খুঁজুন
সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাউজানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড,খোলা আকাশের নিচে ২১ পরিবার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
রাউজানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড,খোলা আকাশের নিচে ২১ পরিবার

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ টি বসত ঘর সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫ টায় উপজেলার ১১ নং পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ১ ওয়ার্ডের গোলজার পাড়ার সৈয়্যদ আহমদ সওদাগের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় ২১ পরিবারের এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের সদস্যরা জানান। আগুণে সর্বস্ব হারিয়ে ২১ পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ রাশেদ ও যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার ভোরে নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়া স্থানীয় লোকজন মোঃ সেলিমের ঘরে আগুণের লেলিহান শিখা দেখে মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর এলাকার লোকজন ছুটে এসে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে রাউজান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হলে হাটহাজারী ও রাউজান ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দেড় ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে পাশ্ববর্তী ২১ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন, মোঃ সেলিম এর ঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুণের সূত্রপাত ঘটতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডে হাসান, বাহাদুর, আবুল কালাম, মুহাম্মদ আলী, বাচা মিয়া, টুনু মিয়া, ফোরকান, সেলিম, বালি, বদি আলম, ফরিদা, হাবিবুল্লাহ, ইমতিয়াজ, জামশেদ, ওসমান রাবেয়া বেগম, জামাল, কামাল, হায়দার, বেলাল ও হান্নানের বসত ঘর পুড়ে গেছে।

খবর পেয়ে রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ, পশ্চিম গুজরা ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন সাহাব উদ্দীন আরিফ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দীন পারভেজ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে তাৎক্ষনিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী, নগদ অর্থ, শাড়ি, লুঙ্গি প্রদান করা হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন আরিফ বলেন, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে আমরা সার্বিক সহযোগীতা করবো।

Feb2

হালদা উৎসমুখে খননযজ্ঞ: মৎস্য এবং কৃষিতে নতুন আশার আলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
হালদা উৎসমুখে খননযজ্ঞ: মৎস্য এবং কৃষিতে নতুন আশার আলো

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে রক্ষায় কোটি টাকা ব্যায়ে শুরু হয়েছে বৃহৎ পরিসরের খনন কর্মসূচি। নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখতে সরকারের উদ্যোগে বর্তমানে নদীর উৎসমুখে চলছে ব্যাপক খননকাজ।

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুকপাড়ার ঝিরি থেকে হালদা নদীর উৎপত্তি। এরপর নদীটি মানিকছড়ি হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা, রাউজান উপজেলা ও হাটহাজারী উপজেলা অতিক্রম করে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী দেশের মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হালদা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকাকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে। ১৬টি কঠোর শর্ত সংবলিত গেজেট প্রকাশের পর থেকেই নদীর শাখা-প্রশাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গত ২৭ এপ্রিল অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় উৎসমুখ খনন কার্যক্রম।

বর্তমানে হালদার উজান সালদা অংশে ৪৯৬ জন শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খনন, লেভেলিং, ড্রেসিং ও ঘাসের চাপড়া লাগানোর কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই প্রকল্প স্থানীয় মানুষের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শ্রমিক হিসেবে কাজ করে অনেক পরিবার নতুন আয়ের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, সেচ ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, হালদা শুধু একটি নদী নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের এক অমূল্য ভাণ্ডার। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে মাছের উৎপাদন বাড়বে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, হালদার যে অংশ থেকে নিষিক্ত মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়, সেটি মূলত হাটহাজারী অংশে পড়েছে। উৎসমুখ ঠিক থাকলে নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, এই লক্ষ্যেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে হালদার পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, ডিম ছাড়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের প্রজননও বৃদ্ধি পাবে। একটি মা মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারলে কয়েক লাখ মাছের জন্ম হতে পারে।

মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া বলেন, মানিকছড়ির অংশটি ‘সালদা’ নামে পরিচিত। নদীর উৎসমুখের প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ৪৩ দিনব্যাপী এ প্রকল্পে ২০ জন দক্ষ ও ৪৭৬ জন অদক্ষ শ্রমিক কাজ করবেন। অদক্ষ শ্রমিকরা প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা ৮০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন।

হালদা নদী বিশ্বের একমাত্র এবং এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র, যেখানে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। এটি বাংলাদেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যা প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ রয়েছে।

নদী রক্ষায় সরকারের এই খনন উদ্যোগকে তাই শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাদারীপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মাদারীপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতে শহরের আমিরাবাদ এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার চিত্ময় দাস, তার স্ত্রী ইশা দাস ও আট মাসের শিশু।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, শহরের আমিরাবাদ এলাকার মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের বাসায় তিন বছর ধরে ভাড়া থাকেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী যতীন বাড়ৈর স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ। রোববার বিকেলে চাচাতো ভাই পরিচয়ে ওই বাড়িতে আসেন চিন্ময় দাসসহ পরিবারের তিন সদস্য। পরে মধ্যরাতে মিষ্টি বাড়ৈর কল পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি আরও বলেন, পাশের রুমে একা ছিলেন মিষ্টি বাড়ৈ। তিনিই বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে মিষ্টি বাড়ৈকে। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

র‍্যাব-৮, সিপিসি-৩ (মাদারীপুর ক্যাম্প)-এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। হত্যা নাকি আত্মহত্যা, এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদ ও আলামত জব্দ করা হচ্ছে। তবে কিছু বিষয় সন্দেহের সৃষ্টি করছে। তদন্তের পরে বিস্তারিত জানা যাবে।

সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২৭ মে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২৭ মে

সৌদি আরবের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ মে। এছাড়া আরাফাত দিবস হবে আগামী ৯ জিলহজ বা ২৬ মে।

রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি আরবের দুই মসজিদ-ভিত্তিক ওয়েবসাইট ইনসাইড দ্য হারামাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির আকাশে চাঁদ দেখার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে আজ (রোববার) ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

এর আগে, পবিত্র জিলহজ মাস ও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই। রোববার এই তিন দেশের সংশ্লিষ্ট চাঁদ দেখা বিষয়ক কমিটি জিলহজ মাস শুরুর ও পবিত্র ঈদুল আজহার ভিন্ন ভিন্ন তারিখ ঘোষণা করেছে।

মালয়েশিয়ার সরকারি এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে পবিত্র জিলহজ মাস শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে (বুধবার) দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

এদিকে, ব্রুনাইয়ের সালতানাত জানিয়েছে, রোববার দেশটির আকাশে কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর ফলে সোমবার (১৮ মে) জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেই হিসেবে আগামী ১৯ মে (মঙ্গলবার) থেকে দেশটিতে জিলহজ মাস শুরু হবে এবং আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া বলেছে, দেশটিতে আগামী ১৮ মে (সোমবার) জিলহজ মাসের প্রথম দিন এবং ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। ইন্দোনেশিয়ার ৮৮টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরিচালিত নতুন চাঁদ দেখার ফলাফলের ভিত্তিতে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ধর্মমন্ত্রী নাসারুদ্দিন উমর।

এদিকে সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় (বাদ মাগরিব) বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। তারপরই জানা যাবে তারিখ।

রোববার (১৭ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে সৌদি আরবের একদিন পর সাধারণত বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৮ মে বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।