খুঁজুন
, ,

এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 April, 2026, 2:45 pm
এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে তথ্য লুকিয়ে বাংলাদেশ আসছে ‘এমটি নিনেমিয়া’। ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রার পর থেকে জাহাজটির অবস্থান সম্পর্কে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তবে জাহাজটি বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

বিএসসি বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশন সিস্টেম (আইএএস) বন্ধ রেখে লোহিত সাগর (রেড সি) পাড়ি দিয়েছে এমটি নিনেমিয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র রুটে চলাচল করার সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইএএস বন্ধ রেখে চলাচল করা অপরাধ নয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মালিকানাধীন একমাত্র পরিশোধন কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)। ইআরএলে পরিশোধনে ব্যবহৃত অপরিশোধিত জ্বালানি (ক্রুড অয়েল) শতভাগ আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ক্রুড আমদানি করে। আমদানিকৃত এসব ক্রুড পরিবহন করে বিএসসি। বিএসসি এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় মার্চ মাসে দুই লাখ ক্রুড পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়। এরমধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজ। প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে তার নিশ্চয়তা এখনো মিলেনি।

পাশাপাশি অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীতে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ এক লাখ টন ক্রুড লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের ট্যাংকার ভেসেলের যাত্রা বাতিল হয়। ফলে ক্রুড অয়েল সংকটে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যায় ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট। এরমধ্যে বিকল্প পথে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ ক্রুড নিয়ে এমটি নিনেমিয়া গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে।

তবে যাত্রার পর থেকে বৈশ্বিক ভেসেল ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইট থেকে এমটি নিনেমিয়া জাহাজটির অবস্থান ও গন্তব্যের তথ্য মিলছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘রেড সি পার হয়ে গালফ অব এডেন পেরিয়ে এসেছে। এখন এরাবিয়ান সি-তে আছে। তাদের জিপিএস চালু আছে। কিন্তু আইএএস সিস্টেম গতকালও বন্ধ পাওয়া গেছে। হয়তো ওনারের (মালিকপক্ষ) নির্দেশনা অনুযায়ী নিনেমিয়া জাহাজটি তাদের আইএএস বন্ধ রেখেছে। তবে মেইলে জাহাজের অবস্থান সম্পর্কে জেনেছি। মূলত সিস্টেমে কেউ অ্যাটাক করতে পারে এমন সন্দেহে হয়তো আইএএস বন্ধ রাখা হয়েছে।’

বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য বেশ কয়েকটি ভেসেল ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজটি চায়নার জোশান বন্দর থেকে ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের দিকে রওয়ানা দেয়। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি ১৯ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু আল বাহর বন্দরে পৌঁছে। ২০ এপ্রিল এক লাখ টন ক্রুড লোড করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়ার আগ পর্যন্ত জাহাজটির অবস্থান জানা সম্ভব হলেও এরপর থেকে জাহাজটির অবস্থান জানা যাচ্ছে না।

ভেসেল ট্র্যাকিং সংস্থা ভেসেল ফাইন্ডারের তথ্য বলছে, জাহাজটি ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রা করেছে। গন্তব্য দেখানো আছে- নো লিংক আইএসআর/ইউএস/ইউকে (ইসরায়েল/আমেরিকা/যুক্তরাজ্য)। পৌঁছানোর সময় দেখানো আছে ৫ মে সন্ধ্যা ৬টা।

ভেসেল ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এমটি নিনেমিয়াকে গত ২১ এপ্রিল লোহিত সাগরে দেখা গেছে। জাহাজটিকে চলন্ত অবস্থায় দেখা গেলেও গন্তব্য দেখাচ্ছে না সাইটটি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএসসির চার্টার প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জির বাংলাদেশে লোকাল এজেন্ট প্রাইম ওশান ট্রেড লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অপারেশন) মো. হাবিব বলেন, ‘আমরাও জাহাজটির (এমটি নিনেমিয়া) জিপিএস অবস্থান পাচ্ছিলাম না। তবে অফিসিয়ালভাবে আমরা অবস্থান জানতে পেরেছি। জাহাজটি রেড জোন পেরিয়ে এসেছে। নির্ধারিত শিডিউল এখনো ঠিক আছে। শিডিউল অনুযায়ী আগামী ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছবে।’

