জুলাই সনদ ও গণভোটের মতপার্থক্য সংসদেই মেটাতে হবে: রিজভী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৫ রাত
জুলাই সনদ ও গণভোটের মতপার্থক্য সংসদেই মেটাতে হবে: রিজভী

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে থাকা মতপার্থক্য রাজপথের আন্দোলনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরোধিতা বিএনপি করছে না। তবে সনদে বিভিন্ন দলের দেওয়া ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।

রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া হলরুমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো সমস্যার সমাধান লং মার্চ বা রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে নয়, বরং সংসদ ও আলোচনার টেবিলে হওয়া উচিত। শুধু বিএনপি নয়, জুলাই সনদে আরও অনেক দলের ভিন্নমত রয়েছে। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের পথ বের করতে হবে।

সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনে ফিরে যাওয়ার হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এ সময়ে দলটির নেতাকর্মীরা ব্যাপক নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকে হাত-পা হারিয়েছেন, আবার পুলিশের শটগানের গুলিতে অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এত ত্যাগের পর বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। রাজপথ কোনো বিশেষ দলের একক সম্পত্তি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে রিজভী বলেন, সংসদে সব দলের সম্মিলিত উদ্যোগে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা সম্ভব। সংবিধান একটি জাতির আত্মজীবনী। সময়ের সঙ্গে জাতির পরিবর্তন ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সংবিধানেও সংশোধনী আসে। তবে সংস্কারের কথা বলে কী বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, কারফিউ ও কালো আইনের প্রভাবের সময় আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা প্রতিবাদের মাধ্যমে নির্যাতিতদের কিছুটা স্বস্তি দিতেন। রিমান্ডের বিরুদ্ধে তাদের সম্মিলিত প্রতিবাদ অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিচার প্রসঙ্গে রিজভী অভিযোগ করেন, তার বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছিল। আইনজীবীদের যুক্তি ও নথিপত্র উপেক্ষা করে তাকে সাজা দেওয়া হয়। কারাবন্দি অবস্থায় তার চিকিৎসা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ সময় বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষামূলক বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দির ও গির্জার ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য ভাতার উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষার অংশ।

তবে এসব উদ্যোগ উপেক্ষা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলেও দাবি করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

জেআই/

Feb2
Feb2