খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধীর কোনো দল নেই, দলের কেউ অপরাধে জড়ালে আইন হবে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
অপরাধীর কোনো দল নেই, দলের কেউ অপরাধে জড়ালে আইন হবে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী: মীর হেলাল

ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি অপরাধমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকাকে যেকোনো মূল্যে অপরাধমুক্ত করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা—“অপরাধীর কোনো দল নেই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে কেউ জড়িত হলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী পৌরসভা প্রাঙ্গণে অতিদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফ (চাল) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, হাটহাজারীর ইতিহাসে আপনারা আমাকে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করেছেন। আমার দায়বদ্ধতা এই এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতি। আমরা গত ১৭ বছর শুধু ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি ও দুবৃত্তায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনাই ছিল আমাদের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এমপি বলেন, আন্দোলনের দোহাই দিয়ে কেউ যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইন যেভাবে প্রয়োগ হয়, আপনাদের ক্ষেত্রে তা ১০ গুণ বেশি শক্তিশালীভাবে প্রয়োগ করতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানাব। জনগণের ভোগান্তির কারণ যেন দল বা অঙ্গসংগঠনের কেউ না হন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কোনো তদবির শুনবেন না। অপরাধী যে-ই হোক, আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। যদি আমার কোনো লোক অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করে, তবে সরাসরি আমাকে জানাবেন; আমি তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান, আমরা সেই অভিযাত্রার সহযাত্রী। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে বিশ্বের বুকে পাসপোর্ট হাতে নিয়ে আমরা গর্বভরে বলতে পারব—আমরা বাংলাদেশী। আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই চেতনা ধারণ করতে হবে।

ভিজিএফ চাল বিতরণ শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি হাটহাজারী পৌরসভার শীলছড়ি সড়ক কার্পেটিং উন্নয়ন কাজ ও স্মার্ট এলইডি সড়ক বাতি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ছোট কাঞ্চনপুর সড়কে এইচবিবি নির্মাণ কাজ এবং ফরহাদাবাদ ও ধলই ইউনিয়নে নবনির্মিত সেতু ও কালভার্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে হাটহাজারী উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Feb2

পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের

মিরপুর টেস্টে নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না বাংলাদেশ। সফরকারীদের মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট করে ১০৪ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। তাতেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হাসান শান্ত বাহিনী।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই দুই দশকেরও বেশি সময়ে টানা ১১টি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে মিলেছে প্রথম জয়ের দেখা। দুই ম্যাচের ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারালেন শান্তরা। এটাই ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়।

২৬৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তার করা বলে কটবিহাইন্ড হন ইমাম। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। আর দলনেতা নেতা শান মাসুমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।

৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন ফজল। পরের ওভারেই সালমান আগাকে পরাস্থ করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান।

৫ উইকেট হারিয়ে আরও একবার চাপে পড়ে সফরকারীরা। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা চালান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু তাদের ক্রিজে থিতু দেননি টাইগার পেসার নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এই দুই ব্যাটারই করেন ১৫ করে রান।

এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম।

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের শেষ দুই উইকেট নেন নাহিদ। তাতেই ইনিংসে নিজের ফাইফার তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। মাত্র ৪০ রানের খরচায় পাঁচটি উইকেট নেন তিনি।

এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম। আর একটি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে শান্তর সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরি পাকিস্তান তোলে ৩৮৬ রান। ২৮ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে থেকে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

মেধাবীরা মানবিক হলে পুরো সমাজ উপকৃত হয়: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
মেধাবীরা মানবিক হলে পুরো সমাজ উপকৃত হয়: ডিসি জাহিদ

“মেধাবীরা যখন মানবিক হন, তখন সমাজ ও রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়”— এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, অসুস্থ মানুষ দিয়ে কখনো সুস্থ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসক ও নার্সদের মানবিক সেবা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট ও নার্সিং কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও শিরাবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নার্সিং সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ডা. কামরুন নাহার দস্তগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, ট্রেজারার অধ্যক্ষ ডা. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসক হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন। তিনি বহিঃবিভাগ ও শিশু বহিঃবিভাগে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এনআইসিইউ পরিদর্শনের সময় হেড অব ডিপার্টমেন্ট প্রফেসর ড. ওয়াজির আহমেদের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানতে চান। এছাড়া তিনি পিআইসিইউ, এডাল্ট আইসিইউ, ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও অটিজম ইউনিট পরিদর্শন করেন।

ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলা প্রশাসক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অটিজম ইউনিট পরিদর্শনকালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশ দূষণ এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে পিতা-মাতার জেনেটিক পরিবর্তনের কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে আজ প্রথমবারের মতো এই মা ও শিশু হাসপাতালে এসে আমি সত্যিই অভিভূত। এখানে আসার আগে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে যে ধারণা ছিল, এখানে এসে তা পুরোপুরি বদলে গেছে। এত সুন্দর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতা দেখে আমি মুগ্ধ।”

তিনি বলেন, “আমরা সবাই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই বাংলাদেশে নার্সরা মানবতার দেবদূত হিসেবে কাজ করবেন। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হলেও মানবিকতা ছাড়া সেই শ্রেষ্ঠত্বের কোনো মূল্য নেই।”

নার্সিং পেশাকে একটি মহৎ ও মানবিক পেশা উল্লেখ করে ডিসি জাহিদ বলেন, “আমরা মানুষ, আমরা কোনো দানব নই, আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নই। আমরা অসুস্থ হই, আমরা সেবা নেওয়ার জন্যই হাসপাতালে আসি। তখন নার্সরাই হাসিমুখে সেবা দিয়ে আমাদের সুস্থ করে তোলেন।”

তিনি আরও বলেন, “সূর্যের যদি তাপ না থাকে তাহলে যেমন সূর্যের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সমুদ্রের গর্জন না থাকলে যেমন সমুদ্রের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তেমনি মানুষের মধ্যে যদি মানবিকতা না থাকে তাহলে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে আমাদের দাবিও অর্থহীন হয়ে যাবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, রোগীর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও সাহস ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি ভালো ব্যবহার কিংবা আন্তরিক হাসি একজন রোগীর সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আজ যারা শপথ নিচ্ছেন, তারা যেন সেই শপথের মর্যাদা রক্ষা করেন। সরকারি বা জনসেবামূলক হাসপাতালে আসা অধিকাংশ মানুষই অসহায়। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক দায়িত্বও।”

বিশ্বব্যাপী নার্সিং পেশার চাহিদার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে ইউরোপ ও জাপানে দক্ষ ও মানবিক নার্সের ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বর্তমানে কিডনি রোগ, অটিজমসহ বিভিন্ন জটিল রোগ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, খাদ্যাভ্যাস, পানি ও পরিবেশ নিয়ে অসচেতনতার কারণে নানা রোগ বাড়ছে। এ বিষয়ে সচেতন না হলে ভবিষ্যতে হাসপাতালের বেডই মানুষের জীবনের বড় অংশ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, “প্রতিটি মানুষেরই উচিত প্রতি মাসে অন্তত একবার হাসপাতাল ও কবরস্থানে যাওয়া। তাহলেই আমরা জীবনের প্রকৃত অর্থ ও লক্ষ্য বুঝতে পারব।”

সবশেষে জেলা প্রশাসক বলেন, “এই দেশ আমাদের। সীমাবদ্ধতা থাকলেও সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের পোশাক নয়, আমাদের কাজই হবে আমাদের প্রকৃত পরিচয়।”

এর আগে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। পরে নবাগত শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান

শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা? এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনা ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছুতে পারেনি।’

মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ : রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, র‍্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায়? এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদরা নিশ্চই আরও চিন্তা-ভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এইসব উন্নততর প্রযুক্তি একদিকে আমাদের আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। অপরদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থান।’

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্থ বিদ্যা এবং সার্টিফিকেটে নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং সার্টিফিকেটে নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সঙ্গে বায়োলজি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’

শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত, একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিত মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মনে করে, প্রাথমিক সিলেবাসে থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।

বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর জন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে তাকে আর বেকার থাকতে হবে না।

‘কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে একজন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আরও কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনষ্টিটিউট’, ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ লেখক টম উইন, যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট অ্যান্ড এনালিস্ট হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে। তিনি বলছেন, ‘বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই। বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইনে বিজনেস প্ল্যাটফর্ম আলিবাবার কোনো মজুদ পণ্য নেই। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার এয়ার বিএনবির নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।’

অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত : এক একটি ‘স্মার্ট ইন্টারফেস’। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।

‘শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গবেষণা এবং উদ্ভাবন’ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে বিদেশে জ্ঞানে বিজ্ঞানে অর্থ-বিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেইসব অ্যালামনাইদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।

মেধাভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই।

ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারও প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।

তিনি বলেন, জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকতাকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।

‘তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি, আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী তথা সব শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।