খুঁজুন
, ,

কাপ্তাই ইসকনের তীর্থযাত্রার নৌকা ডুবি : ৪দিনপর রাঙ্গুনিয়ায় মিলল নিখোঁজ মা-ছেলের লাশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 February, 2020, 12:26 pm
কাপ্তাই ইসকনের তীর্থযাত্রার নৌকা ডুবি : ৪দিনপর রাঙ্গুনিয়ায় মিলল নিখোঁজ মা-ছেলের লাশ

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : কাপ্তাই কর্ণফুলি নদীতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন)’র তীর্থযাত্রার নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা মা-ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিখোঁজের প্রায় চারদিন পর আজ মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত লাশ দুটি হলো মিরসরাই উপজেলার জোরারগন্জের রাজীব মজুমদার এর শিশু পুত্র বিজয় মজুমদার (৫) এবং তার স্ত্রী টুম্পা মজুমদার (৩০)।

তথ্যটি নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া থাকার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে নদীতে ভাসমান অবস্থায় দুটি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।

এর আগে চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকার রাধামাধব মন্দির থেকে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) ১২৭ জন সদস্য ৩টি বোট যোগে কাপ্তাইয়ের শীলছড়ি ভ্রমনে যায়।

যাওয়ার পথে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কাপ্তাই উপজেলার কেপিএমের কয়লার ডিপো সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে ৪৭ জন তীর্থযাত্রী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। ঘটনার দিন প্রাণ হারিয়েছে চট্টগ্রামের হাজারী গলির রতন দে’র কন্যা দেবলীনা দে (১০)। আরো খবর : ইসকনের তীর্থযাত্রার নৌকাডুবি, এখনও নিখোঁজ মা-ছেলে

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌকাটির সকল যাত্রীকে উদ্ধার করতে পারলেও নিখোঁজ ছিলেন মা ছেলে। দুদিন নদীতে অনেক তল্লাশি চালিয়ে টুম্পা ও তার ছেলের কোনো খোঁজ মেলেনি।

অবশেষে চার দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে ২৭ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে তাদের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন এবং পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।

Feb2
Feb2

সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 July, 2026, 7:27 pm
সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের কৃষিখাত, প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার ও যন্ত্রণার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন। নিজেই একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দেশের অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। সে কারণেই বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের আপামর কৃষকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুতিটি ছিল, যদি দলটি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সব কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার গঠন করার পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম ও প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক, যাদের ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তাদের সুদসহ সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে এর সুফল কৃষকরা ভোগ করতে শুরু করেছেন। সরকার পরিচালনার মূল লক্ষ্যই যে দেশের সাধারণ মানুষ, এই পদক্ষেপ তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদকে জানান, গতকাল যখন একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে তার নিজ এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে তা জানতে চান, তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক পলিসিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।

দেশের ঋণ নির্ভর অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে বদ্ধপরিকর।

‘২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। যেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদানুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুবিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার সফল বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে নতুন করে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আজ সকালেই তিনি প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, তিন বছর আগে দেশের প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপ ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে যে ৩১ দফা রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা আজ দেশের মানুষের মুক্তির সনদে পরিণত হয়েছে। বিগত নির্বাচনে দেশের মানুষ এই ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, যার কারণে এই ৩১ দফা এখন আর কেবল বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, এটি এখন সমগ্র বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি।

একই সঙ্গে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচনের পূর্বে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার অক্ষরে অক্ষরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই সংসদের সব সদস্য এবং দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহীদদের রক্তঋণ শোধ করে বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করে আধুনিকায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 July, 2026, 6:47 pm
চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করে আধুনিকায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, অতীতে বা বর্তমানে এই বন্দরে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়ে থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৫তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বে-টার্মিনাল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক মন্দা এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর চব্বিশ ঘণ্টা সচল ছিল। বিগত দেড় দশকে বন্দরের কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০ সালের সাড়ে চার কোটি টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে ২০২৫ সালে তা ১৩ কোটি ৮১ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংও ১৩ লাখ টিইইউএস থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ লাখ টিইইউএস ছাড়িয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল সচল করা, লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ এবং নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য রক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।

