মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে ডা. শাহাদাতের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর হযরত আমানত শাহ (র.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (৯ মার্চ) ডাঃ শাহাদাত হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে শাহ আমানত (র.) মাজার সংলগ্ন মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে মাজার জিয়ারত করেন। শাহাজাদা এনায়েত উল্লাহ খান ডা. শাহাদাত হোসেনের উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন।
পরে মাজার গেইট থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে ধানের শীষের পক্ষে নগরীর জেল রোড, বান্ডেলরোড, পাথরঘাটা, আরসিসি রোড, ফিরিঙ্গিবাজার, কবি নজরুল এভিনিউ, আলকরণ রোড, নিউ মার্কেট মোড়, জুবলীরোড়, এনায়েত বাজার, লাভলেইন হয়ে নাসিমন ভবনে এসে শেষ হয়।
গণসংযোগকালে ডা. শাহাদাত হোসেন নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় নেতাকর্মীরা এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এলাকার সাধারণ জনগণের মাঝে ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করেন।
এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকের গণসংযোগে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন একজন জনপ্রিয় প্রার্থী। ডাঃ শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত ত্যাগী ও পরিচন্ন নেতা। একজন পেশাজীবী হিসেবে ও তার জনপ্রিয়তা অতুলনীয়। তার বিজয়ী হওয়ার অনেক উপাদান আছে। বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। বিএনপির নেতাকর্মীরাও সকলেই ঐক্যবদ্ধ। বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক পরিশ্রমী। তারা ভয়কে জয় করতে জানে। তাই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।
তিনি ডাঃ শাহাদাত হোসেনকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত পালন করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, বিএনপিকে মোকাবিলার জন্য আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন কৌশল বলম্বন করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা নেই। বিএনপি জনগণের উপর আস্থা রেখেই নির্বাচনে যাচ্ছে। আমাদের নির্ভরশীলতা হচ্ছে জনগণের উপর। আর আওয়ামী লীগের আস্থা হচ্ছে অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে সরে যাওয়ায় তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমরা ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। এটা কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। প্রত্যেক নেতা কর্মীকে কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। যাতে বাইরের কেউ এসে কোন সুযোগ নিতে না পারে। ভয়কে জয় করে শক্তিশালী অবস্থান থেকে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারী বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। তারা ভীত বলেই অন্যের উপর নির্ভর করে।
এ সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা.শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রথমে আমি চট্টগ্রামের ২০ লক্ষ ভোটারকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এই গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে আসেন এবং ধানের শীষে ভোট দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এখানে ভয় পাবার কিছু নেই। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের গবেষণা সংস্থা আছে, ডাক্তাররা আছেন। তারা দেখছেন এবং এই সমস্যা থেকে দেশবাসী অবশ্যই মুক্ত হবেন। চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, চট্টগ্রামকে একটা আধুনিক, নান্দনিক, স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়তে চাই আমরা। বিশ্বের অন্যতম নগরীতে পরিণত করতে চাই। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন ভোটারদের সমর্থন। আশা করি, ভোটারেরা তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে নিয়ে আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
তিনি বলেন, ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ভোটের লড়াইয়ে নেমেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মিথ্যা মামলায় বিনা কারণে কারাগারে বন্দি আছেন। ভোটারেরা যেন রায় দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সহযোগিতা করেন।
সাধারণ জনগণের কাছে অনুরোধ, তারা যেন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। ইনশল্লাহ জয় আমাদের হবে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করব।
এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবিকতা নেই। মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে সরকার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এই সরকার আজ রাষ্ট্রের সকল গণতান্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে বিকালঙ্গে পরিণত করেছে। তাই আমাদেরকে দীপ্ত কণ্ঠে শপথ নিতে হবে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে হারানো গণতন্ত্র, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের।
তিনি ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহবান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এডভোকেট আবদুস সাত্তার, এস কে খোদা তোতন, অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, এনামুল হক এনাম, ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী, শফিকুর রহমান স্বপন, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম সাইফুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধূরী লিটন, আবদুল মন্নান, আহমেদুল আলম রাসেল, কাউন্সিলর আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, এডভোকেট আবু তাহের, মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, মো. কামরুল ইসলাম, শিহাব উদ্দিন মুবিন, বদরুল খায়ের চৌধুরী, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, ইসহাক চৌধুরী আলিম, এম আই চৌধুরী মামুন, অধ্যাপক ঝন্টু বড়ুয়া, মনজুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব জাকির হোসেন প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন