খুঁজুন
, ,

ত্রাণের চাল চুরির সাথে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে সুজনের আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 13 April, 2020, 4:17 pm
ত্রাণের চাল চুরির সাথে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে সুজনের আহবান

ত্রাণের চাল চুরির সাথে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে প্রশাসনের নিকট আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল রোববার (১২ই এপ্রিল) রাতে উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত আহবান জানান।

এ সময় নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, করোনাভাইরাসের অদৃশ্য থাবায় সারাবিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ লাখেরও বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসের সংক্রমণে। সারা বিশ্ব আজ দিশেহারা। বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোও করোনাভাইরাসের আগ্রাসনে নুয়ে পড়েছে। সবাই যার যার সামর্থ্য নিয়ে এ ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে ক্লান্তিহীন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অর্ধাহারে অনাহারে চলছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নত দেশের মানুষের জীবন যাপন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে জনগনকে বাঁচাতে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্দেশনাও প্রদান করেছেন। করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এছাড়া বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ১০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রয়, লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণসহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ অবশ্যই দেশের অর্থনীতির চাকাকে ফের সচল করে তুলবে। তবে সরকারের এতোসব সফল কর্মসূচী বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কতিপয় ব্যক্তিবিশেষের সরকারি ত্রাণের চাল চুরি ও আত্নসাতের ঘটনায়। যা এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চনা দেওয়ার মতো। এ সময়ে সরকারি ত্রানের চাল চুরির মতো ঘৃণ্য কর্মকান্ডে জড়িতদের ক্রসফায়ার দিতে প্রশাসনের নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা জনাব সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়া বন্ধ, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নগরজুড়ে মশার উৎপাত বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিরসনে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরে খবর পাচ্ছি চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে প্রতিনিয়তই হাজার হাজার টন খাদ্যশস্য রাতের আধারে বাইরে পাচার হয়ে যায়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝে মাঝে সে সব চোরাই খাদ্যশস্য স্থানীয় বাজার থেকে জব্দ হয়। আর বাকি চোরাই খাদ্যশস্য প্রায়শই প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। এ যেন শস্যের মধ্যে ভূত।

তিনি বলেন, এহেন অনৈতিক কর্মকান্ডের দায় চট্টগ্রামের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তারা কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। তাই অতিসত্বর তদন্তপূর্বক উক্ত খাদ্যশস্য লোপাটের সাথে জড়িতদের নাম, ঠিকানা ছবিসহ গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সকলেই ঘরে থাকার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজের কিছু দায়বদ্ধতা মেনেই মানুষকে প্রাত্যহিক জীবন যাপন করতে হয়। বর্তমান সময়ে নিকট আত্নীয় স্বজনের অসুস্থতা, মৃত্যু এবং কিছু সামাজিক অসুবিধা মাঝে মাঝে প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের বিশেষ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য স্বল্প আকারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট কার সার্ভিস চালু করা যায় কিনা তা বিচার বিশ্লেষন করার জন্য নগর পুলিশ কমিশনারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন পূর্বক প্রশাসনের নিকট থেকে ছাড়পত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাইভেট কারটি ভাড়া করে পূণরায় প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় এসে বুঝিয়ে দিবেন। এছাড়া বর্তমান সময়ে অসুস্থতাজনিত প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটাও ভীষন দুষ্কর হয়ে দাড়িয়েছে।

তিনি জনগনের প্রয়োজনে এ দুস্প্রাপ্যতা কাটাতে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে কিছু সংখ্যক জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যও নগর পুলিশ কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

জনাব সুজন আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং বিপণনের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করে বলেন প্রতি বছরই রমজান আসলে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ধরনের কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনগনকে ভোগান্তিতে ফেলে। এসব ব্যবসায়ীদের কর্মকান্ডের প্রতি নজর রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

তিনি এ ধরনের কোন কর্মকান্ড নগরবাসীর গোচরীভূত হলে সাথে সাথে স্থানীয় থানা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ জানান।

এছাড়া মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।

নগরবাসীর ঘরে থাকার পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে মশা। তাই মশা নিধনকে অগ্রাধিকার গুরুত্ব দানের জন্যও চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ওয়াসার এমডি’র নিকট বিনীত অনুরোধ জানান এবং যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় নিয়মিত ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদানের আহবান জানান।

তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত দেশের প্রায় সকল মিল কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলত বিদ্যুতের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেকাংশে কম। এর মধ্যেও নগরীর কিছু কিছু এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউন হচ্ছে যার ফলে জনগনের ভোগান্তিও বাড়ছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী কোন চক্র পরিকল্পিত ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে ক্ষেপিয়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মকান্ড করছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্যও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানান।

তিনি পরিশেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া জনগনকে মনোবল রেখে আরো সচেতন হয়ে সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

Feb2
Feb2

জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 12:22 pm
জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার উপজেলার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী আমির হোসেন জানান, আমার একটি জায়গার দখল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আরমান তার ভাই ও তাদের সহযোগীরা আমার কাছে চাঁদাদাবি করে এবং আমাকে আমার ক্রয়কৃত জায়গা থেকে দখল উচ্ছেদ করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ হিসেবে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্ত করবেন।

মামলায় আরমান উদ্দিনের পাশাপাশি তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা জানান।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওইসময় দোকান থেকে ১২টি তিন-পাটের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা। এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবনের ওপরের তলার ভাড়াটিয়াদের কাছে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাসা তাদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়, সে কথাও বলেন আসামিরা। ঘটনার সময় বাদী প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে বসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে বলেন, তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে। আসামি আদিল চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বাদী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। পরে মামলা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। অফিসিয়ালি আমার কাছে এখনো কোন নির্দেশ আসে নি।

অভিযুক্ত আরমান উদ্দীন বলেন, মামলায় ঘটনার যেই তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে তার অনেক আগে থেকেই আমি ও আমার ভাই আরিফ সৌদি আরবে অবস্থান করছি। আর আমি যে বাদীকে কল দিছি এমন তথ্যও দিতে পারবে না। বাদীকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না,সেও আমাকে চিনবে কি না সন্দেহ আছে।

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।