খুঁজুন
, ,

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 2:59 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।

Feb2
Feb2

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:16 pm
স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আপত্তি থাকবে কেমন করে, বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ৯১-তেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল, গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল। তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল? আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন? তারা রাজপথে কেউ ছিল না।

তারেক রহমান বলেন, আমরা কিছুদিন যাবত খেয়াল করে দেখছি, এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। করছে না? খেয়াল করেছেন আপনারা? কি বলে-এক দফা এক দফা। আপনারাই কিন্তু বললেন, আমরা যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছি, বর্তমান সরকার যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, এ কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করলে কার উপকার হবে? মানুষের উপকার হবে। সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের উপকার হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, যারা এক দফা এক দফা বলছে অথবা যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল-এদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? এদের কি খালকাটা কর্মসূচি আছে? এদের কি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আছে? এদের কি কৃষক কার্ড আছে? এদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা আছে? এদের কি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০-এর বদলে ১৫০ বেডে করার কর্মসূচি আছে? তাহলে তারা কিসের রাজনীতি করে? মানুষের কর্মসূচি কই?

সরকার প্রধান আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন চায় ভাগ্যের পরিবর্তন। কেউ কি খারাপ অবস্থায় সবসময় থাকতে চায়? মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। আমরা মনে করি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যদি মা-বোনদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, ইমাম সাহেব মুয়াজ্জিন সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের মিনিমাম একটি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষক ভাইদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো আস্তে আস্তে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বচ্ছল হয়ে উঠবে তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে চায়, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানী বাস্তবায়ন করতে চায়, বিএনপি কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, খাল খনন করতে চায়, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করতে চায়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এই কর্মসূচিগুলো দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে যারা আজ দেশে অরাজকতা তৈরি চেষ্টা করছে, দেশের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আমাদের কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? মুয়াজ্জিন সাহেবরা বলেন না, তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের থেকে ধর্মের জ্ঞান আপনাদের বেশি আছে। একটু ভাই বলেন তো, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। বলছিল না মানুষকে, আপনারাও তো শুনেছেন। দেখছেন না, দেখেছেন। বেহেশত-দোজগের মালিক কে? একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। যেটার মালিক আল্লাহ সেটার কথা কি কোনো মানুষ বলতে পারে? যেটা দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার, সেটি যদি মানুষ বলে আমি দেব, সেটি কি শিরিকের পর্যায়ে পড়ে? যারা শিরিকি করে, আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি করে, তাহলে মানুষের সঙ্গে তারা কত বড় মুনাফিকি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, স্বৈরাচারী রাজনীতি করে, যাদের কাছে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এরা যদি দেশ চালানোর দায়িত্ব পায়, আর যাই করুক জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি গ্রহণ করবে না। যদি তাদের নেওয়া জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি থাকতো, তাহলে তারা বলতে পারতো কি কর্মসূচি তারা গ্রহণ করতে পারে। আজ পর্যন্ত জনগণের উপকার হয় এরকম কোন কর্মসূচির কথা তারা তুলে ধরতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছি আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি বিএনপির যা বলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। আমরা আমাদের কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করেছি বিএনপি সব সময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে।

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:11 pm
দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেখা দেওয়া তথ্যমতে, সরকারি ভবনে স্থাপিত দেশের প্রথম এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা শূন্য দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় এসব স্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ও ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আটটি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রতিটিতে প্রায় ২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত সিস্টেমের সক্ষমতা প্রায় ১০৩ কিলোওয়াট।

ছাগলনাইয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদসহ মোট ১২টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ৪১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া পরশুরাম উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ মোট ছয়টি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) দায়িত্ব দেওয়া হলেও মোট ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন জানিয়েছেন, তিন উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর আড়াইটার দিকে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 5:06 pm
মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পদত্যাগ করায় জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন (মহিলা আসন-২৩) বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই তারিখ থেকে শূন্য হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষর করেন। আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি সংসদে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।