খুঁজুন
, ,

হারিয়ে যাচ্ছে কিশোর কিশোরীদের পুতুল খেলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 February, 2020, 3:08 pm
হারিয়ে যাচ্ছে কিশোর কিশোরীদের পুতুল খেলা

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ‘চিরা কুটি কুটি/ আজ ফুতলির বিয়া/ ফুতলিরি নিয়া যাবে/ ঢাকে বাড়ি দিয়া/ ফেসী কান্দে ওসী কান্দে/ কান্দে মাইয়ার মা/ হোলা বিড়াল/ কাইন্দা মরে/ ঢোক মেলায় না।’ এমনই ছড়া কেটে কেটে শিশুদের পুতুল-আড্ডায় কয়েকজন হেসে ওঠে আর কয়েকজন পুতুলের সাথে কথা বলতে থাকে। এমন দৃশ্য এখন মা, বাবা, দাদা, দাদীদের প্রায় শুধু স্মৃতিচারণের বিষয়।

পুতুলের বর-কনে, সখা, সখিদের জায়গায় শিশুদের হাতে এখন স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশনের রিমোট। যেগুলো হয়ে উঠছে মাদকের মতো আসক্তিময়। শহরের অবস্থা আরও ভয়াবহ, শিশুরা সঙ্গী পাচ্ছে না, খেলার মাঠ পাচ্ছে না। সংকীর্ণ ঘরে মনও হয়ে উঠছে সংকীর্ণ হয়ে।

এমনও দেখা যায়, ফোন হাতে না দিলে ভাত খাবে না, উচ্চস্বরে কেঁদে উঠবে। প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে তোলা যন্ত্রসমূহ শিশুদের করে তুলছে একে অপরের থেকেও বিচ্ছিন্ন। যেখানে পুতুল খেলার মতো বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো শেখায় পারস্পারিক সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব, মানবিক সম্পর্কের গভীরতা, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিসমূহ কেড়ে নিচ্ছে মহৎ গুণাবলিসমূহ। হয়ে উঠছে ভিডিও গেমের যুদ্ধের মতো সংঘর্ষপ্রবণ। গড়ে উঠছে ভার্চুয়াল জগতের কৃত্তিম মানুষের মতো রোবটসদৃশ।

ইচিং বিচিং, ওপেন টু বাইস্কোপ, পুতুল খেলা, কড়ি খেলা, কানামাছি, লাঠি খেলা, কাবাডি, কুতকুত, গোল্লাছুট, বউচি, জব্বারের বলীখেলা, টোপাভাতি, ডাংগুলি, দাড়িয়াবান্ধা, নুনতা খেলা, ফুল টোকা, বাঘ ছাগল খেলা, মার্বেল খেলা, মোরগ লড়াই, লাটিম, লুডু, ষোল গুটি, এক্কাদোক্কা, ঘুড়ি উড়ানো, পানিঝুপ্পা, গোলাপ-টগর, রুমাল চুরি ইত্যাদি নামসমূহ শিহরণ জাগানোর মতো খেলার নাম। এদের মধ্যে পুতুল খেলা একটি উল্লেখযোগ্য নাম।

এ খেলা গ্রাম বাংলার শিশুদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। এটি সাধারনত মেয়েরা বেশি খেলে থাকে। বাংলার সর্বত্রই পুতুল খেলা সমান জনপ্রিয়। পুতুল খেলেনি এমন মেয়ে বাংলায় নেই বললেই চলে। বর্তমানে পুতুল শৌখিন মানুষের সংগ্রহেরও বস্তু।

গ্রামবাংলার বিভিন্ন মেলায় যেমন বৈশাখী মেলা, রথের মেলা, শিবরাত্রি, দশহারার মেলা, পৌষ সংত্রুান্তি ও নানা পাবর্ণে হরেক রকমের পুতুল পাওয়া যেত, এখন প্রায় শুধু প্লাস্টিকের পুতুলের চল হয়েছে।

অবুঝ আতিথেয়তার খেলায় মেতে উঠে গ্রামের সহজ সরল শিশুরা। কল্পনা থেকে বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার প্রতিভাই হচ্ছে পুতুলের বিয়ে খেলা। সাধারণত কোমল হাতের স্পর্শে দর্জির কাছ থেকে টুকরা কাপড় দিয়ে বা কলা গাছের ডোগোল দিয়ে তৈরি করে ছেলে-মেয়ে, বর-কনের মতো হরেক রকম পুতুল।

