খুঁজুন
, ,

লক্ষ্মীপুরে জেলেপল্লীতে কর্ম নেই, মানবেতর জীবনযাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 31 March, 2020, 11:38 pm
লক্ষ্মীপুরে জেলেপল্লীতে কর্ম নেই, মানবেতর জীবনযাপন

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:  মার্চ-এপ্রিল দু’মাস অভয়াশ্রম মৌসুমে মেঘনা নদীতে সবধরনের মৎস্য আহরণ বন্ধ রেখেছে সরকার। অপরদিকে করোনা ভাইরাস রোধে স্থলভাগেও দোকানপাটসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ। জলজ ও স্থলভাগ বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট নদীর পাড়ের ভাসমান জেলে সম্প্রদায়। নিষেধাজ্ঞার প্রায় ১ মাসেও ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা পায়নি তারা। এছাড়াও দুর্যোগ মুহুর্তে সরকারের বিশেষ বরাদ্ধের সহায়তাও এখনো পৌঁছেনি দৌড়গোড়ে। দিনমজুর এ জেলে পল্লীতে এখন শুধুই হাহাকার। করোনা প্রতিরোধে চারদিকে সচেতনতা বাড়লেও গুরুত্ব নেই ওই পল্লীতে। এতে করোনা সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এ অঞ্চল।

ভাসমান জেলে শাহ আলম (৩০)। নদীতে মাছ শিকার করেই ভাসমান নৌকায় পরিবারের বরণ-পোষণ চলে তার। নদীতে মৎস্য শিকার বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে সে। স্থলভাগে বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করে চলতো পরিবারের ব্যয়। হঠাৎ করোনা ভাইরাস রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকানপাটসহ সবধরনের কার্যক্রম স্থগিত করায় অসহায়ত্ব সময় পার করছেন চার সন্তানের এ জনক। করোন প্রতিরোধে তার নৌকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নাতা বা সচেতনতার কোন ছোয়া নেই। অভাবের চেয়ে করোনা ভাইরাস রোধে সচেতনতা অর্থহীন।

শুধু শাহ আলম নয়, নদীর পাড়ের ভাসমান জেলেপল্লীর শতাধিক পরিবার এখন খাদ্য ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ অবসর মূহুর্তে নৌকায়-নৌকায় আড্ডা ও সমাগম থাকায় ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও রয়েছে তারা।

জানতে চাইলে ভাসমান জেলে শাহ আলম বলেন, বাজারে একদোকানে বাকীতে চাল, ডাল ও আলু নিয়ে স্ত্রী-সন্তানের মুখে জুটিয়েছি। কিন্তু সব বন্ধ থাকলে দোকানীরা বাকীও দিবে না। করোনা ভাইরাস রোধে সচেতনতার বিষয়ে জেনেছি। কিন্তু খাবারই জোটে না, হাতপা ধোয়ার সাবান, মাস্ক পাবো কই।

একই কথা বলেন ৫ সন্তানের জননী শাহেদা বেগম, তিনি বলেন, বাকীতে বাজার থেকে ১ বস্তা চাল এনেছি। আজ আলু ভর্তা ও ডাল দিয়ে সবার খাবার চলবে। কিন্তু বাকীদিন কিভাবে চলবে।

জনপ্রতিনিধি বা সরকারের কেউই তাদের সচেতনতার জন্য পরিচ্ছন্নতার উপকরণ দেয়নি। এসব সচেতনতা বড়লোকের জন্য আমাদের জন্য নয়। মৃত্যু আসলে তো মরেই যেতে হবে।

জানা যায়, মার্চ-এপ্রিল দু’মাস ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় লক্ষ্মীপুর রামগতি আলেকজান্ডার ষাটনল থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে সবধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসময় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনি মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধীরহাট ভাসমান জেলেরা মৎস্য শিকার থেকে বিরত থেকে স্থলভাগে দিনমজুরের কাজ করে এবং ঋণ করে সংসার চালায়। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের (৪০ কেজি চাল) খাদ্য সহায়তা করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার প্রায় ১ মাসেও সরকারের খাদ্য সহায়তা পাইনি তারা। এদিকে মরনঘাতি করোনা ভাইরাস রোধে স্থলভাগসহ সবধরনের কার্যক্রম স্থগিত করায় সম্পূর্ণ ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে এসব জেলে।

স্থানীয় দু’জন ব্যক্তি জানান, ভাসমান জেলেরা খুবই দরিদ্র। সবসময় তাদের নৌকায় সমাগম করে বসবাস করতে হয়। সচেতন করার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের। চেয়ারম্যান নিজই এলাকায় থাকেন না। থাকেন শহুরের বিলাস বহুল বাড়িতে। করোনা প্রতিরোধে নামমাত্র জীবানু নাশত মেডিসিন ছিটিয়ে ছবি তুলে তিনি চলে যান। জেলেপল্লীর খবর রাখার সময় কই তার।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার চররমনি মোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল বলেন, জেলের বিজিএফ চাল এখনো খাদ্য গুদাম থেকে আনা হয়নি। জনসমাগম সৃষ্টি হবে তাই বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে জেলে পল্লীতে জনসচেতনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, রেড ক্রিসেন্টকে সাথে নিয়ে করোনা রোধে জীবানু নাশক মেডিসিন ছিটানো হচ্ছে। করোনা রোধে অসহায়দের সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ এসেছে। সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোর জন্য ২১ টন চাল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার জন্য ৩ হাজার কেজি চাল ও ৩০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। খুবদ্রুত সহায়তা অসহায়দেও মাঝে বিতরণ করা হবে।

Feb2
Feb2

আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:20 pm
আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

আনোয়ারায় কর্ণফুলী টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়ক ছেড়ে দোকানে ঢুকে পড়েছে। এ সময় দোকানের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা অন্তত ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাকে চাপা দেয় বাসটি। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন টানেল মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি এলাকার বাসিন্দা পলি দত্ত (৩৫) ও ইফা শীল (৪০)।আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রাতে টানেল মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় দোকানের সামনে থাকা অন্তত ছয়টি অটোরিকশা ও রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে দোকানের ভেতরে ও বাইরে থাকা অনেকেই চাপা পড়ে আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা বলেন, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন।আহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর বাসের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:02 pm
প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সারা দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বন্যা, নদীভাঙন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট এ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই বৃক্ষরোপণ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হোক। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বৃক্ষরোপণ পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়। তাই এ কর্মসূচিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে লাগানো প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের গৃহীত বৃহৎ বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএনপিও জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচি সফল করতে কাজ করবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য খোরশেদ আলম, জাফর আহমেদ, মাহাবুব রানা, হানিফ সওদাগর এবং মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 8:15 pm
খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলমান কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে বারাইপাড়া খাল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার পরিদর্শনকালে তিনি খালের বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে বাঁচিয়েছে। খননকৃত খালের জন্য পূর্ব বাকলিয়া, পূর্ব ষোলশহর এবং পশ্চিম বাকলিয়ার অনেক অংশের মানুষ বর্ষায় জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছেনা৷ প্রকল্পটির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত ফুটপাত এবং খালপাড় সুস্থ বিনোদনের উৎস হয়ে উঠেছে।

“চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে খালগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। খাল দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খাল-নালা পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোথাও অবৈধ দখল বা বাধা থাকলে তা দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ সময় মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি, আবর্জনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।