খুঁজুন
, ,

ধৈর্য সংযম শৃংখলা আত্মসচেতনতা শুদ্ধাচারী জীবন যাপনের মাধ্যমে ঘরে থাকুন:চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 April, 2020, 6:41 pm
ধৈর্য সংযম শৃংখলা আত্মসচেতনতা শুদ্ধাচারী জীবন যাপনের মাধ্যমে ঘরে থাকুন:চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস(কোভিড-১৯) সংক্রমণ বিস্তার রোধে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে এক জনসচেতনতা মূলক বার্তায় বলেছেন, ধৈর্য্য,সংযম,শৃংখলা,পরিচ্ছন্নতা ও আত্মসচেতনতা দ্বারা শুদ্ধাচারী জীবনযাপনেরর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সময় ঘরে থাকুন এবং নিজেকে, পরিবার,প্রতিবেশীসহ সকলের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।

আজ গণমাধ্যমে প্রদত্ত এই বার্তায় তিনি করোনা ভাইরাসকে মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ ও বর্তমান অবধি অপ্রতিরোধ্য মরণ ব্যাধি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, করোনা অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবানু কনিকা। একে দেখা যায় না, ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, এবং এর গতি বাতাসের চেয়ে দ্রুততর। গত ডিসেম্বর মাসের শেষে দিকে চীনের উহান প্রদেশ থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হলেও অতিদ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা অবিশ্বাস্য এবং অপ্রতিরোধ্য।

উন্নত, অনুন্নত ও দরিদ্র নির্বিশেষে বিশ্বের ২৩০টি রাষ্ট্রের মধ্যে ২০৭ টিতে করোনা ভাইরাসের আগ্রাসী থাবা বিস্তৃত হয়েছে। গতকাল অবধি বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৭ হাজার ৭শত ৮২ জন। করোনা ভাইরাসের বিস্তারের প্রভাব মাসাধিকাল আগে থেকেই বাংলাদেশে পড়েছে। প্রথমে খুবই ধীরে হলেও ক্রমশ লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদেরআশংকা মধ্য এপ্রিলেই করোনা ভাইরাসের উর্ধ উল্লস্ফলন ঘটবে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ক্রম বিস্তারে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশংকা একেবারেই অমুলক নয়।

এতে আমাদের ভয় ও আতঙ্কে মনোবল হারিয়ে কিংবর্তব্যবিমূড় হওয়ার কোন অবকাশ নেই। তাই যে যার অবস্থান থেকে আপদকালীন দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি তাঁর সর্বাধিনায়ক। তাই তাঁর সকল নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে এই যুদ্ধে অবশ্যই বিজয়ী হতে হবে। এই যুদ্ধের ভ্যানগার্ড বা অগ্রবর্তি বাহিনী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী রা। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ঝুঁকি ভাতা ও জীবন বীমার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। আপনারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করুন।

তিনি আরো বলেন, বিগত কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে এই বাংলায় নানাবিধ প্রাকৃতিক দূর্যোগ-বন্যা,ঘুর্ণিঝড়,জলোচ্ছ্বাস,দূর্ভিক্ষ,মঙ্গা এবং নানান যুদ্ধ বিগ্রহে লক্ষ লক্ষ প্রাণ বলিদান করে রুখে দাঁড়িয়ে আবারও এই জনপদের ভূমিপুত্রগণ কোমর সোজা করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন । ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে এক সশন্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ প্রাণের আত্মবলিদান ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাঙালি জাতি সত্তার স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই যুদ্ধের পরও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমাদের লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত ছিল এবং এখনও চলমান আছে। আজ বৈশ্বিক করোনা মহামারি বিশ্ব মানব সভ্যতাকে গ্রাস করতে চায়। ইতোমধ্যে লক্ষ প্রাণ হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশেও এই থাবা বিস্তারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। সেই যুদ্ধে আমাদের কোন প্রতিপক্ষ নেই। দল-মত-বর্ণ-ধর্ম এবং ভাষা নির্বিশেষে আমরা সকলেই এক পক্ষ। আমাদের হাতিয়ার সুদৃঢ় মনোবল, জনসচেতনতা এবং সরকারি দিক-নির্দেশনা ও নিয়ম কানুন পালন।

