নীরব ঘাতক করোনায় নীরব ক্যাম্পাস
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় শুরু হয় সফলতার নতুন জীবন। নানান জেলার অচেনা মুখে গড়ে উঠে নতুন বন্ধুত্ব। আর সেই বন্ধুত্ব থেকেই শুরু আড্ডা, গল্প। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস জীবনের কাটেনা সময় গড়েনা বন্ধুত্ব। বলছিলাম উপকূলীয় অক্সফোর্ড খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নীরবতার গল্প। শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরতি হওয়া ক্যাম্পাস আজ নিস্তব্ধ। জনমানবশূন্য ক্যাম্পাসে নেই কোনো আড্ডা নেই কোলাহল।
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস সচেতনতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে ক্যাম্পাস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর, নীলদীঘি, প্রশান্তি পার্ক, শান্তিনিকেতন, ব্যাকলগ বন, হতাশার মোড় শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখরিত থাকে চত্বরগুলো। কিন্তু আজ সেই চত্বর গুলো জনমানবশূন্য। নেই কোনো ঘুরাঘুরি, নেই বন্ধুদের আড্ডায় মেতে উঠা জনসমাগম। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আজ খেলোয়াড়প্রেমীদের নেই ব্যস্ততা। শুূধু জানতে ইচ্ছা করে এই অপেক্ষার সময় কতদিন?
সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে যাওয়া, দুপুরে হলের ডাইনিংয়ে খাওয়ার সিরিয়াল ধরা, বিকেল বাসে সিট রাখার প্রতিযোগিতায় শামিল হওয়া, গানের সুরে বাসের আড্ডার দৃশ্য এসব কথা ভাবতেই ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় প্রিয় ক্যাম্পাসে। বাসায় থেকে গুনছে ক্যাম্পাস ফেরার অপেক্ষার প্রহর।
শিক্ষার্থীরা কর্মব্যস্ততা শেষে চায়ের কাপে চুমুক দিতে শুরু হয় জীবনের গল্প। সফলতা-ব্যর্থতা,পাওয়া না পাওয়ার গল্প, গান বাজনা, তর্ক-বিতর্কে জমে উঠা প্রশান্তি পার্ক ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া, শান্তিনিকেতনের পাশের টং দোকানগুলো পড়ে আছে নিঃশব্দে।
আড্ডায় গানে মেতে উঠা লাল বা সাদা বাসগুলো যেন নীরবে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে। নেই কোনো অ্যাসাইনম্যান্ট, প্রেজেন্টেশন, ক্লাস টেস্ট,সেমিস্টার ফাইনাল। হলগুলোর চিত্রেও নেই কোনো ভিন্নতা।
মহামারীর সময়গুলো নিরাপদে কাটিয়ে সবাই সুস্থভাবে ফিরে আসুক ক্যাম্পাসে। দূর হোক শূন্যতা। গান-আড্ডা-উৎসবে ভরে উঠুক প্রিয় শিক্ষাঙ্গন। এটাই সকলের প্রত্যাশা।
অনামিকা সুলতানা
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন