খুঁজুন
, ,

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 11 June, 2026, 8:51 pm
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

৪০ বছরের অপেক্ষা, অবশেষে মিরপুরে হলো তার অবসান। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারাল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিরাজের দল। বোলারদের দৃঢ়তা আর ব্যাটারদের ধৈর্য পরীক্ষায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জন।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টি নামার আগে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান তুলে সফরকারীরা। এরপর ওভার কমে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। তবে ব্যাটারদের দলগত পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্য টপকে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।

এদিকে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে কোনো রান না করেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১০২৪ ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির গড়ে জশ ইংলিসের দল।

ইনিংসের শুরুতে চাপ তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ। টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে ম্যাট রেনশও আউট হন। পরে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।

১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেই অবস্থায় সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সামলান জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। তবে ৪১তম ওভারে আবারও ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া।

এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন, তানভীর ইসলাম নেন দুই উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। তবে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য।

৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান শান্ত। ৯৮ রানের মাথায় ৪২ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন শান্ত, যা বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।

মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ভালো নয়। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও হলো একই দশা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন আটকে গেলেন মিরপুরের ধাঁধায়। ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা হয়। তাতে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার।

ছয়ে নামা মোসাদ্দেকের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকেই এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন এই ব্যাটার, হাঁকিয়েছেন তিন বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই উচ্চবিলাসী শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে ভয়কে জয় করেছেন মিরাজ-হৃদয়। ভালো বলকে সমীহ করেছেন, খারাপ বল থেকে করেছেন বাউন্ডারি আদায়। শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৪০ ও মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকেই ম্যাচ শেষ করেন। তাতে ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট শিকার করেন ক্যামরুন গ্রিন, ম্যাট রেনশো, অ্যাডাম জাম্পা, জেভিয়ার বার্টলেট ও রাইলি মেরেডিথ।

Feb2
Feb2

সাতকানিয়ার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন ডা. রানা চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 2:17 pm
সাতকানিয়ার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন ডা. রানা চৌধুরী

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চিকিৎসক ডা. রানা চৌধুরী। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।

১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ডা. রানা চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), নারী ও শিশু অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় ডা. রানা চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা আশা প্রকাশ করেন, তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।

চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নিশ্চিতে ১০ দিনের সময় দিলেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 September, 2026, 8:37 pm
চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নিশ্চিতে ১০ দিনের সময় দিলেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই সময়ের মধ্যে রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান পরিচ্ছন্ন রাখা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন এবং খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে হবে। সময়সীমা শেষে ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে চারটি দল প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবে।

পরিদর্শনের ভিত্তিতে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর মান যাচাই ও গ্রেডিং করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রশাসনের উদ্দেশ্য জরিমানা করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়; বরং ঘাটতি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আজ সোমবার তিনি এসব কথা বলেন। সভায় হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, ব্যবসায়ী ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলা প্রশাসনের চলমান পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকেরা প্রতি শনিবার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা করা হলেও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাঙ্ক্ষিত মান পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই শুধু অভিযান নয়, ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চায় প্রশাসন।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার জরিমানার মাধ্যমে কোনো ব্যবসা করে না। যাঁরা অসৎ পথে ব্যবসা করেন, তাঁদের সংশোধনের পথে নিয়ে আসার জন্যই জরিমানা করা হয়।’

তিনি বলেন, প্রশাসন চায় না কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা ব্যবসা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। এ জন্য প্রয়োজনীয় ঘাটতি দূর করতে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত মান অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষের হোটেল-রেস্তোরাঁনির্ভরতা বাড়ছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাই খাবারের মানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষের মধ্যে এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে চট্টগ্রামের যেকোনো রেস্তোরাঁয় নিশ্চিন্তে খাবার খাওয়া যায়।

খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রামকে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবারের ক্ষেত্রে দেশের জন্য উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সুনাম রয়েছে। নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম নেতৃত্ব দিতে পারে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

