খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে তথ্য লুকিয়ে বাংলাদেশ আসছে ‘এমটি নিনেমিয়া’। ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রার পর থেকে জাহাজটির অবস্থান সম্পর্কে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তবে জাহাজটি বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

বিএসসি বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশন সিস্টেম (আইএএস) বন্ধ রেখে লোহিত সাগর (রেড সি) পাড়ি দিয়েছে এমটি নিনেমিয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র রুটে চলাচল করার সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইএএস বন্ধ রেখে চলাচল করা অপরাধ নয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মালিকানাধীন একমাত্র পরিশোধন কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)। ইআরএলে পরিশোধনে ব্যবহৃত অপরিশোধিত জ্বালানি (ক্রুড অয়েল) শতভাগ আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ক্রুড আমদানি করে। আমদানিকৃত এসব ক্রুড পরিবহন করে বিএসসি। বিএসসি এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় মার্চ মাসে দুই লাখ ক্রুড পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়। এরমধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজ। প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে তার নিশ্চয়তা এখনো মিলেনি।

পাশাপাশি অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীতে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ এক লাখ টন ক্রুড লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের ট্যাংকার ভেসেলের যাত্রা বাতিল হয়। ফলে ক্রুড অয়েল সংকটে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যায় ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট। এরমধ্যে বিকল্প পথে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ ক্রুড নিয়ে এমটি নিনেমিয়া গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে।

তবে যাত্রার পর থেকে বৈশ্বিক ভেসেল ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইট থেকে এমটি নিনেমিয়া জাহাজটির অবস্থান ও গন্তব্যের তথ্য মিলছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘রেড সি পার হয়ে গালফ অব এডেন পেরিয়ে এসেছে। এখন এরাবিয়ান সি-তে আছে। তাদের জিপিএস চালু আছে। কিন্তু আইএএস সিস্টেম গতকালও বন্ধ পাওয়া গেছে। হয়তো ওনারের (মালিকপক্ষ) নির্দেশনা অনুযায়ী নিনেমিয়া জাহাজটি তাদের আইএএস বন্ধ রেখেছে। তবে মেইলে জাহাজের অবস্থান সম্পর্কে জেনেছি। মূলত সিস্টেমে কেউ অ্যাটাক করতে পারে এমন সন্দেহে হয়তো আইএএস বন্ধ রাখা হয়েছে।’

বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য বেশ কয়েকটি ভেসেল ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজটি চায়নার জোশান বন্দর থেকে ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের দিকে রওয়ানা দেয়। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি ১৯ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু আল বাহর বন্দরে পৌঁছে। ২০ এপ্রিল এক লাখ টন ক্রুড লোড করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়ার আগ পর্যন্ত জাহাজটির অবস্থান জানা সম্ভব হলেও এরপর থেকে জাহাজটির অবস্থান জানা যাচ্ছে না।

ভেসেল ট্র্যাকিং সংস্থা ভেসেল ফাইন্ডারের তথ্য বলছে, জাহাজটি ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রা করেছে। গন্তব্য দেখানো আছে- নো লিংক আইএসআর/ইউএস/ইউকে (ইসরায়েল/আমেরিকা/যুক্তরাজ্য)। পৌঁছানোর সময় দেখানো আছে ৫ মে সন্ধ্যা ৬টা।

ভেসেল ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এমটি নিনেমিয়াকে গত ২১ এপ্রিল লোহিত সাগরে দেখা গেছে। জাহাজটিকে চলন্ত অবস্থায় দেখা গেলেও গন্তব্য দেখাচ্ছে না সাইটটি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএসসির চার্টার প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জির বাংলাদেশে লোকাল এজেন্ট প্রাইম ওশান ট্রেড লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অপারেশন) মো. হাবিব বলেন, ‘আমরাও জাহাজটির (এমটি নিনেমিয়া) জিপিএস অবস্থান পাচ্ছিলাম না। তবে অফিসিয়ালভাবে আমরা অবস্থান জানতে পেরেছি। জাহাজটি রেড জোন পেরিয়ে এসেছে। নির্ধারিত শিডিউল এখনো ঠিক আছে। শিডিউল অনুযায়ী আগামী ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছবে।’