আমি লক্ষ্য করছি যে, এই আপদকালীন সময়ে আমাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি এখনও অনেকের মাথায় ঢোকেনি। আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা ও জীবনাচরণ অনুসরণ করা। করোনা নামক ভাইরাসমুক্ত হতে এখনও পর্যন্ত কোন কার্যকর প্রতিষেধক, ঔষধপত্র ও ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি। তবে বিশ্বের বিজ্ঞানীরা প্রতিষেধক আবিস্কারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁরাই বলেছেন এই প্রতিষেধক আবিস্কার করতে গেলে কম করে হলেও দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই বলতেই হয় বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং যতবেশি সময় ঘরে থাকা- এই প্রক্রিয়াটি আমাদের আপদকালীন ক্রান্তিকাল অতিক্রমের প্রধান অবলম্বন।

তিনি এই প্রসঙ্গে আরো বলেন, বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তদের অধিকাংশই সামাজিক সংক্রমণ থেকে। তাই প্রত্যেককেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজেকে অন্যের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, এই দূর্যোগকালীন সময়েও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, একটি অসাধু চক্র ত্রাণের জিনিসপত্র লুটপাট করার অপচেষ্টা চলাচ্ছে। এমনকি সরকারি বরাদ্দের চাল কৌশলে আয়ত্ব করে খোলা বাজারে বিক্রী করে মুনাফা লুটছে। এরা পাষন্ড। করোনা ভাইরাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর। এদের দমন করা সময়ে দাবী। এই অশুভ শক্তিটিকে সরকারের খাদ্য বিভাগের কিছু অসত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং খাদ্য পরিবহণ ঠিকাদারদের কেউ কেউ ইন্ধন যোগাচ্ছে। এরাই ভয়ঙ্কর অপশক্তি। তাদের আইনের আওতায় এনে অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন,আপনারা যতক্ষণ সময় ঘরে থাকবেন এবং জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কখনই বের না হয়ে নিজেকে সুরক্ষা করুন – এটাই আমার প্রত্যাশা। শুধু রাষ্ট্র ও সরকার নয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমুখী প্রচেষ্টার ফলে আমরা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারব ইনশা আল্লাহ। জনসমাগম হয় এমন কোন সামাজিক,ধর্মীয়,সাংস্কৃতিক এমনকি বিয়ে-শাদি সহ যে কোন উৎসব ও অনুষ্ঠানাদী পরিহার করুন।

তিনি তাঁর সচেতনতা মূলক বার্তায় আরো বলেন যে, এই সময়টা হলো মশা উপদ্রুত হওয়ার। মশক নিধনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ক্রাশ প্রোগ্রাম চলমান রয়েছে। আমি একটা কথা বলতে চাই, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশক নিধন সম্ভব নয়। মশক উৎপত্তি ও প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে চিহ্নিত করে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে এই নগরীকে মশা মুক্ত করা সম্ভব। আরো একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্প চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন। এর পূর্ত কাজ করছে সেনাবাহিনী। দেখা যাচ্ছে চাক্তাই খালে এই কাজের জন্য বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ আটকে দেয়া হয়েছে। এই জমাট পানি মশা প্রজননের অন্যতম ক্ষেত্র। এই জমাট পানি পাইপ লাইন বসিয়ে সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন এবং সেনাবাহিনীও তা করতে চান। তবে সময় ক্ষেপণ করলে মশক নিধন কার্যক্রম সফল হবে না।

তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গুরোগ এডিস মশা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে। এবং এডিস প্রজনন হয় পরিস্কার জমাট পানিতে। বাড়ীর যেখানেই এই জমাট পানি থাকে সেখান থেকে তা দুই-একদিন পরপরই সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও ঝোপ ঝাড় এবং যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ তৈরী হবে তা সরিয়ে ফেলতে প্রত্যেক নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

