খুঁজুন
বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়াইনি: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়াইনি: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দেশে এখন পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। আমরা দলীয় ইশতেহারে ও স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি বিশ্বাস করি ব্যক্তিগতভাবে পুঁথিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন অত্যন্ত বেশি জরুরি। বিএনপি সরকার যতবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে বারবার চেষ্টা করেছে এর প্রমাণ দিতে।’

‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও, আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নেইনি। এ খাতে প্রতিদিন শতশত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।’

‘আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা যদি সবাই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে যদি অমিতব্যায়িতা পরিহার করি, তার জন্য আমি দেশের সব মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি,’ বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের পথ-মত ভিন্ন হতে পারে, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক বিরোধ থাকতে পারে। তবে আমাদের মধ্যকার বিতর্ক-বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। দেশের স্বার্থে অবশ্যই সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।’

‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অর্থনীতি নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও অবশ্যই কর্মমুখী করতেই হবে।’

‘নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতিটি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই আমরা বিস্তারিতভাবে দেশের জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সই করেছিলাম। জনগণ আমাদের প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এবার আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা,’ বলেন তিনি।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্ত গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানকে তিনি তার নিজের ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

Feb2

মা-বাবাকে ভুলিয়ে দেওয়া ‘সফলতা’ আমাদের প্রয়োজন নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মা-বাবাকে ভুলিয়ে দেওয়া ‘সফলতা’ আমাদের প্রয়োজন নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

রাজধানীর মিরপুরে উচ্চশিক্ষিত তিন সন্তানের জননী নুরজাহান বেগমের (৭২) পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি বিবেকবান মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সন্তানেরা বুয়েট শিক্ষক, যুগ্মসচিব ও কানাডা প্রবাসী হওয়ার পরও শেষ বয়সে মায়ের এমন করুণ পরিণতিতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, “সাত-আট দিন আগে যে বৃদ্ধা মরে পচে গেছেন, তার এক ছেলে বুয়েট শিক্ষক, আরেকজন যুগ্মসচিব, অন্যজন কানাডা-প্রবাসী। বাবার-মা সন্তানকে যে সফলতার স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, তাদের তিন ছেলেই সেই চূড়া স্পর্শ করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে মা বেঁচে আছেন না মরে গেছেন, সেই খোঁজ নেওয়ার সুযোগটুকুও সন্তানদের হয়নি।”

বস্তুগত সফলতার অসারতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, “যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসাকে ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময় মায়ের মাথার কাছে এক আঁজলা পানি নিয়ে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।”

তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যতদিন আমরা শুধু বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, ততদিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে। আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।”

রোববার (১ জুন) গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, প্রায় সাত থেকে আট দিন আগেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ না নেওয়া এবং পারিবারিক চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে মর্যাদাপূর্ণ বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, তিনি বিশ্বমঞ্চে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নয়, বরং সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিজের দায়িত্বকালীন সময়ে সকল সদস্য দেশকে সমানভাবে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত কোনো মতামতকে তিনি প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) হিসেবে নিজের পেশাগত কাজে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করতে দেবেন না।

মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক এই নির্বাচনে জয়লাভের পর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রদত্ত এক আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে পরাজিত করে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান লাভ করেন ৯৯টি ভোট এবং তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেজ কাকাউরিস পান ৯১টি ভোট। ফলে ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পেছনে ফেলে গৌরবময় এই জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। আগামী এক বছর অর্থাৎ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনজুড়ে তিনি এই সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।

জাতিসংঘের ওপর বিশ্ববাসীর আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি তাঁর বক্তব্যে ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে এসে তার নবম দশকে পদার্পণ করছে, যখন বিভিন্ন দিক থেকে এই বিশ্ব সংস্থার কার্যকারিতা ও আস্থার জায়গাটি বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন। যে সংস্থার মূল লক্ষ্যই ছিল পরবর্তী প্রজন্মকে সংঘাত আর যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা, বর্তমান সময়ে এসেও সেই যুদ্ধ ও সংঘাত বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখে ফেলছে।

খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, বহুপাক্ষিকতা যখন নানাবিধ প্রতিকূল চাপের মুখে রয়েছে এবং আর্থিক সংকটের কারণে সংস্থাটি তার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই এই বৈশ্বিক সংকটগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নিজের কাজের প্রতি সম্পূর্ণ একাগ্র থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিশেষ করে জাতিসংঘে যেসব দেশের প্রতিনিধিদল বা মিশন আকারে ছোট, তাদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করাকে তিনি নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবেন বলে জানান।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, আগামী অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তিনি তাঁর ভিশন স্টেটমেন্ট বা দূরদর্শী ইশতেহারে উল্লিখিত প্রধান ছয়টি অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করবেন। এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিতকরণ; জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ; মানবাধিকার রক্ষা, মানবিক কর্মকাণ্ড, শরণার্থী ও অভিবাসী ইস্যু পরিচালনা; ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য বহুপাক্ষিকতা, ইউএন ৮০ সংস্কার ও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে মার্কেট-শপিংমল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে মার্কেট-শপিংমল

দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম আরও জোরদার ও কার্যকর করতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সব শপিংমল, বিপণিবিতান, মার্কেট ও খুচরা দোকানপাট আবারও প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে খোলা রাখার যে বিশেষ সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ সোমবার (১ জুন) থেকে নতুন করে এই নির্দেশনা পুরো দেশে কার্যকর করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। এই বিশেষ নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে সরকারি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সফলভাবে কার্যকর ছিল। তবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপুল পরিধি ও সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়েছিল।

নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ঈদ উৎসব ও উৎসব-পরবর্তী বিশেষ সুবিধার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে আবারও সরকারের আগের মূল সিদ্ধান্তটি পুনর্বহাল করা হলো। এর ফলে এখন থেকে রাত ১০টার পরিবর্তে দেশের সব ধরণের ছোট-বড় শপিংমল, সুপার শপ, মার্কেট ও কাঁচাবাজারকে ঠিক সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে তাদের সব ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ অপচয় রোধ ও সাশ্রয় নিশ্চিত করতে শপিংমলের পাশাপাশি আরও কিছু কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নতুন আদেশ অনুযায়ী, দেশের সব ধরনের বাণিজ্যিক বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপনের ডিজিটাল আলোকসজ্জা প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় মেলা, জাতীয় বাণিজ্য মেলা এবং যেকোনো ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা কনসার্টও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনাটি শতভাগ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।