খুঁজুন
, ,

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত একটি আদর্শের নাম:সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 October, 2019, 10:28 pm
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত একটি আদর্শের নাম:সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী

ইসলাম শান্তি চায়, মতপার্থক্যের চেয়ে আমাদের মাঝে যে মিলগুলো রয়েছে তার ভিত্তিতে আমাদেরকে এগুতে হবে। মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি সহমর্মিতা ও সদ্ভাব বজায় রাখা। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত একটি আদর্শের নাম। যে আদর্শের মধ্যে আল্লাহ্ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (দ.) এবং রাসূলে কারীমের আহলে বাইতগণের আদর্শ চর্চা হয়। তাই বৈরীতা নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্প্রীতির ভিত্তিতে আমাদেরকে একতাবদ্ধ হতে হবে।

বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, ত্বরিকা-ই-মাইজভান্ডারীয়ার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভান্ডারী(ক.)’র প্রপৌত্র ও অছিয়ে গাউসুল আযম খাদেমুল ফোকারা হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (ক.)’র প্রথম পুত্র মাইজভান্ডারীয়া ত্বরিকার উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশ্ব অলি শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র ৩১তম উরস উপলক্ষে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর (ক.) পবিত্র রক্ত ও ত্বরিকতের উত্তরাধিকারী ও রওজা শরীফের খেদমতের হকদার, মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মন্জিলের সাজ্জাদানশীন, বিশ্ব অলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর একমাত্র পুত্র ও তাঁরই পবিত্র নামে প্রতিষ্ঠিত ‘এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট’-এর মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি আলহাজ¦ হযরত শাহসুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.জি.আ) মাহফিলে সভাপতির আশীষবাণীতে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, সমাজকে কিছু দিতে হলে তাদের জন্য কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং সমাজের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা হিসেবে বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট (এসজেডএইচএম ট্রাস্ট) ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচী পালন করেছে।

এর মধ্যে ছিল, ‘একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুসলিম উম্মাহ্’ শীর্ষক সেমিনার, শাখা কমিটি সমূহের ব্যবস্থাপনায় স্ব স্ব এলাকার মসজিদে কুরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিল, ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর (কঃ) জীবনী আলোচনা, র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, কবরস্থান ও প্রতিষ্ঠান পরি”ছন্নতা কর্মসূচী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নীতি নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা, ফটিকছড়ি উপজেলার রেজিস্টার্ড এতিমখানাসমূহের ছাত্র-ছাত্রীদের একবেলা খাবার সরবরাহ, ইসলামের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্বলিত দুর্লভ চিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী, নগরীর মুরাদপুর হতে মাইজভান্ডার শরিফ পর্যন্ত বিআরটিসি’র বিশেষ বাস সার্ভিস, উপদেশমূলক, দিক-নির্দেশনা সম্বলিত প্রচার, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা, পরিস্কার-পরি”ছন্ন কর্মসূচি।

১১ অক্টোবর শুক্রবার মাইজভান্ডার শরিফ গাউসিয়া হক মন্জিলে বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর ৩১তম উরস শরিফ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বাদ ফজর রওজা শরিফে গিলাফ চড়ানো, দিনব্যাপী খতমে কুরআন, তাওয়াল্লোদে গাউসিয়া, জিকির-আজকার, যিয়ারত, মিলাদ, সেমা মাহফিল, আখেরী মুনাজাত ও তার্বারুক বিতরণ।

বিশ^অলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী(ক.)-এর উরস উপলক্ষে মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মন্জিল, শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী(ক.) ট্রাস্ট ও মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় পর্ষদ নিয়ন্ত্রণাধীন দেশে-বিদেশের শাখা কমিটি সমূহের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়াও পবিত্র উরসে মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটির ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েত, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশের আশেক-ভক্তগণ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়ন ও উরস শরিফ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ-এর সকল পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রিয় মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ও আজমির শরিফের গদিনশীন ড. সৈয়দ লিয়াকত হোসাইন মঈনী, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ঢাকার অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ মহিউদ্দীন। মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সৈয়দ আহমদুল হক মাইজভান্ডারী, মাওলানা হাফেজ আবুল কালাম, মাওলানা নুর হোছাইন হেলালী সাহেব।

উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় পর্ষদ সভাপতি আলহাজ¦ রেজাউল আলী জসিম চৌধুরী, অধ্যাপক এ.ওয়াই.এম জাফর, শেখ মুজিবর রহমান বাবুল, সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন, কাজী মোহাম্মদ ইউসুফ, সৈয়দ জহুরুল কাদের আজাদ, এ.এন.এম.এ মোমিন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মিলাদ, কিয়াম ও সালাতুসালাম শেষে আখেরী মুনাজাতে তিনি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ সহ পৃথিবীর সকল মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের অবারিত দয়া আমাদের সকলের উপর বর্ষিত হোক। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল, জাতীয় পর্যায়ে সকল নেতৃবৃন্দ যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে ও এই উন্নয়ন যাতে নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারে স্রষ্টার কাছে সেই তৌফিক কামনা করছি। পারস্পরিক শ্রদ্ধার মনোভাব ও আদর্শগত মিলের ভিত্তিতে আমাদেরকে একতাবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশে মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের ভিত্তিতে যে অসম্প্রদায়িকতা গড়ে উঠেছে তা চিরকাল বজায় থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Feb2
Feb2

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 10:04 pm
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটদের নিয়ে ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে শরিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোট শরিকদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, স্বাক্ষর করেছে, তাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যুগপৎ সঙ্গীদের নিয়ে করবে কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের যে আইন হয়েছে, তাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে আমার মনে হয়- এটা নিয়ে এখন আলোচনা না করলেও পারি। তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ভিত্তিতে করবো।

গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলাম ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের নেতারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই মাসের একটি রক্তক্ষয়ী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারকে সরিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবার সুযোগ পেয়েছি। আমরা আন্তরিকভাবে সেই সব শহীদদের স্মরণ করতে চাই, যারা তাদের জীবন দিয়ে, আহত হয়ে, চোখ হারিয়ে যারা আমাদের জন্য এই নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যারা ছিলেন, যারা একসাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর, তাদের নেতৃবৃন্দকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আজকে কথা বলার জন্য- তাদের একসাথে একটু সামান্য কিছু ডাল-ভাত খাওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। আমরা কেউ কারাগারে গেছি, কেউ মামলার মধ্যে পড়েছি, কেউ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে—এরকম অনেকেই আছে।

ফখরুল বলেন, আজকে একটি আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের সবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের অনেকগুলো রাজনৈতিক দল তারা কথা বলেছেন। সবাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের সরকার যে শুরুটা তার অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, এই ৫ মাসের মধ্যে সম্ভব হয়নি বিভিন্ন কাজের তাড়াহুড়ার জন্য বা কাজের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব দলগুলোর সঙ্গে কথা বলার। কিন্তু এর মধ্যে সরকার যে কাজগুলো করেছে, সেগুলো ছিল জনগণের একদম কাছাকাছি যাওয়ার কাজ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, সরকারকে গুছিয়ে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজটা তিনি শুরু করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কিন্তু কাজ শুরু করেছি। একেবারেই অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, লুট করে নিয়ে গেছে সব ব্যাংক, সব জায়গায় একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তারা, সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলেছিল। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার প্রধানমন্ত্রী গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছেন। এ কথাগুলোই আজকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলেছেন।

তিনি বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি এরপরে প্রায়শই অর্থাৎ যতটা দ্রুত সম্ভব হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবেন। রাজনৈতিক দলগুলো আবারও কাজ করবে একসঙ্গে। সবচেয়ে বড় জিনিস তিনি বলেছেন, যে ৩১ দফা কর্মসূচি আমরা একসঙ্গে দিয়েছিলাম, সেই ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। তিনি এটাও আবারও বলেছেন যে, জুলাই সনদ-যেটা আমরা সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছি, সেই জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের ৫ মাস পরে একটা বড় ঘটনা, প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসেছেন, কথা বলছেন এবং ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 9:50 pm
ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। জুলাই গণ আন্দোলনের সকল শহীদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই শহীদদের স্মৃতি শুধু স্মরণে রাখলেই হবে না, তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির কোনো সুযোগ নেই। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে।

