খুঁজুন
, ,

৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 7:35 pm
৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের খেলার মাঠ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমি মেয়র হওয়ার পর চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ১১টি খেলার মাঠ ইনশাআল্লাহ করে ফেলেছি। শিগগির জাম্বুরি খেলার মাঠ উদ্বোধন করা হবে। আরো কিছু মাঠ করার জন্য ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের খেলার মাঠ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচার চালানোর বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

রডের বদলে বাঁশ দেওয়া ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মিথ্যা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে শনিবার সকালে সরেজমিনে মহসিন কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন মেয়র। পরিদর্শনকালে তিনি অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে পুরো মাঠ ঘুরে দেখেন, তবে অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী দাবিদার এইচ এম শাহীন নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই উন্নয়ন প্রকল্পে ‘রডের বদলে বাঁশ’ ব্যবহারের বানোয়াট অভিযোগ করেন। সেখানে অন্যায়ভাবে সিটি কর্পোরেশন ও মেয়রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগকারীকে সাথে নিয়ে মাঠের প্রতিটি অংশ তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়, কিন্তু রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

প্রকল্পের অর্থায়ন ও ঠিকাদার নিয়োগ প্রসঙ্গে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করে মেয়র স্পষ্ট করেন, এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের নয়, বরং বিশ্বব্যাংকের (World Bank) ফান্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ঠিকাদার নিয়োগ থেকে শুরু করে যাবতীয় তদারকি বিশ্বব্যাংক নিজেই করে থাকে। এ কাজে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক লেনদেন বা ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। এই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে এবং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে মাঠের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করে এই বরাদ্দ এনেছি।

অভিযোগে সিকিউরিটি গার্ডের বরাত দিয়ে নিম্নমানের কাজের অভিযোগের বিষয়টি ঘটনাস্থলেই খণ্ডন করা হয়। মেয়র সরাসরি উপস্থিত সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানান। ফলে অভিযোগকারীর বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমাণিত হয়।

মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা তরুণদের জন্য ফ্লাডলাইট, সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে, টয়লেট সুবিধা ও চিলড্রেন পার্কসহ একটি আধুনিক খেলার মাঠ তৈরি করছি। কিন্তু একটি বিশেষ মহল অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভালো কাজের ওপর কালিমালিপ্ত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার প্রমাণ দিতে পারলে আমি এখনই ঠিকাদারের এগ্রিমেন্ট বাতিল করে শতভাগ টাকা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করব। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চসিক ও মেয়রের সম্মানহানি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মিথ্যা প্রচারণাকারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকল্পের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, আমাদের সারাদেশে অর্ধশতাধিক প্রজেক্ট সুনামের সাথে চলছে। ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ দেওয়ার প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারে, তবে আমরা সম্পূর্ণ ঢালাই নতুন করে নিজ খরচে করে দেব।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল রবিবার প্রকল্প এলাকাটি জরুরি পরিদর্শনে আসছেন বলে জানান মেয়র। নগরবাসীকে অপপ্রচারে কান না দিয়ে নগর উন্নয়নের ইতিবাচক ধারায় সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রকল্পের নিয়োজিত ঠিকাদার এবং সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন : মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 7:52 pm
ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন : মেয়র

দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের পর দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে উল্লেখ করে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি সজাগ থাকতে হবে। কারণ পদে পদে দল ও সরকারকে কলঙ্কিত করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এসব ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচনে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নগরীর বিবিরহাট গরু বাজার সংলগ্ন পিডিবি অফিসের মাঠে পাঁচলাইশ থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচশত পরিবারের হাতে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তারা এখনো অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারকে অকার্যকর প্রমাণের চেষ্টা করছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মহসিন কলেজ মাঠের উন্নয়নকাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তিনি সকালে সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, আমি প্রায় দুই ঘণ্টা পুরো মাঠ ঘুরে দেখেছি। যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের বলেছি—একটি বাঁশও যদি দেখাতে পারেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এমন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মেয়র বলেন, কোনো উন্নয়নকাজে অনিয়ম থাকলে শিক্ষার্থীদের তা তুলে ধরার অধিকার রয়েছে। তবে যাচাই বাছাই ছাড়া মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শুধু মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি নয়, চট্টগ্রামের সামগ্রিক ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হয়।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প নিয়ে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা হলে ভবিষ্যতে তারা চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্প দিতে অনাগ্রহী হতে পারে। এর ক্ষতি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়, ক্ষতি হবে চট্টগ্রামবাসীর। তাই কোনো অভিযোগ থাকলে আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা যাচাই করতে হবে।