রান্না-বান্না, সন্তান লালন-পালন, মেয়ে পুতুলের সাথে ছেলে পুতুলের বিয়ে ইত্যাদি নানা বিষয়ের অভিনয় করে খেলা হয় পুতুল খেলা। আসলে পুতুল খেলার মধ্যে পুরো সংসারের একটা প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।

পুতুলের মধ্য দিয়ে মিছেমিছি বিয়ে খেলায় ব্যস্ত থাকে গ্রামীন সরল শিশুরা। নিজেদের মতো করে পছন্দের খেলার সাথীর পুতুলের সাথে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয় ঘটকের মাধ্যমে। প্রথা অনুযায়ী বর বা কনে পক্ষের বাড়িতে সওদা পাঠায় । অবুঝ শিশুদের মধ্যে আতিথেয়তার মান অভিমানও সৃষ্টি হয়।

পরম আত্মীয়তার সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে তারা। আর এ সম্পর্কের টানে জড় বস্তুর প্রেমে আকৃষ্ট হয় জীবজগৎ। জীবজগতে প্রত্যেক জীব বৈচিত্র্যময় সম্পর্ক জালে আবদ্ধ। কেউ সাজে পুতুলের মা আবার কেউবা বাবা। মাসি-পিসি, ভাই-বোন, ননদি-দেবর, শ্বশুর-শ্বাশুরী সকলেই মমতাময়ীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয় ।গর্ভধারীনী মা ও বাবার মতো কর্তব্য পালন করে পুতুলের বাবা-মা। পুতুলকে বিবাহ দেওয়া থেকে যাবতীয় কর্তব্য পালন করে ।

এই মিছেমিছি সম্পর্কের খেলায় গড়ে ওঠে গ্রাম-গ্রামান্তরের ছেলে-মেয়ের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ গভীর সম্পর্ক। যা জাতি ধর্ম-বর্ণের গন্ডি ভেঙ্গে চুরমার করে। ফলশ্রুতিতে পৃথিবী হয়ে উঠে অতিথেয়তার চারণভূমিরূপে।

এখন এই শিশুরাই হয়ে উঠছে নিষ্ঠুর প্রতারক এক যন্ত্র, হারিয়ে ফেলছে মানবতা। এখন কারো কষ্টে তাদের মন গলে না। সামান্য পুতুল ভেঙ্গে গেলে তারা কেঁদে ফেলতো পুতুলের মায়ায়, তাই পল্লী কবি জসীম উদ্দীন তার কবর কবিতায় লিখেছেন, ‘এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।’ যান্ত্রিক খেলনা শুধু শিশুর মনকে গ্রাস করে ফেলছে না, শারীরিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন মাহবুবের রহমান শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 1:45 pm
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন মাহবুবের রহমান শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৮২ক(১) অনুযায়ী জেলা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

বিধি অনুযায়ী তিনি ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

সরকারের আগাম পদক্ষেপে বন্যায় কম ক্ষতি হয়েছে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 1:29 pm
সরকারের আগাম পদক্ষেপে বন্যায় কম ক্ষতি হয়েছে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন সরকারের আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের কথা চিন্তা করে আজ থেকে সরকারের বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়েছে। এতে স্বল্প মূল্যে হতদরিদ্র মানুষ খাদ্য সহায়তা পাবে।

রবিবার (১৯ জুলাই) খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় বন্যা পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান সকল জনগোষ্ঠীকে রংধনুর বাংলাদেশ গড়তে চাই বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেইনবো জাতি গঠনে যে স্বপ্ন দেখছেন তাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে।’

এসময় তিনি জেলার মহালছড়ির চোংড়াছড়ি, পাকুজ্জাছড়ি, মাইসছড়িতে বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করেন।

এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা ও জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত, বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

শাপলা চত্বর হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, আসামি শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 1:04 pm
শাপলা চত্বর হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, আসামি শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন। প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের নামও রয়েছে। সেই সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ ও র‌্যাব প্রধানসহ ডিএমপি কমিশনারকেও এতে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি হাতে পায় প্রসিকিউশন।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেটি পর্যালোচনার কাজ চলছে।

আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এছাড়া এ মামলার তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে কিছুক্ষণ পর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের মামলার অগ্রগতি জানতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এসেছেন দলটির শীর্ষ নেতাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল। রোববার সকালে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর সাহেব) নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে শাপলা চত্বর খালি করে। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।