তিনি সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ আবু সাঈদ সহ সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ সাবেক ছাত্রদল ফোরামের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং এরপর এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। এই আয়োজন শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম।

অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নয়। এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যুত্থান নয়, বরং এটি গত ১৬ বছরের লাগাতার আন্দোলনের ফল। এ আন্দোলনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাই। এটি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলারই ফসল।

মেয়র বলেন, ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখি, তা পূরণ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। তাদের এই আত্মদান আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যা ভবিষ্যতেও দেশপ্রেম ও জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, শহীদদের পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের এই দোয়া মাহফিল ও এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সেই দায়িত্বেরই অংশ। আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানুক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ছাত্রদল নেতা। তিনি সরকারি চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আন্দোলন করেনি। বরং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার অংশগ্রহণের ইতিহাস সুদীর্ঘ।

আবু সুফিয়ান বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম নিজের রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস লিখে গেছেন। যত দিন দেশের মানুষের মননে গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত থাকবে, শহীদ ওয়াসিম আকরাম তত দিন অমর হয়ে থাকবেন।

আবুল হাশেম বক্কর শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আবু বক্কর সিকদার ও মহসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ইয়াকুব আলী সিফাতের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এস কে খোদা তোতন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এস. এম আবুল ফয়েজ, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, খোরশেদুল আলম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, মোহাম্মদ আজম, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নুর হোসেন, জসিম উদ্দিন জিয়া, মো. শফি, সাবেক ছাত্রদল নেতা আলিফ উদ্দিন রুবেল, সামিয়াত আমিন জিসান, জহির উদ্দিন বাবর, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা এড. জসিম উদ্দিন হিমেল, আমজাদ হোসেন শাকিল, রেজাউল করিম, মো. ইউনুস, দিদারুল আলম, ঈমাম হোসেন আবির, বোরহানুল হক, মন্জুরুল আলম, মো. শোয়াইব, নুরুন্নবী বাদশা, মোজাম্মেল হক, মো. জাহেদ প্রমুখ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 9:41 pm
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব: এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম ৮ আসনের এমপি ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এ্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছেন। কেউ যেন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আজ ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে এ্যাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের চালিতাতলী ও ওয়াজেদিয়ার বিগত টানা বর্ষনে জলাবদ্ধ এলাকায় উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,”দুর্যোগ সাময়িক, কিন্তু আমাদের মানবিকতা স্থায়ী। আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্হাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, এ্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অতীতের ন্যায় আপনাদের দুর্দিনে পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আজকের এই ত্রাণসামগ্রী হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, তবে তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনে সব সময় পাশে আছে। আসুন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহবানে আমরা সবাই মিলে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসি এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই।

এ্যাব চট্টগ্রামের উপহার সামগ্রী ২০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় যার পরিমাণ ১ টন ৬০০ শত কেজি। ৩ নং ওয়ার্ডের চালিতাতলী দারোগা বাপের বাড়ী এবং ওয়াজদিয়া বোর্ড অফিস এলাকায় এসব উপহার দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি ও এ্যাব চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম এর সভাপতিত্বে ও আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সন্মানি সম্পাদক প্রকৌশলী খান মোঃ আমিনুর রহমান সুমনের পরিচালনায় উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম পিআরইউ’র আহ্বায়ক ও দৈনিক দিনকাল চট্টগ্রামের ব্যুরো চীফ হাসান মুকুল, বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কমিটি’র সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফ, চুয়েট ছাত্রদলের সাবেক ভিপি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী রাশেদ আলম, প্রকৌশলী রফিকুন নবী, প্রকৌশলী কামরুল হাসান, প্রকৌশলী আবুল বাশার, প্রকৌশলী ইমাদুল হক শাহিন, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, প্রকৌশলী শাহীন, পিআরইউ’র সদস্য লেখক জহিরুল ইসলাম জহির, বিএনপি’র নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন খাঁন, ২ নং জালালাবাদ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাভেদ ওমর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহি রুবেল, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদল নেতা মোঃ জাহেদ হোসেন ইফতি‌, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল থানার সাধারণ সম্পাদিকা মিসেস নাসিম আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।