খুঁজুন
, ,

চবির আবাসিক হলে নিম্নমানের খাবার খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 February, 2020, 2:20 pm
চবির আবাসিক হলে নিম্নমানের খাবার খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

মেহেদী হাসান,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলগুলোতে নিম্নমানের খাবার খাচ্ছে আবাসিক শিক্ষার্থীসহ হলে খেতে আসা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, শিক্ষার্থীরা অনেক দিন ধরেই খাবার সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই খাবারের গুণগত মান ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণত হলগুলোতে ভাত, ডাল, মাংস, মাছ, ডিম এবং বিভিন্ন ধরণের সবজি রান্না করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মোটা চালের ভাত রান্না করা হয় সবসময় আর যে চাল দিয়ে ভাত রান্না করা হয় তা গুণগত মানসম্পন্ন না হওয়ায় খাবারে কোন স্বাদ পাওয়া যায় না। অনেক সময় ভাত দিয়ে দুর্গন্ধ বের হয় আবার কখনো দাঁতের মাঝে চলে আসে ঝিল-পাথর। শাক-সবজি, মাছ, মাংস খাওয়ার সময়ও খাবারের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। স্বাদহীন খাবার ছাড়া অন্য একটি সমস্যা হলো ভাত আর ডাল ছাড়া আর সবকিছুই পরিমাণে অনেক কম।

পরিমাণে কম ও স্বাদহীন খাবারের সাথে আরও একটি অভিযোগ হচ্ছে পঁচা খাবার। অনেক শিক্ষার্থীই অভিযোগ করেন হলের ডাইনিং এ অনেক সময় বাশি পচা খাবার দেওয়া হয়। আগের দিনের রাতের খাবার অনেক সময় পরের দিন দুপুরে দেওয়া হয়। যেটা একদমই খাওয়ার উপযুক্ত থাকে না।

এমনসব খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের পেট তো ভরেই না বরং তার সাথে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। ফলস্বরূপ, অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের ডাইনিং এ খাবার না খেয়ে বাইরের হোটেলে খাবার খেয়ে থাকেন। এতে করে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হয়।

সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রুপম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এখানকার হলগুলোতে খুবই নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি খাবার স্বাদহীনভাবে রান্না করা হয়। একারণে আমি বাইরে থেকে খাবার খায়। যার জন্য আমাকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়।

আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এমদাদুল হক বলেন, আমি একজন ক্রীড়াবিদ। খেলাধুলা ও পড়াশোনা করতে হলে অবশ্যই আমাকে স্বাস্থ্যবান হতে হবে। কিন্তু এখানে যে খাবার দেওয়া হয় তা আমার স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযুক্ত নয়।

শাহজালাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কাকন দে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত পরিবারের। বাইরের হোটেল থেকে খাবার খাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব না। আমাদের একমাত্র ভরসা হলের ডাইনিং। কিন্তু সেখানে মানসম্মত খাবার পাই না।

শিক্ষার্থীদের দাবি অতি শীঘ্রই যেন খাবারের মান ভালো করা হয়। যেন তারা সুস্বাদু খাবার গ্রহণ করে সুস্থ থেকে এখানে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে।

আলাওল হলের ডাইনিং ম্যানেজার ইকবাল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আমরা ভাল মানের খাবার পরিবেশন করি। আমরা পচা খাবার কখনোই পরিবেশন করি না। এখানে খাবারের খরচ মাত্র ২০-২৫ টাকা। এত কম টাকায় ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা খুব কঠিন। টোকেনের দাম বাড়ালে আমরা শিক্ষার্থীদের উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করতে সক্ষম হবো।

আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুল হক এ বিষয়ে বলেন, বাজেট কম হওয়াতে আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো মানের খাবার সরবরাহ করতে পারি না। আমিও খাবারের মান বাড়াতে চাই। আমি ডাইনিং ম্যানেজারের সাথে কথা বলেছি এবং তাদের পচা খাবার পরিবেশন না করার কথা বলেছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বিষয়ে তাদের সাথে আবার কথা বলব। আমি আশা করি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান হবে।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।