ্টা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পেশাদার তদন্ত, নিরলস পরিশ্রম, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সমন্বিত অভিযানের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেফতার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন