খুঁজুন
, ,

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ, হুমকিতে বনের অতন্দ্র প্রহরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 7:17 am
বিশ্ব বাঘ দিবস আজ, হুমকিতে বনের অতন্দ্র প্রহরী

জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যানগ্রোভ বন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এই বাঘ বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু বন ধ্বংসের কারণে আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, চোরা শিকারের কারণে অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে বনের এই অতন্দ্র প্রহরী।

আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’। প্রতি বছর নানা কর্মসূচিতে দিবসটি পালন করা হলেও এবার তেমন কোনো আয়োজন নেই। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের পক্ষ থেকে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, র‌্যালি ও আলোচনা সভা করা হবে।

বাঘ জরিপের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে ১১৪টির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সবশেষ ২০২৪ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১২৫টি। বন বিভাগের হিসাব বলছে, প্রতি ১০০ কিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব প্রায় ২ দশমিক ১৭টি।

সুন্দরবন রক্ষায় ‘আমরা’র সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ জানান, ২০২১-২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পিটিয়ে বা শিকার করে হত্যা করা হয়েছে ৫৮টি। ৩০টির মৃত্যু হয়েছে বার্ধক্যজনিত বা অসুস্থতাজনিত কারণে। আর তিনটির মৃত্যু হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। তিনি বলেন, একদিকে হরিণ শিকারিদের দাপট, অন্যদিকে বনদস্যুদের বনে অবাধ বিচরণ; দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে বাঘের আবাসস্থল। হরিণ শিকারের ফাঁদে কখনো কখনো বাঘ আটকা পড়ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক সামিউল হক বলেন, সুন্দরবনে অবাধে বিচরণের জন্য একটি পুরুষ বাঘের টেরিটরি প্রয়োজন ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার। আর স্ত্রী বাঘের জন্য প্রয়োজন ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবনে হরিণ আর বুনো শূকরের মতো শিকার পর্যাপ্ত থাকলে ছোট এলাকায়ও বাঘ টিকে থাকতে পারে। তাই বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কমাতে হবে হরিণ শিকার।

তিনি আরও বলেন, বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিকার বা পাচার রোধে আইনের সংশোধন করতে হবে। চোরা শিকারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্যামেরা ট্র্যাকিং এবং রেডিও কলারের মাধ্যমে বাঘের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লা হারুন জানান, মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বাঘের মৃত্যু না হলেও এটি বাঘের বংশ বৃদ্ধি কমার একটি বড় কারণ। এ ছাড়া বাঘ নিরাপদ আবাসস্থল নিয়ে বিপাকে পড়ে। তাই বাঘের বংশ বৃদ্ধি ও বিচরণ নিশ্চিতে সুন্দরবনে অবাধে মানুষের বিচরণ কমাতে হবে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৩৫ হরিণ পাচারকারীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

সম্প্রতি বন রক্ষায় করণীয় শীর্ষক একটি নাগরিক সংলাপে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে কয়েকটি দস্যুদল আত্মসমর্পণ করেছে। হরিণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে হরিণ শিকারির ফাঁদে আটকে আহত হওয়া একটি বাঘকে উদ্ধার করে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে আবার পাঠানো হয়েছে সুন্দরবনে। তিনি বলেন, বাঘ হলো সুন্দরবনের প্রধান প্রাণী। তাই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘের অস্তিত্ব রক্ষা জরুরি।

Feb2
Feb2

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বায়েজিদ থানা ছাত্রদল নেতার পাশে চমেক ছাত্রদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 3:16 pm
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বায়েজিদ থানা ছাত্রদল নেতার পাশে চমেক ছাত্রদল

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বায়েজিদ বোস্তামী থানা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আলম বাপ্পির চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন চমেক ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

চমেক ছাত্রদলের সভাপতি ডা. হাসিবুল হাবিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে শওকত আলম বাপ্পির চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তারা তার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করেন।

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন চমেক ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান, ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান, ছাত্রনেতা কলিমুল্লাহ, নাদিম সামীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় নেতৃবৃন্দ শওকত আলম বাপ্পির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাতকানিয়ার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন ডা. রানা চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 2:17 pm
সাতকানিয়ার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন ডা. রানা চৌধুরী

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চিকিৎসক ডা. রানা চৌধুরী। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।

১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ডা. রানা চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), নারী ও শিশু অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

নলুয়া দ্বিজেন্দ্র লাল কারণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় ডা. রানা চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা আশা প্রকাশ করেন, তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।

চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নিশ্চিতে ১০ দিনের সময় দিলেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 September, 2026, 8:37 pm
চট্টগ্রামে হোটেল-রেস্তোরাঁর মান নিশ্চিতে ১০ দিনের সময় দিলেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই সময়ের মধ্যে রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান পরিচ্ছন্ন রাখা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন এবং খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে হবে। সময়সীমা শেষে ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে চারটি দল প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবে।

পরিদর্শনের ভিত্তিতে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর মান যাচাই ও গ্রেডিং করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রশাসনের উদ্দেশ্য জরিমানা করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়; বরং ঘাটতি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আজ সোমবার তিনি এসব কথা বলেন। সভায় হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, ব্যবসায়ী ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলা প্রশাসনের চলমান পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকেরা প্রতি শনিবার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা করা হলেও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাঙ্ক্ষিত মান পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই শুধু অভিযান নয়, ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চায় প্রশাসন।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার জরিমানার মাধ্যমে কোনো ব্যবসা করে না। যাঁরা অসৎ পথে ব্যবসা করেন, তাঁদের সংশোধনের পথে নিয়ে আসার জন্যই জরিমানা করা হয়।’

তিনি বলেন, প্রশাসন চায় না কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা ব্যবসা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। এ জন্য প্রয়োজনীয় ঘাটতি দূর করতে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত মান অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষের হোটেল-রেস্তোরাঁনির্ভরতা বাড়ছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাই খাবারের মানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষের মধ্যে এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে চট্টগ্রামের যেকোনো রেস্তোরাঁয় নিশ্চিন্তে খাবার খাওয়া যায়।

খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রামকে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবারের ক্ষেত্রে দেশের জন্য উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সুনাম রয়েছে। নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম নেতৃত্ব দিতে পারে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।