খুঁজুন
, ,

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 17 September, 2026, 8:44 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরীর ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও এডাল্টিসাইড ছিটানোর পাশাপাশি নগরবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি রাণীর দিঘী পরিষ্কার করা হয়, এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করেন মেয়র।

কর্মসূচি পরিদর্শনকালে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনগণকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এডিস মশা দল-মত বা শ্রেণি-পেশা দেখে কামড়ায় না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরীতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আজকে আমরা রানির দিঘী পরিষ্কার করেছি। নগরীর বিভিন্ন দীঘি ও জলাশয়কে সংরক্ষণ করে সেগুলোর চারপাশে হাঁটার ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, ডাস্টবিন ও বসার স্থানসহ পরিবেশবান্ধব সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে পর্যটন নগরীতে পরিণত করতে হলে শুধু বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ করলেই হবে না, নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী দীঘিগুলোও সংরক্ষণ করতে হবে। মানুষ যেন এসব জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারে, বসতে পারে এবং সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

তিনি জানান, নগরীর বিভিন্ন দীঘির পাড়ে দীর্ঘদিনের মাটি ও আবর্জনা জমে আছে। এসব মাটি অপসারণ করে দীঘিগুলোর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দীঘির চারপাশে ডাস্টবিন স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের বসার জন্য সিমেন্টের বেঞ্চ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

নাগরিকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা বন্ধ করতে হবে। অনেক সময় ভবন থেকে সরাসরি ময়লা-আবর্জনা জলাশয়ে ফেলা হয়। এতে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও মশার প্রজননও বাড়ে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, প্লাস্টিকের পাত্র, পলিথিন, ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

মেয়র বলেন, চসিকের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা স্প্রে করছি, গণসচেতনতা বৃদ্ধি করছি, লিফলেট বিতরণ করছি এবং লার্ভিসাইড প্রয়োগ করছি। সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে এডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে জনগণ সচেতন না হলে শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। জ্বর হলেই যে ডেঙ্গু হবে, বিষয়টি এমন নয়। চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণেও জ্বর হতে পারে। তবে দুই-তিন দিন ধরে জ্বর অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

মেয়র জানান, চসিক পরিচালিত মেমন হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। চসিকের মেমন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল চালু করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করে শিশু ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিটের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়। নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর, নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

Feb2
Feb2

ডিমের দাম ডজনে কমেছে ১০ টাকা, স্বস্তি ফেরেনি মাছ-মুরগিতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 18 September, 2026, 12:05 pm
ডিমের দাম ডজনে কমেছে ১০ টাকা, স্বস্তি ফেরেনি মাছ-মুরগিতে

নগরের বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। মুরগি, মাছ ও মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ডজন প্রতি ডিমে ১০ টাকা কমেছে। আর পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছে কিনতে প্রতি কেজিতে গুনতে হবে কমপক্ষে ২৩০ টাকা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজনের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। আবার মাছের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। কোনো মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বেড়েছে। আবার কোনো মাছের দাম ১০-২০ টাকা কমেছে। তবে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির গত সপ্তাহের মতো আজকে ১৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পুকুরে চাষ করা মাছ পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ২৬০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

পাহাড়তলী বাজারে মো. মিজানুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে মাছ, মুরগি ও মাংসের দাম আগের অবস্থাতেই রয়েছে, বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের মাছ পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি কমপক্ষে ২৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মুরগি ও মাংসের দামেও উল্লেখযোগ্য কোনো কমতি নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা খোকন বলেন, মাছের দাম ঠিক নাই। এখন একদর, বিকেলে আরেক দর। মাছ বেশি আসলে দাম কমে, কম আসলে দাম বাড়ে। ক্রেতা, সরবরাহ ও আবহাওয়ার উপরও দাম অনেক সময় নির্ধারণ হয়। আজকে কাতলা মাছ ৪৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৭০০ টাকা কেজি আর শিং ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। আজকে মাছও আছে, ক্রেতাও আছে।