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মেয়র।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সম্প্রতি নগরীতে স্মরণকালের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাত দিনে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ মিলিমিটার এবং একদিনে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় পানি জমলেও বৃষ্টি থামার পর দ্রুত পানি নেমে গেছে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। চলমান কাজ সম্পন্ন হলে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নকাজ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, গত ২০ মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী দিনেও এসব কাজ অব্যাহত থাকবে। নগরীর অলিগলিতে যেসব রাস্তার সমস্যা রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব সমস্যার সমাধান করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি ও পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকির সভাপতিত্বে এবং পাঁচলাইশ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আলম শফির সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আর ইউ চৌধুরী শাহিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য ইসকান্দার মির্জা, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনজুরুল আলম মঞ্জু, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনির আহম্মেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আলম মুন্সী, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সেলিম উদ্দিন রাসেল, পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক এনামুল হক ইনু, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সামিয়াত আমিন চৌধুরী জিসান সহ মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 7:28 pm
এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না: ডিসি জাহিদ

বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আবাদযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, বন্যার কারণে চাষাবাদ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও বাড়তি পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। এ জন্য কোনো আবাদযোগ্য জমি ফেলে রাখা যাবে না।

আজ শনিবার( ১ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের মধ্যে সবজির বীজ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপকারভোগীদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ কৃষককে শসা, চালকুমড়া, লাউ, কলমি ও বেগুনের বীজ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি লবণ এবং ২৫০ গ্রাম করে হলুদ, মরিচ ও অন্যান্য মসলা দেওয়া হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যাতে দ্রুত চাষাবাদ শুরু করতে পারেন, সে জন্য সবজির বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা বীজ দ্রুত বপন ও সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে তিনি কৃষকদের পরামর্শ দেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যতটুকু জমি আছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। কোনো জমি যেন পড়ে না থাকে। জমি অবশ্যই চাষের আওতায় আনতে হবে। সেখানে ফসল, সবজি কিংবা ফুল—কিছু না কিছু আবাদ করতে হবে।’

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এতে বসতবাড়ির পাশাপাশি কৃষিজমি, ফসল ও মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনা খাবার ও চাল বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারে বীজ ও কৃষি উপকরণ দেওয়া হচ্ছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি ও মৎস্য খাত পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্যোগের প্রভাব যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে সময়ে ফসল চাষ করার কথা ছিল, বন্যার কারণে সেটি হয়তো কিছুদিন পিছিয়ে যাবে। কিন্তু আপনারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা ও একটু বেশি পরিশ্রম করলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।’

দেশের অর্থনীতিতে কৃষকদের অবদানের কথা তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষক, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক ও প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কৃষকেরা প্রতিনিয়ত খাদ্য উৎপাদন করে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করছেন। তাই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

ফটিকছড়িকে সবজি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এ উপজেলায় উৎপাদিত শাকসবজি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এই উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সবজি চাষ আরও বাড়াতে হবে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ।

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, উপকারভোগী কৃষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 10:39 am
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। পরে সন্ধ্যায় তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা ‘দারুণ’ হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) দেশটির জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) লেভেল-৩ থেকে কমিয়ে লেভেল-২ করেছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এখনো অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রয়েছে এবং সেসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভ্রমণ সতর্কতার স্তর কমানোর সিদ্ধান্তকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ‘দারুণ খবর’ বলে উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছার পর নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেয়া আরেক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ সফর শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী দুই দিনে ফলপ্রসূ বৈঠকের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন সার্জিও গর। সেখানে তিনি ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি।