খুঁজুন
, ,

সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 8:54 pm
সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএন‌পির সা‌বেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ব‌লে‌ছেন, শেখ হাসিনা লক্ষ্মণ সেনের মতো পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এতিম করে দিয়েছেন। এখন তিনি ফিরে আসবেন, এমন বক্তব্য দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। তা‌কে আসামী হ‌য়েই দে‌শে ফির‌তে হ‌বে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দে‌শে প‌রিক‌ল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ‌্য সৃষ্টি কর‌ছে। তাই দে‌শের আইন শৃংখলা প‌রি‌স্থিতি ঠিক রাখ‌তে বিএনপি নেতাকর্মী‌দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হ‌বে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।

তি‌নি শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকা‌লে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ের মৌসুমি মোড়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে চকবাজার ও বৃহত্তর বাকলিয়া থানা বিএন‌পির উদ্যোগে আ‌য়ো‌জিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অ‌তি‌থির বক্তব্যে এসব কথা ব‌লেন।

সমাবেশ শেষে বাকলিয়া এক্সেস রোড় থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি চন্দনপুরা, গনি বেকারী, জামাল খান মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে ও মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

এসময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করার অংশ হিসেবে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। সন্ত্রাস, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমরা চাই দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে দলের বদনাম হয়। দলে নতুন করে যারা হাইব্রিড হিসেবে আসছেন, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো অপকর্ম করতে না পারেন।

তিনি বলেন, যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন, তারা আবার ফিরে আসতে চাইছেন। কীসের আশায় তারা ফিরতে চাইছেন, আমরা জানি না। তবে তারা যে অপরাধ, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন এবং মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন, তার হিসাব এ দেশের মানুষ নেবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাসেম বক্কর বলেন, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক আর বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের কথা বলছে। চাঁদাবাজি, ব্যাংক দখলসহ যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা সতর্ক রয়েছি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু। বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, ছান্দগাও থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া, মহানগর বিএনপি নেতা ইয়াসিন চৌধুরী আসু, ইব্রাহিম বাচ্ছু, আমিন মাহমুদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, ইউছুপ বাবুল, আলী ইউছুপ, ওয়ার্ড বিএনপির আবদুল্লাহ আল ছগির, হাজী মহিউদ্দিন, হাজী এমরান উদ্দিন, এটিএম ফরিদ, এম এ হালিম বাবলু, ইয়াকুব চৌধুরী নাজিম, মহিউদ্দিন মিজান, জাকের হোসেন জাকু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া, থানা যুবদল নেতা নুর হোসেন নুরু, গোলজার হোসেন, ইসমাইল হোসেন লেদু, হাজী মোহাম্মদ মুছা, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ সোহেল প্রমুখ।

Feb2
Feb2

মানুষের পকেট কেটে নেওয়া বিএনপি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 11:16 pm
মানুষের পকেট কেটে নেওয়া বিএনপি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দল মিলে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভারতের দালালি করেছে, অন্যদিকে বিএনপি মানুষের পকেট কেটে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে। এই নষ্ট রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সম্মানিত নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে সংস্কারের আশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন ঘিরে পুনরায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যদি পেশিশক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কালো টাকার খেলা দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বক্তব্যের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লন্ডনের শীর্ষ দফতর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিরোধী দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সারাদেশে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে পকেট কাটা, বালি ও মাটি উত্তোলন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের উৎসব চলছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমাদের ১ হাজার ৪০০ ভাই জীবন দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। পকেটে টাকা না থাকলেও বা পায়ে ছিঁড়ে যাওয়া স্যান্ডেল থাকলেও আমরা আদর্শ বিক্রি করব না এবং কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতিতে নাম লেখাব না।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, নারী, আলেম ও সাধারণ মানুষ যে অভূতপূর্ব একতা দেখিয়েছিল, সেই সার্বজনীন শক্তির মাধ্যমে আগামীতে যেকোনো রাজনৈতিক অপশক্তি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক, দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক লায়ন এ. এম. মুন্না চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব জুবাইরুল আলম মানিক, জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, নারীশক্তি ও শ্রমিকশক্তির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 11:09 pm
জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ব্যাপক যাত্রীদের চাপের কারণে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আগত একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে এলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন। এমনকি তিনি বিমান মন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন।

আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গীরা সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেজর আখতারুজ্জামান তাকেও গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া তিনি সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে দেন এবং বিমান বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 10:14 pm
বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ। ২০০৬ সাল থেকে তিনি নিজ মালিকানাধীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগে তিনি বাংলাদেশের ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। পরে যুক্তরাজ্যের বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা ও লন্ডনসহ বিভিন্ন জায়গায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণও নেন তিনি।

সম্প্রচার, প্রিন্ট ও ডিজিটাল— তিন মাধ্যমেই সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ছিল খালিদীর। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।

২০১৭ সালে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পুরস্কারে বিশেষ সম্মাননা পান তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ডিজিটাল বাংলাদেশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

দেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশেও তৌফিক ইমরোজ খালিদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ নতুন ব্যবস্থাপনায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নামে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে। ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজকে ইন্টারনেটে বাংলাদেশের প্রথম সার্বক্ষণিক সংবাদ প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, “দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’’

রাষ্ট্রপতি তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”