খুঁজুন
, ,

গণিতচর্চা বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 7:18 pm
গণিতচর্চা বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গণিত চর্চা ও গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও) এবং ইউরোপীয় বালিকা গণিত অলিম্পিয়াডের (ইজিএমও) বিজয়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাক্ষাৎকালে পদকজয়ী শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং গণিত অলিম্পিয়াডে তাদের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জনের জন্য শুভকামনা জানান।

এ সময় বাংলাদেশ বালিকা গণিত ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্কুল পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হলে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে অর্থায়নে তাৎক্ষণিক সম্মতি জানান।

এছাড়া বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির (বিডিএমও) পক্ষ থেকে স্কুল পর্যায়ে অ্যাকটিভিটি ওরিয়েন্টেড ম্যাথমেটিকস চালুর প্রস্তাব করা হলে প্রধানমন্ত্রী তাতেও সম্মতি জানান।

স্কুল শিক্ষকদের গণিত দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের আইইএলটিএস পরীক্ষার আদলে একটি পৃথক গণিত দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা চালুর প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডের জাতীয় কোচ মাহবুবুল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ বালিকা গণিত ফাউন্ডেশনের চেয়ার প্রফেসর সাদিয়া হামিদ কাজী এবং বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য মো. আব্দুল হাকিম খান।

আরও উপস্থিত ছিলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদক এবং ইজিএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মনামী জামান, চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও রৌপ্য পদকজয়ী মো. রায়হান সিদ্দিকী, ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী জাওয়াদ হামীম চৌধুরী, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মোহাম্মদ মারজুক রহমান, আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী তাহসিন খান, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী এম. জামিউল হোসেন, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও ইজিএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী সাজি সেহনাই।

Feb2
Feb2

গাড়ির চাকা চলছে না, চুলায় আগুন জ্বলছে না, অচল প্রায় কারখানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 6:33 pm
গাড়ির চাকা চলছে না, চুলায় আগুন জ্বলছে না, অচল প্রায় কারখানা

চট্টগ্রাম নগরে সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে টানা ছয় ঘণ্টা গ্যাসের ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সিএনজি অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ মঞ্জুর (৪০)। ফিরিঙ্গী বাজার থেকে ট্রাফিকের দীর্ঘ সারি অতিক্রম করে যখন কর্ণফুলী প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেডের দিকে এগোচ্ছিলেন, আশা ছিল দ্রুত গ্যাস নিয়ে ট্রিপে বের হবেন। কিন্তু শত শত গাড়ির সেই দীর্ঘ লাইন ইঞ্চি পরিমাণও নড়ছে না।

গাড়ির ছাদে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের সঙ্গে মনখারাপের সুর মিলিয়ে মঞ্জুর আক্ষেপ করে বলেন, সকাল ৬টায় এসে লাইনে দাঁড়াইছি। এখন দুপুর ১২টা বাজে। শুরুতে নাকি অল্প গ্যাস ছিল, এখন চাপ একেবারেই নাই, পাম্পও বন্ধ। দিনটাই শেষ, কীভাবে গাড়ি চালাব জানি না।

গত কয়েক দিন ধরে পুরো চট্টগ্রাম নগরের পথঘাট, শিল্পাঞ্চল আর রান্নাঘরে গ্যাসের জন্য হাহাকারের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, মঞ্জুর যেন তারই প্রতীক। একদিকে গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে পরিবহন ও শিল্পকারখানা, অন্যদিকে দফায় দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নাকাল অবস্থা বন্দরনগরীর বাসিন্দাদের।

পথেই কাটছে পুরো দিন, সুযোগ নিচ্ছেন চালকেরা!

নগরের কোতোয়ালী, জিইসি মোড় কিংবা কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোর চিত্র হুবহু এক। দিন গড়িয়ে রাত নামলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মিনিবাসের লাইন শেষ হয় না।

স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ বা প্রেসার মারাত্মকভাবে কমে গেছে। চাপ যখনই সামান্য বাড়ে, তখনই পাম্প চালু করা হয়, আবার কমে গেলে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।

সড়কে এই জটলা আর জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ গণপরিবহন এখন গ্যারেজে বসা। আর এই সুযোগটাকেই হাতিয়ার বানিয়েছেন একশ্রেণীর চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর ব্যস্ততম মোড়গুলোতে যানবাহন না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন অফিসগামী ও সাধারণ যাত্রীরা। কোনো মতে কোনো সিএনজি অটোরিকশা কিংবা রিকশার দেখা মিললেও গুনতে হচ্ছে সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া।

