খুঁজুন
, ,

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার ওয়্যারহাউস সিলগালা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 12:20 pm
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার ওয়্যারহাউস সিলগালা

অনুমোদিত সীমার বাইরে গোপন গুদামে শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে যৌথ তদন্ত দল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১)-এর এক যৌথ অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে ডিপ্লোমেটিক ওয়্যারহাউসটির কার্যক্রমে গুরুতর অসংগতি শনাক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির নথিভুক্ত ও ঘোষিত অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি। তবে সরেজমিন অভিযানে দেখা যায়, তারা অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুত করে রেখেছিল। বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত পণ্য অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলা বা খোলাবাজারে বিক্রির আশঙ্কা রোধ এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুটি বৈধসহ চারটি ওয়্যারহাউসই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টস বন্ড মূলত বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখছিল এনবিআর। এর পাশাপাশি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেখানে নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের কানাডার নাগরিকত্ব এবং অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা দেশের কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছিল। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাদের ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্যও মিলেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, এই অভিযান সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দার কর্মকর্তাদের মতে, নুর ইসলামের ব্যবসা ও কর ফাঁকির বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অনেক আগে থেকেই অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার পর সালমান মুক্তাদির লাইভে এসে রাজনৈতিক মহলের চাঁদাবাজিকে দায়ী করা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করার পর থেকে পরিবারের ওপর নজরদারি ও সার্বিক প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা বেড়েছে।

উল্লেখ্য, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার দায়ের করা জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই গত বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর পরদিনই তার শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের অবৈধ ওয়্যারহাউসে যৌথ বাহিনীর এই বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হলো।

Feb2
Feb2

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 3 October, 2026, 5:11 pm
শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিখাত। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ আরও সহজলভ্য করছি। আমরা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করছি। খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী হোটেল সোনারগাঁও বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে। আমরা এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সব খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

তিনি বলেন, আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। আর চূড়ান্তভাবে, ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছি, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি আমরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে। আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আমাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। আমাদের সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদান করবে। এছাড়া স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি আমরা সম্প্রসারিত করছি। আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি। তবে এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান। আমরা ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করছি। আমরা উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।

পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। এছাড়া আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছি। এসব পদক্ষেপ কৃষিখাতকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব।আমরা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত করছি। বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পারি।

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেজন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে পারি। আমরা নতুন বাজার উন্মুক্ত করতে পারি এবং আমাদের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। একই সঙ্গে, আমরা আমাদের সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাব। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূলভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচির পর এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 3 October, 2026, 4:04 pm
সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচির পর এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচির পর গত সপ্তাহে সেখানে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তাঁর দাবি, ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও কমছে। তবে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। এদিন উপজেলার চিহ্নিত ১০টি ডেঙ্গু ‘হটস্পটে’ মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল বলে জানান তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের পর গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে আর কোনো মৃত্যু ঘটেনি।’ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সেখানে সংক্রমণের হার আরও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যাও কমছে বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালগুলোতে গত দুই দিনে যথাক্রমে ৯২ ও ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

কর্ণফুলীতে শনিবার সৈন্যাটেরক থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত সচেতনতামূলক র‍্যালি করা হয়। র‍্যালি শেষে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ফগার মেশিন চালিয়ে মশকনিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। পরে উপজেলার ১০টি ডেঙ্গু হটস্পটে পরিচালিত কার্যক্রম তদারক করেন তিনি।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু চিকিৎসা দিয়ে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারব না। আমাদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হবে।’

এ জন্য বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার ময়লা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে রাস্তায় ফেললে তো হবে না।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হয় বলে জানান জেলা প্রশাসক। এরপর বিভিন্ন উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যাঁরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাঁরা আমাদেরই ভাই বা নিকটাত্মীয়। আমরা চাই না এভাবে আর কারও প্রাণ যাক।’

চিকিৎসার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফাসহ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এনসিটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড, সিসিটির দায়িত্ব পাচ্ছে আরএসজিটি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 3 October, 2026, 11:34 am
এনসিটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড, সিসিটির দায়িত্ব পাচ্ছে আরএসজিটি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া মোটামুটি চূড়ান্ত করেছে সরকার। একই সময়ে, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার জন্য সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে (আরএসজিটি) অপারেটর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

এনসিটির ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৫ বছরের একটি খসড়া চুক্তি অনুমোদন করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি হবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের। তবে অনুমোদনের সরকারি ঘোষণায় অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। যদিও গত কয়েক মাস ধরে এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে প্রস্তাবিত এনসিটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় সহায়তার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধু এনসিটি নয়, এর পাশের সিসিটিও আধুনিকায়ন করে দুটি টার্মিনালকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে সিসিটির ক্ষেত্রে সরকারের সর্বশেষ পদক্ষেপ ভিন্ন। ২৮ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে সিসিটির অপারেটর হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সিসিটি ও সাধারণ কার্গো বার্থ পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

এর আগে সিসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড ও রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল— দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানই প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। ফলে সিসিটির ক্ষেত্রে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে বেছে নিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন সামনে এসেছে।

অন্যদিকে এনসিটি নিয়ে সরকারের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তাদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে তুলে না দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনেই পরিচালনা করা উচিত। এ নিয়ে ৫ অক্টোবর বন্দর এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট ও গণ-অবস্থানের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। দাবি মানা না হলে পরবর্তী সময়ে ২৪ ঘণ্টা বন্দর অচলসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সরকার এটা নিয়ে সচেষ্ট।

এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সাল থেকে এ নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বছর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের পথ তৈরি করতে নীতিমালা ও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় এনসিটি পরিচালনার নীতিগত অনুমোদন দেয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনকে লেনদেনবিষয়ক পরামর্শক নিয়োগ করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। চুক্তির খসড়া, দরপত্রসংক্রান্ত সংশোধন, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হয়।

তবে চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগের মধ্যে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধিতা শুরু হয়। আন্দোলন ও ধর্মঘটের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে। একই সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড খসড়া চুক্তির বিষয়ে আরও সময় চাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চুক্তি সই হয়নি।