খুঁজুন
সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল নেদারল্যান্ডস-জাপান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল নেদারল্যান্ডস-জাপান

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর চার গোলের ম্যাচ হবে তা হয়তো ভাবেননি অনেকেই। দুইবার লিড নিয়েও পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়া হলো না নেদারল্যান্ডসের। নিশ্চিত হারতে বসা ম্যাচের অন্তিম মূহুর্তে গোল করে জাপানকে এক পয়েন্ট এনে দিলেন দাইচি কামাদা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল না হলেও সুযোগের কমতি ছিল না। বিশেষ করে ৩৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কর্নার থেকে ডনিয়েল মালেনের হেড লক্ষ্যভেদ করতে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় বল ঠেকিয়ে দেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। প্রথমার্ধে জাপানকে বাঁচিয়ে রাখা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভের একটি ছিল সেটি।

আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা প্রথম ৪৫ মিনিটে অবশ্য কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। পোস্টে লেগে জালে জড়ানো বলটি ছিল দেশের হয়ে কোনো বড় টুর্নামেন্টে তার প্রথম গোল। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পিছিয়ে পড়ার মাত্র ছয় মিনিট পরই জবাব দেয় জাপান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা দারুণ এক আক্রমণ থেকে কেইতো নাকামুরা গোল করে সমতা ফেরান।

ম্যাচ তখন পুরোপুরি জমে উঠেছে। ৫১ থেকে ৬৪ মিনিট—মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে দেখা মেলে তিন গোলের। ৬৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এবার গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল।

দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি জাপান। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণে ডাচ রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। তার ফলও পায় ম্যাচের ৮৯ মিনিটে। দাইচি কামাদা গোল করে সমতা ফেরালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশ হতে হয় নেদারল্যান্ডসকে।

রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ২–২ সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

Feb2

লেবাননে হামলা বন্ধ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারসহ যা থাকছে চুক্তিতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
লেবাননে হামলা বন্ধ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারসহ যা থাকছে চুক্তিতে

১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে অবসান ঘটতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা চালানোর পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’র তথ্যমতে, খসড়া চুক্তিটিতে মোট ১৪টি প্রধান পয়েন্ট বা শর্ত রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে স্থায়ী ও তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বন্ধ করা। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর সব ধরনের অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত ও অবাধ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া। ইরানের চারপাশ ও সীমান্ত এলাকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা। চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) মার্কিন ডলারের তহবিল অবমুক্ত করা।

চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষ পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আটকে থাকা তহবিলের অন্তত অর্ধেক অর্থ ছাড় না করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইরান চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে না।

তবে এবারের আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কারা প্রথম এই ঘোষণা দেন?
রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রথম এই চুক্তির খবর প্রকাশ করেন। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় এই পরোক্ষ আলোচনা সফলতার মুখ দেখেছে।

শাহবাজ শরীফের ঘোষণার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিতে তিনি নিজে অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইলেকট্রনিক উপায়ে স্বাক্ষর করতে পারেন।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। অথবা মধ্যপ্রাচ্যের মোট রাজস্বের ২০ শতাংশের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের ‘অভিভাবক’ হতে পারে।

শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় আমাদ দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আইভরি কোস্ট।

দক্ষিণ আমেরিকার দলটি তিনবার পোস্ট ও বারে আঘাত করে গোলবঞ্চিত হয়। অন্যদিকে আইভরি কোস্টও একবার বারে আঘাত করেছিল। অবশেষে ৯০তম মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড ডি-বক্সের কোনা থেকে বল জালে জড়ান।

প্রথমার্ধে ইকুয়েডর তুলনামূলক ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। ইমানুয়েল আগবাদুর ভুলের সুযোগ নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ায় জায়গা পেয়েও এনার ভ্যালেন্সিয়া বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।

জন ইয়েবোহ গোলের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, কিন্তু ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তার শটটি বারে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া পেড্রো ভিটের থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে অ্যালান মিন্দার শটও পোস্টে আঘাত করে।

১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিওমান্দে আইভরি কোস্টের ডান প্রান্তে বেশ চমৎকার খেলছিলেন, কিন্তু তার তৈরি করা আক্রমণগুলো থেকে দল সুবিধা নিতে পারছিল না। নিকোলাস পেপে একটি সুযোগে শট নিতে বেশ দেরি করে ফেলেন এবং তার অন্য একটি শট সতীর্থ এলি ওয়াহির গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গঞ্জালো প্লাতার সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাসের পর ভ্যালেন্সিয়ার শটটি পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। তবে বিরতির পর আইভরি কোস্টই বেশি ভালো সুযোগ তৈরি করতে শুরু করে।

দুর্দান্ত খেলতে থাকা দিওমান্দে বক্সে ঢুকে দুইবার শট নিলেও তা পোস্টের ওপর ও বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তার একটি ক্রস থেকে ওয়াহির নেওয়া শটও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

অন্যপ্রান্তে, প্লাতার ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি শট দারুণভাবে রক্ষা করেন ইয়াহিয়াহ ফোফানা। জোয়েল অর্ডোনেজ একটি ফ্রি-কিক থেকে হেডের মাধ্যমে বল বারের ওপর দিয়ে পাঠান। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উইলফ্রিড সিঙ্গোর চমৎকার দৌড় ও ক্রসের পর ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত শটে বল পোস্টের ভেতরের দিকে পাঠিয়ে শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙেন দিয়ালো।

কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি

বিশ্বকাপ অভিষেকে মাত্র ২১ মিনিটেই গোল করে ইতিহাস গড়েছিল কুরাসাও। ঐতিহাসিক সেই গোলের পর ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ক বলেন, ‘হিউস্টনে ইতিহাস। মাত্র এক লাখের একটু বেশি মানুষের একটি দেশ কোটি কোটি মানুষকে বিস্মিত করে দিয়েছে।’ তখনও ইয়ান জানতেন না ব্রাজিলের বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ৭-১ গোলের স্মৃতি ফেরাতে যাচ্ছে জার্মানি। কুরাসাওকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে জার্মানরা।

কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠাতে জার্মানির সময় লেগেছিল মাত্র ৬ মিনিট। মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার গোলে শুরুতেই এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে কুরাসাওকে কঠিন এক পরীক্ষার মুখেই পড়তে হবে। কিন্তু হিউস্টনের স্টেডিয়ামে এরপর দেখা গেল ভিন্ন এক গল্প।

মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই চমকে দেয় জার্মানিকে। ২১ মিনিটে সমতায় ফেরে তারা। ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণে উঠে আসা রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে পরাস্ত করেন ম্যানুয়েল নয়্যারকে। বল জড়িয়ে যায় জালে, আর গর্জে ওঠে গ্যালারিতে থাকা কুরাসাও সমর্থকেরা।

গোলের পর কোমেনেনসিয়ার উদযাপনও ছিল নজরকাড়া। রেসলিং তারকা জন সিনার বিখ্যাত ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ ভঙ্গিতে উদ্‌যাপন করেন তিনি। গোলের পর ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ক আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ‘হিউস্টনে ইতিহাস। মাত্র এক লাখের একটু বেশি মানুষের একটি দেশ কোটি কোটি মানুষকে বিস্মিত করে দিয়েছে।’

বিশ্বকাপ ইতিহাসের জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে খেলতে নামা কুরাসাও অবশ্য বেশিক্ষণ সমতা ধরে রাখতে পারেনি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করেন নিকো শ্লটারবেক। তার গোলে আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান কাই হাভার্টজ। ফেলিক্স এনমেচাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন হাভার্টজ।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। ৫২ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪–১। এরপর কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ যেন ভেঙে পড়ে। ৬৮ মিনিটে পঞ্চম গোলটি করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। ১০ মিনিট পর গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান ডেনিজ উনদাভ। জার্মানদের গোল উৎসব শেষ হয় ম্যাচের শেষ দিকে। কাই হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭–১।

একসময় সমতায় ফেরা কুরাসাও শেষ পর্যন্ত আর জার্মানদের আক্রমণের ঢেউ সামলাতে পারেনি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।