খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে ডা. শাহাদাতের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২০, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে ডা. শাহাদাতের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর হযরত আমানত শাহ (র.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার (৯ মার্চ) ডাঃ শাহাদাত হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে শাহ আমানত (র.) মাজার সংলগ্ন মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে মাজার জিয়ারত করেন। শাহাজাদা এনায়েত উল্লাহ খান ডা. শাহাদাত হোসেনের উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন।

পরে মাজার গেইট থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে ধানের শীষের পক্ষে নগরীর জেল রোড, বান্ডেলরোড, পাথরঘাটা, আরসিসি রোড, ফিরিঙ্গিবাজার, কবি নজরুল এভিনিউ, আলকরণ রোড, নিউ মার্কেট মোড়, জুবলীরোড়, এনায়েত বাজার, লাভলেইন হয়ে নাসিমন ভবনে এসে শেষ হয়।

গণসংযোগকালে ডা. শাহাদাত হোসেন নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় নেতাকর্মীরা এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এলাকার সাধারণ জনগণের মাঝে ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করেন।

এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকের গণসংযোগে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন একজন জনপ্রিয় প্রার্থী। ডাঃ শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত ত্যাগী ও পরিচন্ন নেতা। একজন পেশাজীবী হিসেবে ও তার জনপ্রিয়তা অতুলনীয়। তার বিজয়ী হওয়ার অনেক উপাদান আছে। বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। বিএনপির নেতাকর্মীরাও সকলেই ঐক্যবদ্ধ। বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক পরিশ্রমী। তারা ভয়কে জয় করতে জানে। তাই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

তিনি ডাঃ শাহাদাত হোসেনকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত পালন করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, বিএনপিকে মোকাবিলার জন্য আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন কৌশল বলম্বন করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা নেই। বিএনপি জনগণের উপর আস্থা রেখেই নির্বাচনে যাচ্ছে। আমাদের নির্ভরশীলতা হচ্ছে জনগণের উপর। আর আওয়ামী লীগের আস্থা হচ্ছে অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে সরে যাওয়ায় তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমরা ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। এটা কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। প্রত্যেক নেতা কর্মীকে কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। যাতে বাইরের কেউ এসে কোন সুযোগ নিতে না পারে। ভয়কে জয় করে শক্তিশালী অবস্থান থেকে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারী বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। তারা ভীত বলেই অন্যের উপর নির্ভর করে।

এ সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা.শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রথমে আমি চট্টগ্রামের ২০ লক্ষ ভোটারকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এই গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে আসেন এবং ধানের শীষে ভোট দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এখানে ভয় পাবার কিছু নেই। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের গবেষণা সংস্থা আছে, ডাক্তাররা আছেন। তারা দেখছেন এবং এই সমস্যা থেকে দেশবাসী অবশ্যই মুক্ত হবেন। চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, চট্টগ্রামকে একটা আধুনিক, নান্দনিক, স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়তে চাই আমরা। বিশ্বের অন্যতম নগরীতে পরিণত করতে চাই। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন ভোটারদের সমর্থন। আশা করি, ভোটারেরা তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে নিয়ে আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

তিনি বলেন, ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ভোটের লড়াইয়ে নেমেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মিথ্যা মামলায় বিনা কারণে কারাগারে বন্দি আছেন। ভোটারেরা যেন রায় দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সহযোগিতা করেন।

সাধারণ জনগণের কাছে অনুরোধ, তারা যেন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। ইনশল্লাহ জয় আমাদের হবে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করব।

এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবিকতা নেই। মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে সরকার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এই সরকার আজ রাষ্ট্রের সকল গণতান্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে বিকালঙ্গে পরিণত করেছে। তাই আমাদেরকে দীপ্ত কণ্ঠে শপথ নিতে হবে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে হারানো গণতন্ত্র, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের।

তিনি ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহবান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এডভোকেট আবদুস সাত্তার, এস কে খোদা তোতন, অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, এনামুল হক এনাম, ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী, শফিকুর রহমান স্বপন, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম সাইফুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধূরী লিটন, আবদুল মন্নান, আহমেদুল আলম রাসেল, কাউন্সিলর আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, এডভোকেট আবু তাহের, মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, মো. কামরুল ইসলাম, শিহাব উদ্দিন মুবিন, বদরুল খায়ের চৌধুরী, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, ইসহাক চৌধুরী আলিম, এম আই চৌধুরী মামুন, অধ্যাপক ঝন্টু বড়ুয়া, মনজুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব জাকির হোসেন প্রমুখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।