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহকৃত জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।

বিপিসি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। পরিবহন খাতে মোট বিক্রি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ জ্বালানি। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালীতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে অন্যান্য খাতে।

ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট বিক্রির ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফার্নেস অয়েল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮ টন, যা মোট বিক্রির ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পেট্রোল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অকটেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। কেরোসিন ৬৭ হাজার ৪৭৭ টন, যা মোট ব্যবহারের শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। জেট ফুয়েল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন, যা মোট ব্যবহারের ৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টন, যা মোট ব্যবহারের ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

এরমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন ডিজেল, ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২২৯ টন ফার্নেস অয়েল, ৫৯ হাজার ১৫০ টন পেট্রোল, ৫৬ হাজার ৯৩৪ টন কেরোসিন, ৫৭ হাজার ৪১৪ টন বিটুমিন, ১৬ হাজার ১৮৭ টন এলপিজি, ৮ হাজার ৭১ টন জেবিও এবং এক লাখ ৫৩ হাজার ৫২৯ টন ন্যাফতা পরিশোধন করে বিপিসিকে সরবরাহ করেছে ইআরএল।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এ জলপথকে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়েই পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে। দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর বিপরীতে ইসরায়েলসহ আশপাশের আরব দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। এ জলপথ বন্ধ হওয়ার বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।

জাহাজের তথ্য লুকিয়ে গন্তব্যে যাত্রার বিষয়ে কথা হলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন এনাম আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজগুলো আইএএস বন্ধ রাখে। জাহাজের মধ্যেই এ ধরনের সুযোগ থাকে। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বে অস্থিরতা চলছে। হরমুজের আশেপাশে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর আমেরিকা নজরদারি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজ বের হলেই আমেরিকা সন্দেহ করে। ওই এলাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘আগে প্রায় ৯০ শতাংশ এলপিজি ইরান থেকে আসতো। এজন্য বাংলাদেশে আসা ইরানি অনেক জাহাজে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ কারণেই হয়তো আমেরিকান বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এমটি নিনেমিয়া তাদের আইএএস বন্ধ রেখে, সিস্টেমে গন্তব্য আমেরিকা কিংবা ইউকে দেখিয়েছে।’

Feb2

রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনে তাগিদ দিয়ে আসছে। যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উত্সাহিত করাই বিশ্ব রক্তদান দিবসের উদ্দেশ্য।

১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তি, যার শরীরের ওজন ৪৫ কেজির ওপরে, তারা চার মাস পরপর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে রক্ত দিতে হলে কিছু রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তদাতার শরীরে কমপক্ষে পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের অনুপস্থিতি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। এ রোগগুলো হলো হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, এইচআইভি বা এইডসের ভাইরাস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস। রোগের স্ক্রিনিং করার পর এসব রোগ থেকে মুক্ত থাকলেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে দেওয়া যাবে। অবশ্য একই সঙ্গে রোগীর এবং রক্তদাতার রক্তের গ্রুপিং ও ক্রসম্যাচিং করাটাও জরুরি। এছাড়া রক্তদাতা শারীরিকভাবে রক্তদানে উপযুক্ত কি না, তা জানার জন্য তার শরীরের ওজন, তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতার উপস্থিতি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়।

রক্ত মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে পূর্ণমাত্রায় রক্ত থাকলে মানবদেহ থাকবে সজীব ও সক্রিয়। আর রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিলেই শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রাণশক্তিতে ভাটা পড়ে। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশঙ্কা হ্রাস পায়। নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কণিকা তৈরি হয়, ফলে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। এতে যে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ রক্তক্ষরণ হলেও শরীর খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারে। রক্তদানের সময় রক্তে নানা জীবাণুর উপস্থিতি আছে কি না তার জন্য পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। ফলে রক্তদাতা জানতে পারেন, তিনি কোনো সংক্রামক রোগে ভুগছেন কি না। অনেক সময় রক্তদাতার শরীরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। যাদের রক্তে আয়রন জমার প্রবণতা আছে, রক্তদান তাদের জন্য ভালো।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিলকে টপকাল স্কটল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিলকে টপকাল স্কটল্যান্ড

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল স্কটল্যান্ড। বিপরীতে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে। যেখানে ২৮ বছর পর খেলতে নামা স্কটিশরা ৩৬ বছর পর মেগা ইভেন্টে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে। এমনকি ‘সি’ গ্রুপের শক্তিশালী দুই দল ব্রাজিল-মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন স্কটল্যান্ড।

আজ (রোববার) ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে জন ম্যাকগিনের গোলে হাইতিকে ১-০ গোলে হারাল ইউরোপীয় দেশটি। যদিও ২৮তম মিনিটে ম্যাকগিনের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডকে পরাস্ত করে আসে স্কটল্যান্ডের জয়সূচক গোলটি।

১৯৯০ সালের পর স্কটিশরা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে। অবশ্য মাঝে তারা বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ২৮ বছর। শেষবার তারা সুইডেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশগ্রহণের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে হাইতি। তবে এখনও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

স্কটল্যান্ডের হয়ে ম্যাকগিনের গোলটি আসে বক্সের ভেতরে চে অ্যাডামসের মিস করা শট থেকে। বলটি হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিডের গায়ে লেগে ফাঁকা জায়গায় চলে যায়। ১৩ গজ দূর থেকে ম্যাকগিনের নেওয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। এর আগে অবশ্য ম্যাচের ১৭তম মিনিটেও গোলের খুব কাছে ছিল স্কটল্যান্ড। অধিনায়ক স্কট ম্যাকটমিনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে শট নেন, তবে সেটি পোস্টের উপরের অংশ ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।

হাইতি কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে দ্বিতীয়ার্ধে। ৭৪তম মিনিটে রুবেন প্রভিডেন্সের ক্রস থেকে উইলসন ইসিডর বল জালে পাঠানোর চেষ্টায় সফল হতে পারেননি। এরপর ৮৪তম মিনিটে ফ্রান্টজডি পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য বাম পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

আগামী ২০ জুন পরবর্তী ম্যাচে স্কটল্যান্ড জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে। একইদিন ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির প্রতিপক্ষ হবে ব্রাজিল।

প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের।

নেইমারকে ছাড়া মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামা ব্রাজিল শুরুতে ছিল ছন্নছাড়া। অন্যদিকে শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। আর ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল পেতে পারত আফ্রিকার দেশটি। বাম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে তারা।

ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়েও যান মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।

মরক্কোর শুরুর দাপট সামলে ক্রমেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডি-বক্সে দারুণ এক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। সতীর্থের দেওয়া লফটেড পাসে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান ইগর থিয়াগো। সময়মতো লাফিয়েও উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বলের সঙ্গে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি এই স্ট্রাইকার।

এদিকে ব্রাজিল কেবল গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক এমন সময় ম্যাচের ২১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে এগিয়ে যায় মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের দেওয়া চমৎকার এক পাসে বল পেয়ে ব্রাজিলের জাল কাঁপান মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি।

অবশ্য গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলের। ঠিক ১১ মিনিট পর দুর্দান্ত এক একক নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন তিনি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি ভিনিসিয়ুসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল।

১-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল রক্ষণ আগলে বেশ কিছু আক্রমণ চালায়। তবে প্রথমার্ধের তুলনায় কিছুটা ম্লান ছিল মরক্কো। এ সময় ব্রাজিলই বেশি ভালো খেলার চেষ্টা করে। যদিও ৯৯ মিনিটে তাদের রক্ষণে কিছুটা ভয় ছড়ায় হাকিমির দল। যোগ করা সময়ে (৯৯ মিনিট) মরক্কো মিডফিল্ডার এল আয়নাউয়ির দুরপাল্লার শট ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার না ঠেকালে ফল ভিন্ন হতে পারত।

কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকেও হয়তো বিশ্বকাপের যাত্রায় পয়েন্ট হারাতে হতো। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় ‘সি’ গ্রুপের দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও ‘আফ্রিকান ব্রাজিল’ মরক্কোকে।