খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এ দুঃসময়ে রাতদিন ছুটছেন বোয়ালখালীর দুই মানবিক কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
এ দুঃসময়ে রাতদিন ছুটছেন বোয়ালখালীর দুই মানবিক কর্মকর্তা

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

পূজন সেন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি : প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের আঘাতে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিলে হাহাকার করছে প্রতিটি দেশ। করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে বাংলাদেশে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সহজ সরল মানুষগুলোকে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে চলছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে শুধুমাত্র দায়িত্ব বা কর্তব্যের খাতিরে নয় প্রাণের তাগিদে এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন এ দুই মানবিক কর্মকর্তা।

উপজেলার মানুষগুলোকে এ সংক্রমণ থেকে রক্ষায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকে সবার প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬০ পিস পিপিই ( পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন। এছাড়া তারই আহ্বানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, বিদ্যানন্দ ৮ পিস ও এস আলম ৫০ পিস পিপিই দিয়ে সহযোগীতা করেন।

প্রবাসীদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা, স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা, জনসমাগম কমানো, অসহায় পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা প্রদান, দ্রব্যমূল্যের কৃত্রিম সংকট এবং ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিরলস কাজ করে চলেছেন। চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এসব কাজে করতে মোকাবেলা করতে হচ্ছে গুজব ও কুসংস্কারসহ নানা ধরণের প্রতিকূলতার সাথে।

তবে এ যুদ্ধ যে প্রতিটি নাগরিকের। তাই একাজে অন্যদেরও সম্পৃক্ত করতে লাগলেন নানাভাবে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে। তাৎক্ষণিক খবরাখবর পেতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলছেন এলাকাবাসীর সাথে। একই সাথে দেশ বিদেশের খবরও রাখতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ে কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সেনাবাহিনী মাঠে নামে। ভালোই কাটছিলো দিন তবে গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে বোয়ালখালী উপজেলার এক বৃদ্ধ শনাক্ত হন করোনা আক্রান্ত হিসেবে।

১৫ এপ্রিল ফেসবুক স্ট্যাটাসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখেছেন, ” সাধারণ ছুটির পর সেনাবাহিনী মাঠে নামলে কাজ গতি আরো বেড়ে যায়। ১৪ এপ্রিল রাত ৯টায় যখন বাসায় ফিরি তখন পর্যন্ত মানসিক প্রশান্তি ছিলো যে বোয়ালখালী এখনো ‘করোনা’মুক্ত।”

‘কিছুক্ষণ পর যখন জানলাম (বোয়ালখালী উপজেলার এক ব্যক্তির শরীরে করোনা পজেটিভ) তখন একরাশ হতাশা ঘিরে ধরলো।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, নিজেদের ঝুঁকিও কম নেই এতে। ভাবতে হচ্ছে এ কাজে সম্পৃক্ত প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কথাও। তাদেরও পরিবার পরিজন রয়েছে। এ সংক্রমণ প্রতিরোধ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে একা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আমরা প্রত্যেকে সচেতন না হই।

সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করছে। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরও দায়িত্ব রয়েছে নিজের পরিবার ও সমাজের প্রতি।

বিনাকারণে ঘোরাফেরা বন্ধে, আইন অমান্য করায়, দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে বোয়ালখালীবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করেছে উপজেলা প্রশাসনের এ দুই কর্মকর্তা। নিয়েছেন সামাজিক দূরত্ব মেনে খোলা মাঠে অস্থায়ী কাঁচাবাজার বসানো, উপজেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানায় যাতায়াতকারীদের নিশ্চিতকরণে হাতধোয়ার বেসিন বসানো ও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস এবং পৌরসভার সহায়তায় জীবাণুনাশক ছিটানোসহ সামাজিক নানা উদ্যােগ। এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয় চৌকস পরিশ্রমী ব্যক্তিদের নিয়ে।

তারপরও যেন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এক শ্রেণির লোকজন বাইরে ঘোরাফেরা করছেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে পড়লে নানান অজুহাত দিচ্ছেন অথবা ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ওই মানুষগুলো সংক্রমিত হতে পারেন এমন আশঙ্কায় ভুগছেন উপজেলার সচেতন নাগরিকরা।

গতকাল ১৮ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে এনিয়ে শঙ্কা আর হতাশার কথা শোনালেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘মনে হচ্ছে সরকারের আদেশ অমান্য করে বাজারে বাজারে ঘোরা, আড্ডা দেওয়া, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া, সেনা-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পালিয়ে যাওয়া মানুষগুলোই সঠিক, আমরা বেঠিক। আমরাই মনে হয় বোকার মত পরিবার ও নিজের কথা না ভেবে রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে চলেছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষ খুবই আতঙ্কিত। উপজেলা ও পৌরসভাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভ্যানচালক, রিক্সাচালক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, ভিক্ষুক, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে পৌরসভার কাউন্সিলর, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব, উদ্যোক্তা এবং গ্রাম পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ত্রাণের তালিকা প্রস্তুত, বিতরণ, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ সহ সকল কাজে সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। তারা সকলেই রাত-দিন কাজ করে চলেছেন।

তিনি আরো বলেন, বোয়ালখালীবাসীকে ভালো ও নিরাপদে রাখতে আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তবে বোয়ালখালীবাসী যদি আমাদের সহযোগিতা না করেন তাহলে সব চেষ্টা, কাজ বৃথা হয়ে যাবে। পাশাপাশি সকল ধরণের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। সামনে রমজান। সেদিকেও আমার নজর আছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

সংকটময় এ মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Feb2

পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলসহ দেশের ১০টি জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলসহ বাংলাদেশের ১০টি জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করবেন।

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।