খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ চলমান অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকাশ টেকসই করার লক্ষ্যে সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন করতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি আজ বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে ভাষণে বলেন, ‘আপনারা হচ্ছেন সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন। তাই এই বন্ধন যত বেশি মজবুত ও দৃঢ় হবে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশও তত বেশি টেকসই হবে।’

তিনি বলেন, আপনারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। জনগণ অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনাদেরকে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন। তাই আপনাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের চাওয়া-পাওয়া খুবই সীমিত। অল্পতেই তারা খুশি হন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে প্রয়োজনের সময় তারা যেন তাকে কাছে পায়। তাই আপনারা নির্বাচনী এলাকার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং জনগণের প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে দাঁড়াবেন। এতে দল ও সরকারের সাথে জনগণের সম্পর্ক ও যোগাযোগ মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

আবদুল হামিদ বলেন, বিরোধী দল সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও ভূমিকা সংসদকে কার্যকর করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ও বিগত সংসদে সরকারি ও বিরোধীদল সংসদকে কার্যকর করতে যে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছেন তা খুবই প্রশংসনীয়। আশা করি ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সংসদ হয়ে উঠবে সরকারের সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে একই সাথে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন বিশ্বে রোলমডেল। সংসদ সদস্য হিসেবে আপনারাও এই সাফল্যের গর্বিত অংশীদার।

জনগণ যাতে সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুফল ভোগ করতে পারে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব।

ভাষণের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা আন্দোলনের সৈনিক এবং বিভিন্ন সময় দেশ ও জাতির জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা যোগ দেন।

এর আগে ৭টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি হামিদ ও তাঁর পত্নী রাশিদা খানম তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দরবার হলে প্রবেশ করেন এবং মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিবেশিত হয়।

Feb2

মানবিক ডিসির গণশুনানি ধীরে ধীরে গণপ্রত্যাশায় রূপ নিচ্ছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসির গণশুনানি ধীরে ধীরে গণপ্রত্যাশায় রূপ নিচ্ছে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নিয়মিত গণশুনানি কার্যক্রম ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হচ্ছে। অসহায়, দরিদ্র ও বিপর্যস্ত মানুষ তাদের শেষ আশ্রয় হিসেবে ভিড় জমাচ্ছেন এই গণশুনানীতে—যেখানে অভিযোগ শুধু শোনা হয় না, তাৎক্ষণিক সহায়তার হাতও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

মাত্র ১৫ দিনের কোলের শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা সুরাইয়া বেগম হাজির হন এই গণশুনানীতে। জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় দিশেহারা এই নারী সন্তানের চিকিৎসা ও লালন-পালনের জন্য সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসক তাকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত গণশুনানীতে এ দৃশ্য উপস্থিত সবার মনে গভীর মানবিক আবেদন সৃষ্টি করে।

একইভাবে আকবরশাহ থানার ফিরোজশাহ কলোনীর বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার, যিনি কিডনি ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত, তিনিও পান সহায়তা। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী শারীরিক দুর্বলতার কারণে গার্মেন্টসের চাকরি হারিয়েছেন। দুই শিশু সন্তান—জিহাদুল ইসলাম ও আরাফাত ইসলামকে নিয়ে তার জীবনযাপন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। তার আবেদন শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তা আনার আশ্বাস দেন।

বন্দর এলাকার মোছাম্মৎ লাইজু বেগমও এসেছিলেন সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইতে। তার স্বামী দিনমজুর। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর মধ্যেই ছোট সন্তানটির চোখের দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জেলা প্রশাসকের সহায়তায় আবারও চিকিৎসার আশা দেখছেন তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীর নাজমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে চর্মরোগে ভুগছেন। স্বামী বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। মানুষের বাসায় কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালালেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। গণশুনানীতে আবেদন জানালে তাকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

মিরেরশ্বরাই উপজেলার রেমন্ডু ফিলিপ রায় গুরুতর অসুস্থতায় একটি পা হারিয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তার একমাত্র সন্তান দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় থাকা এই ব্যক্তি সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসক শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, সন্তানের পড়াশোনার খোঁজও নেন।

এছাড়াও সহায়তা পেয়েছেন ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বিধবা মাছুমা, হৃদরোগে আক্রান্ত বাঁশখালীর মাবিয়া খাতুন, স্বামীহারা ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাহার, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য আবেদনকারী আর্জিনা আক্তার এবং চট্টগ্রাম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী, যার আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

