খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ মুহূর্তের গোলে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শেষ মুহূর্তের গোলে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হার এবং দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ডের তিক্ত দিন দেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের সামনে হার এড়িয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ৮৩ মিনিটে দেওয়া গোলে সেই কাজটাও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে ৭৭ মিনিট লিড ধরে রাখা চেক প্রজাতন্ত্র জয়বঞ্চিত হয়ে মাঠ ছাড়ল ১-১ সমতায়।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে জাতীয় সঙ্গীতের সময় আফ্রিকান মিডফিল্ডার তেবোহো মোকোয়েনা ছিলেন অশ্রুসিক্ত, আর শেষ করেছেন হাসিমুখে। পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি দলকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট এনে দিয়েছেন। এর আগে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই চেক প্রজাতন্ত্রকে এগিয়ে দেন মিখাল সাদিলেক।

এর আগে দুই দলই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল এবং ফলে তারা জানত যে আরেকটি হার নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ গোলে মেক্সিকোর কাছে এবং চেক প্রজাতন্ত্র ২-১ ব্যবধানে হারে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। ফলে এই ম্যাচের ড্র উভয়কেই বাঁচিয়ে দিয়েছে।

দারুণ খেলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও তারা ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে। এবারের বিশ্বকাপে দ্রুততম গোল করলেন মিডফিল্ডার মিখাল সাদিলেক। ম্যাচের ৫ মিনিট ৭ সেকেন্ডে বক্সে আলেকসান্দ্র সোইকার সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে নিচু শটে তিনি গোল করেন।

পিছিয়ে পড়েও অবশ্য হাল ছাড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ফল আসে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে গোল করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমতায় ফেরান তেবোহো মোকোয়েনা। দক্ষিণ আফ্রিকা ফরোয়ার্ড থাপেলো মাসেকোর শট চেক বক্সে ফরোয়ার্ড পাভেল শুলৎসের হাতে লেগে হ্যান্ডবল হয়। এরপর স্পটকিকে গোল করেন মোকোয়ানা।

গ্রুপ ‘এ’ থেকে দুই দলেরই এখনও শেষ ৩২-এ ওঠার সুযোগ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে। একই সময়ে চেক প্রজাতন্ত্র খেলবে মেক্সিকোর বিপক্ষে।

Feb2

পাগলাটে ম্যাচে কাতারকে ৬ গোলে উড়িয়ে কানাডার ইতিহাসগড়া জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাগলাটে ম্যাচে কাতারকে ৬ গোলে উড়িয়ে কানাডার ইতিহাসগড়া জয়

যেন কিছুতেই ক্ষুধা মিটছিল না কানাডার। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পাওয়ার লক্ষ্যে নেমে কাতারকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশটি। পুরো আসর থেকে ছিটকে দেওয়ার মতো চোট এবং দুই লাল কার্ডের পাগলাটে ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিলো কানাডা। তাদের ইতিহাসগড়া জয়ের পথে জোনাথান ডেভিড দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছেন।

স্বাগতিক কানাডা ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে নেমে শুরু থেকেই চেপে ধরেছিল কাতারকে। সেই দাপট অব্যাহত রেখে ১৬ মিনিটেই তাদের স্কোরবোর্ড পরিবর্তন শুরু। যা চলেছে ইনজুরি সময় পর্যন্ত। উল্টো দুই অর্ধে দুই লাল কার্ডের সুবাদে ৯ জন নিয়ে কাতার গভীর খাদে পড়ে যায়। সেখান থেকে তাদের আর ওঠা হয়নি।

কানাডার বড় জয়ে ডেভিডের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একবার করে স্কোরশিটে নাম তোলেন কাইল লারিন ও নাথান সালিবা। অন্য গোলটি ছিল কাতারি ফুটবলারের আত্মঘাতী। পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশ পজেশন নিয়ে কানাডা ৩২টি শট নেয়, এর মধ্যে ৯টি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে ভঙ্গুর কাতার ২ শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কারণে টরন্টোতে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকতে থাকতে পারেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। আজ (শুক্রবার) বিশ্বকাপে দেশটির প্রথম জয় পাওয়ার ম্যাচে তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তাকে সাক্ষী রেখে ১৬তম মিনিটে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাইল লারিন। জোনাথন ডেভিডের ভলি শট কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা প্রতিহত করলে লারিন ফিরতি শটে গোল করেন।

২৯তম মিনিটে ডান পায়ের ভলি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেভিড। এটি ছিল এক বছরেরও বেশি সময় পর ওপেন প্লে থেকে তার প্রথম গোল। ৩৩তম মিনিটে কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কাতারের হোমাম আহমেদ। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে স্কোরলাইন ৩-০ করে কানাডা। ক্রসবারে লেগে ফিরে আসা একটি শট থেকে গোলমুখের জটলার মধ্যে ডেভিড বল জালে জড়ান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইসমায়েল কোনেয়েকে ভয়ঙ্কর ট্যাকল করেন আসিম মাদিবো। যে কারণে তিনি লাল কার্ড দেখলে কাতার ৯ জনের দলে পরিণত হয়। চোট পাওয়া কোনেয়ের বাম পা অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সতীর্থরাও। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে তুলে নেওয়া হয়। এই মিডফিল্ডারের বদলি নেমে নাথান সালিবা ৬৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। এরপর উঁচিয়ে ধরেন কোনেয়ের ৮ নম্বর জার্সি।

