খুঁজুন
, ,

ত্রাণের চাল চুরির সাথে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে সুজনের আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 13 April, 2020, 4:17 pm
ত্রাণের চাল চুরির সাথে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে সুজনের আহবান

ত্রাণের চাল চুরির সাথে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে প্রশাসনের নিকট আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল রোববার (১২ই এপ্রিল) রাতে উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত আহবান জানান।

এ সময় নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, করোনাভাইরাসের অদৃশ্য থাবায় সারাবিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ লাখেরও বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসের সংক্রমণে। সারা বিশ্ব আজ দিশেহারা। বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোও করোনাভাইরাসের আগ্রাসনে নুয়ে পড়েছে। সবাই যার যার সামর্থ্য নিয়ে এ ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে ক্লান্তিহীন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অর্ধাহারে অনাহারে চলছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নত দেশের মানুষের জীবন যাপন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে জনগনকে বাঁচাতে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্দেশনাও প্রদান করেছেন। করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এছাড়া বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ১০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রয়, লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণসহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ অবশ্যই দেশের অর্থনীতির চাকাকে ফের সচল করে তুলবে। তবে সরকারের এতোসব সফল কর্মসূচী বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কতিপয় ব্যক্তিবিশেষের সরকারি ত্রাণের চাল চুরি ও আত্নসাতের ঘটনায়। যা এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চনা দেওয়ার মতো। এ সময়ে সরকারি ত্রানের চাল চুরির মতো ঘৃণ্য কর্মকান্ডে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে প্রশাসনের নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা জনাব সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়া বন্ধ, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নগরজুড়ে মশার উৎপাত বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিরসনে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরে খবর পাচ্ছি চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে প্রতিনিয়তই হাজার হাজার টন খাদ্যশস্য রাতের আধারে বাইরে পাচার হয়ে যায়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝে মাঝে সে সব চোরাই খাদ্যশস্য স্থানীয় বাজার থেকে জব্দ হয়। আর বাকি চোরাই খাদ্যশস্য প্রায়শই প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। এ যেন শস্যের মধ্যে ভূত।

তিনি বলেন, এহেন অনৈতিক কর্মকান্ডের দায় চট্টগ্রামের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তারা কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। তাই অতিসত্বর তদন্তপূর্বক উক্ত খাদ্যশস্য লোপাটের সাথে জড়িতদের নাম, ঠিকানা ছবিসহ গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সকলেই ঘরে থাকার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজের কিছু দায়বদ্ধতা মেনেই মানুষকে প্রাত্যহিক জীবন যাপন করতে হয়। বর্তমান সময়ে নিকট আত্নীয় স্বজনের অসুস্থতা, মৃত্যু এবং কিছু সামাজিক অসুবিধা মাঝে মাঝে প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের বিশেষ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য স্বল্প আকারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট কার সার্ভিস চালু করা যায় কিনা তা বিচার বিশ্লেষন করার জন্য নগর পুলিশ কমিশনারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন পূর্বক প্রশাসনের নিকট থেকে ছাড়পত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাইভেট কারটি ভাড়া করে পূণরায় প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় এসে বুঝিয়ে দিবেন। এছাড়া বর্তমান সময়ে অসুস্থতাজনিত প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটাও ভীষন দুষ্কর হয়ে দাড়িয়েছে।

তিনি জনগনের প্রয়োজনে এ দুস্প্রাপ্যতা কাটাতে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে কিছু সংখ্যক জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যও নগর পুলিশ কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

জনাব সুজন আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং বিপণনের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করে বলেন প্রতি বছরই রমজান আসলে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনগনকে ভোগান্তিতে ফেলে। এসব ব্যবসায়ীদের কর্মকান্ডের প্রতি নজর রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

তিনি এ ধরনের কোন কর্মকান্ড নগরবাসীর গোচরীভূত হলে সাথে সাথে স্থানীয় থানা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ জানান।

