খুঁজুন
বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পুকুর খনন শিখতে বিদেশ যাবেন ১০০ কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পুকুর খনন শিখতে বিদেশ যাবেন ১০০ কর্মকর্তা

এবার সরকারি ১০০ কর্মকর্তা পুকুর ও খাল উন্নয়ন শিখতে বিদেশ সফরে যাবেন। তাদের প্রশিক্ষণের নামে এ সফর বাবদ সরকারের ব্যয় হবে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তবে অনুমোদিত মূল প্রকল্পে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য ২৪ জনের কথা বলা ছিল। সেখানে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এখন নতুন করে ৭৬ জন কর্মকর্তা যোগ করার প্রস্তাব দেয়ায় বাড়তি ৬ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া বাড়ছে পরামর্শকের সংখ্যা ও এ খাতের ব্যয়ও। সেইসঙ্গে নানা কারণে বাড়ছে প্রকল্পের মোট ব্যয়।

‘সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে উঠে এসেছে এসব তথ্য। আগামী ৮ মার্চ এই প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা।

এতে সভাপতিত্ব করবেন কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ। এর আগে ‘পুকুর পুনঃখনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচে ব্যবহার’ নামের একটি প্রকল্পে ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

জানতে চাইলে জাকির হোসেন আকন্দ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, পিইসি সভায় এ বিষয়টি যুক্তিযুক্তভাবেই বিবেচনা করব। ‘নিড বেইজ’ চিন্তা করা হবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলেই সেই সংশ্লিষ্টদের বিদেশ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রয়োজন ছাড়া দেয়া হবে না।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা উইংয়ের প্রধান জয়েন্ট চিফ মহিউদ্দিন কাদরী জানান, বিষয়টি সেরকম নয়। শুধু যে পুকুর খনন বা খাল উন্নয়ন শিখতে বিদেশে প্রশিক্ষণে কর্মকর্তারা যাবেন তা নয়।

এ খাতে বরাদ্দ ধরা থাকলে দেশের জাতীয় স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে ইঞ্জিনিয়াররা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে যাওয়ার দরকার হলে এখান থেকে টাকা খরচ করা যায়। সেই চিন্তা করেই বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

পিইসি সভার জন্য তৈরি করা কার্যপত্রে বলা হয়েছে,মূল প্রকল্পে ৫ জন পরামর্শকের জন্য ব্যয় ধরা ছিল ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীতে পরামর্শক সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯ জন করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। যেটি মূল প্রকল্পের তুলনায় ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা বেশি।

কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সেখান থেকে ৯১৯ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার ২৫৪ কোটি ৬৯১ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ছে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। সেই সঙ্গে মেয়াদও বাড়ছে এক বছর।

২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এখন প্রথম সংশোধনীতে প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। এটি ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয় দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তব অগ্রগতি প্রায় ২ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে আরও কম ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পটির সশোধনীর ক্ষেত্রে বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-খাল বা পুকুর ডিজিটাল জরিপ ও ডাটা প্রসেসিংসহ আনুষঙ্গিক কার্যাবলি সমাপ্ত করতে মূল প্রকল্পে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও উপজেলা পর্যায়ে জনবলের অপ্রতুলতা।

এছাড়া খালগুলোর মূল এ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন, পুকুরের মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই, হাইড্রোলিক ডিজাইন ও হাইড্রোলজিক্যাল বিষয়াদি, খনন করা মাটির পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বা পরামর্শকের অভাব রয়েছে। আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রকল্পে স্কিম ও নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তিসহ মূলধন ও রাজস্ব খাতে কিছু অঙ্গে পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস/বৃদ্ধির করা হচ্ছে। এসব কারণেই প্রকল্প ব্যয় ৬৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করে প্রকল্পটি সংশোধন করা হচ্ছে।

পিইসি সভার কার্যপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় এর আওতায় পুকুর পুনঃখননের জন্য প্রস্তাবিত পুকুর/দিঘি/খালসমূহ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা হবে না বলে জানানো হয়। এক্ষেত্রে মামলাবিহীন, ইজারাবিহীন বা বেদখল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কোনো ধরনের জটিলতা হবে না বলে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু এ পর্যায়ে এসে আবারও সেসব বিষয় প্রকল্প সংশোধনের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর দিঘিতে ৯৩৮টি ঘাটলা নির্মাণ বা মেরামতের লক্ষ্য নেয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের জুন পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ১৬টি ঘাটলা।

এ অবস্থায় প্রথম সংশোধনীতে ৯৩৮টি ঘাটলার অতিরিক্ত ১ হাজার ৫৬২টি ঘাটলা নির্মাণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। ফলে মোট ঘাটলার সংখ্যা হবে ২ হাজার ৫শটি। এছাড়া পথচারী বা যানবাহন পারাপারে ২ হাজার ৪শ’ মিটার ক্ষুদ্রাকার সেতু বা ওভারপাস নির্মাণ কার্যক্রম নতুনভাবে যোগ করে এ খাতে ১২০ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এসব আইটেমের পরিমাণ ও ব্যয় যৌক্তিকভাবে পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশন আরও বলেছে, এর আগে জেলা পরিষদের আওতায় ১ হাজার ৭০০টি পুকুর শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর ব্যবহার উপযোগিতা বৃদ্ধির জন্য নিম, সুপারি,তাল ও নারিকেলসহ বিভিন্ন বৃক্ষ রোপণের জন্য একনেকের নির্দেশনা ছিল।

কিন্তু সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকার খাল, পুকুর, দিঘির পাড়ে ওয়ার্কওয়ে, সিটিং, পার্কিং ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান অর্থাৎ সৌন্দর্য বর্ধন কার্যক্রম নতুনভাবে যোগ করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা।

বাদ দেয়া হয়েছে বৃক্ষ রোপণের প্রস্তাব, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আরও বিভিন্ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। পিইসি সভায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলে জানান কমিশনের কর্মকর্তারা।

Feb2

মা-বাবাকে ভুলিয়ে দেওয়া ‘সফলতা’ আমাদের প্রয়োজন নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মা-বাবাকে ভুলিয়ে দেওয়া ‘সফলতা’ আমাদের প্রয়োজন নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

রাজধানীর মিরপুরে উচ্চশিক্ষিত তিন সন্তানের জননী নুরজাহান বেগমের (৭২) পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি বিবেকবান মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সন্তানেরা বুয়েট শিক্ষক, যুগ্মসচিব ও কানাডা প্রবাসী হওয়ার পরও শেষ বয়সে মায়ের এমন করুণ পরিণতিতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, “সাত-আট দিন আগে যে বৃদ্ধা মরে পচে গেছেন, তার এক ছেলে বুয়েট শিক্ষক, আরেকজন যুগ্মসচিব, অন্যজন কানাডা-প্রবাসী। বাবার-মা সন্তানকে যে সফলতার স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, তাদের তিন ছেলেই সেই চূড়া স্পর্শ করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে মা বেঁচে আছেন না মরে গেছেন, সেই খোঁজ নেওয়ার সুযোগটুকুও সন্তানদের হয়নি।”

বস্তুগত সফলতার অসারতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, “যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসাকে ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময় মায়ের মাথার কাছে এক আঁজলা পানি নিয়ে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।”

তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যতদিন আমরা শুধু বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, ততদিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে। আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।”

রোববার (১ জুন) গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, প্রায় সাত থেকে আট দিন আগেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ না নেওয়া এবং পারিবারিক চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে মর্যাদাপূর্ণ বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, তিনি বিশ্বমঞ্চে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নয়, বরং সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিজের দায়িত্বকালীন সময়ে সকল সদস্য দেশকে সমানভাবে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত কোনো মতামতকে তিনি প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) হিসেবে নিজের পেশাগত কাজে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করতে দেবেন না।

মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক এই নির্বাচনে জয়লাভের পর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রদত্ত এক আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে পরাজিত করে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান লাভ করেন ৯৯টি ভোট এবং তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেজ কাকাউরিস পান ৯১টি ভোট। ফলে ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পেছনে ফেলে গৌরবময় এই জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। আগামী এক বছর অর্থাৎ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনজুড়ে তিনি এই সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।

জাতিসংঘের ওপর বিশ্ববাসীর আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি তাঁর বক্তব্যে ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে এসে তার নবম দশকে পদার্পণ করছে, যখন বিভিন্ন দিক থেকে এই বিশ্ব সংস্থার কার্যকারিতা ও আস্থার জায়গাটি বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন। যে সংস্থার মূল লক্ষ্যই ছিল পরবর্তী প্রজন্মকে সংঘাত আর যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা, বর্তমান সময়ে এসেও সেই যুদ্ধ ও সংঘাত বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখে ফেলছে।

খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, বহুপাক্ষিকতা যখন নানাবিধ প্রতিকূল চাপের মুখে রয়েছে এবং আর্থিক সংকটের কারণে সংস্থাটি তার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই এই বৈশ্বিক সংকটগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নিজের কাজের প্রতি সম্পূর্ণ একাগ্র থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিশেষ করে জাতিসংঘে যেসব দেশের প্রতিনিধিদল বা মিশন আকারে ছোট, তাদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করাকে তিনি নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবেন বলে জানান।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, আগামী অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তিনি তাঁর ভিশন স্টেটমেন্ট বা দূরদর্শী ইশতেহারে উল্লিখিত প্রধান ছয়টি অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করবেন। এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিতকরণ; জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ; মানবাধিকার রক্ষা, মানবিক কর্মকাণ্ড, শরণার্থী ও অভিবাসী ইস্যু পরিচালনা; ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য বহুপাক্ষিকতা, ইউএন ৮০ সংস্কার ও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে মার্কেট-শপিংমল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে মার্কেট-শপিংমল

দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম আরও জোরদার ও কার্যকর করতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সব শপিংমল, বিপণিবিতান, মার্কেট ও খুচরা দোকানপাট আবারও প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে খোলা রাখার যে বিশেষ সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ সোমবার (১ জুন) থেকে নতুন করে এই নির্দেশনা পুরো দেশে কার্যকর করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। এই বিশেষ নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে সরকারি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সফলভাবে কার্যকর ছিল। তবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপুল পরিধি ও সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়েছিল।

নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ঈদ উৎসব ও উৎসব-পরবর্তী বিশেষ সুবিধার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে আবারও সরকারের আগের মূল সিদ্ধান্তটি পুনর্বহাল করা হলো। এর ফলে এখন থেকে রাত ১০টার পরিবর্তে দেশের সব ধরণের ছোট-বড় শপিংমল, সুপার শপ, মার্কেট ও কাঁচাবাজারকে ঠিক সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে তাদের সব ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ অপচয় রোধ ও সাশ্রয় নিশ্চিত করতে শপিংমলের পাশাপাশি আরও কিছু কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নতুন আদেশ অনুযায়ী, দেশের সব ধরনের বাণিজ্যিক বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপনের ডিজিটাল আলোকসজ্জা প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় মেলা, জাতীয় বাণিজ্য মেলা এবং যেকোনো ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা কনসার্টও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনাটি শতভাগ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।