বন্দরকে হয়রানিমুক্ত ও আধুনিক করতে ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে অনলাইনে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, ই-ডেলিভারি অর্ডার, ই-পেমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এছাড়া যানবাহন প্রবেশ সহজ করতে ই-গেট পাস এবং সম্পূর্ণ কাগজবিহীন বন্দর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষায়িত ডিজিটাল উইন্ডো চালু করা হয়েছে। বন্দরের সরঞ্জাম সংকট কাটাতে আগামী অর্থবছর নাগাদ নতুন কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট এবং ভারী ফর্কলিফট সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টার্মিনালটি চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে নাব্যতা সংকটের কারণে বড় মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারে না। বে-টার্মিনাল চালু হলে বড় জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে আসতে পারবে, যার ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যাপক গতি সঞ্চার হবে।

অধিবেশনে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন বিগত সরকারের আমলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের স্ক্যানার মেশিন কেনাকাটায় কয়েকশ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দর জনগণের সম্পদ। এখানে অতীতে যারা অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করে পর্যায়ক্রমে একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সরকারের মেগা উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 July, 2026, 6:37 pm
আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সরকারের মেগা উদ্যোগ

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পর্যটনশিল্পকে ঘিরে একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী ‘মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করছে সরকার। এই খাতকে অর্থনীতির মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে কক্সবাজারসহ দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে তৈরি হতে যাওয়া এই মহাপরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই আগামীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদকরণের কাজও সমানতালে এগিয়ে চলছে। দেশের পর্যটন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, এর ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন পর্যটন গন্তব্য চিহ্নিতকরণের কাজ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

কক্সবাজারকে বিশ্বমানের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন ১৩২.৪৪ একর জমিতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ তথা পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হবে। শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য কক্সবাজারের মোটেল লাবনী কমপাউন্ডে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

এর পাশাপাশি কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনা জেলায় পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্মাণের প্রক্রিয়াটি অনেকটাই এগিয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ কর্তৃক এই প্রকল্পগুলোর ডিমান্ড অ্যাসেসমেন্ট এবং মার্কেট স্টাডি মূল্যায়ন কার্যক্রম ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রবাসীদের হয়রানির জটলা কাটাতে সরকারের যৌথ উদ্যোগ
সরকারপ্রধান বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত ও তথ্য প্রাপ্তি সহজ করতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আধুনিক ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পর্যটনসংক্রান্ত তথ্য ও প্রচারের সুবিধার্থে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির এলইডি বোর্ড বসানো হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনবহুল স্পটগুলোতে বিশেষ ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হয়েছে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সিসি ক্যামেরা সংযোজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া পর্যটন আকর্ষণ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাকরণ এবং বিশ্বদরবারে দেশের রূপ তুলে ধরতে ভার্চ্যুয়াল ট্যুর প্রস্তুত ও প্রচারের কাজ চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করার জন্য সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পিপিপির আওতায় বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম এবং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের টেকসই বিকাশের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ এবং পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণকে বিপণন করা হচ্ছে।

সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ট্যুর অপারেটর, পর্যটন উদ্যোক্তা, বিনোদন পার্ক কর্মী, আবাসন কর্মী ও পরিবহনকর্মীদের জন্য নিয়মিত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশনাল শেফ কোর্স, ফ্রন্ট অফিস, হাউসকিপিং এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিসের মতো পেশাদার কোর্স নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ট্যুর গাইডকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশায় রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক, এথনিক ও ইকো-ট্যুরিজম সাইটসমূহের জন্য দক্ষ গাইড তৈরির বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক ১০১ জনকে সফলভাবে পেশাদার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাতকে আধুনিক, সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী একটি শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।