খুঁজুন
, ,

ই-পাসপোর্ট জাতির জন্য ‘মুজিব বর্ষে’র উপহার : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 January, 2020, 3:20 pm
ই-পাসপোর্ট জাতির জন্য ‘মুজিব বর্ষে’র উপহার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কর্মসূচি এবং স্বয়ংকৃত বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন করে বলেছেন, এটা (ই-পাসপোর্ট) জাতির জন্য ‘মুজিব বর্ষে’ একটি উপহার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা মুজিব বর্ষে দেশের জনগণের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দিচ্ছি। এটি একটি বিশেষ বছর এবং ঘটনাক্রমে জাতি এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছে।’

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে যে কোন দেশে প্রবেশ এবং বহির্গমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী নাগরিকের ঝামেলামুক্ত চলাচল নিশ্চিত হবে এবং ই-গেটের সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ই-পাসপোর্ট কর্মসূচি এবং স্বয়ংকৃত বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন করেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে ১১৯ তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ই-পাসপোর্ট এবং স্বয়ংকৃত বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা সন্দেহাতীতভাবে ডিজিটাল বিশ্বে বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদা আরো সমুন্নত করবে এবং বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ই-পাসপোর্টে এমবেডেড ইলেকট্রনিক মাইক্রো প্রসেসর চিপ থাকবে। যেখানে পাসপোর্ট গ্রহিতার সকল তথ্য, স্বাক্ষর, ছবি, চোখের কর্ণিয়া এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট সিল্ড অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘অতীতে একটা সমস্যা ছিল পাসপোর্ট নিয়ে। একসময় গলাকাটা পাসপোর্টও দেশে প্রচলিত ছিল, সেটা আর কখনো হবে না। মানুষ আর ধোকায় পড়বেনা। স্বচ্ছতার সাথে চলবে’,বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্টস অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বহির্গমন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো.শহিদুজ্জামান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তাঁর ই-পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ই-পাসপোর্ট ভবনের ফলক উন্মোচন করেন এবং এনরোলমেন্ট বুথ পরিদর্শন করেন।

এই ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূ্র্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি আধুনিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং ইমিগ্রেশন পদ্ধতি সহজীকরণ করবে বলে গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট’কে (এমআরপি) আরও অধিকতর নিরাপত্তা সম্বলিত করার জন্য ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট এবং অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বাস্তবায়ন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।’

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের আওতাধীন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ কর্তৃক ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫শ ৬৯ কোটি টাকা। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ থেকে ১০ বছর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ডিআইপি তাদের আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ি এবং উত্তরা কার্যালয় থেকে এই পাসপোর্ট ইস্যু করবে। পর্যায়ক্রমে এ বছর থেকেই দেশের সবখান থেকে এই পাসপোর্ট ইস্যু করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম এই পাসপোর্ট লাভ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রয়োজনে ২৫ হাজার পাসপোর্ট ইস্যু করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য মতে, ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৩,৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫,৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭,৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫,০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭,০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯,০০০ টাকা।

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরিতে ৩ দিনে, জরুরিতে ৭ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়দোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।

আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই সংশ্লিষ্ট তথ্য হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ই-পাসপোর্ট চালু হলে সমগ্র ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াটি অন-লাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরই তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন,‘সেই নির্বাচনী ইসতেহারেই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। কারণ কম্পিউটার শিক্ষা বা ডিজিটাল ডিভাইস যেন বাংলাদেশের মানুষ ব্যবহার করতে পারে। ’৯৬ সালে কিছু উদ্যোগ নিলেও তা সম্পূর্ণ করে যেতে পারিনি তাই ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসেই সেই উদ্যোগটা নেই।’

‘দেশের স্কুল,কলেজ, অফিস,বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত-সকল ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি, কম্পিউটার-ল্যাপটপ জনগণের কাছে সহজলভ্য করার জন্য এসব যন্ত্রাংশ থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করি। যার সুফল আজকে আমরা পাচ্ছি। দেশে একটা ডিজিটাল বিপ্লব সাধিত হয়েছে, ’বলেন তিনি।

ইন্টারনেটের জন্য সাড়ে ৩ হাজার ইউনিয়নে সাবমেরিন কেবল সুবিধা পৌঁছে দেয়া, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে জনগণকে পরিচয় করিয়ে দেয়ায় তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বল্পতম সময়ে ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ গ্রহণে এবং এরআগে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু করায় ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একেকবার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছি এবং সেটা যে তারা কার্যকর করতে পারছেন এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

‘বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য’ নিয়ে তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ই-পাসপোর্ট প্রসংগে বলেন, ‘একটি আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন পদ্ধতি আমরা গ্রহণ করেছি। যার সুযোগটা দেশের মানুষ পাবে।’তিনি বলেন, বিশ্বে ১১৯ তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে আমরা সেটা চালু করতে পেরেছি এবং আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।

ফরেন রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে কাজে লাগায় সেই প্রবাসীদের দেশ-বিদেশে যাতায়াত সহজিকরণের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের এই উদ্যোগ একথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে ৬৪টি জেলায় ৬৯টি পাসপোর্ট অফিস, ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, বিদেশে অবস্থিত ৭৫টি বাংলাদেশ মিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন সেবাকে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি।’

তিনি বলেন,উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সেবাকে যুগোপযোপী করতে ই-পাসপোর্ট প্রদান করতে যাচ্ছি। যাতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা আর হয়রানির শিকার না হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ই-পাসপোর্টের সঙ্গে ই- গেটও সংযোজিত হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট ও ই-গেট সংযোজিত হলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা সহজ, স্বাচ্ছন্দময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।’

জনসেবাকে ত্বরান্বিত করতে তাঁর সরকার পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল বৃদ্ধিসহ যুগের সংগে তাল মেলাতে এর আধুনিকায়নে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন,জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পেরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাতেই তাঁর সরকার দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছে এবং ২০২০ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সুযোগ পেয়েছে। যার ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জণগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তাঁরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, বিশ্বাস রেখেছেন, ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাঁদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশকে পুনর্গঠনে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণকালে ১৯৭৩ সালে তিনি পূর্নাঙ্গ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন।

কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর জাতির ভাগ্যাকাশে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থেমে গিয়ে হত্যা ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়, বলেন তিনি।

তাঁর সরকার প্রতিশ্রুত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারায় বর্তমানে জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে,’ উল্লেখ করে করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ ভাগে উন্নীত হয়েছে এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে।’
দারিদ্রের হার ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং একে আরো কমিয়ে এনে দেশকে দারিদ্রমুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তাঁর সরকারের সকল কর্মসূচি আবর্তিত হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সকল উন্নয়ন কাজের সময় আমরা একটা বিষয় মাথায় রাখি, এর সুফল যেন একেবারে গ্রামের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছায়।

তিনি সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, ‘জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য যা যা প্রযোজ্য সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা বাস্তবায়নেও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

সেইসাথে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কিভাবে এগিয়ে যাবে সে পদক্ষেপও তাঁর সরকার নিয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এবং ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত গৃহীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ ও তুলে ধরেন তিনি।

‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এইসব পরিকল্পনা যুগোপযোগীকরণ করতে হবে’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি লক্ষ্য স্থির করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই পরিকল্পনা মাফিক তাঁর সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।’

Feb2
Feb2

উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 15 August, 2026, 6:02 pm
উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গত ১৪ আগস্ট ২০২৬খ্রি. শুক্রবার বাদে আসর উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফে ইমামে রাব্বানী শেখ আবুল বারাকাত আল বদরউদ্দিন আল ফারুকী মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রা.) এর ফাতেহা শরীফ ও মাহবুবে ইয়াজদানী আওলাদে রাসুল ও আওলাদে গাউছে পাক হুজুর সৈয়্যাদ আশরাফ জাহাংগীর সিমনানী (রা.) এর ফাতেহা শরীফ এবং মুজাদ্দিদে দ্বীনে মিল্লাত ইমামে আহলে সুন্নাত সৈয়দুনা সরকার আলা হযরত শাহ আহমদ রেজা ফাজেলে বেরলভী (রা.) পবিত্র ফাতেহা শরীফ ও আসন্ন ১১ রবিউল আওয়াল উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফে পবিত্র জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। আঞ্জুমানে আল আমিন সুবলুস সালাম বাংলাদেশ হাটহাজারী চট্টগ্রাম এর প্রতিষ্টাতা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ আবু বক্কর কাদেরীর উপস্থাপনায় ছদারত করেন বড় হুজুর কেবলা অলিয়ে কামেল উস্তাযুল উলামা শায়খুল মশায়েখ বাহারুল উলুম হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল মোনাওয়ার (রহঃ) এর এজাজতপ্রাপ্ত গদিনশীন আওলাদে পাক জা-নোশিনে মোনাওয়ার হুজুর শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ছালেকুল মাওলা (মা,জি,আ), সাজ্জাদানশীন- উত্তর মেখল দরবারে মোনাওয়ার শরীফ।

এতে প্রধান বক্তা ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন আল কাদেরী, প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সূফিবাদী ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মুহাম্মদ রানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ ইলিয়াস, মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ।

আলোচনায় অংশগ্রহন করেন মাওলানা রিদওয়ান, নাত পরিবেশন করেন শায়েরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ আরফাত রেজা কাদেরী। উক্ত অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ারায় গাউসিয়া কমিটির স্বাগত জুলুছ পূর্ববর্তী মাহফিল অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 15 August, 2026, 5:44 pm
আনোয়ারায় গাউসিয়া কমিটির স্বাগত জুলুছ পূর্ববর্তী মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামের আনোয়ারা মোহছেন আউলিয়া (রহ.) দরবার শরীফ থেকে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, বটতলী ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে ঐতিহাসিক স্বাগত জুলুছ পূর্ববর্তী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) আনোয়ারা মোহছেন আউলিয়া (রহ.) দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মাহফিলে মেহমান-এ-আলা হিসেবে তাকরীর করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক সফল অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আল-কাদেরী। মাহফিলের উদ্বোধন করেন উপজেলা গাউসিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আহমদ কবির।

বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আবু, ইসলামী চিন্তাবিদ এস এম হামেদ হোসাইন এবং হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ওয়ায়েজ মাওলানা এনাম রেজা।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা আবদুল মোমেন আনোয়ারী, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জানে আলম নেজামী, অধ্যক্ষ ডি.আই.এম. জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা আহমদ নুর আল-কাদেরী, মাওলানা আহমদ উল্লাহ, শায়ের মাওলানা এনামুল হক এনাম, মাওলানা আবুল কাশেম বিন সৈয়দ ফারুকী, মাওলানা সাইফুল আলম, কবি ও সাহিত্যিক মুহাম্মদ আলী আজগর, সাবেক মেম্বার আমীর আহমদ, সমাজসেবক মুহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন, যুবনেতা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ জাকারিয়া, জিয়াউল হক রুভেল, মাহবুব আলম, মোহাম্মদ ওসমান তাহেরী, হুমায়ুন কবির ছোটন, মুহাম্মদ শাকিল, আবদুল মাবুদ সাগরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মাহফিলে বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ও ইসলামী চেতনা ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আগামী ২৬ আগস্ট, বুধবার, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আওলাদে রাসুল শাহিন শাহে ছিরিকোটির বংশধর পীরে বাঙ্গাল সৈয়দ মুহাম্মদ ছাবের শাহ (মজিআ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ার বৃহত্তম জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-তে সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ছুটি বাতিলের যেকোনো উদ্যোগ বা ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবিলা করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

বেগম জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 15 August, 2026, 5:27 pm
বেগম জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ জোহর নগরের নসিমন ভবনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় জামে মসজিদে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানসহ মহানগর ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন এবং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করা হয়। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দোয়া মাহফিলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে নিহত দলীয় নেতাকর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম।

এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য এডভোকেট মফিজুর হক ভুঁইয়া, ইকবাল চৌধুরী, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, ইস্কান্দার মির্জা, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, খোরশেদ আলম, গাজী সিরাজ উল্লাহ, কামরুল ইসলাম, শিহাব উদ্দিন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মশিউর আলম স্বপন, মোশারফ হোসেন ডিপটি, জাফর আহমেদ, মাহাবুব রানা, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ আজম, আশরাফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইউসুফ।

পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশ, জাতি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।