খুঁজুন
, ,

৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতীয় পর্যটকদের জিনিসপত্র উদ্ধার করল ডিএমপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 12 February, 2020, 11:10 am
৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতীয় পর্যটকদের জিনিসপত্র উদ্ধার করল ডিএমপি

dmp

ভারতীয় চার নাগরিকের পাসপোর্ট, সব জরুরি কাগজপত্রসহ ব্যাগ ৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের একাধিক টিম।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওয়ারী থানার অভয়দাস লেন এলাকায় সবকিছু খোয়া যায় ভারতীয় ওই চার পর্যটকের।

ওয়ারী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) সুজিত কুমার সাহা জানান, দুপুর ১২টার দিকে ভারতীয় চার প্রবীণ নাগরিক থানায় এসে ঘটনার বর্ণনা দেন। তাদের মৌখিক বিবরণের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশের একাধিক টিম তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে।

অবশেষে দিনগত রাত ৮টার দিকে রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের সব মালামাল উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমার উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশের মাদারীপুরের বাজিতপুর প্রণব মঠে আসেন ভারতীয় চার প্রবীণ নাগরিক। এদের মধ্যে দু’জন নারী ও দু’জন পুরুষ।

মঙ্গলবার বিভিন্ন মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার জন্য তারা মাদারীপুর থেকে বাসযোগে ঢাকায় আসেন। সায়েদাবাদ নেমে ভারতে ফেরার ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য প্রথমে তারা কমলাপুর রেলস্টেশনে যান।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মৈত্রী এক্সপ্রেসের চারটি টিকিট কেটে সকাল পৌনে ১১টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্বামীবাগ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মন্দিরে রওনা দেন। তারা হালকা নাস্তা করবেন বলে ভাড়াকৃত সিএনজিচালককে একটি খাবারের দোকানের সামনে থামানোর জন্য অনুরোধ করেন। সে অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওয়ারী থানার অভয়দাস লেনের একটি খাবারের দোকানের সামনে অটোরিকশা থামান চালক।

চার পর্যটকের সবাই অটোরিকশা থেকে নামেন এবং চালককেও তাদের সঙ্গে নাস্তা করতে যাওয়ার অনুরোধ করেন। সিএনজিচালক যাত্রীদের সঙ্গে না গিয়ে তাদের নাস্তা করে আসতে বলেন। যাত্রীরা নাস্তা খেয়ে বাইরে এসে আর অটোরিকশা ও চালক খুঁজে পাননি। আশপাশে খোঁজাখুজি করে বুঝতে পারেন, অটোরিকশাচালক যাবতীয় মালামাল চুরি করে পালিয়েছেন।

তাদের চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে ছিল দু’টি ট্রলি ব্যাগ, কাঁধে ও হাতে ঝুলানো চারটি ব্যাগ ও মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ দু’টি। যার মধ্যে কাপড় ছাড়াও ভারতীয় সাত হাজার রুপি, বাংলাদেশি সাড়ে তিন হাজার টাকা, চারজনের পাসপোর্ট, সবার ভারতীয় আধার কার্ড, প্যানকার্ড, ভোটার কার্ড ও কলকাতাগামী ট্রেনের চারটি টিকিট। পরে স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে তারা ওয়ারী থানায় যান।

পরিদর্শক সুজিত কুমার সাহা বলেন, ঘটনার বিবরণ শুনে নিজেই দায়িত্ব নেই। তাৎক্ষণিক এক সার্জেন্টের মাধ্যমে সিএনজির মালিকানা সংক্রান্ত কিছু তথ্য সংগ্রহ করি। এরমধ্যে ওয়ারলেসে ডিএমপির সব থানায় মেসেজটি পাঠিয়ে এ ধরনের কোনো অটোরিকশা পেলে আটক করে ওয়ারী থানাকে জানানোর অনুরোধ করি।

প্রাপ্ত তথ্যাবলীর মধ্যে একটি ফোন নম্বর পেলেও বন্ধ পাওয়া যায়। আরেকটি ফোন নম্বর জোগাড় করে যোগাযোগ করে জানা যায়, বর্ণিত অটোরিকশাটি ঠেঙ্গামারা সমাজকল্যাণ সংস্থা থেকে লোন নিয়ে কেনা। ঠেঙ্গামারা সমাজকল্যাণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় অপর নম্বরটিতে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রাখি।

একসময় যোগাযোগ সম্ভব হলে সিএনজির মালিকের বিষয়ে তথ্য পাই এবং চালক হাবিব হাওলাদার নামে একজন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যাত্রাবাড়ী থানা থেকে একটি টিম সিএনজি মালিকের কাছে পাঠানোর অনুরোধ করি। যাত্রাবাড়ী থানার টিম তাৎক্ষণিক অটোরিকশার মালিকের কাছে পৌঁছে বেশ কিছু তথ্য জানান।

এরপর ওয়ারী বিভাগের ডিসির সঙ্গে আলোচনা করে ওয়ারী ও যাত্রাবাড়ী থানার দু’টি টিম যৌথভাবে ‘ঢাকা মেট্রো থ-১৪-৬৮৯০’ এর চালকের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে। অবশেষে ধোলাইপাড়ে ওই অটোরিকশাচালকের বাসা থেকে সব মালামাল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে যেখানেই যোগাযোগ করেছি, সবদিক থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। সবার চেষ্টায় দ্রুততম সময়ে চুরি যাওয়া মালামালগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে চালক হাবিব হাওলাদার বাসায় মালামালগুলো রেখেই পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 10:12 am
চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘লংমার্চ’ শুরু হয়েছে।

এর আগে আজ (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ করেন ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখী এ ‘লং মার্চ’ শুরু হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়ায়াতরে মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

এতে বক্তব্য রাখছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের বহর রওনা হয়।

লং মার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরের সরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:57 am
সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় নিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। ওকে ছেড়ে দেন। ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিকে একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা দিয়ে নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। তার সাথে সপ্তম দফা হবে, কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই। কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে। কারেন্টের ভূতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী আপনারা দোয়া করবেন। আমরা আপনাদের এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ঔষধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ। প্রতিক্রিয়া হলে আমরা বলে দিচ্ছি। আপনারা বলছেন, এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ কোনো দল, ব্যক্তিগোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে আন্দোলন চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে।

আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:12 am
আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এই লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লং মার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য আমাদের এই লং মার্চ।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই লং চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লং মার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লং মার্চ কোনো ১১ দলের লং মার্চ নয়। এই লং মার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লং মার্চ।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, এই লং মার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।’