ত্রাণের চাল চুরির সাথে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে সুজনের আহবান
ত্রাণের চাল চুরির সাথে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে প্রশাসনের নিকট আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
তিনি গতকাল রোববার (১২ই এপ্রিল) রাতে উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত আহবান জানান।
এ সময় নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, করোনাভাইরাসের অদৃশ্য থাবায় সারাবিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ লাখেরও বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসের সংক্রমণে। সারা বিশ্ব আজ দিশেহারা। বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোও করোনাভাইরাসের আগ্রাসনে নুয়ে পড়েছে। সবাই যার যার সামর্থ্য নিয়ে এ ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে ক্লান্তিহীন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অর্ধাহারে অনাহারে চলছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নত দেশের মানুষের জীবন যাপন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে জনগনকে বাঁচাতে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্দেশনাও প্রদান করেছেন। করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এছাড়া বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ১০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রয়, লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণসহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ অবশ্যই দেশের অর্থনীতির চাকাকে ফের সচল করে তুলবে। তবে সরকারের এতোসব সফল কর্মসূচী বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কতিপয় ব্যক্তিবিশেষের সরকারি ত্রাণের চাল চুরি ও আত্নসাতের ঘটনায়। যা এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চনা দেওয়ার মতো। এ সময়ে সরকারি ত্রানের চাল চুরির মতো ঘৃণ্য কর্মকান্ডে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে প্রশাসনের নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি।
লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা জনাব সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়া বন্ধ, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নগরজুড়ে মশার উৎপাত বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিরসনে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরে খবর পাচ্ছি চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে প্রতিনিয়তই হাজার হাজার টন খাদ্যশস্য রাতের আধারে বাইরে পাচার হয়ে যায়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝে মাঝে সে সব চোরাই খাদ্যশস্য স্থানীয় বাজার থেকে জব্দ হয়। আর বাকি চোরাই খাদ্যশস্য প্রায়শই প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। এ যেন শস্যের মধ্যে ভূত।
তিনি বলেন, এহেন অনৈতিক কর্মকান্ডের দায় চট্টগ্রামের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তারা কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। তাই অতিসত্বর তদন্তপূর্বক উক্ত খাদ্যশস্য লোপাটের সাথে জড়িতদের নাম, ঠিকানা ছবিসহ গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সকলেই ঘরে থাকার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজের কিছু দায়বদ্ধতা মেনেই মানুষকে প্রাত্যহিক জীবন যাপন করতে হয়। বর্তমান সময়ে নিকট আত্নীয় স্বজনের অসুস্থতা, মৃত্যু এবং কিছু সামাজিক অসুবিধা মাঝে মাঝে প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের বিশেষ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য স্বল্প আকারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট কার সার্ভিস চালু করা যায় কিনা তা বিচার বিশ্লেষন করার জন্য নগর পুলিশ কমিশনারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।
যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন পূর্বক প্রশাসনের নিকট থেকে ছাড়পত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাইভেট কারটি ভাড়া করে পূণরায় প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় এসে বুঝিয়ে দিবেন। এছাড়া বর্তমান সময়ে অসুস্থতাজনিত প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটাও ভীষন দুষ্কর হয়ে দাড়িয়েছে।
তিনি জনগনের প্রয়োজনে এ দুস্প্রাপ্যতা কাটাতে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে কিছু সংখ্যক জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যও নগর পুলিশ কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
জনাব সুজন আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং বিপণনের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করে বলেন প্রতি বছরই রমজান আসলে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনগনকে ভোগান্তিতে ফেলে। এসব ব্যবসায়ীদের কর্মকান্ডের প্রতি নজর রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান তিনি।
তিনি এ ধরনের কোন কর্মকান্ড নগরবাসীর গোচরীভূত হলে সাথে সাথে স্থানীয় থানা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ জানান।
এছাড়া মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।
নগরবাসীর ঘরে থাকার পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে মশা। তাই মশা নিধনকে অগ্রাধিকার গুরুত্ব দানের জন্যও চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ওয়াসার এমডি’র নিকট বিনীত অনুরোধ জানান এবং যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় নিয়মিত ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদানের আহবান জানান।
তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত দেশের প্রায় সকল মিল কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলত বিদ্যুতের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেকাংশে কম। এর মধ্যেও নগরীর কিছু কিছু এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউন হচ্ছে যার ফলে জনগনের ভোগান্তিও বাড়ছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী কোন চক্র পরিকল্পিত ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে ক্ষেপিয়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মকান্ড করছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্যও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানান।
তিনি পরিশেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া জনগনকে মনোবল রেখে আরো সচেতন হয়ে সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।


আপনার মতামত লিখুন