খুঁজুন
, ,

চসিক নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিতে নীল নকশার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 February, 2020, 4:02 pm
চসিক নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিতে  নীল নকশার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে

আগামী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি যাতে অংশ নিতে না পারে সে জন্য এখন থেকে নানা ষড়যন্ত্র, হামলা মামলার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কারাগারে আটকে রেখে যেনতেন ভাবে ২০১৮ সালের মত নীল নকশার নির্বাচন বাস্তবাযনের কাজ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

আজ শনিবার (০১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে চট্টগ্রামের নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযাগ করেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের মতবিনিময় চলাকালে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশী হামলা, ককটেল হামলা ও গুলি চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করে কেন্দ্রিয় ছাত্রদল নেতাসহ কয়েজনকে গ্রেফতারের পর উল্টো অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাহাদাত বলেন, আগামী সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নীল নকশা বাস্তবায়নে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে সিএমপির কতিপয় এক বির্তর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা। যিনি ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে যেভাবে গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. শাহাদাত আরো বলেন, গত ২৮ জানুয়ায়ী মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সফররত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নাছিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের তৃনমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল থেকে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচী চলাকালে কোতোয়ালী থানা ও ডিবি পুলিশ বিনা কারণে কার্যালয়ে ঢুকে নেতাকর্মীদের উপর বর্বর হামলা চালায়। এতে পুলিশ মারমুখি হয়ে নেতা কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং গুলি চালায়। এসময় পুলিশ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। যা শিষ্টাচার বহির্ভূত।

পুলিশের গুলিতে এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইনুদ্দীন শহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ. এম. রাশেদ খান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক কে. এম আব্বাস ও গাজী শওকত সহ ১০/ ১২ জন নেতা কর্মীসহ আহত হয়। তাদেরকে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ আলম সর্দ্দার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দীন নিলয়, চট্টগ্রাম মহানগর
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম খলিল, মোঃ বেলালকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউনিটে ছাত্রদল নেতাদের সাথে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা কারণে ছাত্রদল নেতাদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে আবার তাদের নামে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ঐ সময়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন গণ মাধ্যমে স্বীকার করেন পুলিশ চার রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। অথচ পরের দিন ছাত্রদল নেতা কর্মীরা পুলিশকে ককটেল হামলা করেছে অভিযোগ এনে ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল না এমন নেতাদের নামও মামলায় আসামী হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ চূড়ান্ত মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পদোন্নতির আশায় ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনে এবং গণমাধ্যমে তা প্রচার করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আবারও ষড়যন্ত্রমূলক অপ তৎপরতা শুরু করেছে। তথাকথিত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে যেভাবে গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপি নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা আবারও গ্রেপ্তার নির্যাতন শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া গায়েবী মামলায় নেতাকর্মীরা হাইকোর্টের জামিনে থাকলেও নিন্ম আদালত জামিন বাতিল করে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমরা মনে করি, বিএনপির বলিষ্ঠ নেতাকর্মীরা যাতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাজ করতে না পারে সে জন্য তারা এই গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে।

এইভাবে নেতা কর্মীদের যদি মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। তাই আমরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভোগি পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ করব, জনবান্ধব পুলিশ হউন, কোন গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষাকারী পেটুয়া বাহিনী হিসেবে চি‎হ্নিত হবেন না। আমরা ছাত্রদল নেতা কর্মকমীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবী জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি যাতে অংশ নিতে না পারে সে জন্য এখন থেকে নানা ষড়যন্ত্র, হামলা মামলার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কারাগারে আটকে রেখে যেনতেন ভাবে ২০১৮ সালের মত নীল নকশার নির্বাচন বাস্তবাযনের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিঃ সহ সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, আগামী সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নীল নকশা বাস্তবায়নে সিএমপির অতিউৎসাহী কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এখন থেকে মাঠে নেমেছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছিল। আবারো সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহ আলম, আর. ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাহেদ বক্স, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম চৌধুরী মঞ্জু, মো. কামরুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হামিদ হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম সরওয়ার আলম, নগর মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফাতেমা বাদশা, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হালিম স্বপন, সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস আলী, সহ স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক আরিফ মেহেদী, নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নগর বিএনপির সদস্য জাকিরহোসেন, মো. জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

Feb2
Feb2

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।