এনজিওতে কর্মরত মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন (৪০) বলেন, সকাল ১০টায় অফিসে পৌঁছানোর কথা, অথচ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা নেই। যেগুলো আসছে, সেগুলোতে ওঠার মতো অবস্থা নেই, মানুষ দরজায় ঝুলছে। বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করতে গেলাম, কিন্তু অন্য দিনে যেখানে বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া হতো, চালকেরা সরাসরি এখন ৩০০ টাকা দাবি করছেন। এই সুযোগসন্ধানী চালকদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।

নগরের মুরাদপুর থেকে কোতোয়ালি যাচ্ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা ও অভিভাবক শারমিন সুলতানা। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ছোট বাচ্চা রয়েছে, তাকে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না, আর যে দু-একটা খালি গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, ভাড়া শুনে মনে হচ্ছে আমরা কোনো দূরপাল্লার বাসে উঠছি। গ্যাস নাই বুঝলাম, কিন্তু তার দায় কেন সাধারণ মানুষকে এভাবে বাড়তি ভাড়া গুনে মেটাতে হবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

কোতোয়ালি এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (৫০) বলেন, ব্যবসার মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পেয়েছি। চালক মোড় ঘুরতেই দ্বিগুণ ভাড়া চেয়ে বসলেন। প্রতিবাদ করায় চালক বললেন, ভাই, সাত ঘণ্টা পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে যে সময় নষ্ট করেছি, সেই টাকা কে দেবে?

নগরের ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস চালক মো. হেলাল উদ্দীনের গলায় ক্ষোভ আর আক্ষেপ দুটোই স্পষ্ট। এই চালক বলেন, দেখেন, গ্যাসের দাম তো নতুন করে বাড়ে নাই। আমরাও বাড়তি টাকা পেতে চাই না। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি ট্রিপ দেওয়ার আগে সাত থেকে আট ঘণ্টা পাম্পে বসে থাকতে হয়। যে সময়ে তিন থেকে চারটা ট্রিপ দিতে পারতাম, সেই সময়টা পাম্পের লাইনে গেলে পেটে তো টান পড়ে। গাড়ি চালিয়ে ডাল-ভাত তো খাওয়া লাগবে, নাকি।

একই সুরে কথা বললেন আরেক অটোরিকশাচালক মো. জামশেদ আলম। স্বাভাবিক সময়ে ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যে আয় হতো, এখন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গ্যাসের পেছনেই চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

রান্নাঘর থেকে কারখানা, সর্বত্রই ‘হাঁসফাঁস’ অবস্থা!

জ্বালানি সংকটের ঢেউ কেবল সড়কের চাকা থামিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, তা আছড়ে পড়েছে সাধারণ রান্নাঘর থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের বৃহৎ শিল্পাঞ্চলগুলোতেও।

নগরের আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা আয়শা আক্তার বলেন, সকাল হলেই মনে হয় রান্নাঘরের সব প্রাণ উবে যায়। নিভু নিভু করে চুলা জ্বলে, কখনো একদমই থাকে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হয়। তার ওপর দিনে ১০ বারের বেশি বিদ্যুৎ যায়। একবার গেলে দুই ঘণ্টার আগে আসার নাম নেই। আমরা তো একপ্রকার হাঁপিয়ে উঠেছি।

অন্য এলাকাগুলোর অবস্থাও ভিন্ন নয়। মুরাদপুরের গৃহিণী কুলসম আক্তার জানান, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সিলিন্ডারের এই নতুন খরচ পুরো সংসারের বাজেটে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত শিল্পকারখানাগুলো এখন গভীর মন্দার মুখোমুখি। চট্টগ্রাম অঞ্চলে রড উৎপাদন কারখানা, পোশাক শিল্প, জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড এবং স্টিল স্ট্রাকচার কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে ৪০ শতাংশে।

দেশের অন্যতম বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তপন সেনগুপ্ত বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরে বলেন, গত প্রায় বিশ দিন ধরে আমরা কাঙ্ক্ষিত হারে গ্যাস পাচ্ছি না। সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে কারখানা পুরোপুরি চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশও পূরণ করা যাচ্ছিল না, যার কারণে বিপুল লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকলে কারখানা চালু রাখা একরকম অসম্ভব।

উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও করুণ। রাউজান ও আনোয়ারা এলাকার একাধিক ২১০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে দৈনিক ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে বিদ্যুতের এক নজিরবিহীন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন বিভাগের জেনারেল ম্যানজার উত্তম চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ৪ মার্চ থেকে প্রায় ৫ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কেজিডিসিএল থেকে যে পরিমাণ গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে কারখানা চালু রাখা বরাবরই অসম্ভব। কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘায়িত হলে দেশের কৃষি খাতে সার সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন এই হঠাৎ বিপর্যয়?

চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাসের সিংহভাগ চাহিদাই নির্ভর করে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) টার্মিনালের ওপর। দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সরবরাহ দিয়ে চট্টগ্রামের এই সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামোগত চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ এবং দেশের ‘সামিট গ্রুপ’ পরিচালিত দুটি ভাসমান টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।

কিন্তু বিপত্তি ঘটে গত ২১ জুলাই। সেদিন মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’র ভাসমান টার্মিনালে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে গত ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক সচল হয়। তবে চাপ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

এক সংকট কাটিয়ে ওঠার আগেই শুরু হয় দ্বিতীয় সংকট, প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজিবাহী নতুন কার্গো জাহাজ এলেও, তা টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত বা সেটআপ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজিবাহী জাহাজ সাগরের প্রচণ্ড উত্তাল পরিস্থিতির কারণে পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ অন্তত ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। কার্গো সেটআপের কাজ আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। সাগর কিছুটা শান্ত হলে এক-দুই দিনের মধ্যে এর সমাধান হতে পারে।

চাহিদা ও বরাদ্দের বিশাল ফারাক!

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা ও যোগানের মাঝে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক প্রকৃত গ্যাসের চাহিদা সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে স্বাভাবিক সময়ে বরাদ্দ মিলত মাত্র ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। সাম্প্রতিক সংকটের কারণে এই সরবরাহ আরও কমে দাঁড়িয়েছে দিনে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তির হিসাব মেলালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪৫ দশমিক ৭১ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সংযোগ বজায় রাখতে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে যতক্ষণ না সরবরাহ বাড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের এই সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন।

সমাধান কোন পথে?

জাতীয় স্তরে গ্যাসের দৈনিক মোট চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। অথচ দেশের সবকটি ক্ষেত্র মিলে সরবরাহ করা সম্ভব হয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট। যার একটি বিশাল অংশ, প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। মহেশখালীর সামিট টার্মিনাল একা কিছুটা অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার চেষ্টা করলেও, তা চাহিদার তুলনায় সাগরে এক ফোঁটা পানির মতো।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের মতে, সমুদ্রের আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া এবং আমদানি করা এলএনজি খালাস প্রক্রিয়া পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি থেকে চট্টগ্রামের মানুষের তাৎক্ষণিক মুক্তির সম্ভাবনা কম।

মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 3:59 pm
মন্ত্রিসভায় রদবদল: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পরপরই নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে জরুরি রদবদল আনা হয়েছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নীতি-নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর এসব দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অন্যদিকে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সংসদীয় ও প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই দ্রুততম সময়ে নতুন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 2:56 pm
মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সী, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য কিছু শক্তিও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।

তিনি বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত। এই রূপান্তরের অংশীদার হিসেবে মার্কিন ব্যবসাগুলোকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সুযোগ রয়েছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের আরও ভালো ধারণা দিয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে আমাদের পুরো সরকারকে আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।’

বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছে, বিধিবিধান সহজ করছে, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি করছে, মুনাফা দেশে-বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ সহজ করছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাচ্ছে এবং সরকারি সেবাকে ডিজিটাল করছে।

তিনি বলেন, সরকার অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়ন করছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কিংবা পরামর্শক সেবা—যে কোনো উপায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের কাজে মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবদানকে স্বাগত জানানো হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার ব্যাপারে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা দেওয়া এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করা নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী ও উভয়ের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থার সঙ্গে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াই এবং আপনাদের কোম্পানিগুলোর সমৃদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করি। আসুন, আমরা একসঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফল সফর কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সহযোগিতার জন্য তার সরকার সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়