Feb2
Feb2

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:13 pm
নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে অপসারণ, পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ ২১ জুলাই মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম এই প্রতিপাদ্যে জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তুুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন মেয়র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

সভায় সিটি মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে মশার বংশবিস্তার এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে সরকারি দপ্তর, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলসহ সর্বত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে জনসচেতনতা প্রয়োজন।

এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই বাসার ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র বা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জীবনাচরণ। আমরা যদি পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারি, তাহলে একটি ডেঙ্গুমুক্ত, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে উপজেলাগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই এখনই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক নগর ও গ্রামে পরিণত করা সম্ভব।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে চাইলে পরিবর্তনটা আগে নিজের ভেতর থেকেই শুরু করতে হবে। আমরা যদি প্রতি শনিবার অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিয়ে নিজেদের বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখি, তাহলে একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব। পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শিশুদের ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের স্কুলগুলোতে ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেয়র জানান, নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। বাকি প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য বিভিন্নভাবে খাল, নালা ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং কর্ণফুলী ও হালদা নদীর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মধ্যে সিভিক সেন্স বা নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে গণপরিবহন পর্যন্ত যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধ না হলে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্যে কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে হালিশহর ও আরেফিন নগর ল্যান্ডফিলকে পরিবেশবান্ধব রূপ দিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জার্মানির এইচকেজি-থ্রি রাইফেল নিয়ে কৌতূহল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 6:40 pm
জার্মানির এইচকেজি-থ্রি রাইফেল নিয়ে কৌতূহল

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া জার্মানির তৈরি সামরিক গ্রেডের একটি এইচকেজি-থ্রি সিরিজের রাইফেল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি বেশ পুরনো। তেমন সক্রিয়ও নয়। তবুও এ ধরনের ভারী সামরিক অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডে আরও থাকার সম্ভাবনা ভাবিয়ে তুলেছে গোয়েন্দাদের।

মিয়ানমারের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাবেক হেড অব মিশন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের ধারণা, আগ্নেয়াস্ত্রটি মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছ থেকে সীমান্তপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানেরও ধারণা অস্ত্রটি বেশ কয়েকবছর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে এসেছে।

দেশীয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে কাজ করা একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) তথ্য, ২০১১ সালে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বিধান বড়ুয়ার কাছ থেকে জার্মানির তৈরি এইচকেজি-থ্রি রাইফেল উদ্ধার হয়েছিল। গত ১৫ বছরে এ ধরনের অস্ত্র আর দেখা যায়নি। উদ্ধারের তথ্যও নেই।

পুলিশের এ কর্মকর্তার ধারণা, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া রাইফেলটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ অথবা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হতে পারে। তাদের কাছ থেকে সেটি অপরাধ জগতের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের হাতে পৌঁছতে পারে।

গত ২৪ জুন সকালে র‌্যাব চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার হাজীরপুল ফেদা পুকুর পাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি উদ্ধার করে। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এএসপি এ আর এম মোজাফফর হোসেন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, বাট ও ম্যাগাজিনবিহীন অবস্থায় অস্ত্রটি জলিল নামে এক ব্যক্তির সীমানা প্রাচীর দেওয়া খালি জায়গায় পড়ে ছিল। গোপন তথ্যে সেটি উদ্ধারের পর চান্দগাঁও থানায় জমা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে করা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাব নিয়েছে বলে জানালেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

