খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে জেলেপল্লীতে কর্ম নেই, মানবেতর জীবনযাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে জেলেপল্লীতে কর্ম নেই, মানবেতর জীবনযাপন

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:  মার্চ-এপ্রিল দু’মাস অভয়াশ্রম মৌসুমে মেঘনা নদীতে সবধরনের মৎস্য আহরণ বন্ধ রেখেছে সরকার। অপরদিকে করোনা ভাইরাস রোধে স্থলভাগেও দোকানপাটসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ। জলজ ও স্থলভাগ বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট নদীর পাড়ের ভাসমান জেলে সম্প্রদায়। নিষেধাজ্ঞার প্রায় ১ মাসেও ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা পায়নি তারা। এছাড়াও দুর্যোগ মুহুর্তে সরকারের বিশেষ বরাদ্ধের সহায়তাও এখনো পৌঁছেনি দৌড়গোড়ে। দিনমজুর এ জেলে পল্লীতে এখন শুধুই হাহাকার। করোনা প্রতিরোধে চারদিকে সচেতনতা বাড়লেও গুরুত্ব নেই ওই পল্লীতে। এতে করোনা সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এ অঞ্চল।

ভাসমান জেলে শাহ আলম (৩০)। নদীতে মাছ শিকার করেই ভাসমান নৌকায় পরিবারের বরণ-পোষণ চলে তার। নদীতে মৎস্য শিকার বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে সে। স্থলভাগে বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করে চলতো পরিবারের ব্যয়। হঠাৎ করোনা ভাইরাস রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকানপাটসহ সবধরনের কার্যক্রম স্থগিত করায় অসহায়ত্ব সময় পার করছেন চার সন্তানের এ জনক। করোন প্রতিরোধে তার নৌকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নাতা বা সচেতনতার কোন ছোয়া নেই। অভাবের চেয়ে করোনা ভাইরাস রোধে সচেতনতা অর্থহীন।

শুধু শাহ আলম নয়, নদীর পাড়ের ভাসমান জেলেপল্লীর শতাধিক পরিবার এখন খাদ্য ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ অবসর মূহুর্তে নৌকায়-নৌকায় আড্ডা ও সমাগম থাকায় ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও রয়েছে তারা।

জানতে চাইলে ভাসমান জেলে শাহ আলম বলেন, বাজারে একদোকানে বাকীতে চাল, ডাল ও আলু নিয়ে স্ত্রী-সন্তানের মুখে জুটিয়েছি। কিন্তু সব বন্ধ থাকলে দোকানীরা বাকীও দিবে না। করোনা ভাইরাস রোধে সচেতনতার বিষয়ে জেনেছি। কিন্তু খাবারই জোটে না, হাতপা ধোয়ার সাবান, মাস্ক পাবো কই।

একই কথা বলেন ৫ সন্তানের জননী শাহেদা বেগম, তিনি বলেন, বাকীতে বাজার থেকে ১ বস্তা চাল এনেছি। আজ আলু ভর্তা ও ডাল দিয়ে সবার খাবার চলবে। কিন্তু বাকীদিন কিভাবে চলবে।

জনপ্রতিনিধি বা সরকারের কেউই তাদের সচেতনতার জন্য পরিচ্ছন্নতার উপকরণ দেয়নি। এসব সচেতনতা বড়লোকের জন্য আমাদের জন্য নয়। মৃত্যু আসলে তো মরেই যেতে হবে।

জানা যায়, মার্চ-এপ্রিল দু’মাস ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় লক্ষ্মীপুর রামগতি আলেকজান্ডার ষাটনল থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে সবধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসময় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনি মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধীরহাট ভাসমান জেলেরা মৎস্য শিকার থেকে বিরত থেকে স্থলভাগে দিনমজুরের কাজ করে এবং ঋণ করে সংসার চালায়। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের (৪০ কেজি চাল) খাদ্য সহায়তা করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার প্রায় ১ মাসেও সরকারের খাদ্য সহায়তা পাইনি তারা। এদিকে মরনঘাতি করোনা ভাইরাস রোধে স্থলভাগসহ সবধরনের কার্যক্রম স্থগিত করায় সম্পূর্ণ ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে এসব জেলে।

স্থানীয় দু’জন ব্যক্তি জানান, ভাসমান জেলেরা খুবই দরিদ্র। সবসময় তাদের নৌকায় সমাগম করে বসবাস করতে হয়। সচেতন করার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের। চেয়ারম্যান নিজই এলাকায় থাকেন না। থাকেন শহুরের বিলাস বহুল বাড়িতে। করোনা প্রতিরোধে নামমাত্র জীবানু নাশত মেডিসিন ছিটিয়ে ছবি তুলে তিনি চলে যান। জেলেপল্লীর খবর রাখার সময় কই তার।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার চররমনি মোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল বলেন, জেলের বিজিএফ চাল এখনো খাদ্য গুদাম থেকে আনা হয়নি। জনসমাগম সৃষ্টি হবে তাই বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে জেলে পল্লীতে জনসচেতনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, রেড ক্রিসেন্টকে সাথে নিয়ে করোনা রোধে জীবানু নাশক মেডিসিন ছিটানো হচ্ছে। করোনা রোধে অসহায়দের সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ এসেছে। সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোর জন্য ২১ টন চাল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার জন্য ৩ হাজার কেজি চাল ও ৩০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। খুবদ্রুত সহায়তা অসহায়দেও মাঝে বিতরণ করা হবে।

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…