৭৫তম মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল পাঠিয়ে আত্মঘাতী গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। অতিরিক্ত সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ডেভিড। এর মাধ্যমে এই বিশ্বকাপে এক ম্যাচে তিন গোল করা খেলোয়াড়দের তালিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে নাম লেখান তিনি।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো সেই এডিসি সাকলায়েনকে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো সেই এডিসি সাকলায়েনকে

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভার থানার ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন পরীমনি। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সাকলায়েন। পরীমনির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর তাকে বদলি করা হয়েছিল এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল।

এদিকে পরীমনির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৮ জুলাই নাসির উদ্দিন মাহমুদ হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। তখন তাকে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তিন দফায় মোট ৭ দিন তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেপ্তারের ২৭ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর পরীমনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন।

রাত্রিযাপনের ঘটনায় সমালোচনা শুরুর পর প্রথমে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে তাকে ঝিনাইদহ ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।

১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএমপির ডিবিতে কর্মরত থাকার সময় পরীমনির সঙ্গে ঘটনাক্রমে গোলাম সাকলায়েনের দেখা হয় এবং যোগাযোগ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পরীমনির বাসায় নিয়মিত রাত্রিযাপন করতে শুরু করেন। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার দেওয়া তার (সাকলায়েনের) মোবাইল ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) পরীমনির বাসায় অবস্থান করেছেন।

১৭ দিনের শোক, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ; এক আবেদনে বদলে গেল রোকশানার দিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
১৭ দিনের শোক, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ; এক আবেদনে বদলে গেল রোকশানার দিন

মাত্র ১৭ দিন আগে থেমে গেছে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের জীবন। সেই সঙ্গে থমকে গেছে ২৮ বছর বয়সী রোকশানা বেগমের স্বপ্ন, ভেঙে পড়েছে তাঁর ছোট্ট সংসারের নিরাপত্তার দেয়াল।

সিলেটের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাস করেন রোকশানা। তাঁর স্বামী সুমন আহমেদ ছিলেন একজন রিকশাচালক। প্রতিদিনের আয়েই চলত চার সদস্যের সংসার। কিন্তু প্রায় তিন মাস ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকার পর ৩৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর রোকশানার কাঁধে এসে পড়ে দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যতের পুরো দায়।

বড় মেয়ে আয়েশা আক্তারের বয়স মাত্র ৮ বছর। ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনের বয়স ৩। বাবার মৃত্যুর পর তারা হয়তো এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি কী হারিয়েছে। কিন্তু সংসারের বাস্তবতা দ্রুতই বুঝিয়ে দিচ্ছিল, সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত এক পথ।
স্বামীর চিকিৎসার পেছনে যা সামান্য সঞ্চয় ছিল, তা আগেই শেষ হয়ে যায়। মৃত্যুর পর বাসাভাড়া, খাবার, সন্তানদের প্রয়োজনীয় খরচ ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো রোকশানার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। আত্মীয়স্বজনের সীমিত সহায়তায় কয়েক দিন চললেও দীর্ঘমেয়াদে সেই সহায়তা যে যথেষ্ট নয়, তা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি।

অবশেষে শেষ আশ্রয় হিসেবে সহায়তার আবেদন করেন সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে আছেন। সংসার চালানোর মতো কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। মানবিক বিবেচনায় আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানান তিনি।

রোকশানার আবেদনপত্রের প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছিল সদ্য স্বামীহারা এক নারীর অসহায়ত্ব, দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের নির্মম বাস্তবতা।

আবেদনটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নজরে এলে তিনি বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করেন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোকশানা বেগমকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারালে শুধু আর্থিক সংকটই নয়, পুরো পরিবার গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ভবিষ্যৎ তখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

রোকশানা জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ডিসি স্যারের কাছে আজই আবেদন নিয়ে দেখা করেছিলাম। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও স্যার ১০-১৫ মিনিট সময় নিয়ে আমার সব কথা শুনেছেন। আমার সংসার কীভাবে চলছে, আমার সন্তানদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে এই অসহায় বিধবা নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কেউ সেভাবে পাশে দাঁড়াননি। কিন্তু ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করার পরপরই তিনি আমাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো তাঁর সব সমস্যার সমাধান নয়। কিন্তু স্বামী হারানোর পর যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হচ্ছিল, তখন এই সহায়তা তাঁকে অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে—তিনি একা নন।”

তিনি আরও বলেন, “কখনো কখনো একটি আবেদনপত্র শুধু সাহায্য চাওয়ার কাগজ নয়; সেটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা। সেই চেষ্টার প্রতি সাড়া দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।”

১৭ দিনের ব্যবধানে স্বামীকে হারিয়ে জীবনসংগ্রামের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো সাময়িক স্বস্তি। তবে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে তাঁর দীর্ঘ পথচলা এখনো বাকি। আর সেই পথচলার শুরুতে প্রশাসনের এই সহায়তা তাঁকে অন্তত নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে।