খুঁজুন
, ,

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 April, 2026, 4:32 pm
গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নেই, সেই দেশ কখনোই একটি গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না বা হয়ে উঠতে পারে না।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সভার আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। আর এই ন্যায়বিচার সবার জন্যই প্রযোজ্য। একজন মানুষও যাতে অর্থের অভাবে এক্সেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগ্যালি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। একজন ভুক্তভোগী টাকার অভাবে আইনজীবী সহায়তা নিতে পারবে না-এমনটা যেন না হয়, সেটি সরকার চেষ্টা করবে সর্বতোভাবে নিশ্চিত করতে।

আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নয়, এমন মানুষদের জন্য এক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়। এটি প্রতিটি মানুষের জীবনেই সত্য এবং বাস্তব হয়ে উঠুক। এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। ন্যায়বিচার কখনোই কেবল আদালত কেন্দ্রিক নয়, কোনো প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ। যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অবশ্যই প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ন্যায়পরায়ণতা তখনই অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আইন মানুষের উপর প্রয়োগের একটি যান্ত্রিক উপায় না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা সংরক্ষণ এবং প্রাপ্ত অধিকার নিশ্চিত করার একটি গভীর নৈতিক অঙ্গীকারের রূপ নেয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসেও এই ন্যায়বোধ একটি শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার যাতে প্রত্যেকটি মানুষ চর্চা করতে পারে তাদেরকে সরকার যথাসাধ্য লিগ্যাল এইড দেবে। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এছাড়া সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল ব্র্যাককে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে একটি কথা বিশেষভাবে প্রচলিত। সেটি হচ্ছে জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনাই। অর্থাৎ বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার বা তারও বেশি হবে, হাজারেরও বেশি হবে…বিরোধ-বিবাদ স্বল্প সময় এবং খুব কম খরচে আদালতের বাইরেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা বছরের পরিবর্তে বরং কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানগুলো করা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালত চাপ কমেছে। সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মানুষ সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারণে একদিকে সাধারণ বিরোধ বড় হয় এবং পরে তা জটিল রূপ ধারণ করে। ফলে অনেক সময় মানুষ বিচার বিমুখ হয়ে যায় কিংবা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। সুতরাং মানুষ যেন সহজে প্রাথমিক আইনি পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ব্যক্তিগতভাবে একজন নাগরিক হিসেবে আমি সেটি আশা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, এক্সেস টু জাস্টিস। প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় কিংবা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই কাম্য বা প্রত্যাশিত নয়।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন আমি নিজে কারাগারে এমন অনেককে দেখেছি, যারা শুধুমাত্র আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বা হয়েছেন। একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য নয়।

তিনি বলেন, যেকোনো রাষ্ট্র এবং সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি হচ্ছে ন্যায়বিচার। সব যুগেই মানুষ যা চেয়েছে তা হলো বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে তারা সমমর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সমতা সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক আস্থা একটা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষঠ জন্য অবশ্যই অপরিহার্য।

ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল শক্তি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উপরে প্রতিষ্ঠার শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ায় সুগম করতে লিগাল এইড ফার্ম তৈরি করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Feb2
Feb2

আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:20 pm
আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

আনোয়ারায় কর্ণফুলী টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়ক ছেড়ে দোকানে ঢুকে পড়েছে। এ সময় দোকানের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা অন্তত ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাকে চাপা দেয় বাসটি। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন টানেল মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি এলাকার বাসিন্দা পলি দত্ত (৩৫) ও ইফা শীল (৪০)।আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রাতে টানেল মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় দোকানের সামনে থাকা অন্তত ছয়টি অটোরিকশা ও রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে দোকানের ভেতরে ও বাইরে থাকা অনেকেই চাপা পড়ে আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা বলেন, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন।আহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর বাসের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:02 pm
প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সারা দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বন্যা, নদীভাঙন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট এ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই বৃক্ষরোপণ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হোক। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বৃক্ষরোপণ পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়। তাই এ কর্মসূচিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে লাগানো প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের গৃহীত বৃহৎ বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএনপিও জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচি সফল করতে কাজ করবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য খোরশেদ আলম, জাফর আহমেদ, মাহাবুব রানা, হানিফ সওদাগর এবং মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 8:15 pm
খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলমান কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে বারাইপাড়া খাল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার পরিদর্শনকালে তিনি খালের বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে বাঁচিয়েছে। খননকৃত খালের জন্য পূর্ব বাকলিয়া, পূর্ব ষোলশহর এবং পশ্চিম বাকলিয়ার অনেক অংশের মানুষ বর্ষায় জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছেনা৷ প্রকল্পটির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত ফুটপাত এবং খালপাড় সুস্থ বিনোদনের উৎস হয়ে উঠেছে।

“চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে খালগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। খাল দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খাল-নালা পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোথাও অবৈধ দখল বা বাধা থাকলে তা দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ সময় মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি, আবর্জনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।