খুঁজুন
, ,

দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 13 December, 2019, 12:55 am
দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাসহ সকল সরকারি চাকরিজীবিদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যাপারে আপনাদের সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। এই সব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি অনেক সময় আমাদের সমাজকে ধ্বংস ও উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। তাই আপনাদের এ ব্যাপারে গণ সমচেতনা সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিসিএস অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন অ্যাকাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম বিসিএ প্রশাসন ও আইন কোর্স এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাদের বলবো জনগণের ট্যাক্স এবং কৃষক-শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের কল্যাণে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাই তাদের এই পরিশ্রমলব্ধ অর্থের যেন যথাযথ ব্যবহার হয় এবং সুপরিকল্পিত ও সাশ্রয়ীভাবে যেন উন্নয়নমূলক কর্মকা-গুলো সম্পন্ন হয় সেদিকে আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতার সাথে কাজ করার জন্য নতুন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের একথা মনে রাখতে হবে যে এ দেশে আমাদের এবং আপনাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এখানেই বাস করবে। তাই আপনাদের এ কথাও মাথায় রাখতে হবে যে আপনারা আপনাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছেন। আপনারা যদি এই চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ লালন করে কাজ করেন, তবে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির মূল উৎপাটনের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি তাদেরকে আরো বেশি উদ্ভাবনীর পরিকল্পনার সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারা তাদের এলাকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন এবং তাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আপনারা প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এলাকাগুলোর উন্নয়ন আপনাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে। তাই দেশের জন্য ভালবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার সাথে এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রশাননের নবীন কর্মকর্তাদের স্মরন করিয়ে দেন যে, জনগণই দেশের মালিক।

তিনি বলেন, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, এই জনগণের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

আমরা যেমন আমাদের পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল, এই চিন্তা চেতনা নিয়ে তেমনি দেশের জনগণের জন্যও আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
শেখ হাসিনা নবীন কর্মকর্তাদের শপথকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন এবং নিয়মিতভাবে এই শপথ অনুসরন করতে তাদের প্রতি পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, শপথের প্রতিটি বাক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি শুধু পাঠ করলেই চলবে না, এটি চর্চাও করতে হবে। আমরা চাই আপনারা তা করবেন।

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যখন মাঠ পর্যায়ে বড় দায়িত্ব পালন করবেন, তখন আপনাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে যাবে।

শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতির উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার ২০১০-২০২০ সাল পযর্ন্ত মেয়াদে ১০ বছরের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহন করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এখন দেশের আরো উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০ বছর মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা কৌশলপত্র (২০২১-২০৪১) প্রণয়ন করেছি। আজকের তরুন অফিসাররা একদিন সিনিয়র অফিসার হবেন। সে সময়ে তাদেরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে তাদেরকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
সততার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবেলা এবং চ্যালেঞ্জে বিজয় লাভ করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সৎ পথে ছিলাম বলে এই অভিযোগ আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। আমরা সততার সঙ্গে অগ্রসর না হলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে পারতাম না।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের কিছু লোকের উস্কানির কারণে বিশ্ব ব্যাংক এসব অভিযোগ এনেছিল।

তিনি আরো বলেন, যারা বিশ্ব ব্যাংককে দিয়ে এসব অভিযোগ করিয়েছিল, তারা আমার হাত থেকে লাভবান হয়েছিল। আমি তাদেরকে গ্রামীন ফোনের ব্যবসা দিয়েছিলাম। আমি ১৯৮৫-৮৬ সালে গ্রামীন ব্যাংকের পক্ষে প্রচারনা চালিয়েছিলাম এবং আমার সরকার জাতিসংঘে গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারনার ওপর প্রস্তাব পেশ করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে এটি পাস করতে সাহায্য করেছিল।

সেই লোকই গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের জন্য পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন তহবিল বন্ধ করতে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য এতোটা লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ি একজন এমডি কেবল ৬০ বছর বয়স পযর্ন্ত তার পদে থাকতে পারেন। অথচ সে সময়ে এই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন অবৈধভাবে পদ আকড়ে থাকায় বাধা সৃষ্টি করলো, তখনি পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কারণ তিনি ছিলেন হিলারির বন্ধু।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দু’জন খ্যাতিমান সম্পাদকও সে সময়ে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থসহায়তা বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তখন এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। আমি তখন বললাম কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার লক্ষ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের ধারনা বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তারা ধারণা করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ যদি ইচ্ছা করে তাহলে পারে এবং আমরা তাই করেছি।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারিদের কল্যাণে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাদেরকে সুবিধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা ভাল কাজ করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে আমরা জনপ্রশাসন পদক চালু করেছি। এর উদ্ধেশ্য হচ্ছে, আমরা চাই তারা দেশ ও দেশের জনগণের জন্য বেশি করে কাজ করুক, আমার জন্য নয়।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হাসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচএন আশিকুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর কাজী রওশন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। রেক্টর অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তিন কোসের্র তিন তরুন কর্মকর্তা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

Feb2
Feb2

বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধীদের আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ত্রাণ নিয়ে হাজির মানবিক ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 8:28 pm
বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধীদের আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ত্রাণ নিয়ে হাজির মানবিক ডিসি

একটি লিখিত আবেদন হাতে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ২০০ জন বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করলেন সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুধু বরাদ্দ অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও নিজে উপস্থিত থেকে তাঁদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক প্রশাসনের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নগরীর লালখানবাজারস্থ শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ২০০ জন বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক সেবামূলক সংস্থা ডিজএ্যাবল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ডিডিআরসি)-এর নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও যুবকদের অনেকেই সাধারণ ত্রাণকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাঁদের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

আবেদন পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী মানুষ। তাই তাঁদের বিষয়ে আবেদন পাওয়ার পর তিনি মনে করেছেন, দেরি না করে দ্রুত তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই প্রশাসনের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করেছে। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টার ফলেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের বাদ দিয়ে কখনোই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেবায় তাঁদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক সাড়ার প্রশংসা করে বলেন, আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক সঙ্গে সঙ্গেই সহায়তার আশ্বাস দেন এবং ব্যস্ততার মধ্যেও নিজে উপস্থিত হয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। মানুষের কল্যাণে তাঁর আন্তরিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বিতরণ করা ২০০টি ত্রাণ প্যাকেটের প্রতিটিতে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি চিনি, ফ্যামিলি সাইজ বিস্কুট, ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, লাইটার, ওরস্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিডিআরসি এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ধারাবাহিকভাবে মাঠে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। উদ্ধার, আশ্রয়, চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য পৃথক সহায়তার এই উদ্যোগকে মানবিক প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিশু আয়নী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 8:12 pm
শিশু আয়নী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় নয় বছরের শিশু আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা ও লাশ গুমের আলোচিত মামলায় আসামি মো.রুবেলকে (৩৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত আসামি মো. রুবেলকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেন।

এছাড়া অন্য একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় তার মা পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয়দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির ব্যবহৃত পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

লাশ উদ্ধারের পর আয়নীর মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

তবে বিচার চলাকালে মামলার নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ধর্ষণের অভিযোগের পরিবর্তে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বিচারকার্য পরিচালনা করেন। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে রুবেল শিশুটিকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে ডোবায় ফেলে দেন। গ্রেপ্তারের থেকে আসামি রুবেল কারাগারে রয়েছেন।

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভেজাল উৎপাদন : ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 7:58 pm
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভেজাল উৎপাদন : ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

আইসক্রিম থেকে প্রসাধনী- জনপ্রিয় চার প্রতিষ্ঠানের আটটি পণ্যে মিলেছে স্বাস্থ্যঝুঁকি পূর্ণ উপাদান। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কোনো পণ্যে মিলেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, কোনো পণ্যে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, আবার কোনো পণ্যে পাওয়া গেছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের ঘাটতি। এমন পরিস্থিতিতে এসব পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

একইসঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন নতুন করে ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের ‘আমের আচার’-এ অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। সাধারণ মানুষের পছন্দের ব্র্যান্ড কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিখ্যাত ‘বেলিসিমো’ ব্র্যান্ডের ‘রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট’ আইসক্রিমে দুধের চর্বিহীন কঠিন অংশ বা টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাটের পরিমাণ দেশের নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে ভীতিজনক তথ্য মিলেছে প্রসাধন পণ্যে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘লাবণ্য’ ব্র্যান্ডের স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ ও শ্যাম্পুতে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া গেছে লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, এলোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী ফেসওয়াশ এবং অ্যালোভেরা ভেরিয়েন্টের শ্যাম্পুতে।

এছাড়া ডেকো ফুডস লিমিটেডের ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ স্বাদের সফট ড্রিংক পাউডারে আবার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া গেছে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম।

ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসটিআই দেশের সব ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের বাজার থেকে এসব পণ্য অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

এই নির্দেশ ঠিকঠাক পালন করা হচ্ছে কিনা তা মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে তদারকি করা হবে এবং কোনোরকম গাফিলতি বা আইন অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ক্রেতাদের বিশেষভাবে সতর্ক করে বিএসটিআই’র মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক জানান, যে কোনো পণ্য কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআই’র লোগো, লাইসেন্স নাম্বার, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ভালো করে দেখে নিতে হবে। পণ্যের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ বা জালিয়াতির প্রমাণ পেলে দ্রুত বিএসটিআই কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।