প্রশিক্ষণের পর নারীর কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 September, 2026, 7:19 pm
প্রশিক্ষণের পর নারীর কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে: ডিসি জাহিদ

নারীদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; প্রশিক্ষণের পর অর্জিত দক্ষতা কোথায় এবং কীভাবে কাজে লাগিয়ে তাঁরা আয় করতে পারবেন, সেই পথও দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেছেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে প্রশিক্ষণ দিলে সরকারি অর্থ ও প্রশিক্ষণার্থীদের সময় ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট খাতের চাহিদা, কাজের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা থাকা প্রয়োজন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শুধু আমাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি ২০ জনকে প্রশিক্ষণ দিলাম—এই মানসিকতা যেন আমাদের না থাকে। যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, প্রশিক্ষণের পর তাঁরা কোথায় কাজ করবেন, সেই চিন্তাটাও আমাদের থাকতে হবে।”

প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও কাজের সুযোগ ভিন্ন। তাই একই ধরনের প্রশিক্ষণ সব জায়গায় কার্যকর নাও হতে পারে। কোন এলাকায় কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা যাচাই করে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাজাতে হবে।

এ ক্ষেত্রে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সহযোগী বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে একজন নারী যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ না পান এবং হতাশ হয়ে পড়েন, তাহলে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণই শেষ কথা নয়। অর্জিত দক্ষতা নিয়মিত চর্চা করতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে বাজার ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।

“মানুষের চাহিদা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আপনি যে পণ্য তৈরি করবেন, তাতে আপনার সময়, শ্রম ও বিনিয়োগ আছে। সেই পণ্যের বাজারে চাহিদা থাকতে হবে। তাই প্রতিদিন নিজের দক্ষতা কতটুকু বাড়ালেন, নতুন কী শিখলেন—সেটিও ভাবতে হবে,” বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের নিজেদের দক্ষতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের আয় শুরু করলে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত সফলতা। কিন্তু তাঁর অর্জিত দক্ষতার মাধ্যমে আশপাশের আরও কয়েকজন নারী উপকৃত হলে সেই উদ্যোগের সামাজিক সার্থকতা তৈরি হয়।

সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি যখন এই সেলাই মেশিনটি পেলেন, তখনই এই কর্মসূচি সত্যিকার অর্থে সফল হবে, যখন আপনার কাছ থেকে আরও ১০ জন মানুষ প্রশিক্ষণ নেবে এবং তাঁদেরও জীবনমানের উন্নয়ন হবে।”

পরিশ্রম ও আত্মউন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের কর্মক্ষম সময় সীমিত। তাই সুযোগ ও সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। শুধু সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগও নিতে হবে।

তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ শুধু সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের বড় শক্তি বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

নারীর দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণের সংখ্যা নয়, এর ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, “আপনি যদি ১০ জনকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দিতে পারেন, তাঁদের জীবন পরিবর্তন করতে পারেন, দেখবেন প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য মানুষ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসবে।”

তিনি প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নকারী এনজিওগুলোকে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেই চাহিদা তুলে ধরার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদেরও নিজেদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। নতুন উদ্যোগ শুরু করলে প্রশাসন, সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সমাজে মানবিকতা, মমত্ববোধ ও মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি একটি মানবিক সমাজ গড়ার দায়িত্বও সবার। পরিবার থেকেই সন্তানদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, মূল্যবোধ ও অন্যের প্রতি মমত্ববোধ শেখাতে হবে।

তিনি বলেন, “আমি একা ভালো থাকতে পারব না। আমার সামনে যখন একটি অমানবিক ঘটনা ঘটে, সেটি আমাকে এবং আমার পরিবেশকেও আঘাত করে। আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থায় বেড়ে উঠুক।”

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতার পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন সম্পর্কে নিয়মিত জানার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আজকের প্রশিক্ষণই শেষ নয়। এই দক্ষতাকে আরও প্রসারিত ও উন্নত করতে হবে। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই আপনাদের এগিয়ে যেতে হবে।”