জার্মানির হেকলার অ্যান্ড কক কোম্পানি যুদ্ধকালীন রাইফেল হিসেবে ১৯৫০ এর দশকে আগ্নেয়াস্ত্রটি তৈরি করে। অতি মাত্রায় ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ও নিখুঁত নিশানার জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। শক্তিশালী অস্ত্রটি প্রতি মিনিটে ৫০০ থেকে ৬০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে সক্ষম। প্রায় এক কিলোমিটার দূরের নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম রাইফেলটি স্নাইপার বা মেশিনগানের মতোও কাজ করতে পারে। ইফেক্টিভ রেঞ্জের জন্য এটি প্রায় ৭০টি দেশের সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে বলে তথ্য মিলেছে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ায় রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী এই অস্ত্র ব্যবহার করে না বলে জানালেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এমদাদুল ইসলাম। বললেন, ‘ভারত, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, পাকিস্তান কোথাও এই অস্ত্রের সচরাচর ব্যবহার নেই। চীনের তৈরি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের যেসব অস্ত্র আমাদের দেশের বিভিন্ন বাহিনী ব্যবহার করে সেগুলোর চেয়ে জি-থ্রি রাইফেল বেশি মারাত্মক নয়। স্নাইপার হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে স্নাইপার এখন আরও বিভিন্ন সোর্সে ব্যবহার হয়।’

‘তাহলে এটা নিয়ে এত কৌতূহল কেন? যে অস্ত্রের ব্যবহার উপমহাদেশে নেই, এই অঞ্চলে নেই হঠাৎ করে সেটা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারের কারণে কৌতূহলটা তৈরি হয়েছে। এটা কোত্থেকে আসল, কীভাবে আসল, কারা এখানে সরবরাহ করল, কৌতূহল থাকাটা খুব স্বাভাবিক।’- বলেন এমদাদুল ইসলাম।

র‌্যাব কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বললেন, ‘আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোয় জি-থ্রি রাইফেল তৈরিও হয় না। ব্যবহারও হয় না। বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কারখানায় একসময় জি-থ্রি রাইফেল তৈরি হতো। পরে এর ব্যবহার কমানো হয়েছে। আমরা যে রাইফেলটি পেয়েছি সেটি এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমরা কেউই এই ক্যালিবারের অস্ত্র ব্যবহার করি না। সরকারিভাবেও আমদানি হয় না।’ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তপথ প্রায় ২৭০ কিলোমিটারের। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা দেড় বছর ধরে দেশটির বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে।

মায়ানমারের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাবেক হেড অব মিশন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের বিশ্লেষণ, ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর জান্তা বাহিনী রাখাইনে পণ্য আসার অভ্যন্তরীণ তিনটি পথ ব্লক করে দিয়েছে। এর ফলে আরাকান আর্মি শুধু অর্থ ও নিত্যপণ্যের মারাত্মক সংকটে ভুগছে। মিয়ানমারের কায়িন স্টেট থেকে চিন স্টেট হয়ে আরাকান আর্মির কাছে এ ধরনের অস্ত্র পৌঁছে। টাকার জন্য তারা এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। এজন্য সীমান্ত পার করে অস্ত্রগুলো এ দেশের কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে বিক্রি করেছে বলে ধারণা করছি।’

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, আগ্নেয়াস্ত্রটি কীভাবে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এল এবং এর পেছনে কোনো দেশীয় সংঘবদ্ধ চক্র বা আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কী না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্ত্রটির উৎস, ব্যাচ নম্বর এবং এর মালিকানা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা হাফিজুরের ভাষ্য, ‘পৃথিবীর সব দেশের সীমান্ত দিয়ে স্মাগলিং হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের সীমান্ত পুরোপুরি চোরাচালানমুক্ত নয়। সীমান্তপথ দিয়ে কোনোভাবে অস্ত্রটি এখানে এসেছে।’

সিএমপি ও জেলা পুলিশে কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত এক এএসপি বললেন, ‘রেঞ্জ বেশি। হেভি আর্মস। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গ্রুপগুলো এই অস্ত্র খুব বেশি ব্যবহার করতো। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছেও এমন অস্ত্র ছিল। আর দেশের ভেতরে আন্ডারওয়ার্ল্ডেও এর ব্যবহার ছিল। সীমান্তপথ দিয়েই এটা এসেছে। এটা মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়।’