এদিকে মাছের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারে তুলনামূলক কম দামের পাঙাশ ও তেলাপিয়াও এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতি কেজি পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনতে গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ২৫০ টাকা। ফলে বাড়তি দামের কারণে অনেক নিম্নবিত্ত পরিবার মাছের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার নিয়মিত মাছ কেনাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

মুরগি বিক্রেতা মাহবুব আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহেও ১৯০ টাকায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছি। সোনালি মুরগির দাম ২১০ টাকা ছিল, আজকেও ২১০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ব্যবসায়ী কাদের বলেন, ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। আজকে ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা, আর ব্রাউন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।

সারাদেশে একযোগে ৯৯ জন বিচারক বদলি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 17 September, 2026, 10:51 pm
সারাদেশে একযোগে ৯৯ জন বিচারক বদলি

দেশের অধস্তন আদালতের ৯৯ জন বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৪৪ জেলা জজ, ২৬ অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ যুগ্ম জেলা জজ, দুই সিনিয়র সিভিল জজ ও দুই সিভিল জজসহ মোট ৯৯ বিচারককে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকদের বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব বদলি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিচারকদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দায়িত্বভার নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। তবে প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে থাকা বিচারকদের প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষ হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁকর্মীদের পরিচ্ছন্নতা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ ডিসি জাহিদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 17 September, 2026, 8:14 pm
চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁকর্মীদের পরিচ্ছন্নতা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ ডিসি জাহিদের

চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিরাপদ খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাবুর্চিসহ খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রতি শনিবার রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অনিয়মের কারণে কোনো কোনো রেস্তোরাঁকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হলেও কয়েক মাস পর আবার একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে শুধু জরিমানা ও শাস্তির ওপর নির্ভর না করে রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে চায় জেলা প্রশাসন।

“এভাবে জরিমানা করে, শুধু প্রেসার ক্রিয়েট করে, শাস্তি দিয়ে আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছি না। আমরা কোনোভাবেই শুধু জরিমানা আদায় করে রেস্তোরাঁগুলোর পরিবর্তন করতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাদের দায়িত্বশীলতা ও দায়িত্ববোধ থেকেই পরিবর্তন আসবে,” বলেন জেলা প্রশাসক।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরি ও পরিবেশনের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময়ও নানা অনিয়ম সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার ভিত্তিতে প্রতি সপ্তাহে একটি দিন রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য শনিবারকে বেছে নিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা।

জেলা প্রশাসক জানান, আগামী শনিবার রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের নিয়ে একটি র‍্যালি করা হবে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বৈঠকে রেস্তোরাঁ মালিকেরা বাবুর্চি ও খাবার প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তালিকা চেয়েছে জেলা প্রশাসন।

“তাদের ট্রেনিং দেব। তাদের স্টাফদের আমরা ট্রেনিং দেব, হাইজিন ট্রেনিং দেব। নিজেদের কীভাবে সুস্থ রাখতে হয়, সেটাও শেখানো হবে,” বলেন জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করা এবং অনিরাপদ খাবার গ্রহণের কারণে কর্মীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

এর আগে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে ১০ দিনের সময় দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী যে গ্রেডের লাইসেন্স নিয়ে কোনো রেস্তোরাঁ পরিচালিত হচ্ছে, সেই মান বজায় রাখতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির গ্রেড কমিয়ে দেওয়ার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।

নিয়মিত গণশুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতি বুধবার চিকিৎসাসহায়তা চেয়ে অনেক মানুষ জেলা প্রশাসনের কাছে আসেন। তাঁদের মধ্যে কিডনি রোগীও রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ভেজাল ও অনিরাপদ খাবারের জনস্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, “আমার দেশের একমাত্র সম্পদ হচ্ছে আমাদের জনগণ। আমরা এত বড় একটা জনগণকে যদি অসুস্থ রাখি, তাহলে এই অসুস্থ জনগণকে টেনে নেওয়ার মতো ক্ষমতা আমাদের অর্থনীতির নেই।”

নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ মালিক, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবাইকে নিয়ে একটা সচেতন সমাজ, একটা মানবিক সমাজ, একটা নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”