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহকৃত জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।

বিপিসি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। পরিবহন খাতে মোট বিক্রি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ জ্বালানি। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালীতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে অন্যান্য খাতে।

ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট বিক্রির ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফার্নেস অয়েল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮ টন, যা মোট বিক্রির ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পেট্রোল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অকটেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। কেরোসিন ৬৭ হাজার ৪৭৭ টন, যা মোট ব্যবহারের শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। জেট ফুয়েল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন, যা মোট ব্যবহারের ৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টন, যা মোট ব্যবহারের ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

এরমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন ডিজেল, ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২২৯ টন ফার্নেস অয়েল, ৫৯ হাজার ১৫০ টন পেট্রোল, ৫৬ হাজার ৯৩৪ টন কেরোসিন, ৫৭ হাজার ৪১৪ টন বিটুমিন, ১৬ হাজার ১৮৭ টন এলপিজি, ৮ হাজার ৭১ টন জেবিও এবং এক লাখ ৫৩ হাজার ৫২৯ টন ন্যাফতা পরিশোধন করে বিপিসিকে সরবরাহ করেছে ইআরএল।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এ জলপথকে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়েই পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে। দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর বিপরীতে ইসরায়েলসহ আশপাশের আরব দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। এ জলপথ বন্ধ হওয়ার বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।

জাহাজের তথ্য লুকিয়ে গন্তব্যে যাত্রার বিষয়ে কথা হলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন এনাম আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজগুলো আইএএস বন্ধ রাখে। জাহাজের মধ্যেই এ ধরনের সুযোগ থাকে। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বে অস্থিরতা চলছে। হরমুজের আশেপাশে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর আমেরিকা নজরদারি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজ বের হলেই আমেরিকা সন্দেহ করে। ওই এলাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘আগে প্রায় ৯০ শতাংশ এলপিজি ইরান থেকে আসতো। এজন্য বাংলাদেশে আসা ইরানি অনেক জাহাজে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ কারণেই হয়তো আমেরিকান বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এমটি নিনেমিয়া তাদের আইএএস বন্ধ রেখে, সিস্টেমে গন্তব্য আমেরিকা কিংবা ইউকে দেখিয়েছে।’

Feb2
Feb2

আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:20 pm
আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

আনোয়ারায় কর্ণফুলী টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়ক ছেড়ে দোকানে ঢুকে পড়েছে। এ সময় দোকানের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা অন্তত ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাকে চাপা দেয় বাসটি। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন টানেল মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি এলাকার বাসিন্দা পলি দত্ত (৩৫) ও ইফা শীল (৪০)।আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রাতে টানেল মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় দোকানের সামনে থাকা অন্তত ছয়টি অটোরিকশা ও রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে দোকানের ভেতরে ও বাইরে থাকা অনেকেই চাপা পড়ে আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা বলেন, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন।আহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর বাসের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:02 pm
প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সারা দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বন্যা, নদীভাঙন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট এ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই বৃক্ষরোপণ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হোক। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বৃক্ষরোপণ পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়। তাই এ কর্মসূচিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে লাগানো প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের গৃহীত বৃহৎ বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএনপিও জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচি সফল করতে কাজ করবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য খোরশেদ আলম, জাফর আহমেদ, মাহাবুব রানা, হানিফ সওদাগর এবং মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 8:15 pm
খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলমান কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে বারাইপাড়া খাল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার পরিদর্শনকালে তিনি খালের বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে বাঁচিয়েছে। খননকৃত খালের জন্য পূর্ব বাকলিয়া, পূর্ব ষোলশহর এবং পশ্চিম বাকলিয়ার অনেক অংশের মানুষ বর্ষায় জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছেনা৷ প্রকল্পটির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত ফুটপাত এবং খালপাড় সুস্থ বিনোদনের উৎস হয়ে উঠেছে।

“চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে খালগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। খাল দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খাল-নালা পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোথাও অবৈধ দখল বা বাধা থাকলে তা দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ সময় মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি, আবর্জনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।