খুঁজুন
, ,

‘রাজকন্যা’ বদলে দিল খুঁটিতে বাঁধা অনিকের ভাগ্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 29 September, 2026, 10:06 am
‘রাজকন্যা’ বদলে দিল খুঁটিতে বাঁধা অনিকের ভাগ্য

চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা অভুক্ত বাবা, তার ‘রাজকন্যা’ তুবা, সঙ্গে এক কাপ চা আর একটি রুটির গল্প পালটে দিয়েছে অনিক ও তার পরিবারের গন্তব্য। তুবার ছোঁয়ায় নতুন জীবন পাওয়া অনিক সিকদার আর কোনো অন্যায় করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা। শিশুটির পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনিককে একটি ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একসময় স্বচ্ছল পরিবার ছিল অনিকদের। বাবার অসুস্থতা বদলে দেয় সেই সংসারের চেহারা। চিকিৎসার খরচ মেটাতে একে একে শেষ হয়ে যায় সঞ্চয় ও সম্পদ। এরপর অভাবের সঙ্গে যুক্ত হয় নানা সংকট।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অনিক নেশায় জড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় একটি মাদকচক্র তার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে উজিরপুরের বামরাইল বাজারে চুরির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বাজারের একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে বাবার কাছে ছুটে যায় তার ছোট্ট মেয়েটি। খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অভুক্ত বাবার জন্য এক কাপ চা ও রুটি নিয়ে আসে সে। নিজের ছোট্ট হাতে রুটি টুকরো টুকরো করে বাবার মুখে তুলে দেয়। বাবা কী করেছেন, সেই বিচার করার বয়স তার হয়নি। সে শুধু জানে, তার বাবা ক্ষুধার্ত এবং একা।

অনিকের স্ত্রী বলেন, অভাবের কারণে তাদের সংসারে দীর্ঘদিন নানা সমস্যা চলছিল। মেয়েটি বাবাকে খুব ভালোবাসে। সেদিন বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে সে পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং নিজের হাতে খাবার খাওয়ায়।

শিশুটির বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে রোববার অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি অনিক যাতে কাজ করে সংসার চালাতে পারেন, সে জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, শিশুটির ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। অনিককেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অনিকের কর্মসংস্থানের জন্য এগিয়ে এসেছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অনিককে একটি ভ্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আয় করে পরিবার চালানোর সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সদস্য এসএম আকবর বলেন, অনিকের প্রয়োজনের সময়ে যতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রয়োজন, আমাদের সংগঠন সামর্থ্য অনুযায়ী তা অব্যাহত রাখবে। অনিক সিকদার বলেন, তার ভুল হয়ে থাকলে তিনি আর কোনো অন্যায় করবেন না। কাজ করে পরিবারকে ভালোভাবে চালাতে চান তিনি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার সহযোগিতা চান।

Feb2
Feb2

মধ্যরাতে ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 29 September, 2026, 9:12 am
মধ্যরাতে ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান যাচাই করতে ঢাকার ছয়টি ছাপাখানা (প্রেস) পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।২৮ র) দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি এসব প্রেস পরিদর্শন করেন। দিবাগত রাত ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন বইয়ের গাইড থেকে নমুনা বই বের করে সেগুলোর মান যাচাই করেন। ছাপার কাজ ও বইয়ের গুণগত মানও তিনি সরেজমিনে দেখেন।

এদিকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩০ কোটি ৯২ লাখের বেশি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পুরোদমে চলছে।

এনসিটিবির সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। এবার ১ জানুয়ারি সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি বই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই ছাপানো হবে। ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ছাপানো হবে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে নবম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল বই ছাপানো হবে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের বই ছাপানো হবে। নতুন বিষয়গুলোর বইসহ সংশোধিত ও পরিমার্জিত অন্যান্য বইও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাপিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।

৩৫ কাঠা জমির বিরোধ থেকেই সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 September, 2026, 5:48 pm
৩৫ কাঠা জমির বিরোধ থেকেই সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত টিনশেড স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ৩৫ কাঠা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের একদল লোক রাতে বিতর্কিত জমিটি দখলে নিতে যায়। এ সময় সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত স্থাপনাসহ সেখানে থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়।

তিনি জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তিনজনকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

সালমান মুক্তাদির এখনো ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই মামলা হতে পারে।

সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সালমান নিজেই বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি।

তিনি বলেন, ‘যদি তার কাছে কেউ চাঁদা না চেয়ে থাকে এবং তিনি বলেন, কেউ চাইলে তিনি দিয়ে দিতেন, তাহলে তিনি কীভাবে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল বলে ঢালাও অভিযোগ করতে পারেন?’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সালমানের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তিনি মামলা করতে পারেন। ‘তিনি যদি সুনির্দিষ্ট মামলা করেন, আমরা তদন্ত করতে পারব।’

জাসদ কার্যালয়ে অভিযান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নাশকতার পরিকল্পনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জড়ো হয়েছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

অভিযানে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য ২৭ জনকে এখনো হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কেউ নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যালয়ে আলোচনা করতে চাইলে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে ওই সমাবেশের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি।

শাহআলী থানার ওসি প্রত্যাহার

মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের ওই ঘটনায় কেন্দ্রটির একটি ক্লিনিক ও দীর্ঘদিনের শিশু টিকাদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘তারা যে-ই হোক এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, আমরা সেটা বিবেচনায় নেব না।’

ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে মন্তব্য

এক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি জোটের দাবি মেনে নিলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন বক্তব্য ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’।

পুলিশের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনিক কারণ বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হতে পারে। তবে বদলিই শেষ ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 September, 2026, 5:35 pm
পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে: ডিসি জাহিদ

পরিকল্পনা ও গবেষণার ঘাটতি, পর্যটকবান্ধব সেবার অভাব এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারায় বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেছেন, এ খাতের বিকাশে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার চিন্তা থেকে বেরিয়ে পর্যটকের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সেবার মানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। চট্টগ্রামের সমুদ্র, পাহাড় ও ঐতিহ্যকেও আন্তর্জাতিক পরিসরে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে।

আজ রোববার বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে সকালে নগরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগামীর পর্যটন’।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটন বাংলাদেশের জন্য অমিত সম্ভাবনার একটি ক্ষেত্র। কিন্তু আমরা সেই সম্ভাবনাকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছি না।’

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সমুদ্র, পাহাড় ও লেকের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এসব প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় ও কৃষির পাশাপাশি পর্যটনও দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠতে পারে।

পর্যটন খাতে গবেষণা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন শ্রেণির পর্যটককে আকৃষ্ট করা হবে, তাঁদের চাহিদা কী এবং কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে।

পর্যটকের নিরাপত্তাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খাদ্যনিরাপত্তা, চলাচল, আবাসন ও সেবার মানকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তাঁর মতে, পর্যটকের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টির পরিবর্তে তাৎক্ষণিক মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতাও বদলাতে হবে।

দেশের তরুণদের পর্যটন খাতে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির বড় সুযোগ রয়েছে। এ জন্য সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, ট্যুর অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মীদের তালিকা জেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যটকদের সঙ্গে আচরণ, স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্যনিরাপত্তা ও সেবার মান বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে নগরটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পর্যটকবান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যাশার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।

আলোচনা সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিয়নের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা যোবাইদা আক্তারসহ সরকারি কর্মকর্তা, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।