গণশুনানীতে আসা আবেদনকারীরা জানান, জেলা প্রশাসক তাদের কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বুধবার আয়োজিত এই গণশুনানীতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর থেকে আগত সেবাপ্রত্যাশীদের আবেদন, অভাব ও অভিযোগ শোনা হয়। সর্বশেষ আজকের গণশুনানীতে ৭৪ জন সেবাপ্রত্যাশীর সমস্যা শোনা হয় এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় অসুস্থ ৯ জন ব্যক্তি ও ১ জন শিক্ষার্থীকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪৮ জন দুস্থ নারী-পুরুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়া গুঁড়া সম্বলিত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া কিছু আবেদন ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি সেবাপ্রত্যাশীদের জানানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই গণশুনানি কার্যক্রম এখন শুধু একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়—এটি ধীরে ধীরে মানুষের প্রত্যাশা ও নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে একজন মানবিক জেলা প্রশাসকের স্পর্শে বদলে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের জীবন।

‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আজ (বুধবার) সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথোরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া, কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কে মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সহিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড এবং সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত। উপরন্তু সরকার কর্তৃক সময় সময় যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তা সরকারি নির্দেশনামতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিপালন করে থাকে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বাবা-ছেলে মিলে শ্যালকের পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
বাবা-ছেলে মিলে শ্যালকের পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিন স্বজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যার সময় ব্যবহৃত ধারালো হাঁসুয়া এবং ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এসব তথ্য জনান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগ্নি সবুজ রানা (২৫) তিনি দুলাভাই আব্দুস সামাদের ছেলে, নিহত হাবিবের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম এবং শহিদুলের ছেলে শাহিন মন্ডল।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জনান, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম যায় এবং আলামত সংগ্রহ করে। আমরা একটানা নিবিড় তদন্ত করে এই চার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হই। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় বলা হচ্ছে না।

তিনি আরও জনান, নমির উদ্দিনের পাঁচ মেয়ে এবং এক ছেলে। এর মধ্যে এক ছেলেকে তিনি ১৩ বিঘা জমি লিখে দেন এবং প্রতি মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন। এ নিয়ে মেয়েদের এবং জামাইদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। ২০ এপ্রিল সবুজ এবং নিহত হাবিব ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে যান। গরু কিনতে না পেরে সন্ধ্যার সময় চলে আসেন। তাদের মধ্যে আগে থেকে ক্ষোভ ছিল কীভাবে হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। হাবিব এবং তার বংশধরদেরকে যদি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বোনেরা জমির মালিক হবে এবং নাতিরা লাভবান হবে।

পুলিশ সুপার জনান, সেদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার নানার বাসায় সবুজ যান। সবুজ তার মামা হাবিব, মামি পপি এবং তার নানা মিলে সেদিন রাতে একই সঙ্গে খাবার খান। নিহতের ভাগ্নি সবুজ খাবার খেয়ে বাইরে একটি মাঠে চলে যান। সেখানে দুলাভাই শহিদুল ও তার ছেলে শাহিন ছিল। সেখানে গিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা ছিল তারা নমিরের কাছ থেকে তার জমির দলিল নিয়ে আসবে এবং হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে। পরিকল্পনা শেষে শাহিন ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। সবুজ তখন তাদেরকে বলে- একটু পরে তারা ঘুমায়ে পড়বে তোমরা তখন চলে আসবে। এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে শহিদুল, স্বপন (নিহতের চাচাতো ভাই), সবুজ এবং শাহিন মিলে হাবিবুরের ঘরে প্রবেশ করে। শাহিন হাবিবের ঘরে প্রবেশ করে বড় ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে হাবিবকে জবাই করে। এরপর একে একে হাবিবের স্ত্রী এবং তার সন্তানদেরকে হত্যা করেন।

তিনি জনান, ওই বাড়িতে প্রবেশের পর নমির উদ্দিনের ঘরে বাইরে থেকে ছিটকানি লাগিয়ে দেন তারা। যেন নমির উদ্দিন ঘর থেকে বের হতে না পারেন। প্রথমে তারা হাবিবকে হত্যা করেন, এরপর হাবিবের স্ত্রী পপি সুলতানা প্রকৃতির ডাকে বের হলে সবুজ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখা ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর বাচ্চাদের ঘরে প্রবেশ করে বাচ্চাদেরকেও মেরে ফেলেন। তাদের মূল টার্গেট ছিল জমিজমার উত্তরাধিকার। সবুজকেই তার নানা বেশি পছন্দ করতেন। সবুজ এটাও ভেবেছে যে উত্তরাধিকার যদি শেষ করে দিতে পারি তাহলে তিনি বেশি জমির ভাগিদার হতে পারবেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জায়গা জমি নিয়ে তাদের মধ্যে একটি ক্ষোভ ছিল। হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধরালো অস্ত্রগুলো শাহিনের বাড়ির কাছে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আরেকটি ধারালো ছুরি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ামতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা সবুজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেউ যেন নিরপরাধ মানুষকে কষ্ট না দিতে না পারে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।