এছাড়া মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।

নগরবাসীর ঘরে থাকার পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে মশা। তাই মশা নিধনকে অগ্রাধিকার গুরুত্ব দানের জন্যও চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ওয়াসার এমডি’র নিকট বিনীত অনুরোধ জানান এবং যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় নিয়মিত ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদানের আহবান জানান।

তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত দেশের প্রায় সকল মিল কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলত বিদ্যুতের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেকাংশে কম। এর মধ্যেও নগরীর কিছু কিছু এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউন হচ্ছে যার ফলে জনগনের ভোগান্তিও বাড়ছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী কোন চক্র পরিকল্পিত ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে ক্ষেপিয়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মকান্ড করছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্যও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানান।

তিনি পরিশেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া জনগনকে মনোবল রেখে আরো সচেতন হয়ে সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 2:51 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, নগরীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হলে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ের শান্তিনগর এলাকায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামে ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে উদ্যোগী হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

মেয়র বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব কার্যক্রমের সুফল পেতে হলে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাকলিয়ায় আয়োজিত এ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগরবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, ইসমাইল বাবুল, মোহাম্মদ সেকান্দর, আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ ইমরান উদ্দিন, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মিজান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের, আরিফুল ইসলাম ডিউক, নাসরিন আক্তার প্রমুখ।

৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 1:05 pm
৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

শনিবার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ১ নম্বর খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারকাজের উদ্বোধন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কল্পলোক মডেল মসজিদ চত্বর মাঠ প্রাঙ্গণে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তুলব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন) এবং হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ উন্নয়ন করে খেলার উপযোগী করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হালিশহর শিশু পার্ক মাঠ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও বাকলিয়া স্কুল মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

খেলাধুলার সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।”

তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমাদের লক্ষ্য, খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা।”

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়)-এর সভাপতি এম. আব্দু শুক্কুর সভাপতিত্ব করেন। এতে মুখ্য উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন লিপু, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কল্পলোক আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা বলেন, মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন এলাকার শিশু-কিশোর, তরুণ এবং সাধারণ বাসিন্দাদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি এসব উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

কল্পলোকের খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের এ উদ্যোগ নগরীতে পরিকল্পিত উন্মুক্ত স্থান সম্প্রসারণ এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতির (১ম পর্যায়) সভাপতি এম. এ. শুক্কুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আবদুল্লাহ আল হারুন, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক, আমির হক ও মোহাম্মদ আবুল হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলী আকবর।

ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:04 am
ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

লক্ষ্য ২৫০ রান। ১৮ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৪০। ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে জয় পেতে শেষ দুই ওভারে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। একই ব্যবধান ছিল সেঞ্চুরি থেকেও দূরত্বে থাকা অধিনায়ক শাই হোপের। অক্ষর প্যাটেলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতানোর পাশাপাশি শতকও পূর্ণ করেন তিনি।

অক্ষরের ওভারের প্রথম বলটি ডিপ মিডউইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করেন হোপ। পরের বলটি এক্সট্রা কাভারে ঠেলে দিলেও রান নেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। তৃতীয় বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি ও জয়—দুটিই একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেন তিনি। মাত্র ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করা হোপের দুর্দান্ত ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ক্যারিবীয়রা। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের লক্ষ্য অতিক্রম করার ঘটনা।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে সেই রেকর্ড গড়েছিল তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ম্যাচটি জিতেছিল স্বাগতিকেরা।

রাঁচিতে আজকের ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন দাপুটে জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ক্যারিবীয়দের স্কোর ৫ রানে ২ উইকেটে নামিয়ে দেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন হোপ। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন শেরফান রাদারফোর্ড।

রাদারফোর্ডকে নিয়ে পরের ৯ ওভারে ১২০ রান যোগ করেন হোপ। ৩৭ বলে ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন আউট হন, তখনও জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান।

সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে তাঁর জুটিতে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। শেফার্ডও ছিলেন আক্রমণাত্মক; ১৩ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এটি হোপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ৪৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায়। এর আগে গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এই ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি।

এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন। ভারতের বড় সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি হোপের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে।