খুঁজুন
, ,

‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরেই হচ্ছে অত্যাধুনিক কারাগার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 17 May, 2026, 5:55 pm
‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরেই হচ্ছে অত্যাধুনিক কারাগার

একসময় ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে এবার গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের অত্যাধুনিক একটি কারাগার। যে এলাকায় একসময় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দাপটে দেড় লাখের বেশি মানুষ জিম্মিদশায় ছিলেন, সেই এলাকাটিই এখন বেছে নেওয়া হয়েছে অপরাধ সংশোধন ও পুনর্বাসনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে। ৭০ একর জমিতে নির্মিতব্য এই কারাগারে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে বিচারাধীন প্রায় দুই হাজার আসামিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী এবং নগরীর বায়েজিদ, পাহাড়তলী ও খুলশী এলাকার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ চলত। একাধিক উচ্ছেদ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি কয়েক মাস আগেও র‌্যাব সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে সেখানে। এখন সেই এলাকাটিই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সেখানে নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ৭০ একর জমি বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, বর্তমান কারাগার অতিরিক্ত বন্দির চাপে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দি থাকায় ওভারলোড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই মেগা সিটির প্রয়োজন অনুযায়ী একটি আধুনিক কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থাপনাটি প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো। এর ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৪৯ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দি রয়েছেন ৬ হাজার ৩৩৮ জন। এর মধ্যে মহানগর আদালতে বিচারাধীন মামলায় আটক প্রায় দুই হাজার বন্দিকে নতুন কারাগার নির্মাণের পর সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি (প্রিজন) মো. ছগির মিয়া জানান, নতুন কারাগার নির্মিত হলে সেখানে মেট্রো এলাকার হাজতি ও কয়েদিদের রাখা হবে। এতে জেলা ও মহানগরের বন্দিদের আলাদা রাখা সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সুবিধা আনবে।

অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে কারা প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কারাগারটি কেবল বন্দি আটকে রাখার স্থান হবে না। সেখানে পুনর্বাসন, শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে মুক্তির পর তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, আধুনিক কারাগারের ধারণা অনুযায়ী বন্দিদের জন্য সীমিত শিক্ষার পরিবেশ, খেলাধুলা এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হবে, যাতে তারা সংশোধিত হয়ে পুনরায় অপরাধে না জড়ান।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিকল্পিতভাবে কারাগার নির্মাণের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামের হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে পরিকল্পিতভাবে কারাগার নির্মাণ করা হলে এটি মানবাধিকার ও উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে।

 

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।