খুঁজুন
শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাসহ সকল সরকারি চাকরিজীবিদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যাপারে আপনাদের সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। এই সব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি অনেক সময় আমাদের সমাজকে ধ্বংস ও উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। তাই আপনাদের এ ব্যাপারে গণ সমচেতনা সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিসিএস অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন অ্যাকাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম বিসিএ প্রশাসন ও আইন কোর্স এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাদের বলবো জনগণের ট্যাক্স এবং কৃষক-শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের কল্যাণে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাই তাদের এই পরিশ্রমলব্ধ অর্থের যেন যথাযথ ব্যবহার হয় এবং সুপরিকল্পিত ও সাশ্রয়ীভাবে যেন উন্নয়নমূলক কর্মকা-গুলো সম্পন্ন হয় সেদিকে আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতার সাথে কাজ করার জন্য নতুন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের একথা মনে রাখতে হবে যে এ দেশে আমাদের এবং আপনাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এখানেই বাস করবে। তাই আপনাদের এ কথাও মাথায় রাখতে হবে যে আপনারা আপনাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছেন। আপনারা যদি এই চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ লালন করে কাজ করেন, তবে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির মূল উৎপাটনের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি তাদেরকে আরো বেশি উদ্ভাবনীর পরিকল্পনার সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারা তাদের এলাকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন এবং তাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আপনারা প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এলাকাগুলোর উন্নয়ন আপনাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে। তাই দেশের জন্য ভালবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার সাথে এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রশাননের নবীন কর্মকর্তাদের স্মরন করিয়ে দেন যে, জনগণই দেশের মালিক।

তিনি বলেন, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, এই জনগণের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

আমরা যেমন আমাদের পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল, এই চিন্তা চেতনা নিয়ে তেমনি দেশের জনগণের জন্যও আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
শেখ হাসিনা নবীন কর্মকর্তাদের শপথকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন এবং নিয়মিতভাবে এই শপথ অনুসরন করতে তাদের প্রতি পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, শপথের প্রতিটি বাক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি শুধু পাঠ করলেই চলবে না, এটি চর্চাও করতে হবে। আমরা চাই আপনারা তা করবেন।

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যখন মাঠ পর্যায়ে বড় দায়িত্ব পালন করবেন, তখন আপনাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে যাবে।

শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতির উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার ২০১০-২০২০ সাল পযর্ন্ত মেয়াদে ১০ বছরের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহন করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এখন দেশের আরো উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০ বছর মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা কৌশলপত্র (২০২১-২০৪১) প্রণয়ন করেছি। আজকের তরুন অফিসাররা একদিন সিনিয়র অফিসার হবেন। সে সময়ে তাদেরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে তাদেরকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
সততার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবেলা এবং চ্যালেঞ্জে বিজয় লাভ করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সৎ পথে ছিলাম বলে এই অভিযোগ আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। আমরা সততার সঙ্গে অগ্রসর না হলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে পারতাম না।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের কিছু লোকের উস্কানির কারণে বিশ্ব ব্যাংক এসব অভিযোগ এনেছিল।

তিনি আরো বলেন, যারা বিশ্ব ব্যাংককে দিয়ে এসব অভিযোগ করিয়েছিল, তারা আমার হাত থেকে লাভবান হয়েছিল। আমি তাদেরকে গ্রামীন ফোনের ব্যবসা দিয়েছিলাম। আমি ১৯৮৫-৮৬ সালে গ্রামীন ব্যাংকের পক্ষে প্রচারনা চালিয়েছিলাম এবং আমার সরকার জাতিসংঘে গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারনার ওপর প্রস্তাব পেশ করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে এটি পাস করতে সাহায্য করেছিল।

সেই লোকই গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের জন্য পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন তহবিল বন্ধ করতে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য এতোটা লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ি একজন এমডি কেবল ৬০ বছর বয়স পযর্ন্ত তার পদে থাকতে পারেন। অথচ সে সময়ে এই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন অবৈধভাবে পদ আকড়ে থাকায় বাধা সৃষ্টি করলো, তখনি পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কারণ তিনি ছিলেন হিলারির বন্ধু।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দু’জন খ্যাতিমান সম্পাদকও সে সময়ে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থসহায়তা বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তখন এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। আমি তখন বললাম কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার লক্ষ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের ধারনা বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তারা ধারণা করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ যদি ইচ্ছা করে তাহলে পারে এবং আমরা তাই করেছি।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারিদের কল্যাণে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাদেরকে সুবিধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা ভাল কাজ করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে আমরা জনপ্রশাসন পদক চালু করেছি। এর উদ্ধেশ্য হচ্ছে, আমরা চাই তারা দেশ ও দেশের জনগণের জন্য বেশি করে কাজ করুক, আমার জন্য নয়।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হাসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচএন আশিকুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর কাজী রওশন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। রেক্টর অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তিন কোসের্র তিন তরুন কর্মকর্তা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

Feb2

বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম, মধ্যরাত থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম, মধ্যরাত থেকে কার্যকর

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অস্থির গোটা বিশ্বের জ্বালানির বাজার। বাংলাদেশেও গত দেড় মাস ধরে জ্বালানি তেল নিয়ে চলছে সংকট। এতদিন জেট ফুয়েল ছাড়া অন্য জ্বালানির দাম না বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে শনিবার (১৮ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বেড়েছে।

জ্বালানি তেলের নতুন দাম মধ্যরাত (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। সেই দাম মার্চ মাসেও বহাল থাকে। এপ্রিল মাসেও আগের দাম বহাল রাখা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে‌ হামলা চালানোর পর অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য। এ উত্তেজনার বড় প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালিতে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল এখান দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কিছুদিন ধরেই যানবাহনের ভিড়। মানুষের অভিযোগ চাহিদা মত তারা জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ করা হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ জ্বালানি তেল মজুত করছে। জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারাদেশে অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব, সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবে না।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত)’ আলোকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা।

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কৃষকরা হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত।

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাত ঘটলে আবুল কালাম নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নামে এক কৃষক নিহত হন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী।

ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ নামে দুই কৃষক নিহত হন। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।

 

প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে ‘অবিস্মরণীয়’ সাফল্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে ‘অবিস্মরণীয়’ সাফল্য

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। গতকাল ১৭ এপ্রিল এই দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। সরকারের এই ৬০ দিনের পথচলাকে ‘অবিস্মরণীয় অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ৬০টি উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এসব সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।

লিখিত বক্তব্যে মাহাদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এরইমধ্যে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে একে নারীর অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি ‘আন্তর্জাতিক রোল মডেল’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষা দিতে সরকারের বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

বেকারত্ব নিরসন ও প্রশাসনের গতিশীলতা বাড়াতে সরকারি শূন্য পদ পূরণের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। মাহাদী আমিন জানান, দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।